পবিত্র কুরবানীর তরতীব

আপনার কুরবানী দিতে এখানে ক্লিক করুন Order for Qurbani



পবিত্র কুরবানীর তরতীব


বিশেষ ওছিয়্যত: সম্মানিত নাম মুবারক
এ প্রসঙ্গে পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মাঝে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حَضْرَتْ حَنَشٍ رَحْـمَةُ اللهِ عَلَيْهِ قَالَ رَأَيْتُ حَضْرَتْ عَلِيًّا عَلَيْهِ السَّلَامُ يُضَحّىْ بِكَبْشَيْنِ فَـقُلْتُ لَه مَا هٰذَا فَقَالَ اِنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَوْصَانِـىْ اَنْ اُضَحّىَ عَنْهُ فَاَنَا اُضَحّىْ عَنْهُ
অর্থ : “হযরত হানাশ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনাকে দুটি দুম্বা কুরবানী করতে দেখলাম এবং জিজ্ঞাসা করলাম, এটা কি? (দুটি কেন?) পবিত্র জবাবে তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাকে ওছিয়ত মুবারক করে গিয়েছেন যে, আমি যেন উনার পবিত্রতম পক্ষ হতে পবিত্র কুরবানী করি। সুতরাং আমি উনার পবিত্রতম পক্ষ থেকে (একটি) কুরবানী করতেছি।” (আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, মিশকাত শরীফ, মিরকাত শরীফ)

অত:এব, উম্মতে হাবীবুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের উপর দায়িত্ব হলো নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শানে কুরবানী করা। আর তার মাঝে সর্বনিম্ন একটি নাম নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার জন্য বরাদ্দ রাখা।
যবেহ: শোয়ানো, গলার কোথায় কাটতে হবে এবং কি কাটতে হবে
পবিত্র কুরবানী উনার পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর পবিত্র কুরবানী করতে হবে। আর পবিত্র কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সীনার উপরিভাগ এবং কণ্ঠনালীর মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়।
আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় কুরবানী হবে না। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বিজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে।
যবেহ করার পর তাড়াতাড়ি জান বের হয়ে যাওয়ার জন্য পশুর সিনাতে খোঁচা মারা কিংবা পায়ের রগ কেটে দেয়া কুরবানী মাকরূহ হওয়ার কারণ। এছাড়াও যারা কুরবানী উনার পশু যবেহকালীন সময় ছবি তোলে বা ভিডিও করে তাদের কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয়না। তাই কুরবানী করার সময় এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
কুরবানী উনার নিয়ত (যবেহ করার পূর্বে)
اِنّـىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلّذِى فَطَرَ السَّمَوَتِ وَالاَرْضَ حَنِيْفَا وَّمَا اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْن اِنَّ صَلاتِىْ وَنُسُكِىْ وَمَـحْيَاىَ وَمَـمَاتِىْ للهِ رَبّ الْعَالَمِيْن لَا شَرِيْكَ لَهُ وَبِذَلِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا مِنَ الْمُسْلِمِيْنَ. اَللّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ
উচ্চারণ : ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানিফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। এ দোয়া পড়ে بِسْمِ اللهِ اللهُ اَكْبَرْ ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে যবেহ করতে হবে।
যবেহ করার পর পঠিতব্য দোয়া
اَللّٰهُمَّ تَقَبَّلْهُ مِنّى كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ حَبِيْبِكَ سَيّدِنَا حَبِيْبِنَا نَبِيّنَا شٰفِعِنَا رَسُوْلِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَخَلِيْلِكَ سَيّدِنَا حَضْرَتْ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَ ذَبِيْحُكَ سَيّدِنَا حَضْرَتْ اِسْـمَاعِيْلَ عَلَيْهِ السَّلَامُ
উচ্চারণ : আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা হাবীবীনা নাবিয়্যিনা শাফিয়ি’না রাসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও খালীলিকা সাইয়্যিদিনা হযরত ইবরাহীমা আলাইহিস সালাম ও যাবিহিকা সাইয়্যিদিনা হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম।

যদি নিজের কুরবানী হয় তবে مِنِّىِ (মিন্নী) বলতে হবে। আর যদি অন্যের কুরবানী হয় তবে مِنِّىِ (মিন্নী) শব্দের পরিবর্তে مِنْ (মিন) বলে যার বা যাদের কুরবানী, তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি যবেহকারী অন্যের সাথে শরীক হয় তাহলে مِنِّىِ (মিন্নী)ও বলবে, অতঃপর وَمِنْ (ওয়া মিন) বলে অন্যদের নাম বলতে হবে। কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে যবেহ করার সময় শুধু بِسْمِ اللهِ اللهُ اَكْبَرْ ‘বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবার’ বলে কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিত উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে পবিত্র কুরবানী করা সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত। (মুসনাদে আহমদ শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমীযী শরীফ, দারিমী শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, বজলূল মযহুদ, মিশকাত, মিরকাত, আলমগীরী, শামী, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া ও বাহর)
যবেহকারী: গিরিশন্দ্র, কাদিয়ানী, বাতিল ৭২ ফিরকা
সাধরণত স্বীয় কুরবানী নিজের হাতেই করা উত্তম। পবিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت انس بن مالك رضى الله عنه قال : ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكيشين املحين اقرنين ذبحهما بيده سمى وكبر قال ربيته واضعا قدمه على صفاحهما ويقول بسم الله والله اكبر
অর্থ:- “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক ঈদে ধুসর রংয়ের শিংদার হৃষ্টপুষ্ট দু’টি দুম্বা কুরবানী মুবারক করলেন। তিনি উনাদেরকে নিজ হাত মুবারকে যবেহ করলেন এবং (যবেহ করার সময়) বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বললেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি উনাকে (যবেহ করার সময়) পশুর পাঁজরের উপর উনার ক্বদম মুবারক রাখতে এবং বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলতে শুনেছি।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ বাবু ফিল উদ্বইয়্যিাহ)

উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু নিজ হাতে ছুরি দ্বারা যবেহ করা খাছ সুন্নত মুবারক। যদি একান্তই নিজে যবেহ করতে না পারে, অন্য কাউকে দিয়ে কুরবানী উনার পশু যবেহ করাতে হয় তবে প্রথম শর্ত হচ্ছে উক্ত যবেহকারীর আক্বীদা শুদ্ধ হতে হবে, নতুবা কুরবানী শুদ্ধ হবে না, এমনকি উক্ত পশুর গোশত খাওয়াও নাজায়িয হয়ে যেতে পারে। পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
الْيَوْمَ اُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُۖ وَطَعَامُ الَّذِيْنَ اُوْتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّـهُمْۖ
অর্থ : “আজ তোমাদের জন্য পবিত্র বস্তুসমূহ হালাল করা হল। আহলে কিতাবদের খাদ্য তোমাদের জন্য হালাল এবং তোমাদের খাদ্য তাদের জন্য হালাল।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৫)

উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত طَعَامُ “ত্বয়াম” শব্দের আভিধানিক অর্থ খাদ্যদ্রব্য হলেও হযরত মুফাসসিরীনে কিরাম রহমতুল্লাহি আলাইহিম উনাদের মতে এ স্থলে طَعَامُ বা খাদ্য বলে শুধু আহলে কিতাবদের যবেহ করা গোশত বোঝানো হয়েছে। তবে শুধুমাত্র আহলে কিতাব হলেই তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল হবে না। বরং শর্ত দেয়া হয়েছে যে, আহলে কিতাব হওয়ার সাথে সাথে মুশরিক না হওয়া। অর্থাৎ যে সকল আহলে কিতাব মুশরিক তাদের যবেহকৃত পশুর গোশত খাওয়া হালাল নয়।
যবেহকালীন: ছবি তোলা, খোঁচা দেয়া, রগ কাটা
যবেহ করার পর তাড়াতাড়ি জান বের হয়ে যাওয়ার জন্য পশুর সিনাতে খোঁচা মারা কিংবা পায়ের রগ কেটে দেয়া কুরবানী মাকরূহ হওয়ার কারণ। এছাড়াও যারা কুরবানী উনার পশু যবেহকালীন সময় ছবি তোলে বা ভিডিও করে তাদের কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট কবুল হয়না। তাই কুরবানী করার সময় এ বিষয়গুলোর প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
মেশিনের সাহায্যে কুরবানীর পশু যবেহ করলে যবেহ ও কুরবানী শুদ্ধ হবে না
কোনো মানুষ ইন্তিকাল করলে তার আল-আওলাদ ও প্রতিবেশীদের উপর তাকে গোসল দেয়া, কাফন পরানো, জানাযা দেয়া, দাফন করা ফরয-ওয়াজিব। গোসল, কাফন, দাফন জানাযা প্রতিটি কাজ সুন্নত মুতাবিক সম্পন্ন করতে হবে। যেমন বড়ই পাতা দিয়ে কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে হয়। মৃত ব্যক্তির শরীরে একখানা চাদর দ্বারা সতর পরিমাণ ঢেকে নিয়ে ইস্তিঞ্জার রাস্তায় নেকড়া দ্বারা কুলুখ করিয়ে পরে পানি দ্বারা ধৌত করাতে হয়। সতরের স্থান ধোয়ার সময় হাতে কাপড় জড়িয়ে নিতে হয়। অতঃপর ওযূ করাতে হয়। এই ওযূতে হাতের কব্জি ধৌত করাতে হয় না। কেবল মুখ, হাত ও পা ধৌত করাতে হয় ও মাথা মাসেহ করাতে হয়। কুলি করাতে ও নাকে পানি দিতে হয় না।

তবে মহিলাদের মাজুরতা ও অন্য কোনো নাপাকী অবস্থায় ইন্তিকাল করলে মুখে ও নাকে পানি পৌঁছানো জরুরী। মুর্দার মাথা সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। তারপর মুর্দাকে বাম কাতে শোয়ায়ে ডান পার্শ্বের শরীরের উপর মাথা হতে পা পর্যন্ত বড়ই পাতা মিশ্রিত কুসুম গরম পানি ঢেলে তিনবার বা পাঁচবার পরিষ্কার করে ধুইতে হয়। অনুরূপ ডান কাতে শোয়ায়ে বাম পার্শ্বের উপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করে ধুইতে হয়। শেষে কর্পূরের পানি সর্বশরীরে ঢেলে দিতে হয়। তারপর শুকনা কাপড় দিয়ে সমস্ত শরীর ভালোভাবে মুছে দিয়ে সুন্নত তরীক্বা অনুযায়ী পুরুষ হলে তিন কাপড় এবং মহিলা হলে পাঁচ কাপড় দ্বারা কাফন পরাতে হয়। এই হলো মুর্দাকে গোসল করানোর সংক্ষিপ্ত সুন্নত তরীক্বা বা নিয়ম। উক্ত তরীক্বা বা নিয়ম মুতাবিক গোসল না দিয়ে মুর্দাকে যদি কোনো পুকুরের পানির মধ্যে চুবিয়ে বা ডুবিয়ে তোলা হয়; এতে শরীরে পানি পৌঁছানো হবে; কিন্তু তার ফরয-ওয়াজিব গোসল আদায় হবে না। তদ্রপ মেশিনের সাহায্যে পশু যবেহ করলে পশুর গলা কাটা হবে। কিন্তু সুন্নত তরীক্বা বা নিয়ম অনুযায়ী যবেহ না হওয়ার কারণে উক্ত যবেহ বা কুরবানী শুদ্ধ হবে না এবং তার গোশত খাওয়াও জায়িয হবে না।
কুরবানীতে শরীক ও গোস্ত বন্টন
কুরবানীকৃত পশুর গোশত বণ্টন প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে-
يَسْتَحِبُّ التَّصَرُّفُ ثُلُثٌ لِنَفْسِهِ ثُلُثٌ هَدِيَّةٌ ثُلُثٌ لِلْفُقَرَاءِ وَالْـمَسَاكِيْنَ وَاِنْ كَانَتْ وَصِيَّةٌ يَتَصَدَّقُ بِـجَمِيْعِهَا
অর্থ : “পবিত্র কুরবানী উনার গোশত বণ্টন করার মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখবে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য হাদিয়া স্বরূপ দিবে আর এক তৃতীয়াংশ গরীব-মিসকীনের জন্য দান স্বরূপ দিবে। আর যদি কুরবানীকৃত পশুটি ওছিয়তকৃত হয়ে থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই গরীব-মিসকীনকে দান করে দিতে হবে।” (ফিক্বাহর কিতাবসমূহ)

শরীক:

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান মুবারক উনার খিলাফ বদ আক্বীদা পোষণকারী অর্থাৎ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের খিলাফ আক্বীদা পোষণকারী ব্যক্তিকে শরীক নিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবে না।
ইসলামী শরীয়ত উনার মধ্যে যে সমস্ত বিষয়গুলো হারাম যেমন- সিনেমা, টেলিভিশন দেখা ও এতে অনুষ্ঠান করা এবং যে কোন প্রাণীর অঙ্কিত ছবি ঘরে রাখা, গণতন্ত্র করা, হরতাল করা, লংমার্চ করা, কুশপুত্তলিকা দাহ করা, ব্লাসফেমী আইন চাওয়া, সুদ, ঘুষ, বেপর্দা, চন্দ্রমাস আগ-পিছ বা নাসী ইত্যাদি সবগুলোই হারাম এবং নাজায়িয। তাই কোন ব্যক্তি যদি হারাম বা নাজায়িযকে হালাল বা জায়িয বলে তাহলে ইসলামী শরীয়ত মুতাবিক সে ব্যক্তির স্ত্রী তালাক হবে, যদি হজ্জ করে থাকে তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে, তার জীবনের সমস্ত নেক আমল বরবাদ হয়ে যাবে এবং সে মুরতাদে পরিণত হবে। অতএব উক্ত ব্যক্তি খালিছ তওবা না করা পর্যন্ত তাকে শরীক করে কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবে না।