১. মুবারক নামে কুরবানী

১. প্রত্যেক উম্মতের উচিত হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী দেয়া

হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- “হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সকল উম্মতের তরফ থেকে কুরবানী করেছেন।” সুবহানাল্লাহ!

হাদীছ শরীফ-এর আরেক বর্ণনা মতে, “যেসব উম্মতের কুরবানী দেয়ার মত সামর্থ্য নেই বা ছিল না তাদের তরফ থেকে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কুরবানী দিয়েছেন।”

যদি তাই হয় তাহলে প্রত্যেক উম্মতেরও দায়িত্ব কর্তব্য হয়ে যায় যে, উম্মত হিসেবে প্রত্যেকেই যেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী করে। এটা একদিক থেকে উম্মতের জন্য ওয়াজিবও বটে।

কারণ হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দশ বছর মদীনা শরীফ-এ যমীনে অবস্থান করেছেন। উক্ত দশ বছরই তিনি কুরবানী করেছেন। এরপর তিনি বিছাল শরীফ-এর পূর্বে আহলে বাইত ও উম্মতের মধ্যে অন্যতম ব্যক্তিত্ব, খুলাফায়ে রাশিদার চতুর্থ খলীফা, আমীরুল মুমিনীন, খলীফাতুল মুসলিমীন হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে নির্দেশ দিয়ে যান তিনি যেন প্রতি বছর হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী করেন। সে নির্দেশ মুবারক হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু অক্ষরে অক্ষরে পালন করেন। [সুনানে আবু দাউদ ২/২৯, জামে তিরমিযী ১/২৭৫, ইলাউস সুনান ১৭/২৬৮, মিশকাত ৩/৩০৯]

মূলতঃ আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নির্দেশসমূহ তথা হাদীছ শরীফ-এর বর্ণনা যদিও খাছ তবে তার হুকুম কিন্তু আম অর্থাৎ কিয়ামত পর্যন্ত এ হুকুম বলবৎ থাকবে।

উল্লেখ্য, যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব তারা অনেকেই কিন্তু নিজেদের নামে কুরবানী করার সাথে সাথে স্বীয় মৃত পিতা-মাতার নামে কুরবানী করে থাকে। তাহলে তাদের কি উচিত না হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নামে কুরবানী করা। মূলতঃ এটাই তাদের প্রথম দায়িত্ব। আর যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়, তারা একাধিক জন মিলে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে কুরবানী দিবে।

কেউ কেউ বলে থাকে যে,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করলে তা ওয়াছীয়তকৃত কুরবানীর অন্তর্ভুক্ত হবে। কারণ তিনি হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করার জন্য ওয়াছীয়ত করেছেন। এর জবাবে বলতে হয় যে, হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনাকে যে কুরবানী করার ওয়াছীয়ত করেছেন তা উনার জন্যই খাছ ছিলো। বর্তমানে কেউ যদি উনার পক্ষ থেকে কুরবানী করে তবে তা ওয়াছীয়তকৃত কুরবানীর অন্তর্ভুক্ত হবে না। আর উক্ত গোশত খাওয়াও জায়িয হবে

 

২. গরু কুরবানী করা এবং গরুর গোশত খাওয়া সুন্নত

২. নাস্তিক,ইসলামবিদ্বেষি এবং তাদের দালাল মিডিয়া এবং কিছু বকলম মুসলমান নামধারী মুনাফিক অপপ্রচার করে থাকে গরুর গোশত খাওয়ার কথা নাকি সম্মানিত ইসলামে নাই।নাউযুবিল্লাহ। আরব দেশে নাকি গরু কুরবানী হতোনা কিংবা খাওয়া হতোনা! নাউযুবিল্লাহ। হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নাকি গরুর গোশত গ্রহণ করেননি ! নাউযুবিল্লাহ।  পবিত্র হাদিস শরীফে নাকি গরুর গোশতের কথা উল্লেখ নেই! নাউযুবিল্লাহ। আরব দেশে গরু নাই, গরু কিভাবে এলো?

অথচ পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ এবং পবিত্র হাদিস শরীফে সুস্পষ্টভাবে গরু কুরবানী এবং গরুর গোশত খাওয়ার কথা উল্লেখ রয়েছে।

১) পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার থেকে দলিল -

মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার কালাম পাক পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-

 “মহান আল্লাহ পাক তিনি যে রিযিক তোমাদেরকে দিয়েছেন তা তোমরা ভক্ষণ করো। আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করোনা। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। উহা আটটি (পশু)। ছাগল হতে দুটি (পুরুষ ও স্ত্রী), মেষ হতে দুটি, উট হতে দুটি এবং গরু হতে দুটি।” (পবিত্র সূরা আনয়াম শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ- ১৪২, ১৪৩, ১৪৪)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি গরুর গোশত খাওয়ার জন্য আদেশ মুবারক করেছেন।

২) পবিত্র হাদীস শরীফ উনার থেকে দলীল

১. ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم عن ازواجه بالبقر

অর্থঃ উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম তিনি বর্ননা মুবারক করেন- ‘নুরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মাহাতুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ থেকে গরু কুরবানী করেছেন।’( পবিত্র বুখারী শরীফ: ২/৮৩৪ ,পবিত্র মুসলিম শরীফঃ ২১১৯)

২.নুরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাত মুবারক দ্বারা দু’টি শিংওয়ালা দুম্বা কুরবানী করেছেন’ (পবিত্র বুখারী শরীফঃ ৫৫৬৪-৬৫; পবিত্র মুসলিম শরীফ,পবিত্র মিশকাত শরীফ/১৪৫৩ । কখনও তিনি দু’-এর অধিক দুম্বা, খাসী, বকরী (ছাগল), গরু ও উট কুরবানী করেছেন (ফাতহুল বারী ১০/৯ পৃঃ ৫৭;পবিত্র মিরকাত শরীফঃ ১৪৭৪, ২/৩৫৪ পৃঃ)।

৩. حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، عَنْ يَحْيَى بْنِ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ ذَبَحَ رَسُولُ اللَّهِ ـ صلى الله عليه وسلم ـ عَمَّنِ اعْتَمَرَ مِنْ نِسَائِهِ فِي حَجَّةِ الْوَدَاعِ بَقَرَةً بَيْنَهُنَّ ‏.‏

অর্থঃ হযরত আবু হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্নিত “ নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিদায় হজ্জের সময় হযরত উম্মুল মুমীনীন আলাইহিন্নাস সালাম যারা উমরাহ পালন করেছিলেন উনাদের জন্য গরু কুরবানী করেছেন”(পবিত্র ইবনে মাজাহ শরীফ , কুরবানী অধ্যায় , ২৬/ ৩২৫৩

৪. حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ بَشَّارٍ - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ الْمُثَنَّى - قَالاَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، وَأُتِيَ النَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم بِلَحْمِ بَقَرٍ فَقِيلَ هَذَا مَا تُصُدِّقَ بِهِ عَلَى بَرِيرَةَ ‏.‏ فَقَالَ ‏ "‏ هُوَ لَهَا صَدَقَةٌ وَلَنَا هَدِيَّةٌ ‏"‏ ‏.‏

অর্থঃ  “উম্মুল মু’মিনীন হযরত আছ ছালিছাহ আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট গরুর গোশত আনয়ন করা হয়েছিলো। এতে বলা হয়েছিলো, এটা বারীরা নাম্নী বাঁদীকে ছদকা দেয়া হয়েছে। তা শুনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেছিলেন, সেটা উনার জন্য ছদকা আর আমাদের জন্য হাদিয়া।” (পবিত্র মুসলিম শরীফঃ ২৩৫৭,  যাকাত অধ্যায় )

উপরোক্ত দলীলসমুহ থেকে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে  নুরে মুজাসসাম, হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াসাল্লাম তিনি গরু কুরবানী করেছেন এবং গরুর গোশত মুবারক গ্রহণ করেছেন।এর দ্বারা প্রমাণিত গরু কুরবানী করা এবং গরুর গোশত খাওয়া উম্মতের জন্য খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। সুবহানাল্লাহ । যারা গরু কুরবানী এবং গরুর গোশতের বিরোধীতা করা তারা মূলত হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়াসাল্লাম উনার প্রতি বিদ্বেষ থেকেই বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ। এসকল কুলাঙ্গারদের অবশ্যই শরয়ী মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করতে হবে।

 

৩. মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ইয়াতিমখানা এবং লিল্লাহ বোর্ডিং এ পৌছানো

৩. হাবিবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার দোয়া মুবারক পাওয়ার  বিশেষ উপায়

خُذْ مِنْ أَمْوَالِهِمْ صَدَقَةً تُطَهِّرُهُمْ وَتُزَكِّيهِم بِهَا وَصَلِّ عَلَيْهِمْ ۖ إِنَّ صَلَاتَكَ سَكَنٌ لَّهُمْ ۗ وَاللهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ

অর্থ: “(ইয়া রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি তাদের মাল-সম্পদ থেকে যাকাত,ফিতরা,ওশর,দান,ছদকা গ্রহণ করুন, আপনি তাদেরকে পবিত্র করুন ও পরিশুদ্ধ করুন এবং তাদের জন্য দু’আ করুন। কেননা আপনার  দু’আ মুবারক তাদের জন্যে প্রশান্তি ও কামিয়াবীর কারণ হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি সব কিছু শোনেন এবং সব কিছু জানেন।”( সুরা তওবা শরীফঃ আয়াত শরীফ ১০৩)

এই আয়াত শরীফ অনুসারে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ইয়াতিমখানা এবং লিল্লাহবোর্ডিং এ কুরবানী চামড়া/টাকা দিলে দোয়া মুবারক পাওয়া যাবে কারণ এ প্রতিষ্ঠান  হাবিবুল্লাহ, হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারকে প্রতিষ্ঠিত। আর শুধু নাম মুবারকে নয় বরং এই প্রতিষ্ঠানে (১) পরিপুর্ন সুন্নতের অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক, প্রতিটি বিষয় ১০০% শরীয়তসম্মত (২) একক প্রতিষ্ঠান নয় বরং কোটি কোটি মসজিদ, মাদ্রাসা, ইয়াতিমখান, লিল্লাহবোর্ডিং প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে যা  (৩) কোন প্রকার মারামারি-কাটাকাটি দলাদলি নেই (৪) শিশু থেকে বয়স্ক ব্যক্তি সবার জন্যে ইলিম অর্জন ও তা’লীমের ব্যবস্থা আছে।

মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ ইয়াতিমখানা এবং লিল্লাহবোর্ডিং উনার অনন্য কিছু বৈশিষ্ট্যঃ

১) সর্বক্ষেত্রে পরিপূর্ণ শরীয়ত উনার অনুসরণঃ করা বাধ্যতামূলক, শিক্ষার্থীরা পায়ের তলা থেকে মাথার তালু পর্যন্ত পরিপূর্ণ পবিত্র সুন্নত উনার রঙে রঞ্জিত, তাহাজ্জুদ নামায বাধ্যতামূলক, পরিপূর্ণ শরয়ী পর্দা পালন করা বাধ্যতামূলক, বালিকা শাখা: সম্পূর্ণ পৃথক

২) ইলিম তা’লীমের পরিবেশ: একমাত্র অত্র প্রতিষ্ঠানেই ইলমে ফিক্বাহ উনার পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক, ফরয পরিমাণ ইলম অর্জন ও আন্তর্জাতিক সিলেবাসের মাধ্যমে ৫টি ভাষা (আরবী, বাংলা, উর্দূ, ফারসী, ইংরেজী) শিক্ষাদানের ব্যবস্থা আছে, উন্নতমানের সুষম খাদ্যের (balanced diet) ব্যবস্থা আছে, পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নামে অনৈসলামিক কর্মকান্ড, হারাম ও কুফরীমূলক কাজ থেকে পরিপূর্ণ মুক্ত, শিক্ষার্থীদেরকে বেত্রাঘাত, মারামারি নিষিদ্ধ

৩) বিভিন্ন কর্মস্থল: মসজিদ-মাদরাসা ইয়াতীমখানা, দলিলভিত্তিক গবেষণার জন্য রিসার্চ সেন্টার (Muhammadia Jaamia Shareef Research Centre) , প্রায় সমস্ত বিষয়ে কোটি কোটি টাকা মূল্যের দূর্লভ কিতাবে সমৃদ্ধ ১টি লাইব্রেরী রয়েছে।

৪) কর্মপরিধি: বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মসজিদ-মাদরাসা, গবেষণাগার, লাইব্রেরী প্রতিষ্ঠা ও ঘরে ঘরে আনজুমানে আল বাইয়্যিনাত মজলিস (Readers forum) উনার মাধ্যমে সবাইকে ইলম অর্জনের সুব্যবস্হা করা

<হাবিবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার  দোয়া পেতে এখানে চামড়া/টাকা প্রদান করুন>

Phone: 01916929112,01716150629

Bkash: Agent- 01709672605,Personal- 01718740742, 01876043934, 01990770065

DBBL: 017187407422

 

৪. কুরবানির চামড়া দেয়ার উত্তম স্থান হচ্ছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতিম খানা।

ইসলামে মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ হারাম। ইসলামের নামে ব্যবসা করা হারাম। ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক দল করা হারাম। ইসলামের নামে নির্বাচন করা হারাম। ইসলামের নামে ভোট চাওয়া হারাম। “বর্তমানে অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোই হচ্ছে ইসলামের দোহাই দিয়ে, ইসলামের নামে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হাছিলের প্রকল্প। ইসলামের নামে নির্বাচন করার ও ভোটের রাজনীতি করার পাঠশালা- যা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম।

কুরবানীর চামড়া কোথায় দেয়া হচ্ছে তা দেখে দিতে হবে। ধর্মব্যবসায়ীদের মাদরাসাতে কুরবানীর চামড়া দিলে তাতে কুরবানী আদায় হবে না।

অনুরূপভাবে কোনো তথাকথিত জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনকেও কুরবানীর চামড়া দেয়া জায়িয হবে না। কারণ তারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তা-ঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে। অথচ কুরবানীর চামড়া গরিব মিসকীনদের হক্ব। তা গরিব মিসকিনদের মালিক করে দিতে হবে।

তাই বলার অপেক্ষাই রাখে না যে, কুরবানির চামড়া দেয়ার উত্তম স্থান হচ্ছে মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতিম খানা। কারণ ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’-এর অনন্য বৈশিষ্ট্যসমূহ হচ্ছে এই যে, একমাত্র অত্র প্রতিষ্ঠানেই ইলমে ফিক্বাহর পাশাপাশি ইলমে তাছাউফ শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে যা শিক্ষা করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর জন্য ফরয। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ শরয়ী পর্দার সাথে বালক ও বালিকাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বালক শাখার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও আমীলগণ প্রত্যেকেই পুরুষ এবং বালিকা শাখার শিক্ষিক, কর্মকর্তা ও আমীলগণ প্রত্যেকেই মহিলা।

এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা- ইসলামের নামে অনৈসলামিক কর্মকা- যেমন, মৌলবাদ, সন্ত্রাসবাদ, বোমাবাজী, হরতাল, লংমার্চ, কুশপুত্তলিকা দাহ ইত্যাদি হারাম ও কুফরীমূলক কাজের সাথে এবং এ ধরনের কোন প্রকার অবাঞ্ছিত সংগঠন বা দলের সাথে সম্পৃক্ত নয়। বরং এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন আমল এবং মাথার তালু থেকে পায়ের তলা পর্যন্ত সব কিছুই সুন্নতের অলঙ্কারে অলঙ্কৃত। সর্বোপরি এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা ভিত্তিক। কুরআন শরীফ, হাদীছ শরীফ, ইজমা এবং ক্বিয়াস-এর আলোকে ইলম শিক্ষা দেয়া হয় যার উদ্দেশ্য হচ্ছে বাস্তব জীবনে সুন্নতে নববীর আদর্শ প্রতিষ্ঠা তথা সঠিক ইসলাম কায়িমের মাধ্যমে আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি বা রেযামন্দী হাছিল করা। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমাজের বিত্তবানদের পাশাপাশি ‘গরিব এবং ইয়াতীমদের’ শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘ইয়াতীমখানা এবং লিল্লাহ বোডিং’সুতরাং কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য অত্র প্রতিষ্ঠানের লিল্লাহ বোডিংয়ে দান করাই হবে অধিক ফযীলতের কারণ অর্থাৎ হাক্বীক্বী ছদক্বায়ে জারিয়াহ।

 

 

৪. পবিত্র কুরবানী উনার ফাযায়িল

৫. হাদীছ শরীফ-এ উল্লেখ আছে, ‘ইয়াওমুন নহর অর্থাৎ কুরবানীর দিনসমূহে আদম সন্তান যতো কাজ করে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার কাছে সবচেয়ে প্রিয় কাজ কুরবানীর পশুর রক্তপাত।’

হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, একদা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘কুরবানী কিহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘এটা আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত ও আদর্শ।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ‘এতে আমাদের কী লাভহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘প্রত্যেক পশমের বদলে একটি করে নেকী আছে।’ (মুসনাদে আহমাদ, ইবে মাযাহ, মিশকাত শরীফ)।

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, একদা আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি সাইয়্যিদাতুন নিসায়ি আহলিল জান্নাহ হযরত ফাতিমাতুয যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বললেন, কুরবানীর পশুর প্রত্যেক রক্ত বিন্দুর বদলে একটি করে গুনাহ মাফ হবে এবং ওই পশুটিকে তার রক্ত ও গোশতসহ দাঁড়িপাল্লায় সত্তরগুণ ভারী করে দেয়া হবে। একথাটি শুনে হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রসূলাল্লাহ, ইয়া হাবীবাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! ‘এই সমস্ত নেকী হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার বংশের জন্য খাছ, না সর্বসাধারণ সবার জন্যওহুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, ‘এটা আমার বংশ এবং সকল মুসলমানের জন্য।’ (বায়হাকি, কানজুল উম্মাল পঞ্চম খ-, ১১৯ পৃষ্ঠা ও ৫১ পৃষ্ঠা, মুস্তাদরেকে হাকেম, চতুর্থ খ-, ২২২)।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আরো ইরশাদ করেন, ঈদুল আযহার দিনে বান্দার কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহ পাক তার সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন।” সুবহানাল্লাহ!

হাদীছ শরীফ-এ আরো ইরশাদ হয়েছে, “যে সমস্ত পশু দ্বারা কুরবানী করা হবে ক্বিয়ামতের দিন সেই পশুগুলি কুরবানীদাতাকে পিঠে করে বিদ্যুৎবেগে পুলছিরাত পার করে বেহেশ্তে পৌঁছিয়ে দিবে।” সুবহানাল্লাহ!

 

৫. পবিত্র কুরবানী ইতিহাস

৬. কুরবানি এবং তাকবীরে তাশরিকের ইতিহাস

হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করেছিলেন, হে বারে ইলাহী! আমাকে একজন নেক সন্তান হাদিয়া করুন। মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালাম উনাকে একজন ধৈর্যশীল সন্তান অর্থাৎ হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে হাদিয়া করার সুসংবাদ প্রদান করেন। ।

অতঃপর হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ৮৬ বছর বয়স মুবারকে হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি জমীনে তাশরীফ মুবারক আনলেন। যখন তিনি হাঁটাহাঁটির বয়সে উপনীত হলেন, সেইসময় যিলহজ্জ শরীফ উনার ৭, , ৯ তারিখ রাতে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন যে, তিনি উনার প্রিয় বস্তু কুরবানী করছেন। স্বপ্ন দেখার পর তিন দিনই তিনি ১০০ টি করে পশু কুরবানী করেন। এরপর তিনি আবার স্বপ্ন মুবারকে দেখলেন যে, তিনি উনার সন্তান হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করছেন। এই বিষয়টি তিনি হযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে মিনায় নিয়ে গিয়ে বললেন, ‘হে আমার প্রিয় সন্তান! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে কুরবানী করছি। এ ব্যাপারে আপনার অভিমত কীহযরত ইসমাইল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি জবাব দেন, ‘হে আমার সম্মানিত পিতা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তা বাস্তবায়িত করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।’ সুবহানাল্লাহ!

যখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারকে ছুরি চালালেন তখন মহান আল্লাহ পাক উনার কুদরত জাহির হল! যতই ছুরি চালানো হোক হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কাটল না। সুবহানাল্লাহ! হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি ছুরির ধার পরীক্ষা করার জন্য ছুরিটি একটি পাথরে আঘাত করলেন। সাথে সাথে পাথরটি দ্বিখণ্ডিত হয়ে গেলো। হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে ছুরি! তুমি পাথরকে দ্বিখণ্ডিত করে দিলে অথচ হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারক কাটতে পারছো না? তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি ছুরির যবান খুলে দেন। ছুরি বললো, ‘হে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি আমাকে একবার কাটার জন্য আদেশ মুবারক করছেন আর আমার রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাকে সত্তরবার কাটতে নিষেধ মুবারক করছেন। সুবহানাল্লাহ!

এমতাবস্থায় মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে বেহেশত থেকে একটি দুম্বা এনে হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার নিকট দেয়ার নির্দেশ মুবারক দিলেন। এই দুম্বাটি ছিল হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তিনি যে দুম্বাটি কুরবানী করেছিলেন সেই দুম্বা; যা চল্লিশটি বসন্তকাল বেহেশতে কাটিয়েছে। হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি দুম্বা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হলেন দেখলেন, হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম তখনও হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার গলা মুবারকে ছুরি চালাচ্ছেন। এটা দেখে তিনি আশ্চর্যান্বিত হয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার বড়ত্ব, মহত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে বলে উঠলেন, ‘আল্লাহ আকবার, আল্লাহু আকবার।’ অর্থাৎ মহান আল্লাহ্ পাক উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। এজন্যই একজন পিতার পক্ষে সম্ভব হয়েছে উনার প্রাণের চেয়ে প্রিয় সন্তানকে কুরবানী করে ফেলা। সুবহানআল্লাহ!

তারপর হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম,হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে সরিয়ে ছুরির নিচে দুম্বাটি দিয়ে দিলেন। হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বিষয়টি বুঝতে পেরে মহান আল্লাহ পাক উনার একত্ববাদের ঘোষণা দিয়ে বললেন, ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার’অর্থাৎ, মহান আল্লাহ্‌ পাক তিনিই আমাদের খলিক্ব, মালিক, রব। উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। এজন্যই আমার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমার সন্তানকে কুরবানী করে ফেলা। সুবহানআল্লাহ!

হযরত যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনিও যখন বুঝতে পারলেন যে, তিনি যবেহ না হয়ে উনার পরিবর্তে একটি দুম্বা যবেহ হচ্ছে, তখন তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার প্রশংসা করে বললেন, ‘আল্লাহু আকবার ওয়া লিল্লাহিল হামদ।’ অর্থাৎ, আল্লাহ্‌ পাক উনার আদেশ মুবারক সমস্ত কিছুর উপরে। উনার জন্যই সমস্ত প্রশংসা। এজন্যই আমার পিতার পক্ষে সম্ভব হয়েছে আমাকে কুরবানী করা এবং আমার পক্ষেও সম্ভব হয়েছে কুরবানী হয়ে যাওয়া। সুবহানআল্লাহ!

সম্মানিত শরীয়ত উনার দৃষ্টিতে এটাই তাকবীরে তাশরীক।’ সুবহানাল্লাহ!

 

৭. হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কিত বর্ণনাটিপ ইসরাইলী তথা ইহুদীদের বর্ণনা, যা সম্পূর্ণরূপে মিথ্যা ও পরিত্যাজ্য

 

বিশুদ্ধ হাদীছ শরীফ-এর কিতাব ‘মুসতাদরাক লিল হাকিম’-এ বর্ণিত রয়েছে, হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমরা একদা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক খিদমতে উপস্থিত ছিলাম। তখন এক গ্রাম্য আরবী লোক এসে বললেন, হে দুই যবীহ উনাদের সন্তান! এ সম্বোধন শুনে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মুচকি হাসলেন। হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি হাদীছ শরীফখানা বর্ণনা করার পর উপস্থিত জনতার মধ্য থেকে জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, যবীহদ্বয় কে কে? হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, এক যবীহ হলেন হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সম্মানিত পিতা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম আর দ্বিতীয়জন হলেন উনার পূর্ব পিতা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।

হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ করেন, ‘আমি দুই যবীহ উনাদের পুত্র’এ হাদীছ শরীফখানার তাৎপর্য হচ্ছে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার আপন পিতা হযরত আব্দুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার পিতা হযরত আব্দুল মুত্তালিব আলাইহিস সালাম তিনি কুরবানীর জন্য মানত করেছিলেন। অতঃপর তৎকালীন জ্ঞানী-গুণীগণের পরামর্শক্রমে উনার প্রাণের বিনিময়ে একশত উট সদকা (কুরবানী) করেছিলেন। সুতরাং এক যবীহ পাওয়া গেল। আর অনিবার্যভাবেই অপর যবীহ হলেন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি। কেননা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার বংশের অন্তর্ভুক্ত। ‘আমি দুই যবীহ উনাদের সন্তান’ হাদীছ শরীফখানাকে হযরত ইবনুল জাওযী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি ছহীহ তথা বিশুদ্ধ বলেছেন।

রঈসুল মুহাদ্দিছীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই কুরবানী করা হয়েছিল হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে।’ অনুরূপ রঈসুল মুফাসসিরীন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত রয়েছে। যেমনটি হাদীছ শরীফ-এর বিশুদ্ধ কিতাব ‘আল মুসতাদরাক লিল হাকিম’-এ উল্লেখ আছে। একইভাবে বিশিষ্ট তাবিয়ী হযরত ইমাম হাসান বছরী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন, এতে কোন সন্দেহ নেই যে, নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকেই কুরবানী করতে নির্দেশ করেছিলেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, হযরত ইবরাহীম খলীল আলাইহিস সালাম তিনি উনার ছেলে (হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম) উনাকে বলেন, আমি স্বপ্নে দেখলাম আপনাকে যবেহ করতেছি, আপনি কি বলেন? তখন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনি বললেন, হে আমার সম্মানিত পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তা করুন অর্থাৎ যবেহ করুন। অবশ্যই আমাকে ধৈর্য্যশীল পাবেন। এ প্রসঙ্গে ‘তাফসীরে মাযহারী’ কিতাবে উল্লেখ আছে, “এ কথা সুনিশ্চিত যে, সূরা ছফফাত-এর ১০১ নম্বর আয়াত শরীফ-এ উদ্ধৃত ‘ধৈর্যশীল পুত্র’ বলে বুঝানো হয়েছে- হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে। আর উনাকেই কুরবানী করার নির্দেশ পেয়েছিলেন হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। অর্থাৎ তিনিই ছিলেন ‘যবীহ’ (উৎসর্গকৃত)। কিন্তু ইহুদী, খ্রিস্টানরা বলে, ‘যবীহ’ ছিলেন হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম। তাদের এ উক্তি যে অসত্য, তা বলাই বাহুল্য।

মূলত হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনার সম্পর্কিত যে বর্ণনা রয়েছে তা ইসরাইলী বা ইহুদীদের বর্ণনা। ইহুদীরা হিংসার বশবর্তী হয়েই এরূপ মিথ্যা তথ্য প্রচার করেছে ও করছে।

 

৬.কুরবানির অর্থননৈতিক গুরুত্ব

৮. হাড়-শিং : ১শ কোটির বাজার ২০ কোটিতে ঝুলছে

কোরবানির পশুর একটি হাড়ও ফেলনা নয়। হাড়, শিং,  দাঁত ও খুর রপ্তানি ও এগুলোর দ্বারা তৈরি পণ্য বাজারজাত করে বর্তমানের ২০ কোটি টাকার বাণিজ্য ১শ কোটিতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব

এখানে হাড় ও শিং থেকে সামান্য পরিমানে চিরুনী,  বোতাম, হস্তশিল্প তৈরি করা হলেও চাহিদার অধিকাংশই আমদানি করা হয় বিদেশ থেকে। অথচ দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠা করা গেলেই আমাদনি বন্ধের পাশাপাশি রপ্তানির জন্য পড়ে রয়েছে বিশাল বাজার।

বাংলাদেশে গরু,  মহিষ,  ছাগলের সব রকমের হাড়, পায়ের খুর,  দাঁত,  শিং সবটুকু অংশই ব্যবহার করা হয়বিভিন্ন ক্যাটাগরির হাড়ের মধ্যে দেশে ক্র্যাশবোন- ৩/৮,  ৫/৮ নামের ভালোমানের একটি হাড় প্রক্রিয়াজাত করা হয়, যার প্রধান ক্রেতা গ্লোবাল ক্যাপসুল লিমিটেড। কোম্পানিটি বছরে ৩৪টি হাড় রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের হাড় কেনে। এ দিয়ে তৈরি হয় উন্নতমানের ক্যাপসুল (ওষুধের নমনীয় মোড়ক) । প্রতিষ্ঠানটি টনপ্রতি ২৮ হাজার টাকা দড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ হাজার টন হাড় ও শিং সংগ্রহ করে থাকে।

হাড় প্রক্রিয়াজাতকারী কোম্পানিগুলো বছরে ৭-৮ কোটি টাকার হাড়,  শিং বিদেশে রপ্তানি করে। জাপান,  জার্মানি,  ভারত ও  চীনে সাধারণদ রপ্তানি করা হয়। কিছু জটিলতার কারণে ইরান,  ইন্দোনেশিয়াতে ব্যপক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও রপ্তানি সম্ভব হয় না। এ জায়গাতে সরকারের একটু সহযোগিতা পেলে এসব দেশে হাড় রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ানো সম্ভব।

হাড় থেকে তৈরি হয় বোতম। কিন্তু ভালো মানের বোতাম তৈরির কোনো কারখানা দেশে নেই। চাহিদার সবটুকুই মেটানো হয় আমাদনি থেকে। অথচ বোতাম তৈরির কাঁচামাল বিদেশে রপ্তানি করা হয়। ইউরোপে আবার প্রচুর চাহিদা রয়েছে ভালোমানের বোতামের।

হাড় থেকে এক ধরনের গুঁড়া তৈরি করা হয়। যা দিয়ে তৈরি হয় নিটবন নামের মুরগির খাবার। এটি লেয়ার-ব্রয়লার মুরগির খাবারে প্রতি কেজিতে ১৮-২০ শতাংশ মেশানো হয়। এটি পুরোপুরি বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়। দেশে ব্যপক চাহিদা এবং কাঁচামাল থাকলেও পুরোটাই আমদানি করা হচ্ছে। এটি আমদানিতে প্রতিবছর খরচ হয় ২শ-২৫০ কোটি ডলার।

 ‘আমাদের দেশের যে পরিমান পণ্যের চাহিদা,  বিদেশে হাড়-শিং ও এগুলো থেকে তৈরি পণ্যের যে চাহিদা রয়েছে তা নিয়ে কাজ করতে পারলে বছরে ২০ কোটির এ বাজারটিকে ১০০ কোটি ছাড়িয়ে নেয়ার প্রচুর সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে।

এছাড়া টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে হাড় শিং দিয়ে পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হলেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাইরে থেকে লোক আনতে হবে না

উল্লেখ্য,  এক সময় হাড়-শিং রপ্তানির ওপর ১৫ শতাংশ হারে নগদ প্রণোদনা দেয়া হলেও এখন দেয়া হয় মাত্র ৫ শতাংশ।

 

৯. কুরবানির টাকা দান করা নিয়ে নাস্তিকদের অপপ্রচারের জওয়াব বনাম কুরবানির অর্থনৈতিক গুরুত্ব

নাস্তিক –ইসলামবিদ্বেষিরা বলে থাকে”কুরবাণীর টাকা পশুর পিছনে খরছ না করে দান করে দেওয়ার জন্য”! নাউযুবিল্লাহ। নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষীদের অজ্ঞতা,মুর্খতা তাদের বিবেক, আক্বলকে সংকীর্ন করে দিয়েছে।

কোরবানির উদ্দেশ্যটা বাণিজ্যিক না হলেও কর্মসংস্থান এবং গতিশীলতা তৈরির মাধ্যমে অর্থনীতির পালে সুবাতাস দিয়ে এর প্রত্যেকটি খাত বা সেক্টরকে গতিশীল করে তোলে। ঘূর্ণায়মান অর্থনীতির গতিপ্রবাহে মুদ্রা সরবরাহ, লেনদেন ও আর্থিক প্রসারই আয়।

১.বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশের বিভিন্ন পশু হাটের তালিকা করে সেগুলোতে হিসাব করে  বলেছে, গেল বছর ২০১৬ সালে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পশু প্রায় ৫০ হাজার কোটির অধিক বেচাকেনা হয়।

২. এই হাজার হাজার কোটি টাকা যাচ্ছে কোথায়? যাচ্ছে গরিবদের ঘরে। প্রায় ৯৯ শতাংশ  কোরবনির পশুই কেনা হয় গরিবের কাছ থেকে। গরিব মানুষ সারা বছর গরু লালন-পালন করে কোরবানির হাটে নিয়ে আসে। হাটে গরু বিক্রি করে ধনীদের হাতে তুলে দেয়। আর তারা ঘরে নিয়ে যায় মোটা অঙ্কের টাকা। কোরবানির পুরো টাকাটাই তাদের ঘরে যায়। একসঙ্গে এতগুলো টাকা পেয়ে তারা তাদের বিভিন্ন প্রয়োজন পূরণ করে। গরিবের অর্থনৈতিক চাকা সচল হয়। তাদের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। গ্রামগঞ্জের বাজারগুলো সচল হয়ে ওঠে।

৩. কোরবানির গোশতেরও সিংহভাগ চলে যায় গরিবের ঘরে। সারা বছর যেসব গরিব পরিবার ভালোভাবে গোশত খেতে পারে না কোরবানি তাদের তৃপ্তিভরে গোশত খাওয়ার সুযোগ করে দেয়।

৪. পশুর হাট ইজারা দিয়ে শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনেরই আয় হওয়ার কথা প্রায় ২৫ কোটি টাকা।

৫.কোরবানির পশুর ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে প্রতি বছর  গোসম্পদ পালনের পরিমাণও বাড়ছে। এবার শুধু কুষ্টিয়া জেলায় ৮২ হাজার গরু পালন করা হয়েছে। খামারিরা ৪০০ কোটি টাকা আয়ের আশা করছেন গরু পালনের মাধ্যমে। (প্রথম আলো : ২৩-০৮-২০১৬)। এভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় গড়ে ওঠা খামারগুলোতে কর্মসংস্থান হচ্ছে লক্ষাধিক মানুষের। তাছাড়াও কোরবানির পশু পরিবহন, টোল, বখশিশ, বাঁশ-খুঁটির ব্যবসা, পশুর খাবারেও লেনদেন হয় কোটি কোটি টাকা। 

৬.কোরবানির চামড়ার মূল্য দরিদ্রদের অধিকার। কোরবানি হওয়া ৯০ লাখ গরুর প্রত্যেকটি চামড়ার মূল্য গড়ে ১ হাজার টাকা ধরলেও এর মূল্য হয় ৯০০ কোটি টাকা। আবার ৩৫ লাখ ছাগলের প্রত্যেকটির চামড়ার মূল্য ১০০ টাকা ধরলেও এ বাবদ হয় ৩৫ কোটি টাকা। গরু এবং ছাগলের চামড়া মিলিয়ে এই ৯৩৫ কোটি টাকা চলে যাচ্ছে সরাসরি গরিবদের হাতে।

৭.বাংলাদেশে রফতানি খাতে চামড়ার অবস্থান তৃতীয়। কোরবানির ওপর ভর করেই টিকে আছে বিপুল সম্ভাবনার এ খাতটি। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্যমতে, ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসেই (জুলাই-আগস্ট) বাংলাদেশ থেকে ৯ কোটি ৫৫ লাখ ডলারের জুতা রফতানি করা হয়। (আলোকিত বাংলাদেশ : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৪)।

৮.কোরবানি উপলক্ষে মশলার বাজার সগরম হয়। প্রতি বছর দেশে ২২ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ, ৫ লাখ মেট্রিক টন রসুন আর ৩ লাখ টন আদার চাহিদা থাকে। এর উল্লেখযোগ্য অংশই ব্যবহার হয় কোরবানিতে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুসারে ২০১৪-১৬ অর্থবছরে ২ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন এলাচ, ৭ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন  দারুচিনি, ১৭০ মেট্রিক টন লবঙ্গ এবং ৩৭০ মেট্রিক টন জিরা আমদানি করা হয়েছে। কোরবানির বাজারে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হবে এসব পণ্যের। (যুগান্তর : ২১-০৮-২০১৬)।

৯. দেশে প্রতিবছর শুধু কোরবানির ঈদেই প্রায় ৪০ লাখ ছাগলের চাহিদা রয়েছে। এত সংখ্যক ছাগল পালন করতে গিয়ে সারাদেশে প্রায় ৪০ লক্ষ গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়।

নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষিদের বিবেকে মোহর পড়ার কারণে তারা কুরবানির বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। যার কারণে কুরবানির যে অর্থনৈতিক অসীম গুরুত্ব রয়েছে তা তারা উপলব্ধি করতে পারেনা। তারা শুধু গরীব দুঃখীদের কথা বলে থাকে কিন্তু কুরবানী যে শুধু গরীব দুঃখীর কষ্ট লাঘব করে তা নয় , সারা দেশের অর্থনীতিকে নতুন করে চাংগা করে তা হৃদয়ঙ্গম করার শক্তি তাদের নেই। তারা কুরবানীর টাকা দান করার কথা বলে কিন্তু পূজার সময় যে কোটি কোটি টাকা পানিতে ফেলা হয় তার বিরুদ্ধে কিছু বলেনা। নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষির যদি এতই গাত্রদাহ হয় তাহলে তারা এদেশ ছেড়ে চলে যাক। কিন্তু মুসলিম দেশে বাস করে কুরবানির বিরুদ্ধে বলা কিছুতেই বরদাস্ত করা হবেনা।

 

১০. পশুর উচ্ছিষ্টের বাজার বিশাল ॥ আয় হবে হাজার কোটি টাকা

গবাদি পশুর গোশত আর চামড়ার কদর আমাদের সবারই জানা। কিন্তু অজানা ব্যাপারটি হলো- গোশত  আর চামড়া ছাড়া বাকি সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের রয়েছে বিরাট অর্থমূল্য। অছে বিপুল রফতানি সম্ভাবনাও। একবার ভাবুন তো আমরা উচ্ছিষ্ট হিসেবে গবাদি পশুর যেসব অংশ ফেলে দিই বিদেশীরা সেগুলো কিনে নেয় ডলার দিয়ে। পশু জবাইয়ের পর একটি মাঝারি আকারের গরুর ১৫ থেকে ২০ কেজি হাড় ফেলে দেয়া হয়। আমরা জানিই না যে, প্রতিদিন এই হাড় নিয়ে বাণিজ্য হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ এবং নাড়িভুঁড়ি বিক্রি হয় ১২ লাখ টাকার। শুধুমাত্র কোরবানির ঈদ ও পরবর্তী ১ মাসে সারাদেশে প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পশুর হাড় সংগ্রহ করা হয়। গরুর শিংসহ হাড় বিক্রিতে প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। বাংলাদেশ বোন এক্সপোর্টার এ্যান্ড মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, প্রতিদিন এই হাড় কেনা-বেচায় কোটি কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে। জবাই করা পশুর ফেলে দেয়া হাড়গোড় সংগ্রহ করে প্রক্রিয়াজাত করে বিদেশে রফতানি করে হাজার কোটি টাকা আয় সম্ভব।

বাংলাদেশ বোন এক্সপোর্টার এ্যান্ড মার্চেন্ট এ্যাসোসিয়েশন সূত্রে জানা যায়, আবর্জনা হিসেবে ফেলে দেয়া গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার হাড়, শিং, অন্ডকোষ, নাড়িভুঁড়ি, মূত্রথলি, চর্বি বিভিন্ন পণ্যের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে শিল্প কারখানায়।

পশুর হাড় দিয়ে- জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ক্যাপসুলের কভার, ক্যামেরার ফিল্ম, সিরিষ কাগজ, পশুপাখির খাবার, বোতাম, সিরামিক পণ্য, মেলামাইন, খেলনা, শোপিসসহ ঘর সাজানোর নানা উপকরণ,

নাড়ি দিয়ে অপারেশনের সুতা,

রক্ত দিয়ে- পাখির খাদ্য,

চর্বি দিয়ে- সাবান,

পায়ের ক্ষুর দিয়ে বিভিন্ন প্রকার ক্লিপ ইত্যাদি উপকরণ তৈরি হয়।

পিত্তথলি দিয়ে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ।

জাপান, চীন, কোরিয়া আর থাইল্যান্ডে উপাদেয় খাবার সুপ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয় গবাদি পশুর লিঙ্গ।

নাড়িকোষ দিয়ে তৈরি হয় জাপানের জনপ্রিয় খাবার সুসেড রুল।

দেশেই ওষুধ কোম্পানি অপসোনিন তৈরি করছে ক্যাপসুলের কভার।

রফতানিকারকরা মনে করেন, পশুর বর্জ্য রফতানিতে সরকারের সহায়তা পেলে কয়েক হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে।

সচেতনতা কিংবা প্রচার না থাকায় গবাদি পশুর হাড়-গোড়, ক্ষুর, শিং, লেজ কিংবা রক্ত শত কোটি টাকার সম্পদ উচ্ছিষ্ট হিসেবে স্থান হয় আবর্জনার ডাস্টবিনে।

 

৭. ট্যানারী(চামড়া শিল্প)  নিয়ে ষড়যন্ত্র

১১.পাট শিল্পের মতো দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে একসময় দেশের প্রধান অর্থ আয়ের উৎস ছিল পাট। ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এ শিল্প ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ভারতকে সুবিধা দিতে রফতানি আয়ের দ্বিতীয় বৃহৎ খাত চামড়া শিল্পকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র চলছে।

ট্যানারির উৎপাদন বন্ধ হলে বিদেশি বায়ারদের (ক্রেতা) হারাতে হবে। বায়াররা বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে  নেবেঅন্যকোনো দেশ থেকে চামড়া কিনবে। সেক্ষেত্রে সব থেকে বেশি সুবিধা পাবে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।

বাংলাদেশের চামড়া শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হবে ভারত।’যেমন ‘আদমজি জুট মিল বন্ধ করে দিয়ে কী লাভ হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (বিশ্বব্যাংক) বাংলাদেশের জুট মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের বিদায় করে দেয়ার জন্য টাকা দিল। আর পশ্চিমবঙ্গের পাটকলগুলোর আধুনিকায়নের জন্য টাকা বরাদ্দ করল। ফলে সেখানে ব্যাপকহারে পাটকল গড়ে উঠল।’

পাটশিল্প ধ্বংস করে এখন চামড়া শিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা চলছেঅন্য দেশকে সুবিধা দিতে এটি করা হচ্ছে।’

 ‘চামড়া রফতানি করে ভারত সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে। বাংলাদেশের ট্যানারি ক্ষতিগ্রস্ত হলে চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যাবে। বর্তমানে ট্যানারি মালিকদের ১১শ কোটি টাকার এলসি খোলা আছে। উৎপাদন বন্ধ হলে বায়াররা তো (ক্রেতা) চলেই যাবে, সেই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আদালতে ক্লেম (অভিযোগ) করবে। তখন আমাদেরই জরিমানা দিতে হবে।’

 সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে এখনও গ্যাস সংযোগ দেয়া হয়নি। গ্যাস না থাকলে উৎপাদন হবে কী করে? আবার সেখানে শ্রমিকদের থাকা ও চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা নেই। সেখানে শ্রমিকরা কীভাবে কাজ করবেএ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় দেশের চামড়া শিল্প ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে

 

৮. ভারতীয় গরু বর্জন করে দেশীয় গরু ক্রয় করুন

১২. ভারতীয় গরু থেকে সাবধান।

 ‘বাংলাদেশের আমে ফরমালিন আছে’ বলে বাংলাদেশী মিডিয়াগুলো একযোগে প্রচার করেছিলো। মিডিয়ার অপপ্রচার ও বাংলাদেশের সরকারের উদ্যোগে সেবার বহু আম ধ্বংস করেছিলো প্রশাসন। এতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলো বাংলাদেশের কৃষকরা। কিন্তু পরে আবিষ্কৃত হলো -

১) ফরমালিন আসলে মিডিয়াসৃষ্ট একটি গুজব এবং সেই গুজবের কারণে ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ৬০ হাজার টন ফল ও মাছ (http://goo.gl/Sh7HPZ)

২) যে যন্ত্র দ্বারা ফরমালিন মেপে ফল ধ্বংস করা হচ্ছিলো, সেই যন্ত্রটাই আসলে ত্রুটিপূর্ণ (http://goo.gl/3ay7VF)

৩) ফরমালিন নামক গুজব ছড়ানোর পেছনে মূল কাজ করেছিলো ভারতীয় আম। কারণ ভারতীয় আমে ক্ষতিকারক পদার্থ থাকায় তা ইউরোপে নিষিদ্ধ হয়। তাই বিপুল পরিমাণে ভারতীয় আম অবিক্রিত অবস্থায় থেকে যায়। সেই আম বাংলাদেশের মার্কেটে চালাতে ‘বাংলাদেশের আমে ফরমালিন আছে’ বাংলাদেশী মিডিয়ার মাধ্যমে এই গুজব ছড়িয়ে দেয় ভারতীয় গোয়েন্দারা। এরপর বাংলাদেশী আম ধ্বংস হলে, সেই সুযোগে মার্কেটে প্রবেশে করে ভারতীয় বিষাক্ত আম, যা ইউরোপে আগেই নিষিদ্ধ হয়েছিলো। (http://goo.gl/h5STnC)

ঠিক একইভাবে এবার কোরবানী ঈদের আগে বাংলাদেশের মিডিয়াগুলো একযোগে প্রচার করেছে, ‘বাংলাদেশী গরুতে মোটাতাজা করতে বিষ মেশানো হয়েছে। তাই বাংলাদেশী গরু যারা খাবে তাদের শরীরে বিষ আক্রান্ত হবে।’

স্বাভা্বিকভাবে মিডিয়ায় এক অপপ্রচার যখন বার বার করা হয়, তখন মানুষের মনমগজে সেই অপপ্রচার যুক্ত হতে থাকে। ফলে ইচ্ছা-অনিচ্ছায় অনেকে বাংলাদেশী সুস্থ সবল-গরু রেখে ভারতীয় হাড্ডিসার গরুর দিকে ঝুকবে। কিন্তু যে ভারত এতদিন গরু বন্ধ রাখলো, সে হঠাৎ করেই গরু ছেড়ে দিলো কেন ? শুধুই কি টাকার জন্য ছেড়েছে ? নাকি টাকা তুলে নেওয়ার সাথে সাথে বাংলাদেশীদের জন্য পাতা হয়েছে নতুন কোন মরণ ফাঁদ ?

এ ব্যাপারে বাবু লাল সরকার নামক এক ভারতীয় বলে:

“আরে বাংলাদেশী--- বাচচা , আমরা বা রাজনাথ সিং রা যে গরু পাঠাচ্ছে, তাদের প্রত্যকটাকে বিভিন্ন ক্রনিক রোগের জিবানু ইনজেকশন করে দেওয়া হয়। ওই গরুর মাংস খাবি আর ক্রনিক ক্রনিক রোগে ভুগবি আর ভারতে এসে চিকিত্সা করাবি।

আমাদের লক্ষ্য :গরু বেচে পয়সা কামাবো আবার রোগের চিকিত্সা করেও পয়সা কামাবো ।

 (লিঙ্ক: https://goo.gl/g6zXKu, কমেন্টে)

তাই বাংলাদেশী গরুর বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বাংলাদেশে ভারতীদের গরু পাঠানোর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হতে পারে তিনটি:

ক) বাংলাদেশে থেকে ভারতের মোটা অংকের টাকা তুলে নেওয়া।

খ) অপেক্ষাকৃত কমমূল্যে গরু ছেড়ে বাংলাদেশী খামারীদের মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত করা। এতে পরবর্তীতে এ বিশাল গরুর মার্কেট দখল করতে সহজ হবে।

গ) গরুর শরীরে ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে স্লো-পয়জনিং করা, এতে গরুর গোশত খেলে সেই স্লো-পয়জন মানুষের দেহেও সঞ্চালিত হবে।

তাই বাংলাদেশীদের উচিত, নিজ স্বার্থেই কোরবানীতে ভারতীয় গরু বর্জন করা।

 

১৩. কেন ভারতীয় গরু কিনবেন না ?

১। নিম্মমানের এই সব ভারতীয় গরু কিনবেন না। কারন গরুর খাদ্যের অভাবে তারা যেমন কচু,ঘেচু খায় তেমনি তাদের গরুগুলো কিছু খেতে না পেয়ে প্লাস্টিক খায়। ভারতের প্রতিটি মৃত গরুর পেটে ৩০ কেজি প্লাস্টিক পাওয়া যায়। http://goo.gl/mFUMyR

২। বিপরীতে আমাদের খামারীরা গরুকে খাওয়ায় উন্নত মানের খাবার। গরুর খড়, তাজা ঘাস, খৈল ও ভুসি ছাড়াও খাওয়ানো হচ্ছে হরেক রকমের পুষ্টিকর খাবার। পশু ডাক্তারকে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পরীক্ষা করানো হয় গরুর চিকিৎসা। আমাদের দেশে কিভাবে মোটাতাজাকরা হয় জানতে পড়ূন http://goo.gl/HTl8Ki

তাহলে আপনি কেন নিম্মমানের ভারতীয় গরু খাবেন ?

৩। গরু মোটাকরার জন্য সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় স্টেরয়েড বা প্যারেকটিন জাতীয় ওষুধ আসে। এই ওষুধ নাকি বাংলাদেশি গরুর জন্য ব্যাবহার করছে বলে মিথ্য প্রচারনা চালাচ্ছে “খাম” নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া গুলোআচ্ছা ভারতীয় ওষুধ যদি বাংলাদেশে ব্যাবহার হয় তাহলে ভারতের গরু গুলোতে কি তারা এই স্টেরয়েড ব্যাবহার করেনি ? তাহলে সবদিক দিয়েই ভারতীয় গরু কেনাটা ঝুকিপুর্ন।

৪। এরপর আসুন দেশপ্রেম। আপনার উপর আধিকার কার বেশী, আপনার দেশীয় ভাইদের। তারা সারাবছর কস্ট করে গরু লালন পালন করে, আর আপনি হাটে গিয়ে কিনবেন নিম্মমানের ভারতীয় গরু ?

৫। এবার টাকার প্রশ্ন, বলতে পারেন দেশী গরুর দাম বেশী। চিন্তা করুন আপনার অনেক টাকা কিন্তু অনেক দিক দিয়ে চলে যায়, কিন্তু আপনার ইবাদতের সময় আসলে কেন আপনি ফাঁকফোকর খুঁজেন ? আর ভালো জিনিসের দাম একটু বেশীই হয়। এরপর দেশের অর্থনীতির চাকাও সচল হয়।

সুতরাং সরকারের কাছে আবেদন রইল। দেশের জনগনের নিকট আবেদন রইল, ভারতীয় গরু বর্জন করুন। নিজ দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটান, দেশের টাকা দেশেই থাক। আমরা শিং দের দেখিয়ে দিই আমরা তাদের উপর নির্ভরশীল না, বরং তারাই আমাদের উপর নির্ভরশীল।

 

১৪. কেন দেশী গরু কিনা উচিত?

১. বাংলাদেশ গরু-উৎপাদনে, গরুর গোশত উৎপাদনে  স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে কয়েক ধাপ এগিয়ে যাবে

২. দেশের টাকা দেশেই থাকবে বিদেশে [ ভারতে ] পাচার হবে না

.গরু উৎপাদনকারী বাঁচবে, প্রতি বছর ক্ষতি হলে উৎপাদনকারীর মন ভেঙ্গে যাবে, উৎপাদনে উৎসাহ হারাবে,

তখন ভারতীয় হাড্ডিসার বলদের  গোশত খেতে হবে বাধ্য হয়ে বেশি দামে

৪. বাংলাদেশীদের গুলী করে মেরে ফেলে বিএসএফ, কিন্তু ঈদ উল আজহায় বর্ডার খুলে দেয়, বুড়া হাড্ডিসার গরু পাচারে সাহায্য করে, ফলে দেশী গরুর দাম পড়ে যায়

৫. দেশী গরু কিনুন, আপনার কোরবাণীও হবে, দেশপ্রেমও হবে, কৃষকের দোয়াও পাবেন

৬. ভারতীয় গরু কেনার কারণে যদি আপনি কৃষকের কান্নার কারণ হন, তার বদদোয়ায় আপনার কোরবাণী

হবে কিনা ভেবে দেখুন

৭. ভারত বর্ডারে হাজার হাজার বাংলাদেশীকে খুন করেছে,  একটিরও বিচার হয়নি । তিস্তা নদীকে শুকিয়ে ফেলেছে,

ফারাক্কাসহ ৫৪ টি নদীতে বাঁধ দিয়ে দেশকে মরুভূমি বানিয়ে ফেলছে, ভারত একটি সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী অপশক্তি

৮. ভারতীয় গরু ক্রয়ে আপনার টাকায় তারা ভারতে মুসলমান জির্যাতন আরো বাড়িয়ে দিবে

৯. দেশী গরুর গোশতের যে স্বাদ তা নাপাক হিন্দুদের লালিত গরুর গোশতে নেই

এই ঈদে দেশী গরু কিনুন, দেশপ্রেম এবং ঈমানের পরিচয় দিন

 

৯. কুরবানির পশুর রক্তের গুরুত্ব

১৫.মাছ চাষ কেবল স্বল্প মূল্যে প্রাণিজ আমিষ সরবরাহের ভূমিকা রাখে না বরং কর্মসংস্থান, ব্যবসা এবং বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনেও এ খাতটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। বর্তমানে সারা বিশ্বেই মুক্ত জলাশয়ে (Marine Water) মাছের অতি আহরণের (Over Exploitation) ফলে মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের বর্ধিত ক্রয় ক্ষমতা এবং নগরায়নের ফলে প্রতিনিয়ত মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও মাছের এই চাহিদা পূরণে চাষের অধীনে (Aquaculture based) উৎপাদিত মাছ নিরবিচ্ছিন্নভাবে অবদান রাখছে। মাছের খাদ্য তৈরির ক্ষেত্রে প্রধান উপাদান, আমিষের বিকল্প উৎস হিসেবে কুরবানির পশুর রক্ত বিশাল গুরুত্ব বহন করে।

মৎস্য খাদ্যের পুষ্টিবিদদের মতে পশুর রক্ত চূর্ণ (Blood Mill) একটি উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিনের উৎসমাছের খাদ্য উৎপাদনে প্রাণিজ প্রোটিনের উপকরণের উৎস হিসেবে যে সকল দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নতমানের উপকরণ হল এই পশুর রক্ত। এর থেকে কেবল আমিষই (এতে ৭০-৮০% আমিষ থাকে) পাওয়া যায় না বরং এতে উন্নতমানের বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন থাকে। ব্রুড মাছ প্রতিপালনে ক্ষেত্রে মৎস্য বীজ উৎপাদন খামারসমূহে মাছের অন্যান্য খাদ্য উপকরণের সাথে পশুর রক্ত মিশিয়ে খাওয়ানো হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। পশুর রক্তের উত্তম পুষ্টি উপাদানের কারণে ব্রুড মাছেকে রক্ত মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ালে

১.মাছের ডিম পুষ্ট বা পরিপক্ক হতে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

২.ডিম উত্তমভাবে পরিপুষ্ট হবার কারণে মাছের রেণু সবল হয় এবং সহজে রোগাক্রান্ত হয় না।

৩.এ ছাড়াও মাছের রেণুর জীবিত থাকার হার এবং পোনা মাছের বর্ধন হারও বেশি হয়ে থাকে।

৪.সাধারণ মাছ চাষে মৎস্য চূর্ণ (Fish Mill) অথবা Meat & Bone Mill A_ev Fish Protein Concentrate এর পরিবর্তে আমরা পশুর রক্ত ব্যবহার করতে পারি তাতে মাছের খাদ্য উৎপাদনে খরচ অনেক কম পড়বে।

পশুর রক্ত থেকে উৎপাদিত রক্ত চূর্ণ (Blood Mill) কেবল মাছের খাদ্য তৈরিতে ব্যবহার হয় না বরং পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুত ছাড়াও  অন্যান্য আরো অনেক প্রাণীর খাদ্য প্রস্তুতেও ব্যবহার হচ্ছে।

বিশেষ করে যে সব মাছের খাদ্যে অধিক পরিমাণে আমিষ থাকা প্রয়োজন সে সব মাছের খাদ্য তৈরিতে পশুর রক্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে খাদ্য প্রস্তুতে খরচ কম হবে; ফলে মাছ চাষে অধিক লাভবান হওয়া যাবে। তেলাপিয়া, পাংগাস, শিং-মাগুর প্রভৃতি মাছ চাষে অধিক আমিষ সমৃদ্ধ খাবারের প্রয়োজন হয়।  

রক্ত শুকানের পর তা থেকে যেমন ভেজা খাবার তৈরি করা যেতে পারে তেমনি আবার যন্ত্রের সাহায্যে পিলেট খাবার তৈরি করা যেতে পারে। পানিতে পিলেট খাবারের স্থায়িত্ব বেশি ফলে খাবারের ব্যবহার সঠিকভাবে হয়। খাবার অপচয়ও কম হয়; ফলে পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে।

কেউ যদি কম খরচে মাছ চাষ করে অধিক লাভবান হতে চান তাহলে মাছের খাদ্য উৎপাদনে পশুর রক্ত ব্যবহার করুন।  

 

১০. পশুর হাট হ্রাস নয়, বৃদ্ধি করতে হবে

১৬.কুরবানীর পশুর হাট বাড়ানো- এটা মুসলমানদের ঈমানের দাবি

২০১৬ সালে কুরবানী হাটের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় কম করা হয়েছে। তাছাড়াও হাটগুলো মূল শহর থেকে দূর-দূরান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ!

এই কুরবানির হাট সরকারের রাজস্ব আয়ের উৎস ও। প্রতিবছর রাজধানীর কোরবানি পশুর হাটের রাজস্ব আয় বাড়ছে।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ২০১৬ সালের হাটগুলোর প্রস্তাবিত দর উঠেছে ৫ কোটি ৭৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় ২০১৬ সালের প্রস্তাবিত দর উঠেছে ৯ কোটি ২৯ লাখ ৬৬ হাজার টাকা।

দেখা যাচ্ছে হাট দিয়ে সরকার আয় করছে কিন্তু হাটের সংখ্যা বাড়াচ্ছেনা! অথচ পবিত্র কুরবানী হলো মুসলমানদের অন্যতম মৌলিক একটি ইবাদত। কুরবানীর পশুর হাট কমানো সম্মানিত দ্বীন ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট একটি ষড়যন্ত্র। সুতরাং মুসলমানদের উচিত কুরবানীর পশুর হাট কমানোর প্রতিবাদ করা ও হাটের সংখ্যা বাড়িয়ে কমপক্ষে ৫০টি করার জন্য সরকারের নিকট জোর দাবি জানানো।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোনো অন্যায় বা হারাম কাজ সংঘটিত হতে দেখে, সে যেন হাত দ্বারা বাধা দেয়। যদি সে হাত দ্বারা বাধা দিতে না পারে, তাহলে সে যেন যবান দ্বারা বাধা দেয়। যদি যবানের দ্বারাও বাধা দিতে না পারে, তাহলে যেন অন্তরে তা ঘৃণা করে উক্ত অন্যায় বা হারাম কাজ থেকে দূরে সরে থাকে। আর এটা সবচেয়ে দুর্বল ঈমানের পরিচয়।” অন্য বর্ণনায় এসেছে, “এরপর ঈমানের আর সরিষা পরিমাণ অংশও অবশিষ্ট থাকে না।”

 

১১. পরিবেশ দূষণ নিয়ে অপপ্রচারের জবাব

১৭. পরিবেশ দুষন আর যানজট কি শুধু কুরবানীর সময়েই হয়ে থাকে ?

১. লোক সমাগমে, উৎসব পার্বনে যানজট হবেই। দুর্গামূর্তিকে যারা বুড়ি গঙ্গায় নেবে তারাও যানজট লাগাবে। পূজামন্ডপ ঘিরেও যানজট লাগবে। সুতরাং মন্ডপের সংখ্যা বাড়িয়ে হাটের সংখ্যা কমানো কোন যুক্তিতে করা হচ্ছে ?

২. পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো স্থান ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আগত সবগুলো রাস্তাই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চর্তুদিকে থাকে হারাম বৈশাখপ্রেমী অজস্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলা তো দূরের কথা, পিপড়াও হাটতে পারেনা, তা নিয়ে মিডিয়া কেন প্রতিবেদন করেনা ? কেন এর বিরুদ্ধে বলেনা। কোরবানী পশুর হাটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী তখন কেন মুখে কুলুপ এটে থাকে ? তখন কি মানুষের দুর্ভোগ আর রোগীর কষ্ট হয়না ?

http://tinyurl.com/nurf5uf

৩. যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের কারনে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। ব্যস্ত হাসপাতালগুলোর পাশে, সামনে অনবরত মাইক বাজানোর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিদারুণ কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে একুশের বইমেলায় যাতায়াতকারী মানুষকেও। বিড়ম্বনায় পড়ছেন হোটেল রূপসী বাংলার দেশি-বিদেশি অতিথিরা।

http://tinyurl.com/py2wht7

৪. যখন রথযাত্রা হয় তখন পুরো ঢাকা শহর থমকে যায়। তখন কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়না ? কোন আদেশ জারী হয়না ?

৫. ঢাকা শহরের ভিতরে যত্র তত্র ময়লা আবর্জনা কি শুধু কোরবানীর সময়েই হয়ে থাকে ? সারাবছরে যে জনগন নাক মুখ চেপে রাস্তা দিয়ে হাটে তা কি কারনে ?

৬. ঢাকার আশে পাশের নদ নদি মৃত প্রায়। তা কি কুরবানীর কারনে ?

৭. হাজার হাজার কোটি টাকা খরছ করার পরেও হাতিরঝিল প্রকল্পে ময়লা আবর্জনা কি কুরবানির কারনে ?

 

১৮. মুর্তি বিসর্জন শুধু নদি ধ্বংস করা নয় , মানুষের ক্ষতিও করছে ।

মূর্তির গায়ে সিসাযুক্ত রং এবং ক্যাডমিয়ম ও অন্যান্য জৈব যৌগ পানিকে সারা বছর দূষিত করছে। সেই সঙ্গে মূর্তির মাটি, বাঁশ, ফুল, বেলপাতা, মালা বা শোলার যাবতীয় অলঙ্কার ভরাট করে তুলছে নদির তলদেশ।

বিসর্জনের পর মূর্তির গায়ে থাকা সিসা ও ক্যাডমিয়াম পানিতে মিশে মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢোকে। স্নানে ও পানে সিসা নিয়মিত শরীরে ঢুকলে মানুষের বুদ্ধি কমে, স্মৃতি হ্রাস পায়, রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয়। ক্যাডমিয়াম এর কারণে দুরারোগ্য ব্যাধি হয় বৃক্কে, যকৃতে ও অস্থিমজ্জায়। মূর্তি বিসর্জন, আবর্জনা, নোংরা ও বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে নদিসমুহ হারিয়েছে তার স্বচ্ছতাও। http://goo.gl/HWJXLj

যার কারনে খোদ ভারতে নদিতে মুর্তি বিসর্জন নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে ।http://goo.gl/LKmnrx

তাহলে বাংলাদেশে কি করে মৃতপ্রায় নদীতে মুর্তি ফেলে নদীতে আরো ধ্বংস করা হচ্ছে ?

শুধু নদি ধ্বংস করা নয় , মানুষের ক্ষতিও করছে ।

কুরবানীর সময় দালাল পরিবেশবাদীরা কুত্তার মত ঘেউ ঘেউ করে যেখানে সেখানে কুরবানী দিলে নাকি পরিবেশ নষ্ট হবে , যা তাদের বিকৃতমস্তিষ্ক কথা মাত্র ।

অথচ মুর্তি নদিতে ফেললে যে নদি ধ্বংস হয় তা প্রমানিত সত্য হবার পরেও পরিবেশ বাদীর চুপ কেন ?

পুজোয় মদ আর নারী পেয়ে কি এসকল দালাল পরিবেশবাদীদের গলা আটকে যায়?

 

১৯. পবা’র যত চুলকানি কুরবানীকে নিয়ে, কিন্তু পাঠাবলিতে, মূর্তি বিসর্জনের সময় এদের চুলকানি নেই

পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক একটি সংগঠন এক গোলটেবিল বৈঠকে মক্কা নগরীর আদলে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণ চেয়েছে।

আলোচনায় বক্তারা বলেছে-

“যত্রতত্র পশু জবাই করা হচ্ছে। পশুর রক্ত ও আবর্জনায় রাস্তাঘাট সয়লাব। ড্রেনে পানির প্রবাহ আটকে যাচ্ছে, উপচে পড়া নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামাঞ্চলে কোরবানির বর্জ্য খোলা স্থান, ঝোপঝাড়ের পাশে, খালে-বিলে বা নদীতে ফেলা হয়। সব মিলিয়ে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটে। রোগ বিস্তারও ঘটতে থাকে। কোরবানি ঈদের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত দূর্গন্ধে নগর-জনপদের বাতাস ভারী থাকে। আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের পরে রোগবালাইয়ের হার কতটা বেড়ে যায় তার উপর কোন গবেষণা করা হয়নি।” (খবরের সূত্র-http://goo.gl/LsglJb)

কোরবানী এলেই এদের পরিবেশ দূষণের কথা মনে পড়ে।

অথচ কোরবানীর অবশিষ্টর মধ্যে এমন কিছু থাকে না যেটা দিয়ে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। কারণ-

১) গোশত- সবটুকু খাওয়া হয়।

২) চামড়া- চামড়া শিল্পে চলে যায়

৩) রক্ত - মাটি ও পানির জন্য অসম্ভব উপকার। পানিতে পড়লে মাছের খাদ্য, আর মাটিতে পড়লে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।

৪) গোবর (ভূরিসহ) - বিভিন্ন পুকুরে মাছে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাটিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

৫) হাড়- অবশিষ্ট অংশ দিয়ে অনেক কিছু তৈরী হয়। হাড়ের গুড়ো মাটির জন্য অনেক উপকারি। হাড়গুলো দিয়ে ঔষধ, হাস-মুরগীর খাদ্য তৈরী হয়।

তাহলে বাকি আর থাকলো কি যেটা দিয়ে পরিবেশদূষণ হচ্ছে ?? পুরেটাই তো জৈবিক বর্জ্য, এখানে পরিবেশ দূষণের কোন কারণই থাকতে পারে না। অথচ দুর্গা পূজায় মূর্তি তৈরীতে যে সব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার হয় তা নদীগুলোকে মারাত্মক দূষিত করে। যেনে রাখুন- এ রকম প্রায় ২৮ হাজার মূর্তি নদীতে ফেলানো হয় প্রতি বছর। তখন কিন্তু তারা চূপ করে থাকে, কোন কথা বলেনা।।

(পড়তে পারেন- মূর্তি বিসজর্নে ভয়াবহ নদী দূষণ-http://goo.gl/zjn8MM,http://goo.gl/YM3ui8)

আসল কথা হচ্ছে, এদের কোরবানি আসলেই চুলকানি শুরু হয়, কোরবানি আসলেই ঘেন্না হয়। অথচ পাঠাবলি সময়, মূর্তি বিসর্জনের সময় ঘেন্না হয় না। শুধু সমস্যা কোরবানি নিয়ে। উল্লেখ্য এর আগেও সংগঠনটি ‘পশুর হাট হলে পরিবেশ দূষণ হয়’ (http://goo.gl/g3h9al) এবং ‘কোরবানীর গরুতে বিষ আছে’ এমন উদ্ভট যুক্তি ছড়িয়েছিলো (http://goo.gl/q394oh)

এটা স্পষ্ট-

পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটি হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কোরবানি বিরোধী একটি সংগঠন। এদের কাজ হচ্ছে পরিবেশ দূষনের ধোয়া তুলে বাংলাদেশে কোরবানির পথ বন্ধ করা। বলাবাহুল্য পরিবেশের নাম দিয়ে সংগঠন খুললেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা রুপপুর পরমানূ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এদের কোন আন্দোলন করতে দেখা যায়নি।।

(তাদের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন- http://www.pobabd.org/)

আসলে পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটি হচ্ছে-ভারতীয় গো রক্ষা কমিটির বাংলাদেশী ভার্সন, যাদের চালানো হয় ভারতের সোনাগাছি থেকে। তাই আজই এদের লাথি মেরে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।

 

২০. ইউরোপ-আমেরিকা সহ ভারতেও যেখানে নিষিদ্ধ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে কেন নদীতে প্রতিমা বিসর্জন বৈধ রয়েছে ?

ইউরোপ-আমেরিকায় পানিকে দূষিত করে মূর্তি ডুবানোর উপর রয়েছে কঠোর নিষেধাজ্ঞা। সেখানে পানি দূষণ করে কিছুতেই মূর্তি পানিতে ডুবাতে দেয়া হয় না। তাই বাধ্য হয়ে বাথরুমে বালতির মধ্যে মূর্তি ডুবাতে হয় (http://archive.is/XIbbb)

উল্লেখ্য শুধু ইউরোপ-আমেরিকা নয়, ভারত সরকারও একই নিয়ম করেছে। গত কয়েক বছর আগেই এলাহাবাদ হাইকোর্ট থেকে নদীতে মূর্তি বিসর্জন দেয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়। কারণ এই মূর্তি বিসর্জনের মাধ্যমে মারাত্মক পরিবেশ দূষণ ঘটে। (http://bit.ly/2d6bKS7)

এ সম্পকে পরিবেশবাদীরা বলছে-

মূর্তির গায়ে সিসাযুক্ত রং এবং ক্যাডমিয়ম ও অন্যান্য জৈব যৌগ পানিকে সারা বছর দূষিত করে। সেই সঙ্গে মূর্তির মাটি, বাঁশ, ফুল, বেলপাতা, মালা বা শোলার যাবতীয় অলঙ্কার ভরাট করে তুলে নদী ও পুকুরের তলদেশ। বিসর্জনের পর মূর্তির গায়ে থাকা সিসা ও ক্যাডমিয়াম পানিতে মিশে মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢোকে। গোসলের সময় ও পানি পানে সিসা নিয়মিত শরীরে ঢুকলে মানুষের বুদ্ধি কমে, স্মৃতি হ্রাস পায়, রক্তে হিমোগ্লোবিনের ঘাটতি হয়, কোষ্ঠকাঠিন্যও দেখা দেয়। এতে মানুষের শরীরে নানাভাবেই নিয়মিত সিসা প্রবেশ করে । ক্যাডমিয়াম এর কারণে দুরারোগ্য ব্যাধি হয় বৃক্কে, যকৃতে ও অস্থিমজ্জায়। মূর্তি বিসর্জন, আবর্জনা, নোংরা ও বর্জ্য নিক্ষেপের কারণে পানি হারায় তার স্বচ্ছতাও। প্রতিমা বিসজর্নের পর কয়েকদিন নদী কিংবা পুকুর ঘাটে যাওয়া যাচ্ছে না দুর্গন্ধে, প্রতিমার উপাাদান পচে সৃষ্টি করে কটূগন্ধময় গ্যাস, পানি ধারণ করে কৃষ্ণ বর্ণ । (সূত্র:http://bigyan.org.in/2015/02/10/ganga-pollution/)

এখন কথা হচ্ছে, ইউরোপ-আমেরিকায় যেখানে নিষিদ্ধ, ভারতেও যেখানে পর্যন্ত নিষিদ্ধ হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশে কেন নদীতে প্রতিমা বিসর্জন বৈধ রয়েছে ? বাংলাদেশে কেন নদী দূষণের কথা চিন্তা করে প্রতিমা বিসর্জণ নিষিদ্ধ হচ্ছে না ? উল্লেখ্য ভারতে বা ইউরোপ-আমেরিকাতে একটি মাত্র গনেষ মূর্তি পানিতে ডুবাতে দেয় না। অথচ বাংলাদেশে ডুবানো হয় বিরাট বিরাট দূর্গা মূর্তি, যার সাথে আরো ৫-১০টি পর্যণ্ত অতিরিক্ত মূর্তি থাকে। এ বছর বাংলাদেশে প্রায় ৩০ হাজার পূজা মণ্ডপ করা হয়েছে, সেগুলো সব মিলিয়ে মূর্তি সংখ্যা হবে প্রায় দুই-আড়াই লক্ষ। এই দুই-আড়াই লক্ষ মূর্তি একযোগে পানিতে ফেললে দূষণের মাত্রা একবার চিন্তা করেছেন ?? বাংলাদেশের বর্তমান নদীগুলোতে নাব্যতার অবস্থা ভালো নয়। অধিকাংশ নদীর পানিও মারাত্মক দূষিত। এই অবস্থায় বাংলাদেশের নদীতে মূর্তি বিসজর্ন নিষিদ্ধ করা এখন সময়ের দাবি।

 

১২. কুরবানী স্পট নির্দিষ্টকরণ

২১. কোরবানি কি নিষিদ্ধ হতে যাচ্ছে !

১. আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার সময় ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় পশু কোরবানি করা যাবে না। রাজধানীতে পশু কোরবানির জন্য ---- স্থান নির্ধারণ করেছে দুই সিটি কর্পোরেশন। এসব স্থানেই নাকি পশু কোরবানি করতে হবে।

২. পশু জবাইয়ের স্থানের তালিকা ঈদের আগেই নগরবাসীকে জানিয়ে দেয়া হবে। নির্দিষ্ট স্থানে জবাই শেষে সেখানেই পশুর বর্জ্য রাখতে হবে, কর্পোরেশনের কর্মীরা সেখান থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যাবে।

এ রকম আজগুবি কথা শুনে কিছু প্রশ্ন জাগাই স্বাভাবিক -

১.ধীরে ধীরে এসব নীতিনির্ধারক কি কোরবানি নিষিদ্ধ করে দিতে চাইছে?

২.হাজার বছরের ঐতিহ্য ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় কোরবানির পশু কোরবানি কেন তারা নিষিদ্ধ করে দিল?

৩.রাজধানীর সব পশু কি মাত্র ------- টি স্থানে নিয়ে গিয়ে কোরবানি করা সম্ভব? যেখানে দিনে-দুপুরে ঘর থেকে মানুষ ধরে নিয়ে যাওয়া হয়, নারীদের তুলে নিয়ে গ্যাং রেপ করা হয় সেখানে হাজার হাজার কোরবানির পশুর জবাই, চামড়া তোলা, গোশত কাটা, বণ্টন ইত্যাদি যে নিরাপদে করা যাবে, গোশত ও চামড়া লুট হবে না, এর নিশ্চয়তা তারা কী করে দেবে?

৪.ঈদুল আজহার দিন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্পোরেশনের লোকজন কী ঘরে ঘরে পাড়ায় মহল্লায় বেআইনী ঘোষিত কোরবানি দেয়ার সময় লোকজনকে ধাওয়া করবে না কোরবানির নির্দিষ্ট স্থান পাহাড়া দেবে?

৫. কোরবানিদাতারা গোশত কেটে তা কীভাবে বাড়ি-ঘরে আনবেন? বন্ধু ও আত্মীয়-প্রতিবেশীদের অংশ তারা কী করে বিলাবেন? পরিচিত ও নিজস্ব দরিদ্রদের অংশ তারা কীভাবে পৌঁছাবেন? জবাইয়ের মাঠেই কি এসব করা সম্ভব?

৬.বাড়ির মহিলাদের পরামর্শ, কাজ ও সহায়তাটুকু কি মাঠে পাওয়া যাবে?

৭. সরকার নির্ধারিত স্থানে কী হাজার হাজার পশু নিয়ে গিয়ে জবাই করা সম্ভব?

এসব তালবাহানা না করে সরাসরি কোরবানি নিষিদ্ধ করে দিলেই হয়। যদিও নাস্তিক-মুরতাদ লোকদের এতটা সাহস এখনো হয়নি তবে তারা ধাপে ধাপে অগ্রসর হচ্ছে। এবার কোরবানির জায়গায় বিশৃঙ্খলা ও অশান্তি হলে মানুষ কোরবানি দেয়ার উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। ইসলামবিদ্বেষী চক্রটি এটাই চায়। তবে এসব ধর্মবিদ্বেষী নিয়মনীতি যারা চালু করার চেষ্টা করছে, তারা এর পাল্টা ধাক্কাটা সামাল দিতে পারবেন কি না সেটাই ভাবছি।

এ আইন বাস্তবায়ন করা কিছুতেই সম্ভব নয়। মানুষ এ আইনকে কোরবানি নিষিদ্ধের পাঁয়তারা বলেই ভাবছে।

সরকারের এমন ভুল সিধ্বান্ত থেকে সরে আসতেই হবে । অন্যথায় এমন একটি সেনসিটিভ বিষয় নিয়ে কেউ যদি নয়-ছয় করে তাহলে সরকারের জন্য তা সুখকর কিছু হবেনা।

জনগনের সরকার যদি হয়েই থাকে, তাহলে সরকারের উচিত জনগনের অনুভুতিকে বুঝে সে অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করা।

 

২২. একজন মুসলমান হিসেবে কুরবানী নিয়ে সরকারের সিধ্বান্ত কি আপনি মেনে নিবেন ?

সরকার ঈদুল আজহায়  রাস্তা,গলিসহ যত্রতত্র পশু জবাই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে দেশের ৩২৩ পৌরসভা ও ১১ সিটি করপোরেশনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সিদ্ধান্ত অনুসারে, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার নির্দিষ্ট স্থান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও খেলার মাঠ বা উন্মুক্ত স্থানে পশু জবাই করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোনও এলাকার অধিবাসীরা কোরবানির পশু একটি স্থানে জড়ো করে জবাই করতে পারবেন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা ইমাম ও কসাইদের কাছে পাঠানো হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট স্থানে অনেক পশু জবাই হলে নগর বা পৌর কর্তৃপক্ষের বর্জ্য সরাতে সুবিধা হবে বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এছাড়া চামড়া বেচাকেনায়ও এতে সুবিধা হবে।

ক. এমন অদ্ভুত সিদ্ধান্তের পিছনে কি রহস্য ?

১. ইসলামের অন্যতম নিদর্শন ও ওয়াজিব বিধান পবিত্র কোরবানি নিয়ে ইহুদি, ব্রাহ্মণ্যবাদি ও ইসলামবিদ্বেষী নাস্তিক্য চক্র দীর্ঘদিন ধরে গভীর চক্রান্ত চালিয়ে আসছে। এই লক্ষ্যে  প্রতিবেশী ভারত  দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে গরু রফতানি কড়াকড়িভাবে বন্ধ রেখেছে। তাদের মন্ত্রীরা বাংলাদেশে গরুর গোশতের মূল্যবৃদ্ধি হওয়ায় বেজায় খুশি হয়েছে। বিজিবি প্রধানও বলেন, ভারতীয় গরুর জন্য সীমান্ত অতিক্রম বন্ধ হলেই বিএসএফের বাংলাদেশি হত্যা বন্ধ হবে।পবিত্র কোরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা থাকতে পারে, এমন সংবাদ থেকেও তা সহজে অনুমান করা যায়।

২. এই পবিত্র কোরবানির মাধ্যমে আত্মত্যাগের পাশাপাশি মুসলমানদের মধ্যে ধনী-গরিব, ফকির-মিসকিনদের মধ্যে যে গভীর সহমর্মিতা, আত্মীয়তার মজবুত বন্ধন ও ঐক্যের সংস্কৃতির চর্চা হয়, তাতে ইসলামবিদ্বেষী চক্র চরম অস্বস্তিতে ভোগে। এ কারণে বহু পূর্ব থেকেই তারা নানাভাবে পবিত্র  কোরবানির বিরুদ্ধে গভীর অপপ্রচার ও চক্রান্তে লিপ্ত।

৩. ভিনদেশি প্রভুদের খুশি করার জন্য এ ধরনের চক্রান্ত

৪.তথাকথিত সুশীল সমাজ এবং সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী মহল দীর্ঘদিন থেকে মুসলমানের  কোরবানি নিয়ে চক্রান্ত করে আসছে। তারা পশু প্রেমের নামে এবং দুস্থদের সাহায্যের কথা বলে মুসলমানদের ধর্মীয় নিদর্শনের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। এদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইসলামের বিরুদ্ধে, ইসলামী শিক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া।

৫. সিন্ডিকেট চক্রের কালো থাবায় মাদরাসার এতিম ও মিসকিনরা কোরবানির চামড়া বিক্রির টাকা লোপাট করাও এর উদ্দ্যেশ্য ।

৬. শুধু পাড়া-মহল্লা থেকে কোরবানির সংস্কৃতিকে সরিয়ে দেয়া নয়, যানজটের অজুহাত খাড়া করে পশুর হাটে নিয়ন্ত্রণ আরোপের মাধ্যমে কোরবানি দাতাদের জন্য পশু ক্রয়েও সংকট তৈরির ষড়যন্ত্র চালুর চেষ্টা চলছে।

 

২৩. কুরবানী সংক্রান্ত সরকারের  অযৌক্তিক উন্মাদীয় চিন্তাধারার ফলে কি হবে ?  -

১. আবহমানকাল থেকে মুসলমানদের ঘরে ঘরে কুরবানীর পশু জবাই হয়ে আসা কোন দেশ কিংবা সমাজ বা পরিবেশের ক্ষতির কথা কোন সুস্থ বিবেকবান মানুষ ভাবেনি বরং অনেকে কুরবানীর তাজা রক্ত হাতে কিংবা রোগে আক্রান্ত স্থানে রোগ আরোগের জন্য ব্যবহার করে আসছেন। যা নিজ বাড়ীর আঙ্গিনায় কুরবানী করা ব্যতীত নারী-পুরুষের অনেকের জন্যই ব্যবহার করা দুষ্কর হবে।

২. হাদীস শরীফে নিজ নিজ হাতে নিজ পশু জবাই করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। সম্ভব না হলে কুরবানীর স্থলে স্বশরীরে উপস্থিত থেকে নিজ চোখে প্রত্যক্ষ করতে বলা হয়েছে। যা মাঠে-ময়দানে করলে পর্দানশীন নারীসহ মাযুর বা দুর্বলদের জন্য সম্ভব হবে না।

৩. এভাবে মাঠে কুরবানী করলে প্রচলন হয়ে গেলে কুরবানীর জবাইকৃত গোস্ত বিতরণ ও খরচ বেড়ে যা অনেক মানুষ গোস্ত চামড়া ইত্যাদি বহন করার মত প্রয়োজনীয় লোকবল না থাকার অজুহাতে কুরবানী করা থেকেই বিরত থাকবে। ফলে দেশে কুরবানীর হার কমে যাবে।

৫. একজন মুসলমান ওয়াজিব কুরবানীর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবে। ওয়াজিব তরককারী হিসেবে গুনাহগার সাব্যস্ত হবে।

৬. বিভিন্ন টাউট বাটপার সন্ত্রাসীদের হাতে নিজ চামড়া ও কুরবানীর গোস্ত চলে যাবে। ফলে দেশের দরিদ্র মানুষ, এতিমখানা, প্রকৃত প্রাপকরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হবে।

৭. কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিয়ে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেয়ার নির্দেশ জারি করা হলে ভয়াবহ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে। এতে কোরবানির গোশত গরিব-মিসকিনের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা সম্ভব হবে না।

৮. এখন যেরকম কুরবানীর হাটের বাজার নিয়ে দলাদলী, চাঁদাবাজী ও অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত হয় তেমনি কুরবানীর জায়গা নিয়েও হবে। এতে করে মানুষের গোশত বন্টনসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হবে। গরুর চামড়াগুলো গরীবদের হাতে যাওয়ার পরীবর্তে সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাবে। তাতে দেখা যাবে এত ঝামেলার কারণে মানুষ কুরবানী দিতে বিরক্তি বোধ করবে এবং মুসলমানদের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম  ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উয়ান্দের স্মৃতি বিজড়িত কুরবানী যার উপর ওয়াজিব হয়েছে তা পালনে অনাগ্রহ সৃষ্টি হবে।

৯. কোরবানির পশু নিজ হাতে জবাই করা সুন্নত। কেউ না পারলে সামনে থেকে অন্য কাউকে দিয়ে জবেহ করাবে এটা ইসলামের নিয়ম। এর ফলে মানুষ সুন্নত থেকে বঞ্চিত হবে।

১০. প্রত্যেক ঈমানদার সামর্থবান ব্যক্তি নিজস্ব বাড়ির আঙ্গিনায় কুরবানীর পশু জবেহ করে নিজের পছন্দ মতো গোশত বিতরণ করে থাকেন। তারা কুরবানীর পশুর চামড়া মাদরাসার এতিম খানায় দান এবং চামড়া বিক্রির একাংশের টাকা গরীবদের মাঝে বিতরণ করে আসছেন। হাজার হাজার কুরবানীর পশু  নির্ধারিত স্থানে জবেহ করতে জড়ো করা হলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে।

১১. দীর্ঘ ১৪০০ বছর যাবত এদেশের মুসলমানরা ইসলামী শরীয়তের নিয়ম-নীতি মেনেই ঘরে ঘরে কুরবানীর পশু জবেহ করে গোশত গরীব-মিসকিন ও আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে বিলি বন্টন করে আসছে। পরিবেশ দূষণের নামে কুরবানী একই স্থানে জবেহ করার নিদের্শ জারি করা হলে কুরবানী নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হবে।

১২. বর্জ্য পরিষ্কারে সিটি করপোরেশন জনবল বৃদ্ধির উদ্যোগ না নিয়ে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দেওয়ার নির্দেশে মানুষের কষ্ট বাড়বে। ঢাকাসহ দেশের পৌরসভাগুলোয় পর্যাপ্ত উন্মুক্ত জায়গা নেই।

 

২৪. বাস্তব প্রেক্ষাপট ও গাণিতিক হিসেবে নির্দিষ্ট স্থানে পশু কুরবানী,ইমাম ও কসাই নির্দিষ্টকরন করে কুরবানী করা সম্পুর্নরুপে বাস্তবতাবিবর্জত এবং অসম্ভব একটি বিষয়।

সরকার পশু জবাই এর স্থান, ইমাম ও কসাই নির্ধারন করে দিয়ে বলেছে এসকল স্পটে কুরবানী করার জন্য। সরকারের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত মুসলমানগন উনাদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার ব্যার্থ চেষ্টা করছে। সরকার সেসকল তথ্য উপাথ্য এবং হিসেবে দিয়েছে তা বাস্তবায়ন করা অবাস্তব এবং অকল্পনীয় বিষয়।যার আপনাদের সামনে উপস্থাপন করব ইনশা আল্লাহ।

১. একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে শুধু  ঢাকা শহরেই ঈদুল আজহার দিন পশু জবাই হবে কমপক্ষে ৩০ লাখ। রাজধানীতে ১০০ গরু জবাই করা যাবে এমন মাঠের সংখ্যাই হাতেগোনা কয়েকটি। দুই সিটি কর্পোরেশন এর অধীনে মাঠ রয়েছে মাত্র ৩০-৩৫ টি। একদিনে কি এতগুলো পশু জবাই সম্ভব?

২. একজন ইমামের পক্ষে শত শত গরু জবাই করা কি সম্ভব ?

৩. ঈদের নামায শেষে সবাই যখন নির্দিষ্ট মাঠে আসতে থাকবে- দেখা যাবে সেখানেই একটি বড়সড় পশুর হাটের মতো জটলার সৃষ্টি হবে। এত বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করে সুষ্ঠুভাবে জবাইয়ের যাবতীয় কাজ করা কতটুকু সম্ভব? ১ম দফার কুরবানীতেই যখন স্পট ভর্তি হয়ে যাবে, তখন বাকি কুরবানিদাতারা কি সিরিয়ালের জন্য স্পটের পাশে তাদের কুরবানির গরু-ছাগল নিয়ে অপেক্ষা করতে থাকবেন?

৪. পশু জবাই করেই কি শুধু শেষ! এরপর একেকটি গরুর চামড়া ছিলানো, গোশত কাটা, গোশত ভাগ করা এসবে ৩-৪ জন দক্ষ কসাইয়ের অন্ততপক্ষে ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। তাহলে এতক্ষণ সময় বাকি কুরবানিদাতাদের অপেক্ষা কি ধৈর্যচ্যুতি ঘটবে না? প্রথমবার জবাইয়ের কাজ শেষ হওয়ার পরই কি  সিটি কর্পোরেশনের লোকেরা পরবর্তী দফার জবাইয়ের জন্য স্পট পরিষ্কার করবে? কর্দমাক্ত আর রক্তাক্ত স্পটে কি পরবর্তী পশু জবাই করা যাবে?

৫. পশু জবার পর  যাবতীয় কাজ শেষে বাসায় গোশত নিয়ে যাওয়ার জন্য ঈদের দিন পর্যাপ্ত পরিমাণ যানবাহন কি সময়কালে পাওয়া যাবে? কুরবানিদাতার পরিবার ঈদের মুল আনন্দ পশু দেখা, জবাই দেখা, গোশত বানানীতে বাচ্চা মহিলাসহ শরীক হওয়া, গোশত বিতরণ করা, আত্মীয়দের বাসায় সময়মত গোশত পৌছানো এবং ওই দিনের প্রথম খাবার কোরবানীর গোশত দিয়ে খাওয়া, গরীবদের নিরিবিলি গোশত দেয়া কোনোভাবেই সম্ভব নয়। এ সবের আনন্দ আর সুবিধা থেকে নগরবাসী চরমভাবে বঞ্চিত হবে।

৬. একসাথে হলে বাসায় গোশত আনা-নেয়াসহ চামড়া ছিনতাই, পশু ছিনতাই, গোশত ছিনতাইসহ চাঁদাবাজদের আখড়ায় পরিণত হবে।সিন্ডিকেট চক্রের কালো থাবায় মাদরাসার এতিম ও মিসকিনরা কুরবানির চামড়া বিক্রির টাকা থেকেও বঞ্চিত হবার আশংকা রয়েছে।

৭. এছাড়া সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার বাসিন্দাদের সীমাহীন কষ্টে পড়তে হবে। এখন যেরকম কুরবানীর হাটের বাজার নিয়ে দলাদলী, চাঁদাবাজী ও অপ্রীতিকর ঘটনা সংগঠিত হয় তেমনি কুরবানির জায়গা নিয়েও হবে। এতে করে মানুষের গোশত বন্টনসহ নানাবিধ সমস্যায় পড়তে হবে। গরুর চামড়াগুলো গরীবদের হাতে যাওয়ার পরিবর্তে সন্ত্রাসীদের হাতে চলে যাবে। তাতে দেখা যাবে এত ঝামেলার কারণে মানুষ কুরবানী দিতে বিরক্তি বোধ করবে এবং মুসলমানদের পিতা হযরত ইব্রাহীম আলাইহিস সালাম ও হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম স্মৃতি বিজড়িত কুরবানী যার উপর ওয়াজিব হয়েছে তা পালনে অজুহাত সৃষ্টি হবে। নাউযুবিল্লাহ। 

মুসলমানগণ যুগযুগ ধরে যার যার সুবিধার আলোকে যার যার পছন্দের স্থানে কুরবানির পশু জবাই করে আসছেন। এত যুগ ধরে কোন সমস্য হয়নি, কিন্তু এবছর হঠাৎ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ও কতিপয় পরিবেশবাদীদের এ সমস্ত অযৌক্তিক চিন্তাপ্রসূত সিদ্ধান্ত মুসলমানদের উপর জোরে চাপানোর মতলবটা কি? সরকার এবং পরিবেশবীদদের এহেন সিদ্ধান্ত চরম মুর্খতার শামিল। ইতোপূর্বে তো পরিস্কার-পরিছন্ন ও পরিবেশ দূষণের সমস্যা হয়নি। হঠাৎ করে পরিবেশ বিনষ্ট অজুহাত দোহাইয়ের মানেটা খুঁজে বেরা করা দরকার। পরিষ্কার কথা সামর্থবান মুসলমানদের ওয়াজিব বিধান পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন নেতিবাচক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন চান না দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণ।

শেষ কথা, শত শত বছর যাবত যেভাবে এদেশের মুসলমানরা কুরবানি দিয়ে আসছেন সেই প্রথা অনুযায়ীই কুরবানি দেয়ার সুযোগ বহাল রাখতে হবে। পরিস্কার-পরিছন্ন ও পরিবেশের দোহাই দিয়ে কুরবানি বন্ধের অপরিণামদর্শী খেলা থেকে বিরত থাকা সরকারসহ সবার জন্য কল্যাণর হবে। আশা করি সরকার নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানির পশু জবাইয়ের সিদ্ধান্তটি দ্রুত প্রত্যাহার করবে।

 

১৩. পূজা যত্রতত্র হলে কুরবানির হাট নয় কেন ?

২৫.যত্রতত্র কুরবানি হাট করার কারণে নাকি জনদুর্ভোগ আর পরিবেশ দূষণ হয়। যারা দোহাই প্রশাসন পশু জবাইয়ের স্থান নির্ধারন করে দিয়েছে।অথচ উন্মুক্ত স্থানে গরুর হাট এবং কুরবানি মুসলমানের ঐতিহ্য।

কোন মানুষের দুর্ভোগ হয় আর কোন রোগীর কষ্ট হয় তা কিন্তু তারা প্রমান করতে পারেনা।কোরবানি তো মুসলমান উনাদের জন্য । তো সেই মুসলমান নিজেই যখন কোরবানি দেয়ার জন্য পশু কিনতে যেয়ে লোকসমাগম হয় তাহলে তা তার দুর্ভোগ হয় কি করে ?

অথচ যখন-

১. পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো স্থান ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আগত সবগুলো রাস্তাই  ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চর্তুদিকে থাকে হারাম বৈশাখপ্রেমী অজস্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলা তো দূরের কথা, পিপড়াও হাটতে পারেনা, তা নিয়ে মিডিয়া কেন প্রতিবেদন করেনা ? কেন এর বিরুদ্ধে বলেনা। কোরবানী পশুর হাটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী তখন কেন মুখে কুলুপ এটে থাকে ? তখন কি মানুষের দুর্ভোগ আর রোগীর কষ্ট হয়না ? ২. লোক সমাগমে, উৎসব পার্বনে যানজট হবেই। পূজায় কি যানজট হয়না? 

৩. যখন রথযাত্রা হয় তখন পুরো ঢাকা শহর থমকে যায়। তখন কেন এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়না ? কোন আদেশ জারী হয়না ?

৪. যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের কারনে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা  টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। ব্যস্ত হাসপাতালগুলোর পাশে, সামনে অনবরত মাইক বাজানোর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিদারুণ কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে একুশের বইমেলায় যাতায়াতকারী মানুষকেও।

তখন কিন্তু এই মিডিয়া এদের প্রচারে ব্যস্থ ছিল । তখন কি এই মিডিয়া প্রচার করেছে জনদুর্ভোগ আর রোগীর কষ্টের কথা ?যখন তাদের এ সকল বিষয় আসে তখন তা হয় মানুষের স্বতঃস্পুর্ত অংশগ্রহন , দেশপ্রেম ।আর যখন মুসলমান উনাদের এক হওয়ার কোন বিষয় আসে তখন তা জনদুর্ভোগ !

পরিবেশ দুষন কি শুধু কুরবানির সময়ে হয়ে থাকে ?

১. ঢাকা শহরের ভিতরে যত্র তত্র ময়লা আবর্জনা কি শুধু কোরবানীর সময়েই হয়ে থাকে ? সারাবছরে যে জনগন নাক মুখ চেপে রাস্তা দিয়ে হাটে তা কি কারনে ?

২. ঢাকার আশে পাশের নদ নদি মৃত প্রায়। তা কি কুরবানীর কারনে ?

৩. হাজার হাজার কোটি টাকা খরছ করার পরেও হাতিরঝিল প্রকল্পে ময়লা আবর্জনা কি কুরবানির কারনে ?

 

১৪. একাধিক নামে কুরবানী

২৬.এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারেন

এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারেন। যে সকল লোক এককভাবে কুরবানী দিতে অক্ষম বা যাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয় অথচ তারা কুরবানীর দিনে কিছু লোক মিলে গরু, ছাগল ইত্যাদি কিনে গোশত বণ্টন করে অথবা হাটবাজার থেকে গোশত কিনে খেয়ে থাকে এ সকল লোকেরা যদি ইচ্ছে করে তবে তারাও কুরবানীর ফযীলত ও ছওয়াব লাভ করতে পারে।

যারা কুরবানী দেয় না অর্থাৎ সামর্থ্য নেই, তাদের জন্য করণীয় হচ্ছে- তারা হাটবাজার থেকে গোশত না কিনে বরং কিছু লোক মিলে গরু বা ছাগল ইত্যাদি কিনে এক বা একাধিক নামে কুরবানী করা। কুরবানীর পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম দেয়ার হুকুম রয়েছে।

গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে কুরবানী দুরুস্ত হবে না। আর সাত নামের কমে কুরবানী করলে দুরুস্ত হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশি নামে কুরবানী করলে কারো কুরবানী দুরুস্ত হবে না। যেমন-

যদি ৪০ জন ব্যক্তি ৪০০ টাকা করে ১৬০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ হবে। তদ্রুপ একটা খাসি তিনজনে মিলে পয়সা দিয়ে খরীদ করে যদি এক নামে কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তবে সে কুরবানী শুদ্ধ হবে।

তবে স্মরণীয় যে, যারা শরীক হয়ে এ ধরনের কুরবানী দিবে তারা প্রত্যেকে চাইবে যে, নিজেদের নামে কুরবানী দিতে, তখন অবশ্যই ফিতনা ও সমস্যার সৃষ্টি হবে। সেজন্য নাম দেয়ার ক্ষেত্রে আফযল ও উত্তম তরীক্বা হচ্ছে এই যে, যদি ছাগল কিংবা গরু এক নামে কুরবানী করা হয়, তাহলে তা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী করে সকল শরীক সমানভাবে গোশত বণ্টন করে নিবে। এতে যেমন তাদের কুরবানী নিশ্চিতরূপে মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল ও মঞ্জুর হবে, সাথে সাথে তা তাদের জন্য ফযীলত, বারাকাত, ফুয়ুজাত, নিয়ামত, রহমত, মাগফিরাত, নাযাত সর্বোপরি মহান আল্লাহ পাক ও উনার রসূল হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ সন্তুষ্টি লাভ করার উসীলাও হবে।

 

১৫. সুন্নতি জবাই পদ্ধতি সর্বোত্তম

২৭. ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি হচ্ছে বিজ্ঞান সম্মত পদ্ধতি

আপনার কি মনে হয় ইসলামিক পশু জবাই পদ্ধতিটি খুব নিষ্ঠুর? আসুন দেখা যাক, বিজ্ঞান কি বলে -

গবেষণা: জার্মানির Hanover University এর প্রফেসর Wilhelm Schulze এবং তার সহযোগী Dr. Hazim এর নেতৃত্বে একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষনার বিষয়বস্তু ছিল :

১. Western World এ প্রচলিত নিয়মে (CPB Method) এবং

২.ইসলামিক নিয়মে পশু জবাইয়ে পশুর যন্ত্রণা এবং চেতনাকে চিহ্নিত করা।

Experimental Setup:

Brain এর surface কে touch করে পশুর মাথার খুলির বিভিন্ন জায়গায় surgically কিছু electrode ঢুকিয়ে দেয়া হয়। পশুকে এরপর সুস্থ হওয়ার জন্য কিছু সময় দেয়া হয়। তারপর পশুগুলোকে জবাই করা হয়। কিছু পশুকে ইসলামিক নিয়মে আর কিছু পশুকে western world এর নিয়মে। জবাই করার সময় Electro Encephalo Graph (EEG) এবং Electro Cardiogram (ECG) করে পশুগুলোর brain এবং heart এর condition দেখা হয়।

Result:

ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. জবাইয়ের প্রথম ৩ সেকেন্ড EEG graph এ কোন change দেখা যায় না। তারমানে পশু কোন উল্লেখযোগ্য ব্যথা অনুভব করে না।

২. পরের ৩ সেকেন্ডের EEG record এ দেখা যায় , পশু গভীর ঘুম এ নিমগ্ন থাকার মত অচেতন অবস্থায় থাকে। হঠাৎ প্রচুর পরিমানে রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে যাবার কারনে brain এর vital center গুলোতে রক্ত সরবরাহ হয়না। ফলে এই অচেতন অবস্থার সৃষ্টি হয়।

৩. উপরিউল্লিখিত ৬ সেকেন্ড এর পর EEG graph zero level দেখায়। তারমানে পশু কোন ব্যথাই অনুভব করেনা ।

৪. যদিও brain থেকে কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছিল না , তবুও heart স্পন্দিত হচ্ছিল এবং তীব্র খিঁচুনি হচ্ছিল (spinal cord এর একটা reflex action) এভাবে শরীর থেকে প্রচুর পরিমানে রক্ত বের হয়ে যাচ্ছিল এবং এর ফলে ভোক্তার জন্য স্বাস্থ্যসম্মত গোশত নিশ্চিত হচ্ছিল ।

Western World এ প্রচলিত পদ্ধতিতে(CPB Method) জবাইয়ের ফলাফলঃ

১. মাথায় প্রচন্ড আঘাত করার পরের মুহূর্তে পশুটিকে দৃশ্যত অচেতন মনে হচ্ছিল

২. কিন্তু EEG এর দ্বারা বোঝা যাচ্ছিল পশুটি খুব কষ্ট পাচ্ছে ।

৩. ইসলামিক পদ্ধতিতে জবাই করা পশুর তুলনায় CBP দিয়ে আঘাত করা পশুটির heart স্পন্দন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল । যার ফলে পশুটির শরীর থেকে সব রক্ত বের হতে পারে নি  এবং ফলশ্রুতিতে, পশুটির গোশত ভোক্তার জন্য অস্বাস্থ্যকর হয়ে যাচ্ছিল ।

এছাড়া ইসলামে spinal cord না কেটে শ্বাসনালী  এবং jugular vein দুটো কাটার ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে । এর ফলে রক্ত দ্রুত শরীর থেকে বের হয়ে যেতে পারে । Spinal cord কাটলে cardiac arrest এর সম্ভাবনা থাকে যার ফলে রক্ত শরীরে আটকে যাবে যা রোগজীবানু এর উৎস ।

এখানে রাসুলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর একটি হাদীস মনে করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন অনুভব করছিঃ “আল্লাহ সবাইকে দয়া করার হুকুম দেন । তাই যখন জবাই কর তখন দয়া কর । জবাই করার পূর্বে ছুরিতে ধার দিয়ে নাও যাতে পশুর কষ্ট কম হয়” তিনি পশুর সামনে ছুরিতে শান দিতে বা এক পশুর সামনে আরেক পশুকে জবাই করতেও নিষেধ করেছেন । এই জিনিস্টা কুরবানীর সময় আমারা ভুলে যাই ।

সবশেষে , নাস্তিকদের যুক্তি পশুকে কষ্ট দেয়া হয় এটার জবাবে আমরা অবশ্যই বলতে পারি যে, পশু জবাই করার ইসলামিক পদ্ধতিটিই সবচেয়ে বিজ্ঞানসম্মত এবং পশু এবং পশুর মালিক উভয়ের জন্যই উপকারী।

 

২৮. কুরবানীর পশু জবাই পদ্ধতি নিয়ে নাস্তিকদের আপত্তিকর জবাব

আর কিছু দিন পর কুরবানী। কুরবানী আসলে নাস্তিকরা আপত্তি করে পশু জবাই করা নাকি নিষ্ঠুরতা। যদিও নাস্তিকরা খাওয়ার সময় গরু, ছাগলের গোশত পেট ভরেই খায়। তো যাই হোক পশু যবাই করা নিষ্ঠুরতা কিনা পর্যলোচনা করে দেখা যাক।

ইসলাম প্রাণী সমূহকে খাওয়ার উপযোগী বানানোর জন্য যে মৌলিক শর্ত দিয়েছে তা হচ্ছে শরীরের সমস্ত রক্ত বের হয়ে যাওয়া। এ জন্য স্বাভাবিকভাবে ঘাড়ের সামনের দিকটার রক্ত প্রবাহের চারটির প্রধান রগ (jugulanvcins,Carotid Arteries) এর সঙ্গে কন্ঠনালীও কাটতে হবে। উক্ত প্রাণীর গলা, সামনের Artery/ ধমণী/রগগুলি কেটে ফেলার কারণে রক্তের সাথে জীবানুসহ সকল প্রকার বর্জ্য পদার্থ ইত্যাদি গোশতপেশীসহ অন্যান্য organ অঙ্গ প্রতঙ্গে স্থানান্তরিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আর এ কারণেই যবেহকৃত প্রানীর চর্বি, গোশত ও অস্থি ’ মজ্জা তথা অন্যান্য অঙ্গ জীবানুমুক্ত থেকে যায়।

এক সময় ব্রিটেনে প্রানীদের প্রতি সদয় কমিটি মুসলিমদের বিরুদ্ধে আদালতে এই অভিযোগে মামলা দায়ের করে যে, মুসলিমগণ নিষ্ঠুর। কেননা, তারা জন্তুকে জবাই করে তাদেরকে কষ্ট দেয়। এ জবাইকে জুলুম আখ্যা দিয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ! কোর্ট মুসলিমদেরকে জবাই করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়। মুসলিমগণ এর কারণে যুলম নির্যাতন ভোগ করতে বাধ্য হচ্ছে। পশ্চিমা দেশগুলোতে মুসলিমদেরকে বর্তমানেও এমন দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। আমাদের উলামা ও চিন্তাবিদদের উচিৎ বিজ্ঞানের যুক্তির মাধ্যমে উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা। একজন মানুষ যদি তার দুই হাত দিয়ে অন্য একজনের গর্দান চেপে ধরে এবং গর্দানের দুটি ‘ওদজা’ নামক রগের উপর কয়েক সেকেন্ড চাপ সৃষ্টি করে রাখে তাহলে দেখা যাবে, উক্ত লোকটি অজ্ঞান হয়ে গেছে তার অনুভূতি শক্তি হারিয়ে যাবে।

প্রশ্ন হলো কেন এমন হয়?

কারণ হলো, মগজ সব সময় অক্সিজেনের ধরাবাহিক সাহায্য নিয়ে থাকে। মগজে রক্ত প্রবেশে যখন বাধার সৃষ্টি করা হয়, মাত্র কয়েক সেকেন্ড যদি রক্ত সরবরাহ বন্ধ থাকে, সাথে সাথে জ্ঞান হারিয়ে যায়। যদি কেহ কোন প্রাণীর যে সমস্ত রগের মাধ্যমে মগজে সাহায্য পৌঁছে থাকে ঐ সমস্ত রগগুলো চেপে ধরে তাহলে সে প্রাণীরও অনুভুতি হারিয়ে যায়। আর যদি যবেহ করার মাধ্যমে হুলকুমসহ তার আশেপাশে ওদাজা নামক রগগুলো হঠাৎ কেটে ফেলা হয় তাহলে সাথে সাথে জ্ঞান ও অনুভুতি শক্তি হারিয়ে যায়। যেহেতু সামান্য সময় চাপ সৃষ্টি করলেই জ্ঞানহারা হয়ে যায়, তাই যবেহ করার সাথে সাথে জ্ঞান ও অনুভুতি যে হারিয়ে যায় তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারপর যদি উক্ত জন্তুকে কেটে টুকরা টুকরা করা হয় তাহলে উহা কি কোন ব্যাথা অনুভব করে? না, কোন ধরনের ব্যাথা অনুভব সে করে না। কারণ উক্ত রগগুলো কাটা ও রক্ত বন্ধের মাধ্যমে অনুভূতির যে কেন্দ্র রয়েছে তার বিলুপ্তি ঘটে।

তা হলে প্রশ্ন থেকে যায়, কেন প্রাণীটি জবেহ করার পর অনেক সময় পর্যন্ত নড়া চড়া ও পাঁ দিয়ে জোরে জোরে নাড়া দিতে থাকে? তার জবাব হচ্ছে মগজ যখন রক্তশুন্য হয়ে পড়ে তখন মগজ থেকে হৃদপিন্ডে বার্তা পাঠিয়ে দেয় যে, আমি মহা বিপদে আছি, আমার রক্ত কম হয়েছে, তোমরা রক্ত পাঠাও। এমনি ভাবে নাড়ী ভূড়ি অঙ্গ প্রতঙ্গ ও সমস্ত শরীরে বার্তা পাঠিয়ে রক্ত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এ খবর পাঠায় যে, রক্তের অভাবে মগজের কার্যক্ষমতা হারিয়ে যাচ্ছে, তোমরা রক্ত পাঠাও। অতঃপর উক্ত প্রাণীটি নড়াচড়া করতে থাকে এবং যে সমস্ত অঙ্গ প্রতঙ্গে রক্ত রয়েছে তা এই নড়া চড়ার মাধ্যমে হৃদপিন্ড উক্ত রক্তগুলো পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু সেখানে পৌঁছতে পারে না বরং সেই কাটা রগ দিয়ে বাহিরে বের হয়ে আসে। এমনি ভাবে শরীরের সমস্ত রক্ত বাইরে বের হয়ে গোস্ত রক্তমুক্ত হয়ে যায়। এবং পরিস্কার ও পবিত্র হয়ে যায়, যা ভিতরে থাকলে মানুষের স্বাস্থের ক্ষতির কারণ হতো। এই রক্ত ভিতরে থাকলে জীবানু সম্প্রসারণে সাহায্য করতো।

আর মহান সৃষ্টিকর্তা মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি ও বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য এই পদ্ধতির ব্যবস্থা করেছেন। এই নিয়মের খেলাফ যে কোন নিয়মে যবেহ করলে, উক্ত প্রাণীর দেহাভ্যন্তরে জীবানু এবং অন্যান্য আবর্জনা থেকে যায়, যার গোসত চবির্ ইত্যাদির সাথে ভক্ষণের ফলে জটিল রোগ হতে পারে।

ইউরোপের দেশগুলোতে Goilatim বানাল। অর্থাৎ প্রাণীকে কাঠের ফ্রেমে দাঁড় করিয়ে উপর থেকে একটি ভারী ছোরা ফেলে শরীর থেকে মাথা আলাদা করে ফেলত। গবেষনা দ্বারা জানা গেছে যে, এভাবে মেশিনে কাটা গোস্ত খুব তাড়াতাড়ি নষ্ট হয়ে যায়, যেহেতু তার ভিতরে রক্ত থেকে যায়। তারপর তারা পশু জবায়ের আধুনিক পদ্ধতি আবিস্কার করেছে। পশুটির মাথায় বিদ্যুতের শক দেয়া হয় এবং পশুটি যখন বেহুশ হয়ে যায় তখন তার পায়ে শিকল লাগিয়ে উল্টে করে লটকে দেয়া হয়। অতঃপর ঐ বেহুশ প্রাণীর গলায় ধারাল মেশিন চালিয়ে জবাই করা হয়। এই আধুনিক পদ্ধতিতে জবাই করার ক্ষেত্রে পশুকে বেহুশ করার জন্য বিদ্যুতাপৃষ্ট করা হয়। এর কারণে হিষ্টামিনের সৃষ্টি হয় যা ভক্ষণে মানব শরীরের ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে।

তাই প্রমান হলো জবাই করা ইসলামী পদ্ধতি প্রাণীর জন্য আরামদায়ক এবং আহারকারীদের জন্য অধিক নিরাপদ।

 

১৬. ধর্ম যার যার গরুর গোশত সবার

নাস্তিক হিন্দু,  ইসলামবিদ্বেষিরা দুর্গা পুজা,হোলী পূজা , স্বরস্বতী পূজা, রথযাত্রা, পহেলা বৈশাখ, অমঙ্গল যাত্রা এলে বলে থেকে ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’। কিন্তু এরাই আবার মুসলমানি কোন দিবস এলে বেমালুম এই কথা ভুলে যায়। তখন আর এ কথা তারা বলেনা।

যদি কাফির মুশরিকদের দিবসে তারা এ কথা বলতে পারে তাহলে আসন্ন কুরবানিতে সবার কণ্ঠে ধ্বনিত হোক” ধর্ম যার যার , গরুর গোশত সবার”

 

১৭. সেলফি তোলা, ব্যাঙ্গ বিদ্রূপ

২৯. কুরবানীর পশু নিয়ে কৌতুক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত

আক্বাইদের কিতাবে উল্লেখ আছে,

اهانة السنة كفر.

অর্থাৎ “কোনো সুন্নত নিয়ে কৌতুক করা, ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত।”

কোনো সুন্নত নিয়ে কৌতুক বা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা যদি কুফরী হয়, তবে ফরয-ওয়াজিব নিয়ে কৌতুক বা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করলে কি হবে?

আমাদের হানাফী মাযহাব মুতাবিক পবিত্র কুরবানী একটি ওয়াজিব ইবাদত। অর্থাৎ যারা মালিকে নেছাব তাদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব,

অতএব, কুরবানী বা কুরবানীর পশু নিয়ে যারা কৌতুক ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করবে তারা কুফরী করার কারণে ঈমান হারা হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ আজকাল কেউ কেউ পত্র পত্রিকায়, টিভি চ্যানেলে এই পবিত্র কুরবানী নিয়ে অনেক কৌতুক ও ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করে থাকে, আপত্তিকর অনেক মন্তব্য করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! যা মূলতঃ ঈমানহারা হওয়ার কারণ।

তাই সংশ্লিষ্ট সকলকেই এর থেকে খালিছ তওবা করতঃ কুরবানী নিয়ে কৌতুক বা ব্যঙ্গ বিদ্রুপ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

 

৩০.

প্রিন্ট মিডিয়া ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় কুরবানী পশুকে নিয়ে অনেক ব্যঙ্গ চিত্র প্রদর্শন করা হয়। এমনকি অনেক তাচ্ছিল্য ও অবজ্ঞামূলক তথা উপহাসমূলক মন্তব্যও করা হয়। গাফিল মুসলমানরা সবকিছুকেই স্বাভাবিক হিসেবে নিচ্ছে। কিন্তু তারা উপলব্ধি করতে পারছে না যে, কুরবানী একটা ঐতিহ্যবাহী ইসলামী চেতনামন্ডিত বিশেষ ইবাদত। অতীতে হিন্দু রাজারা মুসলমান প্রজাদের কুরবানী করতে দেয়নি। এখনো মুসলমানরা ভারতে ঠিকমত কুরবানী করতে পারে না। তাই এ ষড়যন্ত্রকারী মহল কুরবানীর উপর নানাভাবে বিষোদগার লেপন করে থাকে। এরাই উদ্দেশ্যমূলকভাবে কুরবানীকে বাধাগ্রস্ত করতে চায়।

প্রকৃতপক্ষে কুরবানী বিরোধীরা কুরবানীর নামে যেসব অপতৎপরতা চালচ্ছে তা প্রকৃতপক্ষে ইসলামকে বিকৃত করা তথা অবমাননা করার শামিল। যা এদেশসহ পৃথিবীর সব মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাতস্বরূপ। কাজেই ইসলামের অবমাননাকারী ও মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতকারী এসব অপতৎপরতাকারীদের বিরুদ্ধে মুসলমানদের সাবধান থাকতে হবে এবং সোচ্চার হতে হবে।

 

২০. অনলাইনে গরু ক্রয় করা যাবেনা

৩১.কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা হ্রাস করা হচ্ছে, অথচ অনলাইনে গরু কিনতে উৎসাহিত করা হচ্ছেকিন্তু অনলাইনে পশু ক্রয় শরিয়তসম্মত নয়। কারন কুরবানী পশু দেখে যাচাই বাচাই করে কিনতে হয়। গত কয়েক বছর যাবৎ দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশে পবিত্র কুরবানী উনার হাটের সংখ্যা হ্রাস করা হচ্ছে। হাটগুলো সরিয়ে দেয়া হচ্ছে ঢাকার বাইরে জনবিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোতে।

অপরদিকে মিডিয়াতে উৎসাহিত করা হচ্ছে, কষ্ট করে হাটে না গিয়ে অনলাইনে ছবি দেখে পশু কেনার জন্য। নাউযুবিল্লাহ!

উল্লেখ্য, ছবি আঁকা, দেখা ও রাখা কবীরা গুনাহ ও হারাম। তাই কুরবানীর মতো পবিত্র বিষয়ে হারাম ছবি দেখা কখনোই শরীয়তসম্মত হবে না। কুরবানী পশুর যেসকল বিষয় ছহীহ না হলে কবুল হয়না- 

১. যে পশু এত দূর্বল ও রুগ্ন যে তার জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেটে যেতে পারে না তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭

২. যে পশুর শিং একেবারে গোড়া থেকে ভেঙ্গে গেছে তা দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। তবে যদি অর্ধেক শিং বা কিছু শিং ফেটে বা ভেঙ্গে যায় অথবা শিং এখনো উঠেইনি সে পশু দ্বারা কুরানী সহীহ হবে।- রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৪

৩.যে পশুর দুটি চোখই অন্ধ বা একটি চোখ পূরো অন্ধ বা একটি চোখের তিন ভাগের এক ভাগ বা আরো বেশি দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হয়ে গিয়েছে সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়।- বাদায়েউস সানায়ে ৪/২১৪ ফাতাওয়া রহীমিয়া ১০/৪৮

৪.যে পশুর কোন দাঁত নেই বা এত বেশি দাঁত পড়ে গিয়েছে যে খাবার চিবিয়ে খেতে পারে না এমন পশু দ্বার কুরবানী করা জায়েয নয়। -ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৮

৫.যে পশুর লেজ বা কোন একটি কানের এক তৃতীয়াংশ বা তদাপেক্ষা বেশি কেটে গেছে সে পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয হবে নাতবে যে পশুর কান জন্ম থেকেই ছোট তার কুরবানী জায়েয। আর যে পশুর জন্মগতভাবে কান নেই তা দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়।- ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭-২৯৮

৬.যে পশু তিন পায়ে ভর দিয়ে চলে,এক পা মাটিতে রাখতে পারে না বা এক পায়ে কোন ভর দিতে পারে না এমন পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়েয নয়। তবে যদি খোড়া পা দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলতে পারে তবে তা দ্বারা কুরবানী করা জায়েয।- রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৩,ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৭

৭.কোন পশু যদি এমন শুষ্ক হয় যে ,তার হাড়ের মগজও শুকিয়ে গিয়েছে তবে তা দ্বারা কুরবানী জায়েয নয়। হাড়ের মগজ না শুকালে তা দ্বারা কুরবানী জায়েয।

একটি কুরবানীর পশু ক্রয়ের আগে তার সুস্থতা পরীক্ষা করতে হয়। অসুস্থ ও খুঁতযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবে নাকিন্তু অনলাইনে ছবি দেখে গরু কিনলে সেই সুস্থতা যাচাই করা সম্ভব নয়।

অর্থাৎ যারাই হাটের সংখ্যা হ্রাস করে অনলাইনে গরু কিনতে উৎসাহিত করছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য ভালো নয়। তাদের মূল উদ্দেশ্য- মুসলমানদের কুরবানী নষ্ট করা।  নাউযুবিল্লাহ!

তাই এ বিষয়গুলো নিয়ে মুসলমানদের সচেতন থাকতে হবে এবং সরকারকে কুরবানীর পশুর হাটের সংখ্যা এতটাই বৃদ্ধি করতে হবে, যেন খুব সহজেই মুসলমানরা প্রয়োজনীয় পশু ক্রয় করতে পারে।

 

২১. সরকারীভাবে গরু জবাই করে গরীবদের মাঝে বিতরণ করতে হবে

হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দ রাখা হয়। মণ্ডপ প্রতি সরকারি বরাদ্দ হচ্ছে ৫০০ কেজি চাল। এভাবে সারা দেশে ২৮০০০ হাজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া ম্যাজিট্রেট, ডিসি, এসপি, এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আলাদা অনুদান তো আছেই।ধরে নিলাম প্রতি কেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা।তাহলে ৫০০ কেজি চালের মূল্য দাড়ায় ২৫ হাজার টাকা।তাহলে ২৮০০০ হাজার মণ্ডপে সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয় = ৭০ কোটি টাকা

ধরে নিলাম ১টি কোরবানির গরুর মূল্য ৫০ হাজার টাকা। তাহলে ৭০ কোটি টাকা দিয়ে ১৪ হাজার গরু ক্রয় করা যাবে।

ধরে নিলাম ৫০ হাজার টাকার ১টি গরুতে ১০০ কেজি গোশত হয়তাহলে ১৪ হাজার গরুতে গেশত হবে ১৪ লক্ষ কেজি ।

প্রত্যেক দরিদ্র ব্যক্তিকে যদি ২৫০ গ্রাম করে গরুর গোশত দেওয়া হয় তবে ১৪ লক্ষ কেজি গোশত দেয়া যাবে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র ব্যক্তিকে।

অর্থাৎ যে পরিমাণ বরাদ্দ পূজা মণ্ডপগুলোতে মূর্তি পূজার জন্য দেওয়া হচ্ছে, সেই সমপরিমাণ বরাদ্দ যদি ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষগুলোকে দেয়া হতো তবে সেখান থেকে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র মানুষ একটি দিনের জন্য পেট ভরে গোশত খেতে পারতো, পূরণ হতো তাদের আমিষের চাহিদা।

সরকার তাহলে কোরবানী উপলক্ষে সরকারীভাবে ব্যবস্থা করুকসেখানে সরকারী টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করে, সেই গরুর গোশত গরীবদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পূজায় যতটুকু বরাদ্দ দেয়া হয়, ততটুকু বরাদ্দ দিলেই কমপক্ষে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে ঈদের দিন গোশত বণ্টন করা সম্ভব ।

জনগণের স্বার্থে বিষয়টি ভেবে দেখবে কি ???

 

২২. পরিবহন চাঁদা বন্ধ

৩২.শুধু চাঁদাবাজির জন্য গরুর দাম বাড়ে কয়েকগুণ।

দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে রাজধানীতে আসা গরু ব্যবসায়ীরা বলছেন, পথে পথে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছেন তারা। প্রায় প্রতিটি গরুর ট্রাক থামিয়ে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দিতে অস্বীকৃতি জানালে গরু নিয়ে যাওয়ার হুমকি দিচ্ছে চাঁদাবাজরা। আর একটু বেশি কথা কাটাকাটি করলে ব্যবসায়ীদের মেরে ফেলার হুমকিও দেয়া হচ্ছে।

রাস্তায় চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে চাঁদাবাজরা গরু নামিয়ে দেয়। মহাসড়কেও চাঁদাবাজরা ট্রাক আটকায়। কোথাও হাইওয়ে পুলিশের দেখা পাইনি। আবার কোনো কোনো জায়গায় পুলিশের আশপাশেও চাঁদাবাজরা গাড়ি থামায়। পুলিশ দেখেও না দেখার ভান করে। ১০০, ৩০০ ও ৫০০ করে ৬টি স্থানে মোট ২ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে গাবতলীর হাটে আসতে হয়

গরু বেচাকেনা শুরু হওয়ার আগেই একটা বড় খরচের ধাক্কায় পড়েন বেপারিরা। এর প্রভাব পড়ে গরুর দামে।

এ চাঁদাবাজিতে জড়িত হাটের নেতৃত্বে থাকা পুলিশ থেকে শুরু করে স্থানীয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। ক্ষেত্রবিশেষ তারা সরাসরি না থাকলেও থাকছে তাদের ভাড়াটে লোক। পশুবাহী ট্রাক দেখলেই দাঁড়াতে বাধ্য করা হয়। এরপরই বিভিন্ন অখ্যাত সমিতির নামে বেশিরভাগ চাঁদা আদায় করা হয়। কিছু কিছু স্পটে আবার সমিতির রসিদও দেয়া হয়।

সরকারকে অবশ্যই এসকল চাঁদাবাজকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে।

 

২৩. গরুর রোগ এনথ্রাক্স ,খুড়ারোগ নিয়ে অপপ্রচারের জবাব

৩৩. Anthrax বা তড়কা রোগে আতংকিত হবার কিছুই নেই

Anthrax তড়কা গরুর একটি স্বাভাবিক রোগ এবং এ রোগে আক্রান্ত গরু চিকিৎসায় ভালো হয়ে যায়। “ এনথ্রাক্স আক্রান্ত গরুর গোশত খেলে মানুষ মারাত্বক রোগাক্রান্ত হবে” ইহা দালাল মিডিয়ার অপপ্রচার মাত্র।

তড়কা (Anthrax) একটি পুরোনো ব্যাধি।

বিষেশজ্ঞদের মতে, তড়কা এক ধরনের Acute রোগ যা Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার জন্য হয়ে থাকে  এবং পশু ও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগ কখনোই মানুষ হতে আক্রান্ত হয়না।

বিশেষজ্ঞদের মতে তড়কা (Anthrax) রোগের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি। পত্রপত্রিকা  এবং অন্যান্য মিডিয়া এ সকল সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্যতা এবং সতর্কতা অবলম্বন বাঞ্চনীয়। কারণ Anthrax নয়, Anthrax নামক আতংক জনমনে সংক্রামিত হলে গবাদিপশু পালনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

তড়কা (Anthrax) একটি সহজ প্রতিরোধযোগ্য রোগ এবং প্রতিরোধের পরও যদি সামান্যতম ইনফেকশন হয় তবে তা সহজ চিকিৎসায় সম্পূর্ন নিরাময়যোগ্য। শুধুমাত্র জনগনের সচেতনতাই এ রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকারের জন্য যথেষ্ঠ।

অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি, এফএসিপি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা” মতে তড়কা (Anthrax) রোগের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি।“http://goo.gl/aI5rJW

 এ সম্পর্কে-আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন-

“রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে গোশত যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ তাপ যেন গোশত ভেতরে ভালো করে ঢোকে। সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার পরও একই তাপমাত্রায় গোশত চুলার ওপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। যদিও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অত্যন্ত শক্তিশালী; কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় যেকোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু বা অন্য প্রাণীর গোশত খেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই কম।”

(সূত্র-http://goo.gl/8lx2D0)

গোশত রান্না করার সময় যদি ৯৫ºসে. (২০৩º ফা.) ২৫ মিনিট ধরে অথবা ১০০º সে. (২১২º ফা.) ১৫ মিনিট ধরে রান্না করা হয় তাহলে এ জীবানু মারা যায় ।ফলে এ গোশত খেলে মানুষের ক্ষতি হবার কোন সম্ভাবনাই-ই নাই। তড়কায় ভড়কাবার কিছু নেই । দালাল মিডিয়া নিজেদের অজ্ঞতা ও মুর্খতাকে প্রকাশ করার জন্য এনথ্রাক্স নামক স্বাভাবিক একটি রোগকে অনেক বড় রোগ হিসেবে দেখাছে। দালাল মিডিয়ার এ অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে সকলের উচিত দালাল মিডিয়ার এসকল অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করা।

 

৩৪. তড়কায় ভড়কাবার কিছু নেই

তড়কা (Anthrax) একটি পুরোনো ব্যাধি। অ্যানথ্রাক্স বা তড়কা রোগের ইতিহাস অনেক পুরনো। খ্রিষ্টপূর্ব ১৪৯১ সালেও মিসরে এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল বলে জানা যায়। শুধু মিসর নয়, গ্রিস, রোম এমনকি ভারতবর্ষেও এ রোগের প্রাদুর্ভাব ছিল। সপ্তদশ শতাব্দীর শুরুতে ইউরোপে এ রোগ ছিল।

বাংলাদেশের গবাদিপশুতে এই রোগ বহু পূর্ব হতে পাওয়া গেছে, তবে মানুষে এই রোগের সংক্রমণ ২০০৯ সাল হতে অধিক হারে পাওয়া যাচ্ছে।যেসব প্রাণীর এ রোগ হয়: মূলত গরু এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। বলে।

বিষেশজ্ঞদের মতে, তড়কা এক ধরনের Acute রোগ যা Bacillus Anthracis ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার জন্য হয়ে থাকে  এবং পশু ও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে। এ রোগ কখনোই মানুষ হতে আক্রান্ত হয়না।

অধ্যাপক ডা. এম এ জলিল চৌধুরী এমবিবিএস, এফসিপিএস, এমডি, এফএসিপি অধ্যাপক, মেডিসিন বিভাগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা” মতে তড়কা (Anthrax) রোগের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছু নেই। এটা সহজেই প্রতিরোধযোগ্য একটি ব্যাধি।“

আমাদের দেশে কাটনিওয়াস টাইপের এনথ্রাক্স আক্রান্ত রোগির কথাই বেশি শুনা যাচ্ছে যাকিনা অতটা বিষাক্ত নয়। চিকিৎসা না করলে মাত্র ১০-২০% ক্ষেত্রে এই প্রকার এনথ্রাক্স হুমকি হয়ে দাড়ায়।

এ সম্পর্কে-আইসিডিডিআরবি’র জ্যেষ্ঠ চিকিৎসা বিজ্ঞানী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন-

“রান্নার সময় খেয়াল রাখতে হবে গোশত যেন ভালো করে সিদ্ধ হয়। অর্থাৎ তাপ যেন গোশত ভেতরে ভালো করে ঢোকে। সম্পূর্ণ সিদ্ধ হওয়ার পরও একই তাপমাত্রায় গোশত চুলার ওপর অন্তত ১৫-২০ মিনিট রাখতে হবে। যদিও অ্যানথ্রাক্স জীবাণু অত্যন্ত শক্তিশালী; কিন্তু উচ্চ তাপমাত্রায় যেকোনো জীবাণু ধ্বংস হয়ে যায়। অ্যানথ্রাক্স আক্রান্ত গরু বা অন্য প্রাণীর গোশত খেয়ে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা খুবই কম।”

(সূত্র-http://goo.gl/8lx2D0)

গোশত রান্না করার সময় যদি ৯৫ºসে. (২০৩º ফা.) ২৫ মিনিট ধরে অথবা ১০০º সে. (২১২º ফা.) ১৫ মিনিট ধরে রান্না করা হয় তাহলে এ জীবানু মারা যায়।

 

৩৫.Anthrax আতঙ্ক! সর্বশেষ বৈজ্ঞানিক তথ্য সম্বলিত একটি পর্যালোচনা

মানুষের মধ্যে এটি খুবই rare নিকট অতীতে America (২০০১ সাল) এবং Russia (১৯৭৯ সাল)-তে সংঘটিত তথাকথিত Bioterrorism -এ মাত্র হাতে গোনা কয়েকজন আক্রান্ত হওয়াই এর বড় প্রমাণ।

Anthrax আক্রান্ত প্রাণী যদি মৃত্যুবরণ করে (রোগের কারণেই হোক কিংবা ভুলক্রমে জবাই করা হোক) তার দেহাভ্যন্তরে অবস্থানকারী বেশিরভাগ সক্রিয় Anthrax bacteria -ই সেই প্রাণীরই অভ্যন্তরসি'ত অন্য কিছু বিশেষ  bacteria (anaerobic) দ্বারা আক্রান্ত হয়ে কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ধ্বংস হয়ে যায়। আর প্রাণীদেহের প্রাকৃতিক ছিদ্রসমূহ দিয়ে রস এবং রক্তের মাধ্যমে প্রথমেই যে সকল সক্রিয় Anthrax জীবাণু বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয় কেবলমাত্র তারাই anaerobic ব্যাকটেরিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়ে প্রকৃতিতে spore form করে বেঁচে থাকতে পারে। ফলে মৃত বা জবাইকৃত-যেরূপই হোক না কেন Anthrax আক্রান্ত প্রাণীর গোশত বস্থত প্রাকৃতিকভাবেই জীবাণুমুক্ত হয়ে যায়। যদিবা কিছু bacteria পশুর চামড়া কিংবা গোশতে থেকে যেতে পারে, যথাযথভাবে রান্না করা হলে সে সকল Anthrax জীবাণুও নিশ্চিতরূপে মারা যায়। কারণ, সুনির্দিষ্টভাবে এটি প্রমাণিত যে রান্না করাকালীন তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রী সেলসিয়াস-এ পৌঁছার পর কমপক্ষে ৫ মিনিট স্থায়ী হলেই কোন Anthrax জীবাণুই আর বেঁচে থাকে না। শুধু তাই নয়, Anthrax আক্রান্ত প্রাণীর সংস্পর্শে আসা বিভিন্ন দ্রব্যাদি যা Anthrax বহন করতে সক্ষম সেগুলোকেও আমরা ফুটন্ত পানিতে ৩০ মিনিট বা আরো বেশি সময় ধরে boil করে সহজেই সম্পূর্ণরূপে জীবাণুমুক্ত করতে পারি।

Anthrax জীবাণু প্রাণীদেহে প্রবেশ করলেই যে Anthrax রোগ হয়ে গেলো এ কথার কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। মনে রাখতে হবে- রোগ বিস্তারের জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হওয়া আবশ্যক। যেমন প্রথমেই বলা যায়, আক্রমণকারী জীবাণুর সংখ্যা (spore count)| দ্বিতীয়ত, প্রাণীদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (body immunity)| তৃতীয়ত, জীবাণুটির রোগ বিস্তারের ক্ষমতা (virulence) ইত্যাদি।

অতএব যারা অহেতুক এনথ্রাক্স জীবানু নামক প্রোপাগান্ডা নিয়ে আসছে তাদের উদ্দেশ্য যে কুরবানির মত একটি আমল থেকে মুসলমানদের সুরে সরানো তা স্পষ্ট। 

 

২৪. গরু মোটা তাজাকরন নিয়ে অপপরচারের জবাব

৩৬. গরু মোটা তাজাকরণে যে সকলে ঔষধ ব্যবহার হয় সেগুলো কি সত্যিই মানুষের জন্য ক্ষতিকর ??

এ সম্পর্কে ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহ কি বলেন ??

ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহ’ বলেন----------

“পশু মোটা-তাজাকরণ বা গ্রুথ হরমোন বাড়ানোর জন্য যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা সহনীয় পর্যায়ে। এতে গরুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং মানুষের শরীরের জন্যও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ এই ধরনের ওষুধ গরুকে খাওয়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া ৭৭ কেজি গোশতের মধ্যে যে পরিমান স্টেরয়েড থাকে তার সমপরিমান স্টেরয়েড থাকে একটি ডিমে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে কিছু সবজি আছে যার মধ্যে প্রচুর স্টেরয়েড থাকে। কিন্তু এতে তো আমাদের শরীরের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। বরং উপকারই হচ্ছে। তবে পশুকে সহনীয় মাত্রার অধিক স্টেরয়েড দিলে পশুর বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। তবে এ ধরনের গরু একশ’র মধ্যে তিনটা পাবেন। আমাদের দেশে অনেকে বলে থাকেন এই স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে মানুষের অতিরিক্ত মাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।

তারা এই বিষয়ে জ্ঞানের অভাবের এমন বিভ্রান্তকর তথ্য দিচ্ছেন। তারা কোনো গবেষণামূলক প্রমাণ দেখাতে পারেননি এবং পারবে বলেও আমি মনে করি না।

(http://goo.gl/KzE7F8)

অর্থাৎ-----

১) এ ধরনের পুশ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা শরীর থেকে বের হয়ে।

২) গরুর গোশতে যদি কিছু স্টেরয়েড থাকেও তবে তা পরিমাণে সামান্য ও স্বাস্থ্যের জন্য উপকারি।

৩) যদি গ্রুথ হরমোন বেশি হয়ে যায়, তবে গরু অসুস্থ ও অচল হয়ে পড়ে। কিন্তু ঢাকা শহরে হাটগুলোতে যে গরু আসে তার প্রায় সবটাই সুস্থ ও সবল। অসুস্থ গরু ঢাকায় আনা সম্ভব নয়।

৪) যে বিষ খেলে গরু মারা যায় না, সেই গরুর গোশত খেলে মানুষ মারা যাবে এটা ভ্রান্ত কথা।

৫) রান্না করার পর গোশতে ক্ষতিকারক কোন পদার্থ থাকতে পারে না।

৬) যারা এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, তাদের কাছে কোন সুস্পষ্ট গবেষণামূলক প্রমাণ নেই।

 

৩৭. স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি ,ইনজেকশন দিয়ে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজাকরন করা হয়

ঢালাওভাবে মিডিয়ায় ‘ষ্টেরয়েড বড়ি, ইনজেকশনের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করে মানুষকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে’ অপপ্রচার মাত্র।  স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি ,ইনজেকশন দিয়ে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজাকরন করা হয় –

কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়।

গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (Beef Fattening) বলতে এক বা একাধিক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে এবং  বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঐ গরুর শরীরে অধিক পরিমাণ গোশত/চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়। অধিক গোশত উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হূষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায় তবে অনেক সময় পরিস্থিতিভেদে ১২০-১৪০ দিনও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। দেশের গোশতের ঘাটতি পূরণ ও বর্ধিত জনসংখ্যার কাজের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

 

৩৮. গরু মোটা তাজাকরনঃ

মুসলমানদের কোরবানী ঈদ আসলেই মিডিয়া শুরু করে গরু গোশত নিয়ে অপপ্রচার। গরুর গোশত অমুক সমস্যা, তমুক সমস্যাসহ নানার ত্যানা প্যাচাতে থাকে। তাদের অনেক কথার কোন ভিত্তি না থাকলেও ঠিক ঈদের আগে গরুর গোশত বিরোধী নানান অপপ্রচারে লিপ্ত হয় তারা।আমেরিকায় ১৯৫৪ সাল থেকে খাওয়ায় । ৯৯% পশুকে খাওয়ায়।

এখানে যে কথাটি মনে রাখতে হবে-------

ক) গরুর শরীরে মোটাতাজাকরণ ঔষধ দিলে তা গরুর মল-মূত্র দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ বের হয়ে যায়।

খ) বাকি ঔষধ কিছু থাকলেও তা গোশত রান্নার করার পূর্বে ধৌত ও উচ্চতাপে রান্নার সময় নষ্ট হয়ে যায়।

গ) একটি মাঝারি ওজনের গরু মোটাতাজাকরণে যে স্টেরয়েড নামক উপাদান ব্যবহার করা হয়, একটি ডিমে প্রাকৃতিকভাবে তার থেকে অধিক পরিমাণে স্টেরয়েড থাকে।

গ) গরু মোটাতাজাকরণ সিস্টেমটি একসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হয়েছিলো। যে বিষয়টি এতদিন সরকারিভাবে শেখানো হলো, সেটা আজ হঠাৎ করে বিষাক্ত হয়ে গেলো কেন ?

ঘ) অসুস্থ রোগীকে হরহামেশা ষ্টেরয়েড দেওয়া হয়, এমনকি সুস্থ্য মানুষ ও খেয়ে থাকে । তখন কি স্বাস্থ্যের ক্ষতি হয়না ? কি আজব যুক্তি দেখেন। স্টেরয়েড ওয়ালা গরুর গোশত খেলে মানুষের ক্ষতি হবে অপপ্রচার করে কিন্তু খদ মানুষ নিজেই যে সরাসরি স্টেরয়েড খেয়ে ক্ষতির স্বীকার হচ্ছে তা বলেনা কেন?

 

৩৯. গ্রোথ হরমোন ছাড়া গরু মোটাতাজাকরণ পদ্ধতি

ঢালাওভাবে মিডিয়ায় ‘ষ্টেরয়েড বড়ি, ইনজেকশনের মাধ্যমে পশু মোটাতাজা করে মানুষকে বিষ খাওয়ানো হচ্ছে’ অপপ্রচার মাত্র।  স্টেরয়েড জাতীয় বড়ি ,ইনজেকশন দিয়ে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই বাংলাদেশে পশু মোটাতাজাকরন করা হয়

কোরবানির ঈদের আগে গরু কিনতে গেলে মোটাতাজা গরু দেখলেই মনে করা হয় ইঞ্জেকশন দিয়ে মোটা করা গরু। কিন্তু এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। প্রাকৃতিক উপায়েই ৩-৪ মাসের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায়।

গরু মোটাতাজাকরণ বা বীফ ফ্যাটেনিং (Beef Fattening) বলতে এক বা একাধিক গরু বা বাড়ন্ত বাছুরকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উন্নত সুষম খাবার সরবরাহ করে এবং  বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ঐ গরুর শরীরে অধিক পরিমাণ গোশত/চর্বি বৃদ্ধি করে বাজারজাত করাকেই বুঝায়। অধিক গোশত উৎপাদনের জন্য ২ থেকে ৩ বছর বয়সের শীর্ণকায় গরুকে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় খাদ্য সরবরাহ করে হূষ্টপুষ্ট গরুতে রূপান্তরিত করাকে গরু মোটাতাজাকরণ বলে। বয়সের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত ৯০ দিনের মধ্যে গরু মোটাতাজাকরণ করা যায় তবে অনেক সময় পরিস্থিতিভেদে ১২০-১৪০ দিনও লাগতে পারে। গরু মোটাতাজাকরণের জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় হচ্ছে বর্ষা এবং শরৎকাল যখন প্রচুর পরিমাণ কাঁচা ঘাস পাওয়া যায়। দেশের গোশতের ঘাটতি পূরণ ও বর্ধিত জনসংখ্যার কাজের ব্যবস্থা করতে বাণিজ্যিকভাবে গরু মোটাতাজাকরণ ব্যবসা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ঈদের কিছুদিন আগ থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক। এজন্য দরকার গরু মোটাতাজাকরণে সঠিক ব্যবস্থাপনা। চাহিদার উপর ভিত্তি করে কোরবানী ঈদের ৫ থেকে ৬ মাস পূর্ব থেকে গরুকে উন্নত খাদ্য ও ব্যবস্থাপনা দিয়ে মোটাতাজাকরণ লাভজনক।

মোটাজাতকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বিষয়সমুহঃ ক. গরু নির্বাচন খ. স্থান নির্বাচন গ. বাসস্থানের গঠন ঘ. খাদ্য ব্যবস্থাপনা 

দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশে যারা গরুর খামার করেন উনারা উপরোক্ত প্রাকৃতিক নিয়মেই  গরু মোটাতাজাকরন করে থাকেন। কিন্তু ইসলামবিদ্বেষি মিডিয়া ও নাস্তিকেরা কুরবানির ঈদ এলেই প্রোপাগান্ডা করে থাকে বাংলাদেশে নাকি ষ্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটা তাজাকরনের হিড়িক পড়েছে ! অথচ সারাবছর ধরে গরু কিভাবে মোটাতাজা করা হচ্ছে তার খবর তারা বলেনা।  একজন খামারী যে ৩-৪ মাস ধরে গরুর পিছনে অক্লান্ত পরিশ্রম এবং টাকা খরছ করে প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করছে তার খবর তার কথা প্রচার করেনা। মূলত বাংলাদেশে স্টেরয়েড ইনজেকশনের মাধ্যমে নয় , প্রাকৃতিক পদ্ধতিতেই গরু মোটাতাজাকরন করা হচ্ছে। ইনজেকশনের মাধ্যমে গরু মোটাতাজাকরনের দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা সারা দেশের চিত্র হতে পারেনা।

 

২৫. গরুর গোশতের উপকারীতা

৪০অসীম নিয়ামতে ভরপুর একটি খাদ্য হল গরুর গোশত,যার উপকারিতা অপরিসীম।

অসীম নিয়ামতে ভরপুর একটি খাদ্য হল গরুর গোশত। গরুর গোশতের উপকারিতা অপরিসীম। যারা গরুর গোশত খাওয়ার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে থাকে তারা দাজ্জালে কাযযাব,জাহেল ,গন্ডমুর্খ ,বকলম।

পবিত্র কুরবানী ঈদের আগে হিন্দু ও নাস্তিকরা অপপ্রচার করে থাকে গরুর গোশত শরীরের জন্য নাকি ক্ষতিকর! নাউযুবিল্লাহ। নাস্তিকের দল সারাবছর ধরে গরুর গোশত আরামসে ভক্ষণ করে কিন্তু ঠিক কুরবানির সময়ে এসে বিরুদ্ধাচরণ করে থাকে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যা হালাল করেছেন তার মধ্যে কোনো ক্ষতির বিষয় থাকা কিছুতেই সম্ভব নয়। তাছাড়া মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি গরুর গোশত খেয়েছেন অর্থাৎ গরুর গোশত খাওয়া সুন্নত ।

গরুর গোশতের উপকারীতা নিন্মরুপ-

১. প্রোটিনের উৎস:

গরুর গোশত থেকে যে প্রোটিন পাওয়া যায় তাতে পেশি গঠনের সব এমাইনো এসিড আছে। সুগঠিত গোশতপেশি শরীরে বিভিন্ন এনজাইম ও হরমোন উৎপাদিত হয়। গরুর গোশত স্পার্মের (শুক্রাণুর) পরিমাণ ও গুন বৃদ্ধি করে বন্ধ্যাত্বতা দূর করে।শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় সকল ধরনের এমাইনো এসিড রয়েছে গরুর গোশতে ।

২. আয়রনের উৎস:

গরুর গোশতে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ আছে। সপ্তাহে দুইবার গরুর গোশত খেলে রক্তের মাধ্যমে পুরো শরীরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় আয়রনের চাহিদা পূরণ হয় এবং এনেমিয়া প্রতিরোধ করে। 

৩. জিঙ্কের উপস্থিতি:

গরুর গোশত দেহের জিঙ্কের অভাব পূরণ করে। জিঙ্ক মানুষের পেশিকে সবল করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

৪. ভিটামিন বি:

গরুর গোশত বিভিন্ন রকম ভিটামিন-বি-এর একটি অন্যতম উৎস। সুস্থ শরীরের জন্য প্রাকৃতিক উৎসের ভিটামিন-বি গ্রহণ করা জরুরী। গরুর গোশতে আছে ভিটামিন-বি-১২, যা নার্ভ সচল রাখে ও ভিটামিন-বি-৬, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এছাড়াও গরুর গোশতে নিয়াসিন আছে যা হজমে সহায়তা করে এবং রিবোফ্লাবিন যা চোখ ও ত্বক ভালো রাখে।

৫. প্রচুর পরিমাণ সেলেনিয়ামও পাওয়া যায়ঃ

সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন রয়েছে, যা মানবদেহের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা এ সেলেনিয়ামে অন্তর্ভুক্ত প্রোটিনকে সেলোপ্রোটিন বলে। সেলেনিয়ামে ভিটামিন ‘’, ভিটামিন ‘সি’, গ্লুটাথায়োনিন এবং ভিটামিন বি-৩ রয়েছে। এ ছাড়া সেলেনিয়ামে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা ফ্রি র‌্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শরীরকে রক্ষা করে ও অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী ক্যান্সার, হৃদরোগ প্রভৃতির ঝুঁকি কমায়। সেলেনিয়াম শুক্রাণু তৈরিতে এবং পুরুষ ও নারীর বন্ধ্যত্ব দূর করতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া এইডস প্রতিরোধে এবং নিরাময়ে সেলেনিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম।ইহা থাইরয়েড হরমোনের স্বাভাবিক উৎপাদন বজায় রাখে।

৬.  গরুর গোশতে আছে Conjugated Linoleic Acid (CLA)এটি ক্যান্সার প্রতিরোধ, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক বলে গবেষনায় প্রমাণিত হয়েছে।

৭. গরুর গোশতে Creatine থাকে যা মস্তিষ্ক ও পেশীতে শক্তি সংরক্ষন করে।

৮. কিছু polyunsaturated acids বিশেষ করে eicosapentaenoic acid (EPA), docosahexaenoic acid (DHA) পাওয়া যায় শুধুমাত্র প্রাণীজ উৎস হতেই, যা Anti-atherogenic, anti-thrombotic and anti-inflammatory হিসেবে কাজ করে

৯. ফসফরাস : যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি।

১০. বর্ধনশীল বাচ্চাদের জন্য গরুর গোশতে উপকারীতাঃ

বর্ধনশীল বাচ্চা বা টিনএজার দের সমর্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গরুর গোশতের তুলনা নেই। শুধু শারীরিক বর্ধন নয়, বুদ্ধি-বৃত্তিক গঠন এবং রক্ত বর্ধনেও এটি ভূমিকা রাখে।

১১. টরিনঃ ইহা এন্টিওক্সিড্যান্ট এমাইনো এসিড। ইহা হার্ট ও গোশত পেশীর কার্য্যক্রমে দরকারি।

১২. কারনোসাইনঃ গরুর গোশতে এই উপাদান যা অবসাদ দূর করে এবং এক্সারসাইজের সময় শরীরের গতি বাড়ায়।

https://goo.gl/q3TtBj

 

৪১..গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে কিছু ভ্রান্ত ধারনার সংশোধনঃ

১. গরুর গোশত মানেই অত্যধিক ক্যালরি নয়ঃ

আপনি যদি ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম চর্বি ছাড়া গরুর গোশত খান তাহলে এটা থেকে আপনার দৈনিক ক্যালরির চাহিদার মাত্র ১০% ক্যালরি আসবে। ( ৩ আউন্স মাংসে আছে ২০০ ক্যালরি এবং দৈনিক ক্যালরি চাহিদা ২০০০ ক্যালরি )

২. গরুর গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রাঃ

৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গোশতে কোলেস্টেরল এর মাত্রা ৪৭ মিগ্রা থেকে ৫৩ মিগ্রা। একজন সুস্থ্য মানুষের কোলেস্টেরল এর দৈনিক নিরাপদ মাত্রা হলো ৩০০ মিগ্রা এবং হার্টের রোগীর জন্য ২০০ মিগ্রা। সুতরাং ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশত কোলেস্টেরল এর মাত্রা নিরাপদ সীমার অনেক নীচে। তুলনাটা আরেকটু ভালো করে বুঝাতে বলি, একটি ডিমের কুসুমে আছে ২১২ মিগ্রা কোলেস্টেরল। সুতরাং সব দোষ গরুর গোশত একার না।

৩.গরুর গোশত ও হার্ট ডিজিজঃ এই বিষয়টি এখনো নির্দিষ্ট হয়নি যে আসলেই গরুর গোশত কি হার্ট ডিজিজ করে না কি করেনা।

৩. গরুর গোশতে আছে পুষ্টিঃ

৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) গরুর গোশত থেকে যেই পরিমাণ জিংক আসে সেই পরিমাণ জিংক পেতে আপনাকে খেতে হবে ৩ আউন্স ওজনের ১১ টুকরো টুনা মাছ, এই পরিমাণ আয়রনের জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের ৭ টুকরা মুরগীর বুকের গোশত, এই পরিমাণ আয়রনের জন্য খেতে হবে ৩ কাপ স্পিনাচ, এই পরিমাণ রিবোফ্লেভিন এর জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের আড়াই টুকরা মুরগীর বুকের গোশত এবং এই পরিমাণ থায়ামিন এর জন্য খেতে হবে ৩ আউন্স ( ৮৫ গ্রাম ) ওজনের ২ টুকরা মুরগীর বুকের গোশতে।

শুধু তাই নয় হিন্দু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও গরুর গোশতের উপকারীতা স্বীকার করে নিতে বাধ্য হচ্ছে। সেন্টার ফর সেলুলার অ্যান্ড মলিকিউলার বায়োলজির প্রতিষ্ঠাতা কর্মকর্তা বিজ্ঞানী প্রবীণ পিএম ভার্গব। টাইমস অফ ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে এই খবর দিয়েছে। এ ডাক্তার রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জিকে ৬ নভেম্বর যে চিঠি দিয়েছে, তাতে সে উল্লেখ করেছে গরুর গোশত প্রসঙ্গ। চলমান সংহিতায় একথা উল্লেখ করে বলেছে, 'গ্যাস সমস্যা, অনিয়মিত জ্বর, শুকনো কাশি, ক্লান্তি, কঠোর পরিশ্রমের জন্য অত্যধিক খিদের থেকে শরীরে যাদের ডিসঅর্ডার দেখা দেয়, যারা এই কারণে অত্যধিক রোগা হয়ে যান, তাদের জন্য গরুর গোশত অত্যন্ত উপকারী ঔষধ হিসেবে কাজ করে। - http://bit.ly/2bLIytV

যেকোণ খাদ্য ই অতিরিক্ত ভক্ষণ করা ক্ষতির কারন। তার মানে এই নয় যে ঐ খাদ্য বাদ দিতে হবে।তাহলে যারা গরুর গোশতের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে তারা কিসের ভিত্তিতে চালাচ্ছে ? তারা কি গরুর গোশতের এসকল উপকারীতা অস্বীকার করতে পারবে ? 

 

২৬. ঈদের ছুটি বাড়াতে হবে

এবার২০১৭ সালের রোজার ঈদের সময় সড়ক, রেল ও নৌপথে মোট ২৪০টি দুর্ঘটনায় ৩১১ জন মারা গেছেন বলে যাত্রী কল্যাণ সমিতির হিসাব।

এসকল মৃত্যুর কি কারন ?

মাত্র ৩ দিন ঈদের ছুটি দেওয়াই যার মুল কারন।

ঈদের ছুটি যদি কমপক্ষে ১০ দিন দিত তাহলে মানুষকে তাড়াহুড়ো করে বাড়িও যেতে হতনা , আবার আসতে তাড়াহুড়ো করতে হতোনা। ঈদের ছুটির সংখ্যা বাড়ালে মানুষ ধিরস্থীরে বাড়ি যেত পারত। আনন্দের সাথে ঈদ করে আবার ফিরে আসত।

মানুষের জীবন এবং ঈদ আনন্দ উপভোগ করার স্বার্থে সরকারকে অবশ্যই ঈদের ছুটি কমপক্ষে ১০ দিন দিতে হবে।

 

২৭. চামড়া পাচার বন্ধ

৪২.প্রতি বছর দেশীয় বাজার থেকে প্রায় ২শ’ মিলিয়ন ঘনফুট বিভিন্ন ধরনের পশুর চামড়া সংগ্রহ হয়ে থাকে। এর মধ্যে কুরবানীর পশুর চামড়াই থাকে ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ। প্রতি বছর জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৫ মাসে ইউরোপের বাজার থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি আদেশ পাওয়া যায়। আর এ বছর এখন পর্যন্ত তেমন কোনো অর্ডার আসেনি।

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দামও গড়ে প্রায় ৩৫ ভাগ কমে গেছে। এ কারণে এ খাতের মোট রফতানি আয় কমে যাচ্ছে। গত বছর জানুয়ারিতে ফিনিশ্‌ড বলে পরিচিত ১ থেকে ৪ নম্বর কোয়ালিটির এক বর্গফুট চামড়ার রফতানি দর ছিল ২ ডলার ৩৫ সেন্ট। এ বছর মার্চে একই মান ও পরিমাণের চামড়ার দাম কমে হয়েছে ১ দশমিক ৪২ ডলার। জুন মাসের শেষ সপ্তাহে পাওয়া রফতানি অর্ডারে একই মানের চামড়ার দাম পড়েছে ১ দশমিক ৩০ ডলার। যা আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রফতানি হয়েছে ১ দশমিক ১০ ডলারে।

এদিকে, দেশে বর্তমানে এক বর্গফুট চামড়ার দাম ১২০ টাকা থেকে কমে মাত্র ২০ থেকে ২৫ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে।  অর্থাৎ একটি বড় গরুর চামড়া ১০ বর্গফুট ধরলে তার দাম দাঁড়ায় মাত্র দু’শ টাকা থেকে আড়াইশ টাকায়।

২০০৭ সালেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার চামড়া রপ্তানি করা হয়েছিল। চলতি অর্থবছরে সরকার এ খাত থেকে ১৯৪ দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রফতানি লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করে। এ পর্যন্ত ৩৫ দশমিক ৯৯ শতাংশ অর্থাৎ ১২৪ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে।  জানা গেছে, ২০০৮ সালেরই প্রায় এক হাজার কোটি টাকার চামড়া মজুদ থাকার পর গত বছর কুরবানীর পরে ২০০৯ সাল নাগাদ দুই হাজার কোটিসহ ৩ হাজার কোটি টাকার চামড়া মজুদ পড়ে আছে।

উল্লেখ্য এবারে দেশের বাজারে দাম কম থাকায় মোটা অঙ্কের চামড়া ভারতে পাচার হয়ে যাওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে। এতে দেশ মোটা অঙ্কের বৈদেশিক মুদ্রা আয় থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের জন্য একটি বড় ধরনের সমস্যা হচ্ছে চামড়া পাচার। প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ চামড়া পাশের দেশ ইনডিয়ায় পাচার হয়ে যায়। এ ঘটনাটি ঘটে বিশেষ করে ঈদুল আজহার সময়। তখন ভারতের ক্রেতারা সীমান্তে এসে ওঁৎপেতে থাকে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে বিশাল পরিমাণ কাঁচা চামড়া নিয়ে যায়। আর ভারতে গরু জবাই নিষিদ্ধ থাকায় বাংলাদেশের কুরবানীর সময় তারা সুযোগ গ্রহণ করে।

এদেশের চামড়া শিল্পের জন্য প্রধান ষড়যন্ত্র হচ্ছে যে, শুধুমাত্র চামড়া কাঁচামাল হিসেবে রফতানি করা।

অথচ সরকার একটু সহযোগিতা করলেই এদেশেই গড়ে উঠতে পারে বিশ্বমানের চামড়াজাত দ্রব্যাদির কারখানা। কিন্তু সামান্য পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ও মহল বিশেষের ষড়যন্ত্রের কারণে বহু সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এদেশে এখনও পর্যন্ত শুধু চামড়াই প্রক্রিয়াধীন করে ব্যাপকহারে রফতানি করা হয়, চামড়াজাত পণ্য নয়।

অথচ চলতি বছর চামড়া রফতানি কমলেও চামড়াজাত পণ্য রফতানি বেড়েছে। গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময় এ খাতে রফতানি আয় কমেছে ৩৫ শতাংশ। এদিকে একই সময় চামড়ার জুতা রফতানি বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ এবং চামড়ার ব্যাগ রফতানি বেড়েছে ৯৬ শতাংশ। দেশের বেশিরভাগ কারখানাই চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে তা রফতানি করে। চামড়া থেকে পণ্য তৈরি করছে হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি।

 

৪৩. চামড়া শিল্পের সমস্যা, চামড়া পাচার এবং সম্ভাবনা প্রসঙ্গে

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানী খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে আগামী দুই বছরের মধ্যে ৫ বিলিয়ন ডলার রফতানীর লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার। চামড়া শিল্প শতভাগ দেশীয় কাঁচামালনির্ভর রফতানীমুখী শিল্পখাত। এ শিল্পের সঙ্গে ২২০টিরও বেশি ট্যানারি, সাড়ে ৩ হাজার ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং ১১০ বৃহৎ শিল্প জড়িত। এসব কারখানায় বছরে ২৫ কোটি বর্গফুটেরও বেশি চামড়া উৎপাদিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পখাতে প্রায় ৭০ লাখ দক্ষ ও অদক্ষ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এ শিল্পে শতকরা ৯০ ভাগ মূল্য সংযোজনের সুযোগ রয়েছে।

শুধু ইউরোপ ও চীনের বাজারে খারাপ অবস্থার কারণেই নয়, ট্যানারি মালিকরা এখন চামড়া কিনতে পারছে না আরো দুই কারণে। হাজারীবাগ থেকে ট্যানারি শিল্প সাভারে স্থানান্তরের কারণে ট্যানারি মালিকদের এখন প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়েছে সেখানে। এছাড়া গত বছরের (২০১৪ সালের) প্রচুর চামড়া এখনো জমা রয়েছে ট্যানারিগুলোতে। এসব কারণেও তারা এখন চামড়া কিনতে পারছে না। আর ট্যানারি মালিকরা চামড়া কেনা বন্ধ রাখায় স্বাভাবিকভাবেই চামড়ার দাম পড়ে গেছে। অন্যদিকে আবারো পবিত্র ঈদুল আযহার সময় ঘনিয়ে এসেছে। যদি ব্যবসায়ীদের গোডাউনের চামড়া অবিক্রিত থেকে যায় এবং ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে সময়মতো টাকা না পাওয়া যায়, তাহলে তারা চামড়া নিয়ে বড় ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হবে।

          পর্যবেক্ষক মহল মনে করে যে, উল্লেখিত কারণ ছাড়াও প্রত্যেক বছরই ট্যানারি মালিকরা চামড়ার মূল্য নির্ধারণে গড়িমসি করে। চামড়ার দর নিয়ে এক ধরনের মারপ্যাঁচের শিকার হয় ব্যবসায়ীরা। ফলে মাত্রাতিরিক্ত লোকসানের মুখে অতীতে অনেক ব্যবসায়ী তাদের পুঁজি হারিয়েছে। এ বছর (২০১৫ঈ.) এখনো মূল্য নির্ধারণ না হওয়ায় তারা এ মৌসুমের ব্যবসায়ী পরিকল্পনা সাজাতে পারছে না।

অপরদিকে সম্প্রতি প্রক্রিয়াজাত করা চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজার সংকুচিত হওয়ায় বৈধ চ্যানেলে এর অবমূল্যায়ন ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে গত ৩/৪ মাস ধরে এই বাজারের অন্তত ৫০ ভাগ কাঁচা চামড়া চোরাপথে ভারতে পাচার হয়ে যাচ্ছে। কেননা বাংলাদেশে প্রতি বর্গফুট ৮০ থেকে ৯০ টাকা হলেও ভারতে সেটা ১১০ থেকে ১২০ টাকা দরে বিক্রি করা যাচ্ছে। এ অবস্থায় পবিত্র কুরবানীর ঈদে চামড়ার বাজারে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে না পারলে অধিকাংশ চামড়াই ভারতে পাচার হয়ে যাবে।

          তবে চামড়া বাণিজ্যে আন্তর্জাতিক মন্দার মধ্যেও প্রতি বছর দেশ থেকে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানী করে বৈদেশিক মুদ্রার আয় বাড়ছে। গত পাঁচ অর্থবছরে চামড়া খাত থেকে দেশের রফতানী আয় বেড়েছে প্রায় ৫০ কোটি ডলার। ইপিবি’র তথ্য মতে, ২০০৯-১০ অর্থবছরে রফতানী হয়েছিল ২৫ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে চামড়া রফতানী করে আয় হয়েছে ৭৪ কোটি ৫৬ লাখ ডলার। অর্থাৎ পাঁচ বছরে রফতানী আয় বেড়েছে ১৯২ শতাংশ। কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানী করে এই আয় হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছরই স্বল্প হারে হলেও চামড়া খাত থেকে রফতানী আয় বাড়ছে। কিন্তু তারপরেও চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের ২৩০ বিলিয়ন ডলারের বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের অংশীদারিত্ব মাত্র শূন্য দশমিক ৫৬ শতাংশ।  অথচ বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ খুব সহজেই তার অংশীদারিত্ব বাড়াতে পারে। মূল্য সংযোজন ও পরিবেশবান্ধব চামড়াজাত পণ্য উৎপাদনের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পখাত থেকেই আগামী ৫ বছরের মধ্যে লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা রফতানী আয় করা সম্ভব। এ উদ্যোগ দেশে ৫০ লাখ নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি করবে।

          উল্লেখ্য, এক চামড়া সম্পদ সংরক্ষণ এবং বিপণনে যদি সরকার পদক্ষেপ নেয়, তবে এর দ্বারাই দেশের অর্ধেক বাজেট অর্জন সম্ভব

 

২৮. অপ্রাপ্তবয়স্ক দোহাই দিয়ে গরু কুরবানী বন্ধ করার অপচেষ্টা

৪৪.পূজা হিংস্রতা শিখায় কুরবানী নয়

১. ১৮ বছরের কম বয়সীদের পূজা মণ্ডপে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে হবেঃ সরকার ১৮ বছরের নীচে কুরবানী করতে নিষেধ করেছে। এতে নাকি শিশুরা হিংস্র হবে।

মনোচিকিৎসক ও মনোবিশ্লেষক লেখক ডা. মোহিত কামাল বলে, ‘শিশুরা সহিংসতাবিষয়ক কিছু দেখলে তাদের মনে সেই বিষয়ে ছাপ পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে পরিবেশ-পরিস্থিতির ভিত্তিতে সেটা বিকাশ লাভ করে। এতে করে যেমন শিশু ভবিষ্যতে আরো লাজুক, বিষন্ন ও অসুস্থ  হতে পারে, তেমনি ভয়ংকর উগ্র, বিধ্বংসীও হতে পারে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশুবিশেষজ্ঞ ড. মাহাবুব আলম বলেন, ‘শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যেসব শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ হয়নি, নেতিবাচক সংবাদ, বীভৎস ছবি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে সেই সব শিশু জড়িয়ে পড়ে নেতিবাচক কর্মকান্ডে।’

হিন্দুদের কালী মূর্তির ছবিতে কালি দেবির-

১.একহাতে ভয়ঙ্কর মারনাস্ত্র, ২.আরেকহাতে কাটা মুন্ডু।

৩.গলায় মানুষের মুন্ডু দিয়ে তৈরি মালা,

৪.কোমরে মানুষের হাত দিয়ে তৈরি অলঙ্কার।

৫. হাতে ত্রিশুল

৬. পায়ের নীচে মৃত মানুষ

৭. ভয়ংকরভাবে জিহবা বেরিয়ে থাকা এই ছবিটি খুব বিভৎস, ভয়ঙ্কর ।

লক্ষ লক্ষ হিন্দু বাবা-মা তাদের শিশুদের নিয়ে পূঁজো মন্ডপে যায় এইরকম মূর্তিগুলো পরিদর্শন করতে। মনোবিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে এ ছবি শিশুর মনের উপর বিরুপ প্রভাব ফেলবে এবং শিশুকে ছোটবেলা থেকেই হিংস্র করে তুলবে। যার প্রমান আমরা ভারতের দিকে তাকালেই বুঝতে পারি।

পশু জবাই একটি প্রাকৃতিক একও সিস্টেম যার উপর নির্ভর করে মানুষ বেছে থাকে। একজন শিশু কুরবানী পশু জবাই এর মাধ্যমে সে শিক্ষাই পেয়ে থাকে।

কিন্তু কালির মুর্তিতে সে শিখে মানুষ নিধন !

তাহলে নাস্তিক-ইসলামবিদ্বেষিরা এখন কেন বলেনা পুজায় ১৮ বছরের নীচে শিশুদের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হোক?

 

২. জবাইকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ করা:

৪৫.কে কোন্ বয়সে বিয়ে করবে, কোন্ বয়স থেকে জবাই করবে ইত্যাদি আরো অনেক বিষয়েই এখন সিদ্ধান্ত দেয়া শুরু করেছে সরকারি প্রশাসন। ভাবখানা এমন- যেন তাদের উপর ওহী নাযিল হওয়া শুরু হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! নচেৎ বিয়ের বয়সের ক্ষেত্রে, জবাইকারীর বয়সের ক্ষেত্রে যেখানে ইসলামী শরীয়ত নির্দিষ্টতা আনেনি, সেখানে সরকার কি করে হাত দেয়? এটা কি বামন হয়ে চাঁদে হাত বাড়ানোর মতো নয়? অথচ সরকার তো বিয়েপূর্ব কথিত প্রেম-ভালোবাসা, পরকীয়া, অবৈধ মেলামেশা; টিভি-সিনেমা, ইন্টারনেটে অশ্লীলতা দেখা ইত্যাদিতে কোনো বয়স নির্দিষ্ট করেনি। এর অর্থ হলো- যেকোনো বয়স থেকেই যা খুশি সব অপকর্ম করা যাবে, তবে পবিত্র দ্বীন ইসলাম পালনে সরকারের অনুমতি নিতে হবে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! যে অজুহাতেই জবাইকারীর বয়স নির্দিষ্ট করা হোক না কেন- এটা স্পষ্টতই পবিত্র কুরবানী উনাকে ইহানত বা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার শামিল।

২৯. শিশুদের সামনে কুরবানী নিয়ে অপপ্রচার

৪৬.পূজা হিংস্রতা শিখায় কুরবানী নয়

১. ১৮ বছরের কম বয়সীদের পূজা মণ্ডপে যাওয়া নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে হবেঃ সরকার ১৮ বছরের নীচে কুরবানী করতে নিষেধ করেছে। এতে নাকি শিশুরা হিংস্র হবে।

মনোচিকিৎসক ও মনোবিশ্লেষক লেখক ডা. মোহিত কামাল বলে, ‘শিশুরা সহিংসতাবিষয়ক কিছু দেখলে তাদের মনে সেই বিষয়ে ছাপ পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে পরিবেশ-পরিস্থিতির ভিত্তিতে সেটা বিকাশ লাভ করে। এতে করে যেমন শিশু ভবিষ্যতে আরো লাজুক, বিষন্ন ও অসুস্থ  হতে পারে, তেমনি ভয়ংকর উগ্র, বিধ্বংসীও হতে পারে।’

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের শিশুবিশেষজ্ঞ ড. মাহাবুব আলম বলেন, ‘শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। যেসব শিশুর সুষ্ঠু মানসিক বিকাশ হয়নি, নেতিবাচক