পবিত্র কুরবানীর ফযীলত

আপনার কুরবানী দিতে এখানে ক্লিক করুন Order for Qurbani



পবিত্র কুরবানীর ফযীলত


কুরবানী করা খাছ সুন্নত
বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ দশ বছর অবস্থান মুবারক করেছেন। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করেছেন; কখনও তা ছাড়েননি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পবিত্র কুরবানী করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। পবিত্র কুরবানী না করে তার অর্থ দান করে দেয়ার বিধান শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিংবা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও এরূপ করেননি। অথচ উনাদের যুগেই এর জরুরত ছিল অধিক।
বরং উনারা পবিত্র কুরবানী করেছেন এবং তার গোশত ও চামড়া অভাবগ্রস্থদের মধ্যে বণ্টন করতে বলেছেন।

পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
عَنْ ام الـمؤمنين حضرتصديقة عليها السلام قالتقالرسول الله صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ ما عمل ابن ادم من عمل يوم النحر احب الى الله من اهراق الدم وانه لياتى يوم القيامة بقرونـها واشعارها واظلافها وان الدم ليقع من الله بـمكان قبل ان يقع بالارض فطيبوا بـها نفسا
অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকেন তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাকউনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে যায়। (সুবহানাল্লাহ!) কাজেই তোমরা আনন্দচিত্তে পবিত্র কুরবানী করো।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)

এক বর্ণনা মতে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু কুরবানীদাতার নাজাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দান করবে। পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরবানীদাতার আমলনামায় অসংখ্য নেকী দান করেন। সুবহানাল্লাহ!
কুরবানীর পশুর পশমের গুরুত্ব
পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ বর্ণিত রয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ زَيِدِ بْنِ اَرْقَمَ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ اَصْحَابُ رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ! مَا هذِهِ الْاَ ضَاحِىْ؟ قَالَ سُنَّةُ اَبِيْكُمْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ الـسَّلاَمُ قَالُوْا فَمَا لَنَـا فِيْهَا يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلّ شَعْرَةٍ حَسَنَةٌ قَالُوْا فَالصُّوْفُ يَا رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ بِكُلِّ شَعْرَةٍ مِّنَ الصُّوْفِ حَسَنَةٌ
অর্থ : “হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি? তিনি জাওয়াবে বললেন, আপনাদের পিতা হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত। উনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে?
তিনি বললেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ)
ওয়াকেয়া: হযরত দাউদ খলীফাতুল্লাহ আলাইহিস সালাম
বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত দাউদ আলাইহিস্ সালাম উনাকে বলেন, হে হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম! আপনি পবিত্র কুরবানী করুন। হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কি শুধু আমার জন্যই? মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, না- এটা হযরত আদম আলাইহিস্ সালাম উনার থেকে শুরু করে আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পর্যন্ত জারী থাকবে।

হযরত দাঊদ আলাইহিস্ সালাম তিনি বলেন, আখিরী নবী, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার মধ্যে কী ফযীলত রয়েছে? মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন, দুনিয়াবী হায়াতে প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে দশটি নেকী দেয়া হবে, দশটি গুনাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে। সুবহানাল্লাহ! আর পরকালে শরীরের প্রত্যেক পশমের বিনিময়ে একটি করে বালাখানা দেয়া হবে। পবিত্র কুরবানী উনার পশুর মাথার প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একজন করে হুর দেয়া হবে। প্রতিটি গোশতের টুকরার বিনিময়ে একটি করে পাখি দেয়া হবে আর প্রতিটি হাড়ের বিনিময়ে একটি করে বোরাক (বাহন) দেয়া হবে। যাদ্বারা সে বিদ্যুত গতিতে পুলছিরাত পার হয়ে যাবে। সুবহানাল্লাহ!
কুরবানীর পশুর প্রতি ফোঁটা রক্তের বিনিময়ে গুনাহ-খাতা ক্ষমা করা হবে
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এ ব্যাপারে বর্ণিত রয়েছে-
عن علي رضى الله عنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال لفاطمة: يا فاطمة فاشهدي أضحيتك أما إن لك بأول قطرة من دمها مغفرة لكل ذنب أما إنه يجاء بها يوم القيامة بلحومها ودمائها سبعين ضعفا حتى توضع في ميزانك
অর্থ : “হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- “হে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম! আপনি আপনার কুরবানীর পশুর নিকট যবেহ করার সময় উপস্থিত থাকবেন। জেনে রাখুন! ঐ পশুর রক্তের প্রথম ফোঁটা (মাটিতে) পড়ার সাথে সাথে আপনার সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। জেনে রাখুন! কিয়ামত দিবসে কুরবানীর ওই পশুগুলোকে রক্ত, গোশত সহ সত্তরগুণ বৃদ্ধি করে নিয়ে আসা হবে এবং আপনার দাঁড়িপাল্লায় তা রাখা হবে।” (বাইহাকী ৯/২৮৩, আবদুবনু হুমাইদ ৭/৮)
কুরবানীর পশু পুলসিরাতের বাহন: ওয়াকেয়া
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
سَـمّـِنُوْا ضُحَايَاكُمْ فَاِنَّـهَا عَلَى الصّرَاطِ مَطَايَاكُمْ
অর্থ : “তোমরা মোটা-তাজা, হৃষ্টপুষ্ট পছন্দনীয় পশু কুরবানী করো, কেননা কুরবানীর পশুগুলো তোমাদের জন্য পুলছিরাত পার হওয়ার বাহন স্বরূপ হবে।” (আরিযাতুল আহওয়াযী লী শরহে তিরমিযী ৬/২৮৮)

ওয়াকেয়া:

এ প্রসঙ্গে একটি ওয়াক্বিয়া বর্ণিত রয়েছে যে, একজন লোক ছিল। লোকটা খারাপ ছিলো না। সে দ্বীনদার আল্লাহওয়ালা হওয়ার জন্য কোশেশ করতো। সেই লোকটি হক্ব তালাশী হওয়ার পরও তাদের ওয়াসওয়াসায় বিভ্রান্ত হয়ে কুরবানী করেনি। সে কুরবানীর পয়সা দান করে দিতো। সেই লোক একদিন স্বপ্নে দেখলো, ক্বিয়ামত হয়ে গেছে। বিচার হয়ে গেছে। সকলের ফায়ছালা হয়ে গেছে। অসংখ্য অগণিত লোক, সকলেই পুলসিরাতের সামনে উপস্থিত। এখানে কোটি কোটি ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারাও আছেন। এখন পুলসিরাত পার হতে হবে। ত্রিশ হাজার বছরের রাস্তা অনেক দীর্ঘ রাস্তা। যমীন হতে আকাশ হচ্ছে পাঁচশত বছরের রাস্তা। তাহলে পুলসিরাত পার হবে কি দিয়ে? সে দখতে পেলো কিছুক্ষণ পরপর কোথা হতে অদৃশ্য বোরাক এসে একজন একজন করে নিয়ে যেতে লাগলো। বোরাক আসলে একজন চড়ে তাকে চোখের পলকে নিয়ে যায়। এভাবে এক সময় সবাই চলে গেলো। শুধু সেই লোকটিই দাঁড়িয়ে রইলো। তার জন্য কোনো বাহন আসতেছে না।

তখন সে হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বললো, ‘সকলের জন্যতো বাহন আসলো, সবাইতো চলে গেলো, তাহলে আমার বাহন কোথায়?’ তখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, ‘তোমার তো বাহন নেই। তুমিতো কুরবানী করোনি। তুমি কি করে পুলসিরাত পার হবে? তোমার বাহন আসবে কোথা হতে? তুমি তো কুরবানীর পশু কুরবানীই করোনি।’ সেই লোকটি বলে, একথা শুনে তার শরীর থরথর করে কাঁপতে লাগলো। তার ঘুম ভেঙ্গে গেলো। তখন সে ইস্তিগফার করলো, তওবা করলো। অতীত বছরের কুরবানীগুলো আদায় করলো এবং প্রতি বছর পশু কুরবানী শুরু করলো।
হাউজে কওছার শরীফ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য পবিত্র হাউজে কাওছার উনার পানি মুবারক কোন প্রয়োজন নেই, কেননা তিনি নিজেই রহমতুল্লিল আলামীন। বরং পবিত্র হাউজে কাওছার উনার পানি মুবারক উম্মতের জন্য হাশরের ময়দানে জরুরী প্রয়োজন যা উম্মতকে জাহান্নাম থেকে বাঁচানোর জন্যে, ইতমিনান দানের জন্যে। আর নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পক্ষ থেকে ওছিয়ত মুবারক করাই হলো সেই রহমত মুবারক, বরকত মুবারক, সাকীনা মুবারক দান করার জন্যে, উম্মতকে ফায়দা দানের জন্য।