বিশেষ পোস্ট

আপনার কুরবানী দিতে এখানে ক্লিক করুন Order for Qurbani



সম্মানিত কুরবানী শরীফ উপলক্ষে বিশেষ পোস্ট


১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো
মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক বাস্তবায়ন করতে গিয়ে তারা ভারতে অনেক দাঙ্গা-হাঙ্গামা, যুলুম নির্যাতনের ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। সর্বশেষ গরুর গোশত রাখার অপবাদ দিয়ে আসামে আখলাক নামক এক বৃদ্ধ ব্যক্তিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। এ সবই সম্ভব হচ্ছে দেশটি হিন্দু নিয়ন্ত্রিত ও অতিসাম্প্রদায়িক ভারত বলে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত মুসলিম দেশে কী প্রকাশ্যে গরু জবাই করা কিংবা মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়া নিষিদ্ধ করানো সম্ভব? চিন্তাই করা যায় না। তারপরেও গো-চনাভোজী যবন হিন্দুরা কিন্তু হাল ছাড়েনি। তারা দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের কার্যক্রমের ফলাফল এখন না হলেও আগামী দশ বছর পর দেখা যাবে। এই সময়ে মধ্যে তারা গরুর গোশতের প্রতি ভীতি ছড়ানোর নিয়মিত প্রচারণা কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে টাকা-পয়শা, মুসলিম নামধারী চিকিৎসক, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া ইত্যাদি। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, ২০১৬ ঈসায়ী সালে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলানিউজ২৪ডটকমে স্বাস্থ্য বিষয়ক পেইজে একটি প্রচারণা চালাচ্ছে এই শিরোনামে ‘সাবধান! জলদি ছাড়–ন মাংশপ্রীতি’। ধারাবাহিক ৩টি পর্বে এই শিরোনামে গোশত নিয়ে ভীতিকর আর্টিকেল প্রকাশ করেছে সংবাদসংস্থাটি।

উল্লেখ্য, প্রতি বছর পবিত্র কুরবানীর আগে এ্যানথ্রাক্স ভীতি, ইনজেকশন দিয়ে গরু মোটাতাজাকরণের খবর ভয়ঙ্কর রূপ দিয়ে তৈরি করে গরুর গোশত ভীতি ছড়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এসব ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো।
২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা
প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি) ছড়ানো হয়েছিলো। সেই এ্যানথ্রাক্সের এখন কোন নামগন্ধও পাওয়া যায়না। এরপর শুরু হয়েছে, গরু মোটা তাজাকরণের ইনজেকশন ভীতি। এসব খবর গত বছরও মিডিয়া ব্যপক প্রচার করেছে। এই ট্রিক্সের দ্বারা ষড়যন্ত্রকারীরা তারা দু’ধরণের ফায়দা লুটেছিলো। মানুষের মনে বড় গরুর প্রতি ভীতি ছড়ানো এবং দেশী গরুর খামারগুলোর ব্যবসায় ধস নামানো। এসব ছাড়াও গত বছর কুরবানির পশু বহনকারী গাড়িগুলো ঢাকায় আসতে খুব সমস্যা সৃষ্টি করেছিলো। আবার যেসব গাড়ি ঢাকায় এসে পৌঁছেছে সেসব গাড়ি থেকে গরু নামাতে দেয়া হয়নি অনেক হাটে। অনেক হাটে ঈদের দুইদিন আগে হাটে গরু উঠানোর নোটিশ এসেছিলো। এসব ছাড়াও পরিবেশ রক্ষার নামে গৃহিত হয়েছিলো নির্দিষ্ট একটি জায়গায় সব গরু কুরবানি করার পরিকল্পনা। কয়েক বছর আগে কুরবানি না করে সে টাকা গবিবদের দান করে দেয়ার জোর প্রচারণাও চালানো হয়েছিলো অনলাইনে।
বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় এবছরও পবিত্র কুরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এবার কথিত জনদুর্ভোগের কথা বলে রাজধানির ব্যস্ত স্থানে পবিত্র কুরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য গত ২৫ জুলাই (২০১৫) ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের চিঠি দিয়েছে পুলিশ। (খবর: প্রথম আলো, ২৯ জুলাই, ২০১৫)

প্রকৃতপক্ষে পশুর হাট সরানো হলে কিংবা কোন হাট বন্ধ করে দিলে জনদুর্ভোগ আরো বহুগুণে বাড়বে। মানুষকে দুর দূরান্ত থেকে পশু কিনে আনতে হলে পশু ক্রেতাদের, পথচারীদের ও গাড়ি চলাচলে আরো বেশি বিঘœ ঘটবে। মানুষ দুরদুরান্ত থেকে পশু কিনতে টাকা বেশি খরচ হবে।
বলার অপেক্ষা রাখেনা, এই পশুর হাট সরানোর উদ্যোগটি প্রশাসনের বিষফোঁড়া ইসলাম বিদ্বেষী হিন্দুদের একটি ষড়যন্ত্র, যা সরকারকেও বেকায়দা ফেলানোর ফন্দি। আর সরকার যদি এসব হিন্দু মালউন, নাস্তিকদের ইসলাম বিরোধী উদ্দ্যেগকে সমর্থন দেয় তবে এর জন্য কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।
৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে
বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী মহলের অপতৎপরতায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলো সাধারণ মুসলমানগণ। এবছরও নিরাপত্তা, যানজট, চলাচলে বিঘœসৃষ্টি, পরিবেশ ইত্যাদি অজুহাতে পশুর হাট বন্ধের/স্থানান্তরের এবং যত্রতত্র(!) পশু জবাইয়ের বিরুদ্ধে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত থেকে লেলিয়ে দেয়া সেই একই কুচক্রী মহল। এবার তারা দাবি করছে- যত্রতত্র(!) পশু জবাই করা যাবে না, রাজধানি থেকে পশুর হাট সরিয়ে ঢাকার পাশ্ববর্তী এলাকায় স্থানান্তর করতে হবে। তারা রাজধানিতে সারাবছর লেগে থাকা চিরাচরিত যানজটকেই তারা খোঁড়া যুক্তি হিসেবে দাঁড় করাচ্ছে। একজন স্বাভাবিক বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তিও বুঝে যে, পার্শ্ববর্তী এলাকায় পশুর হাট না থাকলে দূরে গিয়ে কুরবানির পশু কিনতে হলে বরং যানজট আরো বাড়বে। কুরবানির পশুকে হাটিয়ে নিয়ে আসতে গেলে পশু অসুস্থ হয়ে পড়বে। রোগা হলে পথেই মারা যেতে পারে। পশু যারা নিয়ে আসবে তাদেরও ঈদের দিন বিছানায় কাটাতে হতে পারে। কয়জন লোকের তিন-চার হাজার টাকা দিয়ে গাড়ি ভাড়া করে কুরবানির পশু আনার সামর্থ্য আছে? এছাড়া লম্বা রাস্তা পাড়ি দিয়ে পশু আনতে গিয়ে ছিনতাইকারীসহ নানা ঝাক্কি-ঝামেলাতো আসতেই পারে। বিষয়টা উপলব্ধি করতে হলে, ঈদের আগে শপিং সেন্টারের কারণে মানুষের ভীড়, ছিনতাই, স্মরণকালের ভয়াবহ যানজটগুলোর চিত্র স্মরণ করলেও হয়। বাড়ির পাশে মার্কেট রেখে শখের বসে দূরবর্তী শপিংমলে কেনাকাটা করতে গিয়ে সৃষ্টি হয় এসব সমস্যা। সুতরাং আমাদের দাবি: প্রতিটি মহল্লায়-মহল্লায় কুরবানির হাট গড়ে তুলতে হবে। নাগরিকদের যেখানে সুবিধা সেখানেই পশু জবাই করবে -এ স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা যাবে না। বর্জ্য পরিষ্কার করার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। নিরাপত্তা, যানজট নিরসনের সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনা করবে প্রশাসন। দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জন্যই এ দেশের গণমানুষ এ সরকারকে ভোট দিয়েছে। সরকারের ছত্রছায়ায় থাকা ইসলামীবিদ্বেষী কুচক্রী মহলের কোনো প্রকার ষড়যন্ত্র জনগণ মেনে নিবে না। বরং এর জন্য সরকারকে কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভবনা রয়ে যায়। দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে সরকারকে সচেতন থাকার পরামর্শ রইলো।
৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি
এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন। যেমন- ২০১৩ সালের একটি সমীক্ষা নিয়ে পর্যালোচনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। ওই বছর ১ কোটি পশু কুরবানি হয়েছে যা টাকার অঙ্কে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। সেপ্টেম্বর থেকে কুরবানির ঈদ আসার পূর্ব পর্যন্ত বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার রেমিটেন্স এসেছে ১৫২ কোটি ডলার। দেশের চামড়া শিল্প টিকে থাকে এই কুরবানির উপর। ২০১৩ সালে চামড়া ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ২ হাজার কোটি টাকার চামড়া রপ্তানি করার। এ সম্পর্কে যুগান্তর পত্রিকায় (২০ অক্টোবর ২০১৩) সংবাদ এসেছিলো যে, চামড়া রফতানির আয় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এসব ছাড়াও কুরবানিকে কেন্দ্র করে হাজার হাজার ব্যবসা চাঙ্গা হয়ে উঠে। যেমন- গোশত সংরক্ষণের জন্য ফ্রীজের প্রচুর চাহিদা সৃষ্টি হয়; ছুড়ি, দা, চাপাতিসহ লৌজাত দ্রব্যের কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়; মশলাজাত দ্রব্য ও লবণের ব্যবসা চাঙ্গা হয়, ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর ব্যবসাও জমজমাট হয়ে উঠে।
অর্থনিতিবিদরা বলছেন, গত পাঁচ বছরে গড়ে ৬ শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি এবং ক্রয় ক্ষমতা বাড়ার পেছনে রেমিটেন্স, রফতানি আয় ও রিজার্ভ বিশেষ অবদান রেখেছে। আর রেমিটেন্স সবচেয়ে বেশি আসে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও কুরবানির ঈদে। এছাড়া রফতানিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চামড়া শিল্প। কুরবানির উপর ভর করে টিকে আছে দেশের সম্ভাবনাময় এ রফতানি খাতটি। (তথ্যসূত্র: দৈনিক জনকণ্ঠ, ১৫ অক্টোবর ২০১৩ ঈসায়ী)

মোদ্দাকথা, কুরবানি অত্যন্ত বরকতময় এবং পবিত্র, যার সাথে সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সস্তুষ্টি জড়িত। সেই কুরবানি যথাযথভাবে পালন করলে যেমন লাভ, তদ্রƒপ ষড়যন্ত্র করলে ক্ষতির অঙ্কটাও তার চেয়ে বেশি হবে। সুতরাং পবিত্র কুরবানি নিয়ে যেসব মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত তারা শুধু দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানের শত্রু নয়, বরং তারা দেশ ও জাতির শত্রু। সরকারের উচিত এসব কুচক্রীদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেয়া।
৫) পবিত্র কুরবানির পশুর উচ্ছিষ্ট রপ্তানি করেও দেশ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে
আমরা অনেকেই জানি না পশুর উচ্ছিষ্ট কী এবং এসব উচ্ছিষ্ট কী কী কাজে লাগে। মূলত, পশুর উচ্ছিষ্ট হলো গরুর চামড়া, হাড়, শিং, নাড়িভুঁড়ি, মূত্রথলি, রক্ত, চর্বি, পিত্ত ইত্যাদি। জবাইয়ের পর একটি মাঝারি আকারের গরু থেকে ১৫ থেকে ২০ কেজি হাড় ফেলে দেয়া হয়। আর এই হাড় সংগ্রহ করে প্রতিদিন ব্যবসা হয় অন্ততঃ ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকা। নাড়িভুঁড়ি বিক্রি হয় আরো অন্ততঃ ১২ লাখ টাকার। এসব তথ্য উচ্ছিষ্ট ব্যবসায়ীদের।

আর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য হচ্ছে, রাজধানিতে প্রতিদিন জবাইকৃত পশুর এসব উচ্ছিষ্ট বিক্রি হয় অন্ততঃ ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকায়। আর এক কুরবানির ঈদে যে পরিমাণ পশু কুরবানি হয় তার উচ্ছিষ্ট বিক্রি করে হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।”

বাংলাদেশ গোশত ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গোলাম মর্তুজা বলেন, ‘এসব উচ্ছিষ্টের শতভাগ রপ্তানিযোগ্য। সাধারণ মানুষ এসব উচ্ছিষ্ট সম্পর্কে সচেতন না থাকার কারণে শত শত কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন থেকে দেশ বঞ্চিত হচ্ছে। বাংলাদেশ হারাচ্ছে রপ্তানি বাজার।’

উল্লেখ্য, গরুর হাঁড় দিয়ে তৈরি হয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ক্যাপসুলের কাভার, গরুর নাড়ি দিয়ে অপারেশনের সুতা, রক্ত দিয়ে পাখির খাদ্য, চর্বি দিয়ে সাবান, পায়ের খুর দিয়ে অডিও ভিডিওর ক্লিপ, ইত্যাদি। এভাবে পশুর সব অংশই মানুষের কোনো না কোনো কাজে ব্যবহৃত হয়। (তথ্যসূত্র: অর্থসূচক, ৭/১০/১৪ঈ)
বলার অপেক্ষা রাখে না, কুরবানির পশুর উচ্ছিষ্টও যদি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে তাহলে বুঝতে হবে পবিত্র কুরবানি শুধু মুসলমানদের ঈদ উৎসবই নয়, বরং গোটা দেশ ও জাতির জন্য রহমতস্বরূপ। সুবহানাল্লাহ!
৬) পবিত্র কুরবানির জন্য স্পট নির্ধারণ কেন? সরকার কি মুসলমানদের কুরবানিতে বাধা সৃষ্টি করতে ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে?
প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানির সময় নানা অযুহাতে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করে কিছু ইসলাম বিদ্বেষী মহল। বিশেষ করে সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে অবাধ বিচরণকারী রাঘব বোয়ালদের কুপ্ররোচণায় সরকার এসব ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়। কিন্তু এদেশে ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠী মুসলমান এবং তাদের সমর্থন নিয়েই শাসকগোষ্ঠীদের টিকে থাকতে হয়, একথাটি হয়তো তারা ভুলে যায়। তাই প্রতি বছরের মতো এবারে পবিত্র কুরবানিতে বাধা সৃষ্টি করতে কিছু ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে পড়েছে প্রশাসন। সরকারিভাবে এবার পশু কুরবানির জন্য জায়গা নির্দিষ্ট করে দেয়া হচ্ছে। অর্থাৎ আমার বাড়িতে আমি কুরবানি দিতে পারবোনা, দিতে হবে সরকারের নির্ধারিত জায়গায়। এটা সবাই জানে যে, উগ্র সাম্প্রদায়িক ভারতের হিন্দুরা সেখানে মুসলমানদের কুরবানি করতে দেয়না। কিন্তু বাংলাদেশেতো ৯৮ ভাগ মুসলমান, এদেশে কেন মুসলমানদের পশু কুরবানিতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে?

অনেক অথর্ব মুসলমান কোনো ফিকির না করেই এটাকে সমর্থন জানাচ্ছে। অথচ এই ব্যবস্থায় কুরবানি দিলে প্রতিটি স্পটে একটি-দুটি নয়, বরং বহু ধরনের ফিতনা-ফাসাদ সংঘটিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। যেমন- সরকারি ক্যাডারদের দৌরাত্ম্য, মারামারি, পরস্পর দ্বন্দ্ব-সংঘাত, যার যার পশুর গোশত নিয়ে কোন্দল, অব্যবস্থাপনা, কসাই নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি, পশু নিয়ম মাফিক জবাই হবে না। ফলে ফিতনা সৃষ্টি হবে, যেহেতু একেকটি স্পটে হাজার হাজার পশু কুরবানি হবে সেহেতু সেখানে বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া খুবই স্বাভাবিক।
সুতরাং পরিবেশ রক্ষার নামে ভারতীয় ষড়যন্ত্র এদেশে চলবে না। সিটি কর্পোরেশনের এসব ষড়যন্ত্রমূলক ঘোষণা তুলে নিতে হবে। প্রত্যেক মুসলমান যার যার বাড়ির আঙ্গিনায় কুরবানি করবে।
৭) পবিত্র কুরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্র কঠোর হস্তে বন্ধ না করলে সরকারের সহযোগিতা প্রমাণিত হবে
পবিত্র কুরবানি মুসলমানদের ঈমানের সাথে অর্থাৎ মুসলমানিত্বের সাথে সম্পৃক্ত, যা গোটা দেশের জন্য শুধু বরকতের কারণই নয়; বরং অর্থনৈতিকভাবেও ব্যাপক সমৃদ্ধির কারণ। এই বরকতময় কুরবানিতে যেন মুসলমানগণ বাধাগ্রস্ত হয়, কুরবানির সংখ্যা যেন ধীরে ধীরে কমে আসে, কুরবানিতে যেন বিশৃংঙ্খল সৃষ্টি হয় এবং এ অজুহাতে কুরবানি যাতে বন্ধ করে দেয়া যায় এজন্য বছরের পর বছর কুরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্র করে আসছে কিছু ইসলামবিদ্বেষী মহল।

এবছর দেখা যাচ্ছে, নানা অজুহাতে রাজধানিতে কুরবানির পশুর হাট কমিয়ে দিতে চাচ্ছে। পশু জবাইয়ের জন্য স্পট নির্ধারিত করে দিচ্ছে। অ্যানথ্রাক্স, মোটাতাজাকরণ ইনজেকশন ইত্যাদি অপপ্রচার করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্র বন্ধ না করতে পারলে তা শুধু সরকারের ব্যর্থতাই প্রমাণিত হবে না; বরং এটাও স্পষ্ট হবে যে এসব ষড়যন্ত্রে সরকারও সহযোগী।
৮) এত কম সংখ্যক হাট থেকে পবিত্র কুরবানির পশু কেনা সম্ভব নয়
এবার পবিত্র কুরবানিতে সরকারিভাবে রাজধানিতে পশুর হাট কমানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। নিরাপত্তা, যানজট ইত্যাদির অজুহাতে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ও বড় বড় হাটগুলো ঢাকার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে সরিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা চলছে। এসব পরিকল্পনা মূলত ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই নয়।

স্মরণ রাখতে হবে, পশুর হাট অন্যত্র সরিয়ে নিলে বা হাটের সংখ্যা কমিয়ে দিলে মানুষের ভোগান্তি বাড়বে, যানজট আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করবে, নিরাপত্তা জনিত হুমকি আরো বাড়বে বৈ কমবে না। এটা একটা সাধারণ সমঝদার মানুষের পক্ষেও উপলব্ধি করা কঠিন নয়।

এসব ছাড়াও কুরবানির হাটের সংখ্যা কমে গেলে সেখানে চাহিদার তুলনায় পশু সঙ্কট দেখা দিবে। ফলে ছোট পশুও অনেক দাম দিয়ে কিনতে হবে, পছন্দমতো সুন্দর পশু পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সুতরাং কুরবানির হাট না কমিয়ে, বরং প্রতিটি ওয়ার্ডে পশুর হাট করতে হবে। রাজধানির প্রতিটি মাঠে হাট স্থাপন করতে হবে। তাহলে মানুষের চলাচলের পথ কমে আসবে, যানজট কমবে, পশুর দাম সহনিয় পর্যায়ে থাকবে সর্বোপরি কুরবানির পশু কিনতে গিয়ে মানুষের ভোগান্তি কমে আসবে।
৯) পবিত্র কুরবানির পশু নিয়ে ব্যঙ্গ করা, কার্টুন প্রকাশ করা, সেলফী তোলা প্রসঙ্গে
কুরবানি যেমন পবিত্র তেমনি কুরবানির পশুও পবিত্র এবং মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহ উনাদের অন্তর্ভুক্ত। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শনসমূহ, সম্মানিত হারাম মাস উনাদের, কুরবানির জন্য ওই সমস্ত পশু যাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ওই সমস্ত ব্যক্তি যারা মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য হজ্জ পালন করতে যান উনাদেরকে ইহানত (অবমাননা) করো না।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)

উপরের পবিত্র আয়াত শরীফ দ্বারা স্পষ্টরূপে প্রমাণ হয় পবিত্র কুরবানি উনার পশুসমূহ পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার নিদর্শন, যা তা’যীম-তাকরীম করা মুসলমান উনাদের জন্য কল্যাণের কারণ। পাশাপাশি এই পবিত্র নিদর্শনসমূহ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কুফরী এবং কবীরা গুনাহ। নাউযুবিল্লাহ!
প্রসঙ্গত, অনেকেই এই বিষয়টা না জানার কারণে পবিত্র কুরবানির জন্য নির্ধারিত পশুর ছবি তুলে থাকে, পশুর সাথে সেলফী তুলে, জবাই করার সময় ভিডিও করে থাকে। যার ফলে তার নিজের অজান্তেই কবীরা গুনাহ করে। অর্থাৎ যেহেতু প্রাণীর ছবি তোলা হারাম সেহেতু কুরবানির পশুর ছবি তুললে বা ভিডিও করলে মহান আল্লাহ পাক উনার অসন্তুষ্টির ফলে কবীরা গুনাহ হয়। নাউযুবিল্লাহ!
১০) পবিত্র কুরবানীর পশু নিয়ে ব্যাঙ্গ চিত্র করে ঠাট্টা বিদ্র”প করা মিডিয়ার ষড়যন্ত্র
মহান আল্লাহ পাক কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন, “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ্র নিদর্শনসমূহ লঙ্ঘন করো না, আর পবিত্র মাসেরও না, আর কুরবানীর পশুদেরও না।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ২)

এ আয়াত শরীফে স্পষ্ট করে মহান আল্লাহ পাক উনার নির্দশনসমূহ লঙ্ঘন বা অবমাননা করতে নিষেধ করা হয়েছে। এবং ঐ নিদর্শনের উদাহরণ দিতে গিয়ে পবিত্র কুরবানীর পশুর কথাও সরাসরি এসেছে এবং সতর্কতা উচ্চারণ করা হয়েছে যেন উক্ত পশুর অবমাননা বা অবজ্ঞা না হয় করা।
অথচ দেখা যায়, পবিত্র কুরবানী ঈদ আসলেই কুরবানীর পশু ঠাট্টা-বিদ্র”প করার একটা উপাদেয় বস্তুতে পরিনত হয়। বরাবরের মতো এবারের ঈদেও পবিত্র কুরবানী পশু নিয়ে ব্যাঙ্গ চিত্র প্রকাশ করেছে অনেক গণমাধ্যম ও কিছু মোবাইল কোম্পানি; যেন সম্মানিত ও পবিত্র কুরবানীর বিষয়টি হাস্যরসে পরিণত হয়। এছাড়া প্রথম আলোসহ প্রত্যেক পত্রিকা ও তাদের ম্যাগাজিনগুলো কোরবানী পশু নিয়ে নানান কৌতুক ব্যাঙ্গাত্মক কার্টুন ছেপেছে। টিভিতেও অনেক হাসি-ঠাট্টা তামাসা করা হয়েছে কুরবানীর পশুকে নিয়ে। নাউযুবিল্লাহ!

অথচ, এ পশু কুরবানী হচ্ছে নিজ পুত্র সন্তানের বদলে কুরবানী। কেউ যদি তার পুত্র সন্তানকে কুরবানী দিতে নিয়ে যেতো তবে কি তার পুত্রের সাথে হাসি-ঠাট্টা তামাসা করতো? নিশ্চয় করতোনা। মিডিয়ার চুলকানি কেবল মুসলমানদের ধর্মীয় রীতি নিয়ে অথচ হিন্দুরা যখন তাদের কথিত দেবীর মূর্তী বিসর্জন দিতে যায় তখন কিন্তু কোনো মিডিয়া বা কোনো ম্যাগাজিনে এটা নিয়ে হাস্যরস কিংবা কৌতুক রচিত হয় না, এটা নিয়ে কার্টুন অংকিত হয়না, কেউ সেলফি তুলে প্রকাশ করেনা। তাহলে পবিত্র কুরবানীর পশু নিয়ে কেন এতো ঠাট্টা বিদ্র”প?
আসলে কুরবানী’র মত একটি ভাব-গাম্ভীর্যপূর্ণ ধর্মীয় ইবাদত নিয়ে আগে কখনই ঠাট্টা-ফাজলামি হতো না। কিন্তু কিছু ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া এ শয়তানিটা অতি কৌশলে মুসলমানদের মধ্যে চালু করে দিয়েছে। আর জ্ঞানশূণ্য মুসলমানও সেই ফাঁদে পা দিয়েছে। এসব গুণাহর কাজ করে মুসলমানদের ঈমান বরবাদ ও কুরবানী নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কাজেই এবার যারা এসব করেছে তাদের উচিত বেশি করে তওবা ইস্তেগফার করা ও সামনের বছর নিজে বিরত থেকে সবাইকে এ ব্যাপারে সচেতন করে দেয়া।
১১) প্রসঙ্গ: পবিত্র কুরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্র। সরকারের ভেতর থাকা ইসলামবিদ্বেষী মহলগুলো কি সরকারকে বিপাকে ফেলে ক্ষমতাচ্যুত করতে চায়?
সম্প্রতি দেশে কিছু ইসলামবিদ্বেষী মহল ইসলামবিরোধী অপতৎপরতা জোড়ালোভাবেই চালিয়ে যাচ্ছে। যা দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান জনগোষ্ঠীকে উত্তেজিত করে দেয়ার জন্য ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভ সৃষ্টির করার জন্য যথেষ্ট। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামের দেশে পরিবেশ দূষণ ও যানজটের মিথ্যা অজুহাত দেখিয়ে পবিত্র কুরবানির পশু জবাই ও পশুর হাট স্থানান্তর নিয়ে ষড়যন্ত্রের বিষয়টি।

রাজধানিতে যানজট নিত্যদিনের চিত্র, নানা কারণে পরিবেশ দূষণও প্রতিদিনই হচ্ছে। তথাপি মুসলমানদের কুরবানির পশু জবাইয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার নামে বিশৃঙ্খলা ও হাজারো সমস্যা সৃষ্টি করে ‘কুরবানি সমস্যা’ সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে খোদ সরকারের ভেতর থেকেই। এছাড়া যানজটের অজুহাতে পবিত্র কুরবানির পশুর হাট স্থানান্তর করার ষড়যন্ত্র করছে যেন, মুসলমানগণ দূর-দুরান্ত থেকে পশু কিনে আনতে সমস্যায় পড়েন এবং পশু সঙ্কটে পড়ে উচ্চমূল্যে পশু কিনতে হয়। নাউযুবিল্লাহ! এসব ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন করলে সরকার শুধু জনগণের রোষাণলেই পড়বে না; বরং বৃহজ্জ জনগোষ্ঠী উত্তেজিত হয়ে বিক্ষোভে নামলে সরকার চরম বেকায়দায় পড়বে এবং সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো সুযোগ বুঝে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকার পতনের ডাক দিবে। সংখ্যাগরিষ্ঠ বিক্ষুদ্ধ মুসলমানদের সমর্থনে তারা সফলতাও অর্জন করতে পারে।
সুতরাং অবশ্যই সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর প্রতি খেয়াল রাখতে হবে।
১২) পবিত্র কুরবানিতে সরকারি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন হলে বহুমাত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হবে
সরকারের একটি মহল সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুরবানি যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে হয়। সেখানে কুরবানি করে মানুষ নাকি তাদের কুরবানির গোশত ঘরে নিয়ে আসবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সরকারের মধ্যে দেশপ্রেমিক ও সচেতন মহল জানেন কিনা জানি না; তবে এটা নিশ্চিত যে, এই বিষয়টি কেন্দ্র করে সরকারের ভরা ডুবি হতে পারে। সরকারের মধ্যে থাকা কিছু আগাছা কুরবানির সুব্যবস্থাপনার নামে রাজধানিবাসীর উপর যে আযাব চাপিয়ে দিচ্ছে তার ফল সরকারকেই ভোগ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের চিন্তার খোরাক হিসেবে এখানে কতগুলো কারণ বর্ণনা করছি যেসব কারণে এই ব্যবস্থাপনার ফলে যে বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে এবং যার কারণে সরকার বিব্রত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

১) আগে মহল্লায় মহল্লায়, এলাকায় এলাকায় কুরবানি হবার পরেও মাস্তানদের কারণে কুরবানিদাতাগণ কুরবানির চামড়া ইচ্ছা মাফিক দান করতে পারেন নাই। এই নতুন নিয়মের কারণে চামড়াতো দূরে থাক ঘরে গোশতসহ আসাই দায় হয়ে দাঁড়াবে।
৩) দশের লাঠি একের বোঝা। ৩০ লক্ষ কুরবানিদাতার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কমপক্ষে ৯০ লক্ষ কসাই ব্যবস্থা হয়ে যায় কিন্তু সবার দায়িত্ব সরকার একা নিলে সরকারকেই এই ৯০ লক্ষ কসাইর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) কুরবানির গোশতের উপর রয়েছে গরিবের হক। এই ব্যবস্থাপনায় সকল ফকীর-মিসকিন উনাদের গোশত পেতে যথেষ্ট সমস্যা হবে এবং সকলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হলে অবস্থা হবে ভয়াবহ।
৫) কুরবানির দিন ঢাকা শহর অনেকটা খালি হয়ে যাবার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে দুর্বল। কুরবানি করে গোশতসহ ভ্যান গাড়ি যোগাড় করা ও ঘরে ফেরা নিয়ে সাধারণ মানুষকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।
৬) যারা নিজের বাড়ির অঙ্গিনায়, এপার্টমেন্টে কুরবানি করতে চাইবেন, তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি বাঁধা দিতে আসলে বিরূপ অবস্থার সৃস্টি হতে পারে। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় এবং হাতে হাতে থাকবে কুরবানি যবেহ করার ধারালো অস্ত্রপাতি যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে তা চালিয়ে দিলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।
৭) মওদুদীবাদী শিবির এখন অনেকটা নিশ্চুপ থাকলেও এই ঘটনা ঘটে যাবার পরই পরই তারা প্রমাণ করতে সচেস্ট হবে যে বর্তমান সরকার ইসলামবিরোধী সরকার।
১০) কার পশু আগে এবং কিভাবে কুরবানি হবে এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিতিমালা না থাকলে এক চরম আপত্তিকর পরিস্থিতি হবে যা কেবল সরকারের সমালোচনাকেই বৃদ্ধি করবে।
১১) এমন অনেকেই আছেন যারা চার পাঁচ বা ততোধিক কুরবানি করে থাকেন এই ব্যবস্থায় কুরবানি করতে যেয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে উনাদের মনে যথেষ্ট ক্ষোভের সঞ্চার হবে যা খুব শোভনিয় হবে না।
সুতরাং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে এখনি ভাবতে হবে এবং এই হাস্যকর উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।
১৩) পবিত্র কুরবানি নিয়ে নীতিনির্ধারকদের কাছে কিছু প্রশ্ন
ঢাকা নর্থ সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)-এর নব নির্বাচিত মেয়র আনিসুল বলেছেন, “কুরবানির জন্য ৪৯৩টির মতো স্থানে রয়েছে। এতে ৩ থেকে ৪ লাখ পশু কুরবানি সম্ভব, সেখানেই যেন সবাই পশু কুরবানি করেন। এতে পরিবেশ দূষণ যেমন কম হবে, তেমনি ব্যবস্থাপনাও সহজ্জ হবে।” (সূত্র: বাংলানিউজ২৪ডটকম, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫ ঈসায়ী)
নতুন নির্বাচিত মেয়র আনিসুল সাহবের উক্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমি ৯৮ ভাগ মুসলমানের পক্ষ থেকে নিতি নির্ধারকদেরকে কিছু বলতে চাই-
১) ৪ লক্ষ গরু প্রায় ৪৯৩ স্পটে জবাই করলে প্রতি স্পটে হয় ৮১১ গরু। এখানে প্রশ্ন হচ্ছে- ঢাকায় নির্ধারিত স্পটগুলো কি এত বড়, যেখানে একসাথে ৮১১টি গরু জবাই করা যাবে?
২) ঢাকা শহরে কুরবানি হয় প্রায় ৩০ লক্ষ কিন্তু নির্ধারিত স্পটগুলোর ক্যাপাসিটি বলা হচ্ছে ৩ থেকে ৪ লক্ষ এবং বলা হয়েছে নির্ধারিত স্পটে কুরবানি করতে বাধ্য করা হবে। তাহলে বাকি ২৫ লক্ষ পশু কোথায় কুরবানি হবে? নাকি আগামী বছরের জন্য রেখে দিতে হবে?
৩) ৪ লক্ষ পশুর চামড়া ছাড়াতে বা গোশত কাটতে কম করে হলেও ১০ লক্ষ কসাই দরকার। সরকারি ব্যবস্থাপনায় কি ১০ লক্ষ কসাই আছে?
৫) কসাইদের গোশত বানানোর জন্য আলাদা স্থান ও ব্যবস্থা প্রয়োজন, সেটার জন্য কি ব্যবস্থা আছে?
৬) কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পর সেই গোশত বাসায় নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত যানবাহনের প্রয়োজন, সুষ্ঠু ও নিরাপদে স্থানান্তরের জন্য সরকারি কোনো সহযোগিতা থাকবে কি?
৭) ‘নির্দ্দিষ্ট স্থানে কোরবানি দিলে কারো গরু বদল কিংবা গোশত পাওয়া নিয়ে বিশৃঙ্খলা হবে না’-এমন সরকার এমন কোনো নিশ্চয়তা দিবে কি?
৮) স্পটগুলোতে চামড়া নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডারদের মারামারি-গুলাগুলি করবে না -এমন নিশ্চয়তা কি দিতে পারবে?
৯) স্পটগুলোর বাইরে ভিক্ষুক বা গোশত টোকাইদের ভিড় হবে না, গোশত নিতে কাড়াকাড়ি করবে না, মারামারি-হুড়োহুড়ি লাগবে না কিংবা যাকাতের কাপড় আনতে গিয়ে পদদলিত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটবে না -এমন নিশ্চয়তা সরকার দিতে পারবে কি?
১০) ৪৯৩টি স্পটে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কয়েক লক্ষ পুলিশ দরকার। স্পট থেকে কুরবানিদাতার বাড়ি পর্যন্ত নিরাপত্তা, ছিনতাই, লুট ইত্যাদি থেকে নিরাপত্তা দিতে প্রচুর পুলিশ দরকার; সেই পুলিশের ব্যবস্থা থাকবে কি?
১১) পুরো সিস্টেম মেইনটেইনের জন্য লক্ষ লক্ষ সেচ্ছাসেবক দরকার। সেগুলোর আয়োজন কি আছে?
১৪) কুরবানি নিয়ে সরকারের নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেয়া সংবিধান পরিপন্থী এবং আইন যদি সবার জন্য সমান হয়, তবে সরকারও হবে অপরাধী
সরকারের একটি মহল অনেকটা জোর করেই কুরবানি সংক্রান্ত কিছু কালাকানুন জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। বলা হচ্ছে এবার কুরবানির পশুর হাটের সংখ্যা গতবারের তুলনায় কমানো হবে, কিছু হাট রাজধানির বাইরে স্থানান্তর করা হবে। আরো বলা হচ্ছে, যার যার স্বাধীন মতো কুরবানি করা চলবে না, বরং সরকারের নির্ধারিত স্পটে সরকারের নির্ধারিত নিয়মনিতি মোতাবেক পশু জবাই করতে হবে। তবে এই নিয়মনিতি হঠাৎ করেই জারি করা হচ্ছে জনগণের কোনো প্রতিক্রিয়া কিংবা মতামত না নিয়েই।

গণতন্ত্রের ভাষা অনুযায়ী জনগণের মত না নিয়ে শুধু এককভাবে সরকারের নিতিকে চাপিয়ে দেয়া অগণতান্ত্রিক আচরণ। তাছাড়াও সংবিধানের আইনেও এই নতুন নিতি বৈধ নয়। সংবিধানের ২ (ক) ধারা মোতাবেক, “প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম, তবে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ অন্যান্য ধর্ম পালনে রাষ্ট্র সমমর্যাদা ও সমঅধিকার নিশ্চিত করিবেন।”
১২ (ঘ) ধারায় বলা হয়েছে, “কোনো বিশেষ ধর্ম পালনকারী ব্যক্তির প্রতি বৈষম্য বা তাহার উপর নিপীড়ন বিলোপ করা হইবে।”
এছাড়াও ২৮ (১) ধারায় উল্লেখিত আছে, “কেবল ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারীপুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে কোনো নাগরিকের প্রতি রাষ্ট্র বৈষম্য প্রদর্শন করিবেন না।”
সংবিধানের উপরোক্ত ধারাগুলো থেকে এটা স্পষ্ট যে, বাংলাদেশ সরকার সকল ধর্মের অনুসারীদের ‘ধর্ম পালন’-এর মধ্যে কোনোরূপ বৈষম্য করতে পারবে না। প্রত্যেককে ধর্মপালনে সমপরিমাণ স্বাধীনতা দিতে হবে। অর্থাৎ ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ সবার সমান। এ ব্যাপারে কোনরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করা চলবে না।
কুরবানি নিয়ে সরকার যে নিয়মনিতি জোরপূর্বক জারি করতে যাচ্ছে তা স্পষ্টভাবে মুসলমানদের ধর্মীয় স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ হওয়ায় সংবিধান মোতাবেক অবৈধ এবং সংবিধান লংঘনের অপরাধে সরকারও অপরাধী বলে সাব্যস্ত হবে।
১৫) সরকার প্রধানের কাছে প্রশ্ন- কুরবানির উদ্ভট নীতি চাপিয়ে দিয়ে সরকার কি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে রাজনিতি করছে না?
কিছু দিন আগে বাংলাদেশের সরকারপ্রধান বলেছেন, “ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে কাউকে রাজনিতি করতে দেয়া হবে না।” (সূত্র: প্রথম আলো; ৮, আগস্ট, ২০১৫ ঈসায়ী)
সরকার প্রধানের বক্তব্য দ্বারা এটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, কোনো ধর্মের অনুসারীদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে না, এটা সরকার বরদাশত করবে না। আর খোদ সরকারের দ্বারা এমন কার্য সম্পাদন হওয়াতো প্রশ্নই উঠেনা।

কিন্তু বাস্তবতায় আমরা কি দেখতে পাচ্ছি? পবিত্র কুরবানিতে মুসলমানদের স্বাধীনতার উপর হস্তক্ষেপ করে সরকারি মহল যে নিয়মনিতি চাপিয়ে দিচ্ছে তা কি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত নয়? কেউ তার বাড়ির আঙ্গিনায় নিজের পছন্দমতো লোক দিয়ে, নিজস্ব তত্ত্বাবধায়নে সহি-শুদ্ধভাবে সুন্নতী কায়দায় পবিত্র কুরবানি করতে পারবে না -এমন নিয়ম জারি করা কি ধর্মীয় স্বাধীনতা পালনে বাধাগ্রস্ত করা নয়?

সরকারকে একটি কথা সরণ রাখতে হবে- দিল্লির মসনদের বাদশাহ জাহাঙ্গীর ও বাদশাহ আকবর (হিন্দুদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে) গরু কুরবানির বন্ধের চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েছিলেন পবিত্র কুরবানির বিধানকে আরো প্রশস্ত করে জারি করতে। কাজেই আজকে ইসলামবিদ্বেষীরা যে পরিবেশ রক্ষার অজুহাতে কুরবানি বন্ধের কৌশলে নেমেছে, সেটাতেও তারা সফল হতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ! কারণ অবান্তর যুক্তি দেখিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক উদ্ভট নিয়ম নিতি চাপিয়ে দেয়ার রাজনিতি জনগণ বরদাশত করবে না।
১৬) মুসলিম দেশে পবিত্র কুরবানি নিয়ে মুশরিকদের বাড়াবাড়ি বরদাশত যোগ্য নয়, গণমানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটলে আচানক দেশে হিন্দু বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে
মুসলমানের রক্ত বলে কথা। বীরের জাতি। কতোদিন সহ্য করবে হিন্দুদের বাড়াবাড়ি। যবন ম্লেচ্ছ অস্পৃশ্য হিন্দুরা সরকারের নাকে দড়ি বেঁধে দেশে ইসলাম বিরোধী ষড়যন্ত্র করছে। ফায়দা লুটছে শাসক গোষ্ঠীর মধ্যে থাকা কিছু গাদ্দার। তারা ভারতের ক্রীড়নক হয়ে হিন্দুদের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে। এরাই আজ মুসলমানদের স্বাধীন উন্মুক্ত হাতে শেকল পড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। একের পর এক আঘাত হানছে ধর্মীয় অনুভূতিতে। ওরা মুসলমানদের কুরবানি বন্ধ করে দিতে চায়। ওদের কথা মতো শাসকগোষ্ঠীও উদ্ভট নিতি নির্ধারণ করে জনগণের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। সারাদেশ জুড়ে হিন্দুরা পূজা করতে চায়, শত শত মন্দির গড়তে চায়। বাংলাদেশে থেকে এরা বাবরি মসজিদের মতো করে পবিত্র মসজিদগুলো ভেঙ্গে দিতে চায়। আর শাসকগোষ্ঠী তাদের খুশি করতে বুড়িগঙ্গার তীরে সরকারি (জনগণের) জায়গায় স্থাপিত মসজিদগুলো ভাঙার নোটিশ দিয়ে যাচ্ছে। কতো বড় দুঃসাহস হলে এই ম্লেচ্ছ যবন হিন্দুরা বাংলাদেশের মসজিদ ভাঙতে চায়? কতো বড় দুঃসাহস হলে এরা এদেশের হাইকোর্টে দেশের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উনাকে চ্যালেঞ্জ করে, ইসলাম বাদ দেয়ার জন্য রিট করে। কত বেশি স্বাধীনতা পেলে এরা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘দুই বাংলা’ নামক নাটক প্রকাশ্যে মঞ্চস্থ করছে। ভারতীয় পতিতাদের এদেশে এনে তরুণ প্রজন্মে চরিত্র নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। শুধু কী তাই? প্রশাসনের ঘাড়ে বসে রাষ্ট্রীয় সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পদে হিন্দুরা খুঁটি গেড়ে বসছে। প্রতিদিন সীমান্তে ভারতীয় বর্বর বিএসএফরা মুসলমানদের শহীদ করে যাচ্ছে। একটা সুঁই-সুতা পরিমাণ হলেও তা ভারত থেকে আমদানি করতে বাধ্য করছে। হিন্দু ও তাদের দোসরদের এসব বাড়াবাড়ি মুখ বুঁজে সহ্য করে যাচ্ছে দেশের ৯৮ ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠী। কিন্তু এখন দেশ ও জনগণের ধৈর্যশক্তি বাঁধ ভাঙার পর্যায়ে চলে গেছে। বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি নিয়ে ষড়যন্ত্রগুলো বাস্তবায়ন হলেই জনগণ যারপরনাই ক্ষুব্ধ হয়ে শক্তির জানান দিবে। এতে করে হয়তো হিন্দুর সংখ্যা হঠাৎ করেই কমে যাবে। তখন দুটি কুরবানির ধারা শুরু হয়ে যেতে পারে। একটি খোদায় বিধানের কুরবানি, আকেটি গণমানুষের আক্রোশের কুরবানি। অর্থাৎ আগের কুরবানিতো ঠিক থাকবেই সেইসাথে আরেকটি কুরবানির পর্ব শুরু হয়ে যেতে পারে। এমনটি হলে সরকারও স্মরণকালের ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হবে।
১৭) জনসাধারণ মাত্রই অধিক পশুর হাটের প্রয়োজনিয়তা উপলব্ধি করেন; পশুর হাট কমানোর পক্ষে প্রচারণাকারী মিডিয়া ও মহলগুলো ভারতীয় এজেন্ট!
কিছুদিন আগে দৈনিক জনকন্ঠ পত্রিকার সম্পাদকীয়তে ঢাকায় পবিত্র কুরবানির হাট কমানোর পক্ষে নানা উদ্ভট যুক্তি দিয়ে আর্টিকেল লেখা হয়েছে। সম্পাদকীয় কলামের চৌম্বক অংশ এখানে উল্লেখ করা হলো- “... হাটের জন্য খালি জায়গা পাওয়া সম্ভব, কিন্তু সেই খালি জায়গার আশপাশেই তো রয়েছে জনাকীর্ণ অঞ্চল। তাই শহরের ভেতরে নয়, বরং শহরের প্রান্তবর্তী কিংবা নগর-সীমানা ঘেঁষে দশটি দিকে এসব হাট বসানো সম্ভব হলে সেটাই উত্তম হতো।...আমরা আশা করবো, রাজধানিতে বসবাসকারী দেড় কোটি মানুষের জীবনযাত্রাকে অচল, বিপন্ন বা বিপর্যস্ত করে যত্রতত্র পশুর হাট বসানো বন্ধে কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নেবে।” (সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ, ৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫)

বলাবাহুল্য, মুসলমানদের প্রয়োজনে মাত্র সপ্তাহব্যাপী স্থাপিত কুরবানির পশুর হাটকে যারা মানুষের জন্য ‘সমস্যা’ হিসেবে প্রচার করে নিঃসন্দেহে তাদের উদ্দেশ্য ভালো নয়। কেননা, এসব হাটগুলো এদেশের ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনে। এমনকি যারা কুরবানি দিতে পারে না তারাও অন্তত অন্য কারো কুরবানির পশু হাটিয়ে নেয়ার সময় স্বজোরে দাম জিজ্ঞাসা করেন- ‘ভাই কতো হলো?’ অর্থাৎ কুরবানির হাটকে কেউ সমস্যা হিসেবে দেখেন না, বরং সবাই এতমিনান লাভ করেন এবং সকলেই বেশি সংখ্যক হাটের প্রয়োজনিয়তা উপলব্ধি করেন। সুতরাং জনগন্ঠসহ যেসকল মিডিয়া পশুর হাট কমানোর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে, তারা দাদাদের নির্ভরযোগ্য প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব-পালন করে যাচ্ছে। কিন্তু ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত দেশে তাদের এসব অপতৎপরতাকে মেনে কোনো দেশপ্রেমিকের পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজন তীব্র প্রতিবাদ। সেই সাথে এসব মিডিয়াগুলোকে চিহ্নিত করে এদের বয়কট করা। কারণ এরা দেশ ও জনগণের শত্রু।
১৮) ‘কুরবানি’ই ইসলামবিদ্বেষী মহলের মূল সমস্যা; তাদের দৃষ্টিতে পহেলা বৈশাখের কারণে বা পূজার কারণে এমনকি সারাবছর লেগে থাকা যানজটও কোনো সমস্যা নয়!
যানজট ও মানুষের চলাচলে সমস্যার বিভ্রান্তিকর অজুহাত দেখিয়ে রাজধানিতে পবিত্র কুরবানির পশুর হাট কমানোর পক্ষে জোর প্রচারণা চালাচ্ছে কিছু ইসলামবিদ্বেষী মহল ও মিডিয়া। যদিও পশুর হাট ৯৮ ভাগ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজনে। বরং পর্যাপ্ত বা নিকটস্থ এলাকায় পশুর হাট না থাকলে এই জনগণেরই ভোগান্তি পোহাতে হয়। এই অতিব প্রয়োজনিয় হাটকে বাঁকা চোখের লোকগুলো ‘সমস্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে প্রচার করছে। আসলে এটি সমস্যা হতে পারে কেবল কুরবানিবিদ্বেষী মহলের জন্যই। যেহেতু এটা ‘কুরবানি’।

বলাবাহুল্য, যখন পহেলা বৈশাখের কারণে ঢাকার বড় বড় হাসপাতালগুলোর (ঢামেক, পিজি, বারডেম) গেট বন্ধ হয়ে যায় তখন এসব যানজট সচেতন(!) মহলগুলোর কোথায় থাকে। যখন হিন্দুদের দুর্গাপূজা-জন্মাষ্টমী-রথযাত্রার হিন্দুরা ঢাকা শহরে যানজট বাঁধিয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য মিছিল করে তার আগে এসব মহলের যানজট অনুভূতি কোথায় থাকে? রাজনৈতিক দলগুলো যখন সারা বছর তাদের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের নামে রাস্তা আটকে মিটিং-মিছিল করে, তখন তাদের জনদুর্ভোগের কথা কোথায় থাকে? শাহবাগ আন্দোলনের নামে যখন ৩-৪ মাসব্যাপী লাখ লাখ মানুষের ভোগান্তি হয়েছিলো, হাসপাতালের রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকায় হাজার হাজার রোগীর কষ্ট-যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছিলো, তখন এরা কোথায় ছিলো? মূল বিষয়টা হচ্ছে, হাট নিয়ে এসব চুলকানির উৎস যানজট নয়, বরং যবন, ম্লেচ্ছ, অস্পৃশ্যদের দেয়া খুদ-কুড়া খেয়ে দালালি করাই হচ্ছে মূল কারণ।

সুতরাং বামপন্থী নাস্তিকদের কুরবানির হাট বিরোধী অপপ্রচারের বিপরীতে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের প্রয়োজন উপলব্ধি করে মুসলমানদের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের উচিত হচ্ছে প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় মহল্লায় মহল্লায় পশুর হাটের লাইসেন্স দেয়া। যেন মানুষ নিজ এলাকা থেকেই কুরবানির পশু কিনতে পারে। বরং এতে যানজট না হওয়ার নিশ্চয়তা আছে। আর যদি সরকার আবেদনকারীদের হাট বসানোর লাইসেন্স না দেয়, তবে আবেদনকারীদের উচিত এলাকাবাসীদের সাথে নিয়ে মিলে মিশে কাজটি সেরে ফেলা।
১৯) আসুন জেনে নেই ভারতের কোন কোন অঙ্গরাজ্যে গরু জবাই করলে কিংবা কুরবানি করলে কি কি শাস্তি
আমাদের পার্শ্ববর্তী হিন্দু নিয়ন্ত্রিত দেশ ভারতের বহু প্রদেশে গরু জবাই নিষিদ্ধ। যদিও সেখানে মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে মুসলমান। তবে ৮টি প্রদেশ ব্যাতীত অন্যান্য প্রদেশগুলোতে গরু জবাইয়ে রয়েছে কঠোর শাস্তির বিধান। আসুন জেনে নেই কোন কোন প্রদেশে জবাইয়ের জন্য মুসলমানদের কেমন শাস্তি দেয়া হয়- (১) অন্ধ্রপ্রদেশ : ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (২) আসাম : ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (৩) বিহার : ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (৪) দামান ও দিউ : ২ বছরের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (৫) দিল্লি : ৫ বছরের জেল ও ১০ হাজার রুপি জরিমানা। (৬) গোয়া : ২ বছরের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (৭) গুজরাট : ৭ বছরের জেল ও ৫০ হাজার রুপি জরিমানা। (৮) হরিয়ানা : গরু ও মহিষ কোনোটাই জবাই করা যাবে না, করলে ৫ বছর জেল ও ৫ হাজার রুপি জরিমানা। (৯) হিমাচল : গরু ও মহিষ কোনোটাই করা যাবে না, করলে ২ বছর জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১০) জম্মু কাশ্মীর : গরু ও মহিষ কোনোটাই করা যাবে না, করলে ১০ বছর জেল ও এবং জবাইকৃত পশুর মূল্যের ৫গুন জরিমানা। (১১) কর্নাটক : ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১২) মধ্য প্রদেশ : ৩ বছরের জেল ও ৫ হাজার রুপি জরিমানা। (১৩) উড়িষ্যা : ২ বছর জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১৪) পুদুচেরি : ২ বছরের জেল ও১ হাজার রুপি জরিমানা। (১৫) পাঞ্জাব : গরু ও মহিষ কোনোটাই জবাই করা যাবে না, করলে ২ বছরের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১৬) রাজস্থান : গরু ও মহিষ কোনোটাই জবাই করা যাবে না, করলে ২ বছরের জেল ও ১০ হাজার রুপি জরিমানা। (১৭) তামিলনাড়ু : ৩ বছরের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১৮) তেলেঙ্গানা: ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (১৯) উত্তরপ্রদেশ: ২ বছর জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (২০) পশ্চিমবঙ্গ: বৃদ্ধ ও প্রজননে অক্ষম গরু জবাই করা যাবে। তবে এর বাইরে করলে ৬ মাসের জেল ও ১ হাজার রুপি জরিমানা। (২১) মহারাষ্ট্র: ৫ বছরের জেল ও জরিমানা। উল্লেখ্য, বর্তমানে ভারতের মোট ২৯টি প্রদেশ। এরমধ্যে ২১টি প্রদেশেই গরু কুরবানি ও সারা বছর গরু-মহিষ জবাই নিষিদ্ধ।
২০) কুরবানির পশুর জন্য নির্ধারিত নতুন হাট বসাতে হবে, তবে কোনো হাটের বিকল্প হিসেবে নয়; নতুন হাট বৃদ্ধি হিসেবে করতে হবে
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কর্তৃক নতুন অনেক জায়গায় হাট বসানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। তবে পুরনো কোন হাটের পরিবর্তে নয় বা স্থানান্তর হিসেবে নয়; বরং সেটি করতে হবে নতুন হাট হিসেবে। যেমন- শেরে বাংলা নগর বাণিজ্য মেলার মাঠে অবশ্যই হাট করতে হবে কিন্তু আগারগাঁও হাট বাতিল করা যাবে না।

কুরবানিবিরোধী কিছু মিডিয়া অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, বাণিজ্য মেলায় হাট বসলে নাকি প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন- গণভবন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন, শেরেবাংলা বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা বিঘœ ঘটবে। মূলত এসব অবান্তর যুক্তিতে তাদের ‘কুরবানিবিদ্বেষী’ মনোভাব প্রকোটভাবে ধরা পড়ে। কেননা, কুরবানির হাট থাকবে ৭/৮ দিন আর সেখানে যে পরিমাণ লোক যাতায়াত করবে তার তুলনায় ১ মাসব্যাপী আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় একশগুণ বেশি মানুষের যাতায়াত হয়; তখন এসব মিডিয়া কোথায় থাকে? তখন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক মন্ত্রণালয় ও ডিএমপি’র আপত্তি দেখা যায় না কেন?

মনে রাখতে হবে, রাজধানিতে মানুষের সংখ্যা প্রতি বছর বাড়ছে, ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের সংখ্যাও কমছে অর্থাৎ রাজধানিতে কুরবানিদাতার সংখ্যা বহুগুণে বাড়ছে। সে তুলনায় হাটের সংখ্যাও বাড়াতে হবে।
২১) পবত্রি কুরবানিতে সরকারি সাহায্য নইে, পূজাতে সরকারি সাহায্য! সরকার আসলে হন্দিুত্ববাদী রাষ্ট্র কায়মে করতে চায় কনিা এবাররে র্দুগাপূজায় তা প্রমাণতি হবে
এবারের পবিত্র কুরবানিতে সরকারের অসহোগিতা ও অবহেলা ছিলো বহুল সমালোচিত একটি বিষয়। কুরবানিদাতাদের মুখে মুখে শোনা গেছে সরকারের অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও পশু সঙ্কট সৃষ্টির সমালোচনা। মানুষের সবচেয়ে বেশি ক্ষোভ সঞ্চার করেছে কুরবানির হাটে এই কৃত্রিমভাবে পশু সঙ্কট ও আকাশচুম্বি দাম। অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার পশুর উচ্চমূল্যের ফলে কুরবানি করেছে কষ্ট করে। কষ্ট করে অনেকে দিলেও কুরবানি করে কেউ তৃপ্ত হতে পারেনি; বরং মানুষ রীতিমত ক্ষুব্ধ। তাই এবার মুসলমানদের মাঝে কুরবানি নিয়ে আনন্দ, উৎফুল্ল ও প্রাঞ্জলতা দেখা যায়নি। এসব কিছুর পেছনে একটিই কারণ- সরকারের উদাসীনতা, অবহেলা, অব্যবস্থাপনা ও কুরবানিবিদ্বেষীদের স্বাধীন স্বেচ্ছাচারিতার কু-প্রভাব।

পক্ষাপন্তরে প্রতি বছরই দেখা যায় দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ১.৫ শতাংশেরও কম সংখ্যক হিন্দুদের জন্য সরকার ও প্রশাসন যারপরনাই মায়া-মমতা, সাহায্য-সহযোগিতার জন্য দাঁড়িয়ে যায়। হিন্দুরা ‘চাহিবা মাত্র দিতে বাধ্য থাকিবে’ এমন অদৃশ্য নিতি পালনে সদা প্রস্তুত থাকে প্রশাসন। প্রশাসন কি দেশে হিন্দুত্ববাদী রাষ্ট্র কায়েম করতে চায়? দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানের প্রতি বৈষম্য সৃষ্টি করে জনরোষে পতিত হতে চায়? এবারের হিন্দুদের দুর্গাপূজায় দেশের প্রশাসন কতোটা হিন্দুপ্রীতি মনোভাব দেখায় তা দেখার জন্য দেশের ৯৮ ভাগ বিক্ষুব্ধ মুসলমান দেখবে। বরাবরের মতো এবারও যদি সরকার হিন্দুদের পূজায় সাহায্য-সহযোগিতা করে তবে এটাই প্রমাণিত হবে যে প্রশাসন আসলে ভারতপন্থী উগ্র হিন্দুদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সরকারও দেশে হিন্দুবাদ প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর।
২২) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে হিন্দুদের তাবেদার নন সেটা প্রমাণ করার উপযুক্ত সময় আসন্ন কুরবানীর ঈদ
কিছুদিন আগে ঘটে যাওয়া হিন্দু ধর্মের কল্পিত উৎসব (যা তাদের ধর্মীয় উৎসব নয়) কথিত সারদীয় দূর্গা পূজা উপলক্ষে যে সমস্ত কার্যক্রম সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সম্পন্ন হয়েছে তা ইতিহাসে বিরল। প্রধানমন্ত্রীর নিজ ধর্মের জন্যেও এতটা উদারতার পরিচয় কখনো দেখা যায়নি। এদেশের জনসাধারণ সন্দিহান হয়ে পড়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী কি তবে মনে মনে হিন্দু ধর্মকে সমর্থন করেন?

নাকি ভারতের তাবেদারী করতে গিয়ে এতটা করেছেন। যাই হোক না কেন, প্রধানমন্ত্রীর যদি ইসলাম ধর্মের প্রতি সহানুভুতি ও উদারতা থাকে তবে তার উচিত হবে মুসলমানদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কমপক্ষে অফিসিয়াল ছুটি ১০দিন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ২০দিন ঘোষনা করা। কেননা, কুরবানীকে সামনে রেখে অনেক প্রস্তুতির ব্যাপার রয়েছে যা কিনা সময়ের প্রয়োজন। এবং কুরবানীর পরেও গরীব দুঃখী আত্বীয়দের মাঝে গোস্ত বন্টন, সংরক্ষন এবং বিশ্রাম এর জন্যও পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই প্রধানমন্ত্রীর উচিত আসন্ন ঈদ উপলক্ষে কর্মচারী-কর্মকর্তাদের জন্য কমপক্ষে ১০দিন এবং স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে কমপক্ষে ২০দিন ছুটি কার্যকর করা। সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা চলছে। সরকারের উচিত এ পরীক্ষা বিরতী ঘোষনা করে ঈদের পর থেকে শুরু করা। তবেই এ সরকার দেশের ৯৬ভাগ মুসলিম জনগোষ্ঠীর আস্থাভাজন হতে পারে।
২৩) পশুর হাট নিয়ে দুই মেয়রের কাছে পুলিশের চিঠি ষড়যন্ত্রমূলক
কথিত জনদুর্ভোগের কথা বলে রাজধানির ব্যস্ত স্থানে পবিত্র কুরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে গত ২৫ জুলাই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের চিঠি দিয়া হয়েছে। রাজধানির পাঁচটি বড় হাটকে নির্ধারিত স্থানের বদলে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার পাঁচটি স্থানের পশুর হাট সরানোর যুক্তি হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে- রাজধানি জুড়ে যানজট, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত, মুমুর্ষরোগী ও চিকিৎসকেরা হাসপাতালে যেতে পারেনা ইত্যাদি। (খবর: প্রথম আলো, ২৯ জুলাই, ২০১৫)

এসব যুক্তি দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে এই চিঠি মুসলমানদের পবিত্র কুরবানিতে সমস্যা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই না। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানির সময় পশুর জবাই, হাট বসানো ইত্যাদি নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়ে আসছে। এবারও সেই ষড়যন্ত্র শুরুর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেননা, চিঠিতে পশুর হাট সরানোর যেসব যুক্তি দেয়া হয়েছে, তার সবই অবান্তর যুক্তি। রাজধানিজুড়ে যানজট এটা নিত্য দিনের ঘটনা, সারা বছরই থাকে। রাজধানিতে এমন বহু সড়ক, ফুটপাথ, এলাকা আছে যা চলাচলের অযোগ্য, যেখানে সারাবছরই মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়। বিশেষ করে রাজধানিজুড়ে যে ফ্লাইওভার নির্মানযজ্ঞ চলছে তাতে বছরের পর বছর মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় সবজায়গায় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের খবর প্রতিদিনই পত্রিকান্তরে দেখা যায়।

এরপরে বারিধারা জে ব্লকে হাট স্থানান্তরে যুক্তি হিসেবে কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশের পক্ষ থেকে এমন যুক্তি পুলিশের জন্য লজ্জাজনক। কেননা, এতে ছোট্ট একটি এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। এরপর বলা হচ্ছে, মুমুর্ষরোগী ও চিকিৎসকদের চলাফেরার কথা- এটাও একটা অবান্তর যুক্তি। যানজটে প্রতিদিনই বহু রোগী-চিকিৎসকদের হাসপাতালে যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। কিন্তু বছর জুড়ে রোগীদের এসব ভোগান্তির জন্য পুলিশের কোন মমত্ববোধ দেখা যায়না। সুতরাং পবিত্র কুরবানি নিয়ে হিন্দুদের এসব ষড়যন্ত্র কখনোই বরদাশত করবেনা এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান। বরং এসব দুষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকার জনগণের রোষাণলে পড়তে হবে।
২৪) বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত মাদরাসায় কুরবানীর পশুর চামড়া দিলে তা কবুল হবেনা
যে কোনো দান-ছদকা, যাকাত-ফিৎরা, কাফফারা, কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য যে কোনো মাদরাসায় দিতে গিয়ে সাধারণ মুসলমানগণ অধিকাংশ সময়ই ভূল করে ফেলেন। অনেকেই দায়সারা ভাবে যাকে তাকেই দিয়ে দেয়। কিন্তু আমার এই দান মহান আল্লাহ পাক উনার দরবারে কবুল হবে কিনা সেটা ফিকির করেনা। যার ফলে সে দান বিফলে যায়, আমল নামায় যোগ হয়, পরকালে এর কোন বদলা পাওয়া যাবেনা। এজন্য হক্ব, নাহক্ব চিনতে হবে। আগে দেখতে হবে আমি যাকে দিচ্ছি সে হক্বানী বা হক্বপন্থী কিনা। হক্ব-নাহক্ব চেনার জন্য দৈনিক আল ইহসান ও মাসিক আল বাইয়্যিনাত শরীফ নিয়মিত পড়তে হবে।

বাতিল ফিরক্বা কারা? এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ রয়েছে। যেমন- ইমাম তিরমিযী রহমতুল্লাহি আলাইহি বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমার উম্মত ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, একটি দল ব্যতীত বাহাত্তরটি দলই জাহান্নামে যাবে। তখন হযরত সাহাবা-ই-কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুগণ বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যে একটি দল নাযাত প্রাপ্ত, সে দলটি কোন দল? হুযূর পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাহাবা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের মত ও পথের উপর যারা কায়েম থাকবে, (তারাই নাযাত প্রাপ্ত দল)।”

এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে যে, ৭২ জনের মধ্যে মাত্র এক জন হক্ব; এছাড়া বাকি ৭২ জনই বাতিল অর্থাৎ বাতিলের সংখ্যা বেশি থাকবে। সূতরাং অধিকাংশ মাদরাসাই বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত পক্ষান্তরে হক্ব কেবল একটি মাদরাসা। বর্তমানে ঢাকা রাজারবাগ শরীফ উনার মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতিমখানাই একমাত্র হক্ব মাদরাসা।
২৫) বাতিল বাহাত্তুর ফিরক্বার অন্তর্ভূক্তরা জাহান্নামী; এদেরকে কুরবানীর চামড়া দেয়া থেকে সাবধান!
বাতিল বাহাত্তুর ফিরক্বা সম্পর্কে মসনদে আহ্মদ ও আবূ দাউদ উনাদের বর্ণনায়- হযরত মুয়াবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার হতে বর্ণিত আছে যে, “বাতিল ৭২টি দল জাহান্নামে যাবে, আর একটি দল জান্নাতে যাবে। মূলতঃ সে দলটিই হচ্ছে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত।” (মেশকাত, মেরকাত, লুময়াত)। উল্লিখিত হাদীস শরীফ দ্বারা মূলতঃ এটাই বুঝানো হয়েছে যে, উম্মতে হাবীবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তথা “কলেমা গো মুসলমানই” ৭৩ দলে বিভক্ত হবে, তন্মধ্যে ৭২টি দলই জাহান্নামী, গোমরাহ্ ও বাতিল, মূলতঃ তারা মুসলমানের অন্তর্ভূক্ত নয়। আর একটি মাত্র দল জান্নাতী, আর সেটা হচ্ছে আহ্লে সুন্নত ওয়াল জামায়াত। সূতরাং আপনার পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া কোন মাদরাসায় দেয়ার আগে সতর্ক হোন। খোদা না করুন সেটা যদি কোন জাহান্নামী দলের তথা বাতিল বাহাত্তুর ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত কোন মাদরাসায় যায় তাহলে আল্লাহ পাক উনার অশন্তুষ্টির কারণে সওয়াবের পরিবর্তে গুনাহ হবে। কবুল হওয়ারতো প্রশ্নই আসেনা। তাহলে বাতিল ফিরক্বাদের কিভাবে চিনবেন? সহজ কয়েকটি উপায় হচ্ছে- যারা পবিত্র মিলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ উনার বিরোধীতা করে, ছবি তোলে, টিভি দেখে, গান বাজনা শোনে, খেলাধুলা করে, রাজনীতি তথা গণতন্ত্র, হরতাল, লংমার্চ করে, জিহাদের নামে বোমা ফুটায়, সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে। বাহ্যিক সুরতে এরা মাথায় কিস্তি, পাঁচকলি টুপি পড়ে, সুন্নতি পাগড়ি পড়েনা, কোনা ফাড়া পাঞ্জাবী পড়ে, গোঁফ চাছে, মাথা মুন্ডন করে ইত্যাদি। এসব আলামত যুক্ত নামধারী মাওলানারাই বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত। এদেরকে পবিত্র কুরবানীর চামড়া দিলে তা কবুল হবেনা।
২৬) গ্রীষ্ম কালীন সময়ে আম কাঠালের ছুটি যদি ১০ দিন হয় তবে কুরবানীর ঈদে গোস্তের ছুটি কেন ১২ দিন হবে না?
আমাদের দেশে গ্রীষ্মকালীন, শরৎকালীন, বর্ষাকালীন ইত্যাদি বিভিন্ন মৌসুমে ছুটি দেওয়ার রেওযাজ আছে। সংবিধানে এমন ছুটি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও বেশ কিছুদিনের জন্য এসব ছুটি দেয়া হয়। যেমন গ্রীষ্মকালীন সময়ে আম কাঠালের ছুটি দেয়া হয় এবং বলা হয়ে থাকে যে আম কাঠাল খাওয়ার জন্য ছুটি দেয়া হল। যদিও চড়া মূল্যের জন্য অনেকে আম কাঠাল কিনে খেতেও পারেনা। তবুও এ ছুটির মেয়াদ হয় সাধারণত ৭-১০ দিন। তাহলে আম কাঠাল খাওয়ার জন্য যদি ১০ দিন ছুটি দেয়া হয় তবে কুরবানীর ঈদে গোস্ত খাওয়ার জন্য কমপক্ষে ১০ দিন ছুটি দেয়া উচিত। কেননা আম কাঠাল শুধু বড়লোক আর মধ্যবিত্তদের জন্য হলেও কুরবানীর গোস্ত কিন্তু ধনী গরীব সকলে মিলে সমান ভাগে বন্টন করে খাওয়া হয়। তাই কুরবানীর পশু কেনার আগে ও পরে পর্যাপ্ত সময়ের প্রয়োজন। যেখানে আম কাঠাল কিনতেও তেমন লাগেনা, খেতেও তেমন সময়ের প্রয়োজন হয়না। অতএব, আম কাঠালের ছুটি ১০ দিন হলে কুরবানীর ঈদের ছুটি কমপক্ষে ১২ দিন দেয়া উচিত।
২৭) কুরবানীর চামড়া দান প্রসঙ্গে: না-হক্ব কখনো হক্বদার হতে পারে না
না-হক্ব তথা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত কথিত ইসলামী দলগুলো কোন দান ছদকা, যাকাত, পবিত্র কুরবানীর চামড়া বা তার মূল্য পাওয়ার হক্বদার হতে পারেনা। কেননা, তারা হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার শান-মান নিয়ে চু-চেরা কিলকাল করার কারণে মহান আল্লাহ পাক তাদের প্রতি লা’নত বর্ষন করেছেন; যার ফলে তাদের কুফরী আক্বিদার কারণে বাতিল তথা জাহান্নামী হয়ে গেছে। তাদের কিছু কুফরী আক্বিদা হচ্ছে এমন যে, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের মতো সাধারণ মানুষ, তিনি মাটির তৈরী, তিনি হাজির নাজির নন, তিনি ইলমে গইব জানেন না, তিনি মরে পঁচে মাটির সাথে মিশে গেছেন। নাউযুবিল্লাহ! তাদের আরো কুফরী আক্বিদা হচ্ছে- মিলাদ শরীফ-ক্বিয়াম শরীফ বিদয়াত, পবিত্র ঈদে মীলাদুন নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পালন করা বিদয়াত, পবিত্র শবে বরাত পালন করা বিদয়াত ইত্যাদি। নাউযুবিল্লাহ!

এসমস্ত আলেম নামধারী জাহান্নামীরা পবিত্র কুরবানীর ঈদে পশু জবাই করতে ও চামড়া সংগ্রহ করতে ঈদের নামায না পড়েই ছুরি নিয়ে বের হয়ে পড়ে। অনেকে পশুর চামড়া দেয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা মূলক কথার ফাঁদে পড়ে চামড়া দিয়ে দেয়। তারা বুঝিয়ে থাকে যে, ‘এলাকার মাদরাসা হিসেবে আমরাই আপনার পশু জবাই করার হক্বদার, পশুর চামড়া পাওয়ার হক্বদার। আমাদেরকেই দিতে হবে।’ নাউযুবিল্লাহ! তাদের এরূপ বক্তব্য ছলচাতুরি, মিথ্যা ও ধোকা ছাড়া আর কিছুই নয়। এরা বাতিল ফিরক্বার অন্তর্ভূক্ত হওয়ার কারণে এদেরকে দিলে মূলত আল্লাহ পাক অশন্তুষ্ট হবেন এবং দানকারীর দান কবুল করবেননা। সূতরাং নাহক্ব বাতিল জাহান্নামীদের কোন হক্ব নেই। হক্বদার কেবল আহলু সুন্নাত ওয়াল জামায়াত উনার বিশুদ্ধ আক্বিদা যারা পোষণ করেন এবং আমল করেন সেসকল হক্কানী রব্বানী আল্লাহ ওয়ালাগণ উনারাই।
২৮) প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পবিত্র কুরবানীকে নিয়ে চক্রান্ত: ‘ফরমালিন’ তত্ত্ব প্রয়োগ করে এবার গরুর রক্ত পরীক্ষা॥ জনমনে ‘গরু ভীতি’ ছড়ানোর পাঁয়তারা
প্রতিবছরের ন্যায় এবারও গরু কুরবানীকে কেন্দ্র করে শুরু হয়ে গেছে গরু কুরবানীতে নিরুৎসাহী করার চক্রান্ত। কয়েকবছর আগে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোতে শোর উঠে, ‘কুরবানী না করে এই টাকা সিডরে দুর্গতদের দান করুন’। ২০১২ সালের কুরবানীর আগে নতুন গরু কুরবানীতে ভীতি ছড়ানোর চক্রান্তের নাম ছিল ‘অ্যানথ্রাক্স’। ২০১৩ সালে কুরবানীতে বাধা সৃষ্টির কূটকৌশল ছিল- ‘ঈদের তিন দিন আগে কোনো পশুর গাড়ি ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে না’ -এমন আদেশ সম্বলিত সরকারি নোটিশ।

এবার ২০১৪ সালের চক্রান্ত আরো জটিল। মুসলমানদের কুরবানী নষ্ট করতে এবারের ঘোষণা হচ্ছে, “প্রাণিসম্পদ অধিদফতর জানিয়েছে, ক্ষতিকর ওষুধ সেবনের মাধ্যমে মোটাতাজা করা গরু কোরবানির হাটে তোলা হলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। ঈদুল আযহায় প্রতিটি গরুর হাটে চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে গরুর রক্ত পরীক্ষা করা হবে। যদি কোনো গরুর রক্তে বিষাক্ত কিছু ধরা পড়ে, তাহলে সেই গরুকে সিল করে গরু বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

ঘোষণা শুনে অনেকেই হয়তো ভাববে, সরকার তো ভালো উদ্যোগই নিয়েছে। কিন্তু মূল উদ্দেশ্যটা বুঝতে হলে ‘আমে ফরমালিন’-এর বিষয়টা ফিকির করতে হবে। ফরমালিনের নামে এবার হাজার হাজার কোটি আম ধ্বংস করা হয়েছে সরকারিভাবে। আসলে সবগুলো আমে কি ফরমালিন ছিলো? এছাড়া আম উৎপাদনকারী এবং আম বিক্রেতাদের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা কি কেউ হিসেব করেছে? এসব ছাড়াও ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো ‘ফরমালিন’ কথাটা দিয়ে পাবলিকের মাথা যেভাবে গরম রেখেছে তাতে জনে জনে ‘আম’-এর প্রতি ভীতি সঞ্চার হয়েছে। ফলে কোটি কোটি মানুষ কষ্ট করে হলেও এবার সুসাদু মৌসুমি ফল আম থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে। ভারতের অনুগত সরকারকে দিয়ে হিন্দুরা এ চক্রান্তে সফলতা পাওয়ার পর এবার কুরবানীতেও একই তত্ত্ব প্রয়োগের চেষ্টা করছে। গরু (হিন্দুদের কথিত মা) যেন মুসলমনরা জবাই না করে সেজন্য গরুর রক্ত পরীক্ষার নামে ‘ফরমালিন পরীক্ষা’র মতোই নতুন ফোবিয়া (ভীতি) ছড়ানো শুরু করেছে। দেশের ৯৭ ভাগ মুসলমানদের হিন্দুদের এ চক্রান্ত থেকে সতর্ক থাকতে হবে। সরকার যদি হিন্দুদের কথামতো চলে তবে তার ফল সরকারকে ভোগ করতে হবে।
২৯) ওহাবী, খারেজি, সালাফীরা সন্ত্রাসবাদে বিশ্বাসী, এদেরকে পবিত্র কুরবানির চামড়া দান সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে শরিক থাকার শামিল
ইউরোপ-আমেরিকা থেকে সন্ত্রাসবাদী ইহুদী-খ্রিস্টানরা কট্টর ওহাবী সউদী সরকারের সহায়তায় মুসলিম দেশগুলোতে ইসলামের নামে বহু সন্ত্রাসবাদী সংগঠন সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিকভাবে তালেবান, আল-কায়দা, আইএসআইএল-এর মতো বহু ওহাবী-ছালাফী মতবাদের অনুসারী সংগঠন বর্তমানে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান, আফগান, লিবিয়াসহ বিভিন্ন মুসলিম দেশে পবিত্র মসজিদ, পবিত্র মাজার শরীফ ধ্বংস করে যাচ্ছে, নির্বিচারে মুসলমানদের শহীদ করে যাচ্ছে। এসব সংগঠনের অন্ধ অনুসারী রয়েছে আমাদের দেশের ওহাবী, সালাফি, খারেজি, লা-মাযহাবীদের পরিচালিত মাদরাসাগুলোতে, যে মাদরাসাগুলো প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং হচ্ছে ‘বিদেশী অনুদান’-এর নামে সউদী ও পশ্চিমাদের অর্থায়নে।

এসব মাদরাসায় পবিত্র কুরবানির চামড়া কিংবা তার মূল্য, আর্থিক সাহায্য করা, যাকাত দেয়া মূলত সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে শরিক থাকার শামিল। এতে যাকাত, ফিতরা, ওশর, দান ছদকা, পবিত্র কুরবানির চামড়া ইত্যাদি দান করলে তা কবুলতো হবেই না, বরং ইসলামে নিষিদ্ধ কাজে সহায়তা করার জন্য পরকালে দাতাকেও জাহান্নামে যেতে হবে।

কাজেই সরকারকে কওমি খারিজী-আলিয়া ভিত্তিক মাদরাসা বিশেষ করে চরমোনাই, হেফাজত, তাবলীগওয়ালা, জামাতী, লা-মাযহাবীদের মাদরাসাগুলোর অর্থসংস্থানের উৎস খতিয়ে দেখতে হবে, সরকারিভাবে তাদের মাদরাসাগুলোতে যাকাত, ফিতরা, দান-ছদকা, কুরবানীর চামড়া প্রদানে নিষেধাজ্ঞা জারি করতে হবে। বাংলাদেশ থেকে সমস্ত সন্ত্রাসবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে।
৩০) সরকারের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার উদ্যোগ কি আদৌ বাস্তব কোন বিষয়?
গত বছরের মত এ বছরও সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার। ইতিমধ্যে সরকার সারা দেশে ৬২৩৩টি স্পট নির্ধারণ করে বলছে সেখানে পশু কোরবানী করার। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে- কে পশু কোরবানী করবে, কোন কোন কসাই মাংশ প্রসেসিং করবে এমনকি কোথায় মাংশ বণ্টন হবে সেটাও সরকার নির্ধারণ করে দিবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এই যে মহাযজ্ঞ করছে, আদৌ কি নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী সম্ভব ?? আমাদের পুরো দেশের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই, আসুন রাজধানী ঢাকা নিয়ে একটু চিন্তা করি। ক) ঢাকা শহরে দুই সিটি কর্পোরেশন স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫০টি। সারা বাংলাদেশে যদি আনুমানিক ১ কোটি পশু কোরবানী হয়, তবে ঢাকায় কোরবানী হয় প্রায় ৩০ লক্ষ পশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতি স্পটে কোরবানী করতে হবে ২৬০৮টি পশু। খ) একই সাথে যদি ১০০টি করে গরু ফেলানো হয়, তবে ২৬০৮টি গরু ফেলাতে ২৬টি টার্ম দরকার হবে । ৩ দিন যদি হয়, তবে প্রতিদিন ৯টি করে টার্ম আসবে অর্থাৎ প্রতি মাঠে প্রতিদিন ৯০০ গরু জবাই করতে হবে। প্রত্যেকটি কসাই টিমকে দৈনিক ৯টি করে গরু জবাই করতে হবে। গ) এক সাথে ১০০টি গরু জবাই করা যায়, এমন বিশাল মাঠের প্রয়োজন। এরকম ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠের প্রয়োজন। তবেই এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠ কোথায় ?? ঘ) প্রতি মাঠে ১০০টি কসাই টিম (কমপক্ষে ৪ সদস্য) লাগবে। পুরো ঢাকা শহরে লাগবে ১১৫০গুন১০০গুন ৪ = ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই। এরা টানা তিন দিন কাজ করবে। অবশ্য সরকার সারা দেশের জন্য মাত্র ১২ হাজার ৬৩৮ জন কসাই নির্ধারণ করেছে। (লিঙ্ক নিচে) ঙ) প্রত্যেক টিম ১টি গরু জবাই ও প্রসেসিং করার জন্য সময় পাবে মাত্র ১ ঘণ্টা করে। ৯ ঘণ্টায় (সকাল ৯- সন্ধা ৬টা) ৯টি করে পশু জবাই করতে হবে। যদিও বাস্তবে প্রত্যেক গরু প্রসেসিং এ সময় লাগে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা। তারমানে দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি কাজ ১১৫০টি স্পটে, ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই একযোগে তিন দিন কাজ করলেও মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ (১০ লক্ষ পশু) করতে পারবে, বাকি (২০ লক্ষ) পশু ঐ তিন দিন জবাই করা সম্ভব নয়। তবে হ্যা, সরকার একটি কাজ করলেই কেবল এই নির্দ্দিষ্ট স্থানে কোরবানী করার উদ্যোগ সফল করতে পারে, তা হলো আলাউদ্দিনের চেরাগের সাহায্য নিলে। যদি আলাউদ্দিদের দৈত্য কোন উপায় বাতলে দেয়, তবেই সরকারের এ উদ্যোগ সম্ভব বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব, এছাড়া বাংলাদেশের মত এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নির্দ্দিষ্টস্থানে পশু জবাইয়ের মত বেকুবমার্কা সিদ্ধান্ত কখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
৩১) বাংলাদেশে কোরবানী বন্ধের গভীর ষড়যন্ত্র
গত কয়েক বছর আগে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে গরু জবাই বন্ধ করতে আহ্বান জানিয়েছিলো বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। এ দাবির পর তীব্র প্রতিবাদ হওয়ায় হিন্দু নেতৃত্বাধীন সংগঠনটি দাবি করে- তারা এ ধরনের কোন বক্তব্য পেশ করেনি, সাংবাদিক ভুল খবর ছেপেছে। কিন্তু এরপর ফাঁস করা হয় ঐ অনুষ্ঠানের ভিডিও। সেখানে দেখা যায়, সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা স্পষ্ট বলছে- বাংলাদেশে গরু কোরবানি বন্ধ করার জন্য। (https://youtu.be/AvrEc4gUKRs)

আসলে ঐ দিনের পর অনেকে হয়ত ভেবেছেন- এটা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একটি মৌখিক বিবৃতি মাত্র। কিন্তু না। যেহেতু ভারতের গরু কোরবানী বন্ধ করা হয়েছে, এবার বাংলাদেশেও গরু কোরবানী বন্ধ করা হিন্দুদের অন্যতম টার্গেট। ইতিমধ্যে অনেকেই ইনবক্স করেছে, এবার তাদের এলাকায় গরু কোরবানী বন্ধ করার টার্গেট নিয়েছিলো হিন্দুরা, কিন্তু মুসলমানদের দৃঢ়তায় সেখানে তারা সফল হয়নি। এবার আমরা অনেকেই দেখেছি, ভারতীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে সরকারীভাবে কোরবানীর অনেক বিরুদ্ধচারণ হয়েছে। হাটের সংখ্যা হ্রাস করা হয়েছে, হাটগুলোকে শহর থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, জবাইয়ের স্পট নির্দ্দিষ্ট করা হয়েছে, জবাইকারীর বয়স নির্দ্দিষ্ট করা হয়েছে, হাটগুলো উচ্ছেদ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় হাইকমিশনের টাকা খেয়ে মিডিয়াগুলোও এক চেটিয়া কোরবানীর বিরুদ্ধচারণ করেছে। গরুতে বিষ আছে, গরুতে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু আছে, হাটের কারণে যানজট হয়, গরুর মাংশ খেলে ক্যান্সার হয়, কোরবানীতে পরিবেশ দূষণ হয় এবং সর্বশেষ কোরবানীর রক্ত নিয়ে ধারাবাহিক মিথ্যাচার করেছে মিডিয়াগুলো। আমি আপনাদের কাছে আহ্বান করবো, আপনাদের কাছে যদি এমন কোন তথ্য থাকে, কিংবা আপনাদের এলাকায় যদি কোনভাবে কোরবানিতে বাধা দেওয়া হয়, তবে সেই তথ্য ইনবক্সে আমাকে জানান, সে তথ্য পেইজে অবশ্যই প্রকাশ করা হবে। মনে রাখবেন, ষড়যন্ত্রকারীরা গোপনে গোপনে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, কিন্তু মুসলমানরা ঘুমিয়ে আছে। এখনই যদি তথ্যগুলো শেয়ার করে সবাইকে জানিয়ে না দেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে মুসলমানদের জন্য খুব কঠিন সময় অপেক্ষা করছে।
৩২) কোরবানী ঈদে দেশের অর্থনীতির কি উপকার হয় ??
সাম্প্রাতিক সময়ে কিছু মহল কোরবানীর বিরুদ্ধে লেগেছে। তারা বলছে- এত কোরবানী করার দরকার কি ? এই গোষ্ঠীর কথা শুনে ইতিমধ্যে সরকারও কোরবানীর উপর বিভিন্ন বিধি নিষেধ আরোপ করেছে, যেন মানুষ কোরবানীর পরিমাণ কমিয়ে দেয়। কিন্তু এই গোষ্ঠীটি চিন্তাই করে না কোরবানী দেশের অর্থনীতির উপর কত বিশাল ভূমিকা রাখছে। আসুন কোরবানী ঈদে বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যবসা বাণিজ্যের পরিমাণ দেখি- ১) কোরবানী ঈদ উপলক্ষে শুধু মশলার ব্যবসা হয় প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার। ২) ঈদকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিটেন্স ঢুকেছে ২৩ হাজার ৬৭০ কোটি টাকা ৩) পশু বিক্রি হয় প্রায় ৭০ হাজার কোটি টাকা ৪) চামড়া বিক্রি হয় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা, সেই চামড়া বিদেশে রফতানি করে আয় হয় ৯ হাজার কোটি টাকা ৫) কসাইরা লাভ করে প্রায় ৪-৫ হাজার কোটি টাকা ৬) গরীবরা মাংশ পায় ১০ হাজার কোটি টাকার ৭) ছুরি, বঁটি, দা, চাপাতি, রামদা ইত্যাদি উপকরণের বাজার প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা ৮) পশু খাদ্যের বাজারও প্রায় হাজার কোটি টাকা ৯) কোরবানির ঈদের পর প্রায় ২৫ হাজার মেট্রিক টন পশুর হাড় সংগ্রহ করা হয়। প্রকার ভেদে প্রতিটি কেজি গরুর শিংসহ হাড় বিক্রি হয় ১০ থেকে ২৫ টাকায়। এতেই প্রতিবছর ১০০ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়। ১০) ঈদে পরিবহন খাতে অতিরিক্ত যাচ্ছে ৬০০ কোটি টাকা। এ উৎসবে ভ্রমণ ও বিনোদন বাবদ ব্যয় হয় ৪ হাজার কোটি টাকা। এসব খাতে নিয়মিত প্রবাহের বাইরে অতিরিক্ত যোগ হচ্ছে ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ১১) সরকারি হিসেবে হাটগুলোর হাসিলের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার ৪২৫ কোটি টাকা ১২) রাজধানীর গাবতলী হাটে কোরবানির পশু সাজাতে কাগজ ও জরির মালা, রংবেরঙের দড়ি বিক্রির পরিমাণ দৈনিক ১৬ লক্ষ টাকা, শেষ ১০ দিনে প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। ১৩) গরুর অন্ডকোষ মুসিলমরা ফেলে দেয়, কিন্তু এটা চীন-জাপানরা কিনে নিয়ে সুপ বানিয়ে খায়। এ থেকে রপ্তানি হয় প্রায় ১২০ কোটি টাকা। ১৪) কোরবানি ঈদের অর্থনীতিতে লেনদেনের আকার প্রায় ৫০ লাখ কোটি টাকা, যা দেশের বাৎসরিক বাজেটের প্রায় ২০ গুন । ১৫) ঈদ উপলক্ষে অর্থনীতিতে সংযুক্ত হবে প্রায় দেড় লক্ষ কোটি টাকা ‘কোরবানি দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে’ একথা বললে আসলে ভুল হবে, বরং দেখা যাচ্ছে দেশের অর্থনীতিই নির্ভর করছে কোরবানীর উপর। তাই যে বা যারাই কোরবানীর বিরোধীতা করছে, তাদের লক্ষ্য শুধু ধর্মচর্চা বন্ধ করা নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করাও তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
৩৩) সরকার নির্ধারিত স্পটে পশু কোরবানি করতে জনগণের মধ্যে যেসকল মানবীয় গুনাবলী থাকা আবশ্যক
১) জনগণকে অসীম ধৈর্যশীল হতে হবে। তাদের সিরিয়াল ধরার মনমানসিকতা থাকতে হবে। দেখা যাবে সকাল বেলা গরু সিরিয়াল দেওয়ার পর সন্ধা বেলা জবাই হবে। কিংবা বলা হবে আগামী পরশু দিন আপনার গরুর সিরিয়াল। ২) জনগণকে খুব বিনয়ী হবে। এত গরুর ভিড়ে গরু চেঞ্চ হয়ে গেলেও মারামারি করা যাবে না। একজনের মাংশ অন্যজনের কাছে গেলে কিংবা মাংশ কম পেলে মারামারি করা যাবে না। ৩) যেহেতু সরকারী লোকজন মাংশ বণ্টনের বিষয়টিও দেখবে, তাই কোরবানী মাংশ বাসায় নেওয়ার চিন্তা বাদ দিতে হবে। অস্ত্রে মুখে যদি কেউ মাংশ নিয়ে যায়, তবে প্রতিবাদ করা যাবে না। ৪) গরুর মধ্যে শুধু নম্বর থাকবে, কিন্তু পাবলিক মাঠে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এত (গরু প্রতি ৫ জন) পাবলিক থাকলে মানুষের ভীড়ে গরু প্রসেসিং সম্ভব নয়। তাই ১০০ কেজির গরু পাঠিয়ে যদি সরকারি লোকজন ৫ কেজি মাংশ ফেরত দেয় তবে সেটা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। ৫) বাংলাদেশের বেশিরভাগ গরু ৭ ভাগে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মাংশ পাওয়ার পর ফের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেটাও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ৬) এত কাজের ভীড়ে চামড়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই চামড়ার দায়িত্ব আগে থেকেই ছাত্রলীগকে বুঝিয়ে দেওয়া যেতে পারে। ৭) যেহেতু স্পট অনেকের বাসা থেকেই দূরে হবে, তাই এত মাংশ বহন করা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। সরকারিভাবে যদি লক্ষ লক্ষ গাড়ির ব্যবস্থা থাকে তবে সেটা সম্ভব। আর যদি সরকার গাড়ির ব্যবস্থা না করে তবে ঈদের দিন ছেলে-মেলে-জামাই-বউ মিলে কান্ধে করে গরু মাংশ বাসায় নিয়ে আসতে হবে। ৮) এক যায়গায় একাধিক গরু প্রসেসিং করলে সেখানে রক্ত জমে যাবে। তাই পুনরায় ব্যবহার করার আগে পানি দ্রুত ধুয়ে ফেলতে হবে। এজন্য সরকারীভাবে ওয়াসাকে কয়েক লক্ষ পানির গাড়ি রেডি রাখতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে- মাটির মাঠে পানি দিলে কিন্তু কাদা হয়ে যাবে। তাই রক্ত-কাদার মধ্যেই সব সহ্য করার মানসিকতা থাকতে হবে। ৯) জনগণকে খুব সহনশীল হতে হবে। সরকার কসাই বাবদ যে ফিক্সড মূল্য ঠিক করে দিয়েছে সেটার কমবেশি করতে পারবে না। কসাই যতটুকু কাজ করবে তাতেই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। কারণ কসাইকে আরো গরু প্রসেসিং করতে হবে। ১০) পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১ লক্ষ (শুধু ঢাকা শহরের জন্য) পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হবে, তবে সেনাবাহিনী নিয়োগ দিলে আরো ভালো হয়। কারণ এত বড় একটি প্রক্রিয়া চালানোর সময় যদি মারামারি হয় তবে বড় ধরনের ম্যাসাকার হওয়া সম্ভবনা থাকবে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশ-সেনাবাহিনী ছাড়া কারো পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ১১) পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার কোটির টাকার বাজেট প্রয়োজন হবে। সামান্য একটি মাঠের মধ্যে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় (যে মাঠ ছিলো আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে) সরকারি বাহিনী নিয়ম শৃঙ্খলা মেইনটেইন করতে পারেনি। সামান্য ৫ মিনিটের গানের জন্য যদি সামান্য নিয়ম মেইনটেইন করা না যায়, তবে গরু প্রসেসিং এর মত এত জটিল একটি প্রক্রিয়া সরকার কিভাবে মেইনটেইন করবে, সেটা নিয়েও চিন্তা করতে হবে। উপরের সকল আয়োজন শুধু সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের কাজ সহজ করে দেওয়ার জন্য। যেন তারা সহজে কোরবানীর আবর্জনা সংগ্রহ করতে পারে। সরকারের এই মহাযজ্ঞ অনেক কঠিন। আমি বোকা সোকা মানুষ। আমি যদি প্রধানমন্ত্রী হতাম তবে এত কষ্ট করতাম না। শুধু একটা নোটিশ দিতাম- ঈদের দিন সন্ধা ৬টার মধ্যে যার যার বাসার সামনে রক্ত-ময়লা পরিষ্কার করতে হবে, এবং নিদ্দিষ্ট স্থানে ময়লার কনটেইনার রাখা আছে সেখানে ময়লা পৌছে দিতে হবে। জনগণকে নিজ দায়িত্বে কাজ করতে হবে। এটাই সরকারি আদেশ। ব্যস দেখতেন প্রত্যেক মানুষ নিজ দায়িত্বে ময়লার কন্টটেইনারে ময়লা রেখে আসছে, সিটি কর্পোরেশন কর্মীরা এসে শুধু গাড়ি তুলে নিয়ে যাবে। এত মহাযজ্ঞ করার কোন মানে হয় না, প্রথম দিনেই সব সাফ।
৩৪) কোরবানি ঈদে ঠিক কতগুলো পশু কোরবানি হয় ??
গত বছর বাংলাদেশের মন্ত্রী ও মেয়ররা এক মিটিং এ বলেছিলেন, তারা আসছে ঈদে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা রাখতে চান। এটা স্বাভাবিক- প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশে ঠিক কতগুলো পশু ঈদের সময় কোরবানি হয় ? কারণ কতগুলো পশু কোরবানী হয় এটা না জানলে সেই পশুর কোরবানির ব্যবস্থা কিভাবে হবে ? সরকারী ঐ মিটিং দাবি করা হয় বাংলাদেশে ঈদের সময় ৩০-৪০ লক্ষ পশু কোরবানী হয়। (http://goo.gl/SyEX7O) এখন আমার প্রশ্ন- আসলেই কি ঈদের সময় ৩০-৪০ লক্ষ পশু কোরবানি হয় ? আসুন একটু যাচাই করি। ১) প্রথমেই আসি বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের হিসেবে। ২০১৫ সালে বিবিসির নিউজে এসেছে তাদের দাবি- বাংলাদেশের কোরবানি ঈদে নাকি মাত্র ২৫ লক্ষ পশু জবাই হয়। (http://goo.gl/fhwOyT) ২) এবার আসি ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসেবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবমতে, ২০১৪ সালে সারাদেশে প্রায় ৭০ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে (http://goo.gl/xWQHc3) ৩) এবার আসি আড়ৎদারদের হিসেবে- তাদের দাবি- প্রতি কোরবানির ঈদে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পশুর চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছাগল ১ কোটি, গরু ৫০ লাখ, ভেড়া ও মহিষ ১৫ লাখ। সব মিলে এসব চামড়ার আয়তন প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট। (goo.gl/uZDBBw) তারমানে কোন হিসেবের সাথে কোন হিসেব মিলছে না। সরকারি জরিপগুলোর তো কোন গুরুত্ব নেই, চামড়া ব্যবসায়ীদেরটা কিছুটা আমলে নেওয়া যায়। কিন্তু পুরোটা না। কারণ সব চামড়া বাংলাদেশী আড়তে আসে না, বেশিরভাগ বর্ডার ক্রস করে ভারতে চলে যায়। অনেক বাংলাদেশী লোকাল ব্যবসায়ী চামড়ায় লবন দিয়ে ১ মাস রাখে, পরে সুযোগ বুঝে দাম বাড়ার পর বিক্রি করে নয়ত ভারতে পাঠিয়ে দেয়। তাই চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ৬০-৭০% পৌছায় কি না তার হিসেব নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। আরেকটি হিসেব আছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা্ই বলেছে- প্রতি বছর যতগুলো পশু জবাই হয়, ঠিক সমপরিমাণ জবাই হয় ঈদের সময়। এখন কথা হচ্ছে, সারা বছর কতগুলো গরু জবাই হয় ? দৈনিক কতগুলো পশু জবাই হয় ? তাহলে ৩৬৫ দিনে কতগুলো জবাই হয় ?? চামড়া ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতিদিন ঢাকায় সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার পশু জবাই হয়। সারাদেশে জবাই হয় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পশু। এই পশুদের চামড়ার অধিকাংশই ঢাকার লালবাগের পোস্তার বিভিন্ন আড়তে আসে। (http://goo.gl/5RkZ3A) তারমানে বাংলাদেশে দৈনিক পশু জবাই হয় ৩০-৩৫ হাজার। তাহলে ৩৬৫ দিনে হয় জবাই হয় ১ কোটি ২৭ লক্ষে কাছাকাছি। সে হিসেবে ঈদের সময়ও জবাই হয় ১ কোটি ২৭ লক্ষে কাছাকাছি। উল্লেখ্য চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসেবে এর অধিকাংশ বড় চামড়া বা গরুর চামড়া। তাই চামড়া ব্যবসায়ীদের যে হিসেব পাওয়া যায়, এবং ভারতে চামড়া পাচার সব মিলিয়ে দেখা যাবে বাংলাদেশে ঈদের সময় ১ কোটির নিচে গরু কোরবানী হয় না,বরং আরো বেশি হতে পারে। আর ছাগল-মহিষ মিলালে দেড় কোটি-পৌনে দুই কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সরকারীভাবে যে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার ব্যবস্থা হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা ভাববার দরকার আছে। কারণ মন্ত্রী/আমলারা জানেই না বাংলাদেশে কতগুলো পশূ কোরবানী হয়, সেই পশু কোরবানী জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া তো অনেক দূরের কথা।
৩৫) মক্কা শরীফের আদলে কোরবানী বর্জ্য অপসারণ দাবি !
অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ ! মক্কায় যে ইসলামী আইন আছে, সেই আইন চাই না, শুধু তাদের বর্জ্য অপসারণ নীতিটুকু চাই !!! বেপারটা কি ?? এত ভালো তো ভালো না। গত সোমবার পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক একটি সংগঠন এক গোলটেবিল বৈঠকে মক্কা নগরীর আদলে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণ চেয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলো সংগঠনটির চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, সহ-সম্পাদক আবুল হাসনাত, মো. সেলিম, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ প্রমুখ। আলোচনায় বক্তারা বলেছে- “যত্রতত্র পশু জবাই করা হচ্ছে। পশুর রক্ত ও আবর্জনায় রাস্তাঘাট সয়লাব। ড্রেনে পানির প্রবাহ আটকে যাচ্ছে, উপচে পড়া নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামাঞ্চলে কোরবানির বর্জ্য খোলা স্থান, ঝোপঝাড়ের পাশে, খালে-বিলে বা নদীতে ফেলা হয়। সব মিলিয়ে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটে। রোগ বিস্তারও ঘটতে থাকে। কোরবানি ঈদের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত দূর্গন্ধে নগর-জনপদের বাতাস ভারী থাকে। আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের পরে রোগবালাইয়ের হার কতটা বেড়ে যায় তার উপর কোন গবেষণা করা হয়নি।” (খবরের সূত্র-http://goo.gl/LsglJb) দেখেছেন কোরবানী এলেই এদের পরিবেশ দূষণের কথা মনে পড়ে। অথচ কোরবানীর অবশিষ্টর মধ্যে এমন কিছু থাকে না যেটা দিয়ে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। কারণ- ১) মাংশ- সবটুকু খাওয়া হয়। ২) চামড়া- চামড়া শিল্পে চলে যায় ৩) রক্ত - মাটি ও পানির জন্য অসম্ভব উপকার। পানিতে পড়লে মাছের খাদ্য, আর মাটিতে পড়লে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে। ৪) গোবর (ভূরিসহ) - বিভিন্ন পুকুরে মাছে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাটিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ৫) হাড়- অবশিষ্ট অংশ দিয়ে অনেক কিছু তৈরী হয়। হাড়ের গুড়ো মাটির জন্য অনেক উপকারি। হাড়গুলো দিয়ে ঔষধ, হাস-মুরগীর খাদ্য তৈরী হয়। তাহলে বাকি আর থাকলো কি যেটা দিয়ে পরিবেশদূষণ হচ্ছে ?? পুরেটাই তো জৈবিক বর্জ্য, এখানে পরিবেশ দূষণের কোন কারণই থাকতে পারে না। অথচ দুর্গা পূজায় মূর্তি তৈরীতে যে সব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার হয় তা নদীগুলোকে মারাত্মক দূষিত করে। যেনে রাখুন- এররকম প্রায় ২৮ হাজার মূর্তি নদীতে ফেলানো হয় প্রতি বছর। তখন কিন্তু উনারা চূপ করে থাকেন, কোন কথা বলেন না।। (পড়তে পারেন- মূর্তি বিসজর্নে ভয়াবহ নদী দূষণ-http://goo.gl/zjn8MM, http://goo.gl/YM3ui8) আসল কথা হচ্ছে, এদের কোরবানি আসলেই চুলকানি শুরু হয়, কোরবানি আসলেই ঘেন্না হয়। অথচ পাঠাবলি সময়, মূর্তি বিসর্জনের সময় ঘেন্না হয় না। শুধু সমস্যা কোরবানি নিয়ে। উল্লেখ্য এর আগেও সংগঠনটি ‘পশুর হাট হলে পরিবেশ দূষণ হয়’ (http://goo.gl/g3h9al) এবং ‘কোরবানীর গরুতে বিষ আছে’ এমন উদ্ভট যুক্তি ছড়িয়েছিলো (http://goo.gl/q394oh)। এটা স্পষ্ট- পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটি হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কোরবানি বিরোধী একটি সংগঠন। এদের কাজ হচ্ছে পরিবেশ দূষনের ধোয়া তুলে বাংলাদেশে কোরবানির পথ বন্ধ করা। বলাবাহুল্য পরিবেশের নাম দিয়ে সংগঠন খুললেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা রুপপুর পরমানূ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এদের কোন আন্দোলন করতে দেখা যায়নি।। (তাদের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন- http://www.pobabd.org/) আসলে পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটিহচ্ছে- ভারতীয় গো রক্ষা কমিটির বাংলাদেশী ভার্সন, যাদের চালানো হয় ভারতের সোনাগাছি থেকে। তাই আজই এদের লাথি মেরে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।
৩৬) পূজা হবে ঘরে, ঈদ হবে দূরে !!!
কোরবানির ঈদে সরকার নির্ধারিত স্পটে জবাই করতে হবে
গত ২ বছর এই প্রচেষ্টা চালিয়েছে আওয়ামী সরকার।
কিন্তু পাবলিকের বিরোধীতায় সফল হয়নি,
এ বছরও একই কার্যক্রম শুরু করেছে তারা।

তাদের কথা হলো- পূজা হবে ঘরে, ঈদ হবে দূরে।

ইউরোপ-আমেরিকায় দূর জঙ্গলে গিয়ে কোরবানী করতে হবে,
ভারতে গরুর আছে এমন সন্দেহ হলেই পিটিয়ে মারা হয়,
আর এখন বাংলাদেশেও সেই প্রসেসিং চালাচ্ছে আওয়ামী সরকার

সিস্টেমটা অবশ্য ভিন্ন, যদি স্পট নির্দ্দিষ্ট করে দেওয়া যায়,
তবে সমস্যায় পতিত হয়ে কোরবানী হ্রাস করা সম্ভব
সেই প্রচেষ্টা সফল করতেই স্পষ্ট নির্দ্দিষ্টকরণ

গত ২ বছর মুসলমানদের বাধায় তারা সফল হয়নি, এবার দেখা যাক তারা সফল হয় কি না ....
৩৭) রাজধানী ঢাকা শহরে বর্জ্য অপসারণ
ছবিটি গত দুই বছর আগে ঈদুল আযহার সময়কার- রাজধানী ঢাকা শহরে নির্দ্দিষ্ট স্থানে রাখা ময়লার কন্টেইনারগুলো ৩ দিনেও সরায়নি সিটি কর্পোরেশন (http://goo.gl/v9BbsP)। একবার চিন্তা করুন- যে সিটি কর্পোরেশন ৩ দিনেও ময়লার কন্টেইনার শুধুমাত্র ক্রেনগাড়ি দিয়ে তুলে নিতে আলসেমি করে, সেই সিটি কর্পোরেশন কিভাবে ১১শ’ স্পটের লক্ষ লক্ষ গরুর রক্ত-মাংশ-ভূড়ি নিমিষেই পরিষ্কার করবে ?? (উল্লেখ্য- সিটি কর্পোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তার নাম হচ্ছে বিপন কুমার সাহা)। আসুন একটু হিসেব কষি- ঢাকা শহরে কোরবানি হয় কমপক্ষে ৩০-৪০ লক্ষ পশু স্পট দেওয়া হয়েছে মাত্র ১১০০টি তাহলে প্রতিস্পটে কোরবানি করতে হবে প্রায় ৩৬০০টি পশু দুই সিটিতে বর্জ্য অপসারণে নিয়োজিত থাকবে প্রায় ১৫ হাজার কর্মী তাহলে প্রতি স্পটে বর্জ্য অপসারণ করবে গড়ে ১৩ জন কর্মী। তাহলে ১ জন কর্মীকে গড়ে অপসারণ করতে হবে কমপক্ষে ২৭৬টি পশুর বর্জ্য। যেহেতু ঈদের প্রথম দিনই প্রায় সব পশু কোরবানি হয় তাই প্রথম দিনই ২৭৬টি পশুর বর্জ্য অপসারণের দায়িত্ব নিতে হবে। আর একই স্পটে যেহেতু বার বার পশু জবাই করা হবে, তাই স্পটে বর্জ্য ফেলে রাখা যাবে না,তৎক্ষণাত পরিষ্কার করতে হবে। তাই সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা, এই ১২ ঘণ্টা হিসেব করলে প্রতি ঘণ্টায় একজন কর্মীকে পরিষ্কার করতে হবে গড়ে ২৩টি পশুর বর্জ্য। আমার জানা মতে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিরা, বিশেষ করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন কর্মীরা খুবই অলস টাইপের হয়। এরা এক দিনের কাজ ৭ দিনে করে। প্রতি কর্মী ঘণ্টায় গড়ে ২৩টি পশুর বর্জ্য পরিষ্কার করবে, এটা একটা গাধাও বিশ্বাস করতে চাইবে না। বরং দেখা যাবে- পাবলিককে নির্ধারিত স্পটে নামিয়ে এরা চম্পট দিয়েছে। তখন আম-ছালা সব হারাতে হবে পাবলিককে।
৩৮) কুরবানীতে পশু জবাই ও স্পট নির্ধারণ নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ
আসুন একটু হিসেব কষি- ধরুন, ঢাকা শহরে কমপক্ষে জবাই হবে ৩০ লক্ষ পশু। পশুর জন্য নির্ধারিত স্পট সংখ্যা ৫০০টি। হিসেব করলে দাড়ায়, প্রতি স্পটে পশু জবাই হবে গড়ে ৬০০০টি। এবার আসুন, মাঠের আয়তনের দিকে। ধরুন আপনার এলাকায় একটি বড় মাঠ আছে, যেখানে এক সাথে দুটি বড় ফুটবল ম্যাচ হতে পারে। (এত বড় মাঠ ঢাকায় কয়টি আছে ?) সেখানে গরু ফেলানো হলো। বলতে পারেন একসাথে কতটি গরু ফেলানো যাবে ? ধরলাম একসাথে এত বড় মাঠে ২০০টি গরু ফেলানো যাবে। আবার পুরো মাঠে ২০০টি কসাই টিমও সদা প্রস্তুত থাকবে। এরপর শুরু হলো কার্যক্রম। ৬০০০টি গরুকে কোরবানী দিতে মোট ৩০টি টার্ম প্রয়োজন। অর্থাৎ একটি কসাই টিমকে (৪ সদস্য বিশিষ্ট) পরপর ৩০টি গরু জবাই করতে হবে। সময় আছে সকাল ৯টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত, মানে ৯ ঘণ্টা। হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে প্রতি গরুর জন্য কসাই টিম পাবে গড়ে ১৮ মিনিট করে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে একটি চৌকশ টিমের জন্য ১টি সম্পূর্ণ গরু প্রসেসিং এর জন্য নূণ্যতম ৩ ঘণ্টা করে লাগবে। অর্থাৎ দিনে একটি চৌকশ টিম ৩টির বেশি গরু ফিনিশিং দিতে পারবে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সরকার যদি ২০০ x ৫০০ = ১ লক্ষ কসাই টিম (৪ সদস্য বিশিষ্ট) রেডি করে, তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ গরু কোরবানী করা সম্ভব। ঈদ তিন দিন হলে তবে কোরবানী করা সম্ভব ৯ লক্ষ গরু। বাকি ২১ লক্ষ কোরবানী ৩ দিনে সরকার করতে পারবে না। তিন দিনে মাত্র ৯ লক্ষ কোরবানী করতে সরকারের যা যা দরকার হবে- ১) ৫০০টি বিশাল আকারের মাঠ, যেখানে একসাথে ২০০টি গরু প্রসেসিং করা সম্ভব। ২) ১ লক্ষ কসাই টিম, মোট সদস্য হবে কমপক্ষে ৪ লক্ষ ৩) জবাইয়ের জন্য হুজুর প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২০ হাজার ৪) জনগণকে অসীম ধৈর্যশীল হতে হবে। তাদের সিরিয়াল ধরার মনমানসিকতা থাকতে হবে। দেখা যাবে সকাল বেলা গরু দিয়ে আসা হয়েছে সন্ধা বেলা জবাই হবে। কিংবা বলা হবে আগামী পরশু দিন আপনার গরুর সিরিয়াল। ৫) জনগণকে খুব বিনয়ী হবে। এত গরুর ভিড়ে গরু চেঞ্চ হয়ে গেলেও মারামারি করা যাবে না। একজনের মাংশ অন্যজনের কাছে গেলে কিংবা মাংশ কম পেলেও মুখ বুজে সহ্য করতে হবে। ৬) গরুর মধ্যে শুধু নম্বর থাকবে, কিন্তু পাবলিক মাঠে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এত (গরু প্রতি ৫ জন) পাবলিক থাকলে মানুষের ভীড়ে গরু প্রসেসিং সম্ভব নয়। ৭) পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১ লক্ষ (শুধু ঢাকা শহরের জন্য) পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হবে, তবে সেনাবাহিনী নিয়োগ দিলে আরো ভালো হয়। কারণ এত বড় একটি প্রক্রিয়া চালানোর সময় যদি মারামারি হয় তবে বড় ধরনের ম্যাসাকার হওয়া সম্ভবনা থাকবে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশ-সেনাবাহিনী ছাড়া কারো পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। ৮) পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার কোটির টাকার বাজেট প্রয়োজন হবে। সামান্য একটি মাঠের মধ্যে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় (যে মাঠ ছিলো আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে) সরকারি বাহিনী নিয়ম শৃঙ্খলা মেইনটেইন করতে পারেনি। সামান্য ৫ মিনিটের গানের জন্য যদি সামান্য নিয়ম মেইনটেইন করা না যায়, তবে গরু প্রসেসিং এর মত এত জটিল একটি প্রক্রিয়া সরকার কিভাবে মেইনটেইন করবে, সেটা নিয়েও চিন্তা করতে হবে। ৯) বাংলাদেশের বেশিরভাগ গরু ৭ ভাগে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মাংশ পাওয়ার পর ফের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেটাও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১০) এত কাজের ভীড়ে চামড়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই চামড়ার দায়িত্ব আগে থেকেই ছাত্রলীগকে বুঝিয়ে দিতে হবে। ১১) যেহেতু অনেক লোক একসাথে মাংশ বাসায় নিয়ে যাবে, তাই যানবাহনের তীব্র সংকট হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে মাঠ প্রতি ২০০টি ভ্যান, অর্থাৎ ৫০০ স্পটের জন্য ১ লক্ষ ভ্যানগাড়ি ও চালকের ব্যবস্থা রাখতে হবে। ১২) জনগণকে খুব সহনশীল হতে হবে। সরকার কসাই বাবদ যে ফিক্সড মূল্য ঠিক করে দিয়েছে সেটার কমবেশি করতে পারবে না। তবে সিরিয়াল আগে আনার জন্য সামান্য ঘুষের (অর্থমন্ত্রীর ভাষায় স্পিড মানি) ব্যবস্থা রাখতে পারে। ১৩) এতকিছুর আয়োজন শুধু সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের কাজ সহজ করে দেওয়ার জন্য। আর সর্বসাকূল্যে তাদের সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার (বেশিরভাগ অস্থায়ী, শুধু সকালে ঝাড়ু দেয়)। যাই হোক, সরকার মহোদয় যেহেতু ইচ্ছা পোষণ করেছে, তাই কিছু্ই করার নেই। তবে আমার মনে হয়, অবশ্যই সেটা সম্ভব, তবে সেটা মানুষের পক্ষে নয়, আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের পক্ষেই সম্ভব। সিটি কর্পোরেশন দৈত্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, দেখা যাক দৈত্য কি বলে ....... লেখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা ও তথ্যগুলো নিচের সূত্র থেকে নেওয়া: ১) পুরো বাংলাদেশে কোরবানী হয় ৮০-৯০ লক্ষ-- www.newsbangladesh.com/ঈদে-প্রয়োজন-৮০-৯০-লাখ-পশু-আছে-…/12197 ২) http://www.manobkantha.com/2015/08/28/61201.php ৩) স্পটে আলাদা কসাইয়ের লিস্ট---bn.mtnews24.com/…/কোরবানি-সম্পর্কে-যা-নিদের্শনা-দিলেন-প… ৪) ঢাকা কোরবানী হয় প্রায় ৩০ লক্ষ, সূত্র----http://banglanews24.com/fullnews/bn/421178.html
৩৯) কোরবানি নিষিদ্ধ করলো ভারত !!!
ভারতে গরু নিষিদ্ধের পর এবার পুরো কোরবানি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকার থেকে প্রত্যেক রাজ্য সরকারের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কড়াকড়ি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সম্পর্কে গত ২৫শে আগস্ট দৈনিক আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়- “গবাদি পশুর হত্যা এবং পরিবহণের উপরে বিধিনিষেধ আরোপ করে রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠাল কেন্দ্র। বকর ইদ বা কুরবানির ইদে অবাধে গরু, বাছুর, উট এবং অন্যান্য পশুর নিধন যেন না হয়। নির্দেশ ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ডের।” আনন্দবাজার পত্রিকায় আরো বলা হয়- শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সবক’টি রাজ্য সরকারকেই ভারতীয় প্রাণী কল্যাণ বোর্ড এই চিঠি পাঠিয়েছে। ...পশু হত্যা বিরোধী আইন এবং আদালতের বিভিন্ন রায়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ উল্লেখ করা হয়েছে সেই চিঠিতে। আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও একাধিক বার লেখা হয়েছে।” চিঠিতে স্পষ্ট করে ‘বকর ইদ’ উল্লেখ আছে। বলাবাহুল্য প্রাণী হত্যা বিরোধী এই আইনের চিঠি কিন্তু কালী পূজা, পাঠা বলী উৎসবের সময় দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র কোরবানি ঈদ বন্ধ করার জন্য এই আইনের প্রয়োগ। কি বুঝলেন ???? বাংলাদেশের মুসলমানরা যখন সেক্যুলারিজমের আনন্দে ভাসছে, মসজিদ ভেঙ্গে মন্দির গড়ে দিচ্ছে তখন ভারত সরকার ডাইরেক্ট কোরবানি নিষিদ্ধ করে দিয়েছে। এতদিন শুধু গরুতে নিষেধ ছিলো, কিন্তু এখন সবকিছুতেই নিষেধ। মানে মুসলমানদের ধর্মীয় উৎসবেই নিষেধ। আর এরপর হয়ত মুসলমানই নিষিদ্ধ। আসলে মুসলমানরাই সাম্প্রদায়িক-জঙ্গী, আর হিন্দুরা সব অসাম্প্রায়িক সহনশীল... খবরের সূত্র: আনন্দবাজার- http://goo.gl/C3bv8J চ্যানেল আই- http://goo.gl/lMe6hD ইত্তেফাক- http://goo.gl/bxo0Pg
৪০) পূজায় সরকারি বরাদ্দ আছে, ঈদে সরকারি বরাদ্দ কোথায় ??
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পূজা উপলক্ষে সরকারিভাবে বরাদ্দ রাখা হয়। মণ্ডপ প্রতি সরকারি বরাদ্দ হচ্ছে ৫০০ কেজি চাল। এভাবে সারা দেশে ২৮০০০ হাজার মণ্ডপে সরকারি বরাদ্দ দেয়া হয়। এছাড়া ম্যাজিট্রেট, ডিসি, এসপি, এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে আলাদা অনুদান তো আছেই। ধরে নিলাম প্রতি কেজি চালের মূল্য ৫০ টাকা। তাহলে ৫০০ কেজি চালের মূল্য দাড়ায় ২৫ হাজার টাকা। তাহলে ২৮০০০ হাজার মণ্ডপে সরকারী বরাদ্দ দেয়া হয় = ৭০ কোটি টাকা ধরে নিলাম ১টি কোরবানির গরুর মূল্য ৫০ হাজার টাকা। তাহলে ৭০ কোটি টাকা দিয়ে ১৪ হাজার গরু ক্রয় করা যাবে। ধরে নিলাম ৫০ হাজার টাকার ১টি গরুতে ১০০ কেজি গোশত হয় তাহলে ১৪ হাজার গরুতে গোশত হবে ১৪ লক্ষ কেজি । প্রত্যেক দরিদ্র ব্যক্তিকে যদি ২৫০ গ্রাম করে গরুর মাংশ দেওয়া হয় তবে ১৪ লক্ষ কেজি গোশত দেয়া যাবে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র ব্যক্তিকে। অর্থাৎ যে পরিমাণ বরাদ্দ পূজা মণ্ডপগুলোতে মূর্তি পূজার জন্য দেওয়া হচ্ছে, সেই সমপরিমাণ বরাদ্দ যদি ঈদ উপলক্ষে দরিদ্র মানুষগুলোকে দেয়া হতো তবে সেখান থেকে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র মানুষ একটি দিনের জন্য পেট ভরে গোশত খেতে পারতো, পূরণ হতো তাদের আমিষের চাহিদা। শুনেছি, সরকার নাকি পশু কোরবানির জন্য স্থান নির্দ্দিষ্ট করেছে। কসাই নির্দ্দিষ্ট করেছে, জবাইকারী হুজুরও নির্দ্দিষ্ট করেছে। খুব ভালো কথা। সরকার তাহলে কোরবানী উপলক্ষে সরকারীভাবে ব্যবস্থা করুক সেখানে সরকারী টাকা দিয়ে গরু ক্রয় করে, সেই গোশত গরীবদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। পূজায় যতটুকু বরাদ্দ দেয়া হয়, ততটুকু বরাদ্দ দিলেই কমপক্ষে ৫৬ লক্ষ দরিদ্র ব্যক্তির মধ্যে ঈদের দিন গোশত বণ্টন করা সম্ভব । সরকার মহোদয়, জনগণের স্বার্থে বিষয়টি একটু ভেবে দেখবেন কি ???
৪১) বাংলাদেশে চলছে কোরবানী নিষিদ্ধ করার প্রক্রিয়া
রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মিটিং হয়েছে। সেখান থেকে বলে দেওয়া হচ্ছে নির্দ্দিষ্ট স্থানে কোরবানী করতে হবে। শুধু তাই না- কোথায় কতগুলো পশু কোরবানী হবে, পশুগুলো কোথায় রাখা হবে, পশু জবাই কে করবেন কোরবানী শেষে কিভাবে ময়লা পরিষ্কার করা হবে এমনকি মাংস বিতরণ কিভাবে হবে তারও কর্মপরিকল্পনা তৈরী করে দেবে সরকারী কর্মকর্তারা। (http://goo.gl/8LqDLR) এটা জেনে রাখা দরকার- আন্তর্জাতিক ইসলাম বিদ্বেষী একটি মহল সর্বদা সক্রিয়, যাদের কাজ হচ্ছে কোরবানীর বিরোধীতা করা। এই গ্রুপটি সরকারকে চাপ দিয়ে নানা ধরনের ইসলাম বিরোধী সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে। যেহেতু বাংলাদেশে সরাসরি কোরবানী নিষিদ্ধ করা যাচ্ছে না, তাই এরা সরকারকে বিভিন্ন ধরনের কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতে বলে, যার মাধ্যমে মানুষ কোরবানীতে হয়রানি সৃষ্টি করে নিরুৎসাহিত করা যাবে। যেমন- ১) নিদ্দির্ষ্ট স্থানে পশু কোরবনীর সিস্টেম করে মানুষকে হয়রানী করা হবে। ২) ১৮ বছরের নিচে কেউ কোরবানী করতে পারবে না। উদ্দেশ্য কোরবানী মানুষকে সহিংসতা শেখায় এটা বোঝানো। ৩) পশু জবাইকারী নির্দ্দিষ্ট করে হয়রানি সৃষ্টি করা। ৪) মাংশ বিতরণও সরকারী উদ্যোগে করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে । এতে সরকার দলীয় লোকজনের বিরাট মাংশ ইনকাম করবে। উল্লেখ্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় এতিম ছাত্রদের জন্য দেওয়া ফ্রি চামড়ার টাকা মেরে খাচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীরা। এদিকে, ‘পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন’ নামক একটি সংগঠন বলেছে, “পরিবেশের ক্ষতি হবে এমন জায়গায় হাট বসানোর অনুমতি দেয়া যাবে না।” (http://goo.gl/AmWbwv) অর্থাৎ হাটেও সীমাবদ্ধতা আনার জন্য ইসলাম বিদ্বেষী মহল উঠে পড়ে গেলেছে । জানা গেছে, সারা দেশে বিভিন্ন স্থানে হাটের ব্যাপারে বিধিনিষেধ আরো করছে সরকার। যেমন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এক সময়কার বিশাল হাট (অন্নদা বোর্ডিং মাঠ) বন্ধ করে দিয়েছে। এর বদলে ছোট পরিসরে ট্যাংকের মাঠে কোরবানীর হাট করতে বলেছে। অথচ ঐ মাঠটিতে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ নানান কৌশলে কোরবানীতে বিধি নিষেধ আরোপ করছে ইসলাম বিদ্বেষী মহল ও প্রশাসন। বাংলাদেশে ইসলামী দলগুলোর উচিত পশুর হাট বন্ধ, জবাইয়ের স্থান ও জবাইকারীর বয়স নির্দ্দিষ্টকরণ ইত্যাদি উপায়ে কোরবানীতে হয়রানির সৃষ্টির বিরুদ্ধে তী্ব্র প্রতিবাদ করা। এখনই যদি এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ না করা হয়, তবে শিঘ্রই বাংলাদেশে ভারতের অনুরূণ গরু জবাই নিষিদ্ধ হতে বেশি সময় লাগবে না।
৪২) কোরবানীর বিরুদ্ধে হিন্দু সাংবাদিকের উদ্ভট নিউজ
পত্রিকার নাম- সকালের খবর, সম্পাদকের নাম কমলেশ রায়। মানুষকে কোরবানীর গরু সম্পর্কে ভয় দেখানোর জন্য উদ্ভট নিউজ করছে এই পত্রিকাটি। দাবি করছে- স্টেরয়েড ব্যবহারে নাকি গরু বিষাক্ত হয়ে ওঠে। অথচ- ক) গরুর শরীরে মোটাতাজাকরণ ঔষধ দিলে তা গরুর মল-মূত্র দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধিকাংশ বের হয়ে যায়। খ) বাকি ঔষধ কিছু থাকলেও তা গোশত রান্নার করার পূর্বে ধৌত ও উচ্চতাপে রান্নার সময় নষ্ট হয়ে যায়। গ) গরুর শরীরে অতিরিক্ত মোটাতাজাকরণ ঔষধ দিলে গরুর শরীরে পানি চলে আসে এবং গরুটি অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পরে। অনেকক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গরুটি মারা যায়। তাই এ ধরনের মোটাতাজা গরু কখনই হাটে তোলা সম্ভব নয়। ঘ) গরু মোটাতাজাকরণ সিস্টেমটি একসময় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে যুব উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখানো হয়েছিলো। যে বিষয়টি এতদিন সরকারিভাবে শেখানো হলো, সেটা আজ হঠাৎ করে বিষাক্ত হয়ে গেলো কেন ? ঙ) ‘গরু মোটা-তাজাকরণে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই’--- এ বক্তব্য হচ্ছে খোদ ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহ’র। তিনি বলেন, “পশু মোটা-তাজাকরণ বা গ্রুথ হরমোন বাড়ানোর জন্য যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা সহনীয় পর্যায়ে। এতে গরুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং মানুষের শরীরের জন্যও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ এই ধরনের ওষুধ গরুকে খাওয়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া ৭৭ কেজি মাংসের মধ্যে যে পরিমান স্টেরয়েড থাকে তার সমপরিমান স্টেরয়েড থাকে একটি ডিমে। (https://goo.gl/H9sNzy) . মনে রাখবেন এ ধরনের খবরগুলো সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলক। সকালের খবর ছাড়াও প্রথম আলো, কালেরকণ্ঠ ও যুগান্তরের সাংবাদিকরা ইন্ডিয়ান হাই কমিশনের টাকা খেয়ে নিয়মিত এ ধরনের গরু বিরোধী নিউজ করে থাকে। উদ্দেশ্য বাংলাদেশের খামারীদের পথে বসানো।
৪৩) কুরবানীর হাটের সংখ্যা হ্রাস করছে সরকার
ন দিন হাটের সংখ্যা হ্রাস করা হচ্ছে- ঢাকা উত্তরে হাটের সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৫টি হাটের ইজারা দেওয়া হয়েছে। উত্তরে যদি জনংসংখ্যা ১ কোটি ধরে নেই, তবে প্রতি ২০ লক্ষ জনগণের মাত্র ১টি হাট। অসম্ভব রকম কল্পনা। ১) হাটের সংখ্যা হ্রাস, ২) হাটগুলোকে শহর থেকে দূরে ঠেলে দেওয়া, ৩) কোরবানীর স্থান নির্দ্দিষ্টকরণ, ৪) পশুর কোরবানীকারীর বয়স ১৮ বছর নির্দ্দিষ্টকরণ, এভাবে কোরবানীর উপর নানাবিধ শর্ত আরোপ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশ সরকার সবকিছুতেই ভারতকে অনুসরণ করে, কোরবানীর ক্ষেত্রে সরকার ভারতকে অনুসরণ করছে নাকি, সেটাই চিন্তা বিষয়। উল্লেখ্য- ২০১৪ সালে ঢাকা শহরে (নর্থ+সাউথ) মোট হাট ছিলো ২২টি, ২০১৫তে তা হ্রাস করে ১৫টি করা হয়। এবার তা আরো কমানো হয় কি না সেটাই দেখার বিষয়। সরকারের উচিত ছিলো তার ক্ষমতা নিয়ে থাকা, কিন্তু সেই ক্ষমতা ছাপিয়ে যখন মানুষের ধর্ম নিয়ে টানাটানি করা শুরু করেছে, তখন সেটা তার জন্য সুফল বয়ে আনবে নাকি সেটাও ভেবে দেখা উচিত। খবরের সূত্র- http://goo.gl/nxYAZt
৪৪) ঢাকা শহরে পূজার মন্ডপ ও হাটের সংখ্যার পরিমাণ
ঢাকা শহরে পূজার সময় মণ্ডপ হয় ২০০ স্পটে কিন্তু ঈদের সময় হাট হচ্ছে মাত্র ২০টি লোকেশনে। মন্ত্রী-আমলা ও মিডিয়া প্রায় বলে- হাটের কারণে নাকি যানজট হয়। তাই হাটের সংখ্যা কমিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ঢাকা শহরের বাইরে। অথচ ঢাকা শহর এমন এক শহর, যেই শহরে ৩৬৫দিনই যানজট লেগে থাকে। হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করেও যানজট কমাতে পারনি সরকার। কিন্তু দোষ পড়লো সেই গরুর হাট নিয়ে। পূজার মণ্ডপের উপর কিন্তু যানজটের দোষ নেই, দোষ নেই রথযাত্রা আর জন্মাষ্ঠমীর মিছিলের উপর দোষ নেই রাজনৈতিক দলগুলোর মিটিং মিছিলের উপরও দোষ শুধু হাট আর কোরবানির উপর। তাই- দুই ঢাকা সিটিতে কমপক্ষে ৫০-৬০টি হাটের ব্যবস্থা করা করা উচিত। জনগণকে স্বাচ্ছন্দে তাদের ঈদ উতসব করতে দেওয়া হোক। হিন্দুরা স্বাচ্ছন্দে ধর্ম পালন করতে পারবে, কিন্তু মুসলমানরা পারবে না এই নীতি থেকে সরকার ও প্রশাসনকে অবশ্যই সরে আসতে হবে।
৪৫) যেখানে সেখানে কোরবানীর হাট নয় কিন্তু যেখানে সেখানে পূজামন্ডপ
এ বছর ঢাকাস্থ বনানী মাঠে তৈরী হচ্ছে বিশাল পূজা মণ্ডপ, এই একই মাঠে এবার গরুর হাটের অনুমতি চাওয়া হয়েছিলো, কিন্তু দেয়নি প্রশাসন। গত দুইদিন আগে বাংলাদেশের দুটি সরকারী ব্যাংকের মহা-ব্যবস্থাপক পদে দুজনকে নিয়োগ দেয় সরকার। একটি ব্যাংকের নাম আনসার ও বিডিপি ব্যাংক, অপর ব্যাংকের নাম সমবায় ব্যাংক। মজার ব্যাপার হলো- দুটো ব্যাংকের প্রধান করা হলো দু’জন হিন্দুকে (http://bit.ly/2d9BZai, http://bit.ly/2d9DdCE)। এছাড়া একই সময় দুইজন সহয়োগী অধ্যাপককে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি দেয়ার খবর এসেছে। দুইজন অধ্যাপকই হিন্দু (http://bit.ly/2dGwbUH)। আজকে খবর এসেছে- বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় শিক্ষক মুজিবর রহমানের ৫০/৬০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে। খবরে প্রকাশ- বেশকিছুদিন যাবত মুজিবুর রহমানের বাড়ি দখল করার চেষ্টা করে আসছে মনতোষ দাস নামক এক হিন্দু সন্ত্রাসী। এ ব্যাপারে প্রশাসনকে হাজার বলেও লাভ হয়নি। সর্বশেষ সদলবলে বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটলো (http://bit.ly/2d9CoK6)। এ বছর বুয়েটসহ বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে- কোরবানী ঈদ উপলক্ষে তারা ছুটি উপভোগ করতে পারেনি। কারণ ঈদ হয় মঙ্গলবারে, কিন্তু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যায় শনিবারে। অথচ এবার দূর্গা পূর্জায় অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৭ থেকে ১৪ দিন পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এদিকে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের ফাণ্ড থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে চাল বিরতণ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য দেশের বন্যা আক্রান্ত মানুষকে কখনই ত্রাণ দেয় না সরকার। কিন্তু সে খাতে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকে। ঐ দুর্যোগ আক্রান্ত মানুষগুলোর চাল কেড়ে নিয়ে সরকার পূজা মণ্ডপে হিন্দুদের পূজা করতে দেয় (http://bit.ly/2dgMWDC)। আপনারাই বলুন কাজটা কি ঠিক ??
৪৬) চট্রগ্রামে কোরবানীতে পশু জবাই করলে গর্দান ফেলে দেওয়ার হুমকি হিন্দুদের
ইউটিউব লিঙ্কঃ https://www.youtube.com/watch?v=40ygnbYJ0Uk
৪৭) কুমিল্লার লাকসামেও কুরবানীতে বাধা দিয়েছে হিন্দুরা
ছেলেটি কুমিল্লার লাকসামের, সেখানেও গরু কুরবানীতে বাধা দিয়েছে হিন্দুরা
৪৮) কোরবানীর রক্তের উপকারিতা......
এবার বৃষ্টির মধ্যে কোরবানী হওয়ায় রাস্তার জমে থাকা পানি রক্ত লাল বর্ণ ধারণ করেছিলো । এই পানির রঙ নিয়ে, অনেকে কোরবানীর বিরুদ্ধেও অনেক কথা বলেছে। বলেছে- এই পানি নাকি দূষিত আর রোগব্যাধী ছড়াবে। যারা এ ধরনের কথা বলেছে- তারা বোধহয় জানে না (কিংবা জেনেও না জানার ভান ধরেছে) ঢাকা শহরের অনেক এলাকাতেই সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিবদ্ধতা হয় এবং তথন ড্রেন এর পানি (যেখানে মনুষ্য বর্জ্য থাকে) এবং বৃষ্টির পানি এক হয়ে নতুন তরল তৈরী করে, যা পাড়িয়ে দিনের পর দিন ঢাকাবাসী অভ্যস্থ হয়ে গেছে। ঐ পানি এতটাই দূষিত, যেখানে সামান্য একটু রক্তলাল বর্ষ আভা হলে নতুন কোন দূষণের কারণ হবে বলে মনে হয়। তবে সাধারণত এই রক্তলাল পানি দুটি স্থানে মিশতে পারে- ১) পানি (এলাকার পুকুর বা বুড়িগঙ্গা নদী) ২) মাটি পানিতে যদি এই রক্ত পরে তবে অবশ্যই তা মাছের জন্য উপরকারি। মৎস্য খাদ্যের পুষ্টিবিদদের মতে- \\\\.........পশুর রক্তের কঠিন অংশ (বাকি অংশ পানি) একটি উৎকৃষ্ট মানের প্রোটিনের উৎস। মাছের খাদ্য উৎপাদনে প্রাণিজ প্রোটিনের উপকরণের উৎস হিসেবে যে সকল দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তার মধ্যে সবচেয়ে উন্নতমানের উপকরণ হল এই পশুর রক্ত। এর থেকে কেবল আমিষই (এতে ৭০-৮০% আমিষ থাকে) পাওয়া যায় না বরং এতে উন্নতমানের বিভিন্ন খনিজ দ্রব্য এবং পর্যাপ্ত পরিমাণ ভিটামিন থাকে। মাছ প্রতিপালনে ক্ষেত্রে ৎস্য বীজ উৎপাদন খামারসমূহে মাছের অন্যান্য খাদ্য উপকরণের সাথে পশুর রক্ত মিশিয়ে খাওয়ানো হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। পশুর রক্তের উত্তম পুষ্টি উপাদানের কারণে মাছেকে রক্ত মিশ্রিত খাদ্য খাওয়ালে মাছের ডিম পুষ্ট বা পরিপক্ক হতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ডিম উত্তমভাবে পরিপুষ্ট হবার কারণে মাছের রেণু সবল হয় এবং সহজে রোগাক্রান্ত হয় না। এ ছাড়াও মাছের রেণুর জীবিত থাকার হার এবং পোনা মাছের বর্ধন হারও বেশি হয়ে থাকে। সাধারণ মাছ চাষে মৎস্য চূর্ণ (Fish Mill) অথবা Meat & Bone Mill A_ev Fish Protein Concentrate এর পরিবর্তে পশুর রক্ত ব্যবহার করলে তাতে মাছের খাদ্য উৎপাদনে খরচ অনেক কম পড়বে।..........\\\\\\ (https://goo.gl/BKCCG7) আর যদি রক্ত মাটিতে মিশ্রিত হয়, তবে তাতেও সমস্যা নাই। কারণ রক্ত মাটির উর্বরতা অসম্ভব বৃদ্ধি করে। অনেক দেশেরই গরুর রক্ত মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির কাজে বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে। (https://goo.gl/aYmda9) কোরবানীর রক্ত যদি মাটি ও পানির জন্য এত উপকারি হয়, তবে এগুলো নিয়ে এত অপপ্রচার কোন কারণ দেখি না।
৪৯) পৃথিবীতে সর্বাধিক গরুর গোশত রফতানিকারক ভারত
পৃথিবীতে সর্বাধিক গরুর গোশত রফতানিকারক তিন দেশের নাম: ১) ভারত : ২.৫ মিলিয়ন টন ২) ব্রাজিল : ২.০ মিলিয়ন টন ৩) অস্ট্রেলিয়া : ১.৫ মিলিয়ন টন ( http://m.thehindu.com/news/national/india-on-top-in-exporting-beef/article7519487.ece) ---------------------------------------- এবার দেখি, ভারতের কোন কোন কোম্পানি সবচেয়ে বেশি গরুর গোশত রফতানি করে এবং তাদের মালিকের নাম কি ? ১. আল-কাবীর এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, মালিক : শতীস ও অতুল সাবহারওয়াল ২. এরাবিয়ান এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, মালিক : সুনীল কাপুর ৩. এমকে আর ফ্রোজেন ফুড এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, মালিক : মদন এবোট ৪. পিএমএল ইন্ডাস্ট্রিজ প্রাইভেট লিমিটেড, মালিক : এ এস বৃন্দা (সূত্র: মুসলিম মিরর, ৪ঠা ডিসেম্বর, ২০১৪ ) হিন্দুধর্মে গরু খেতে বলা হয়েছে প্রমাণ দেখুন : ---গরু-বৃষের [বেদ:১/১৬৪/৪৩], --- মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮], ---অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হত। আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [বেদ:৪/১/৬]। ---গো-হত্যা স্থানে গাভীগণ হত্যা হত [বেদ:১০/৮৯/১৪]। ---ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে। [ঋকবেদ: ১০: ৮৬: ১৪]। ---এমনকি উপনিষদ বলছে: ‘বেদজ্ঞান লাভ করতে হলে, স্বাস্থ্যবান সন্তান লাভ করতে হলে ষাঁড়ের মাংস খাওয়া জরুরি।” [সূত্র: বেদ; ২য় প্রকাশ, পৃ: ১৩, ৬৭; হরফ প্রকাশনী , কলিকাতা]
৫০) গরুর হাট নিয়ে প্রথম আলোর চুলকানি
গরুর হাট নিয়ে পত্রিকা প্রথম আলোর চুলকানি সকল সীমা ছাড়িয়ে গেছে। অবৈধ হাট, রাস্তার বাইরে হাট, আগে হাট, বেশি গরু, অ্যানথ্রাক্স, স্টেরয়েড এমন কোন অপপ্রচার নাই তারা করছে না। - গত কয়েকদিন আগে নারায়নগঞ্জে একটি ঐতিহ্যবাহী পুরাতন হাট রিপোর্ট করে উচ্ছেদ করেছে প্রথম আলো। (http://goo.gl/rOLqdB, http://goo.gl/mMQ1Ol) - গত বছর আগারগাও পশুর হাট বন্ধ করা হয় প্রথম আলোর ধারাবাহিক রিপোর্টের কারণে। (http://goo.gl/j9Gyaj) - আজ থেকে ৩ বছর আগে প্রথম আলোর ইংরেজী ভার্সন ডেইলি স্টারে নির্দ্দিষ্ট গরু কোরবানীর ব্যাপারে সরকারকে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়।(http://goo.gl/Upt93z) যেই দিন নির্দেশনা এখন পালন করছে সরকার। - প্রথম আলো গতকালকেও গরুর মাংশে স্টেরয়েড বিষ আছে বলে প্রচার করেছে।(http://goo.gl/FgmseY) - প্রত্যেক জেলায় ঐতিহ্যবাহী হাটগুলোকে অবৈধ বলে প্রচার করছে প্রথম আলো। (http://goo.gl/iEqNby) - ‘তিন দিনের বেশি গরুর হাট নয়’ এই মতবাদ প্রথম আলোর তৈরী করে দেওয়া। (http://goo.gl/h5PCzv) -এই বছর নতুন শুরু করেছে ‘সীমানা ছাড়িয়ে পশুর হাট’। (http://goo.gl/jNKNGP) বলাবাহুল্য জনগণের চাহিদা বেশি, হাট ছোট এবং হাটের সংখ্যা কম, তাই হাটের সীমানা ছাড়িয়েছে। কিন্তু এটা নিয়ে ঘোলাপানিতে মাছ শিকার করতে চাইছে ইসলাম বিদ্বেষী প্রথম আলো। উল্লেখ্য- দৈনিক প্রথম আলো সিআইএ পরিচালিত একটি ইসলাম বিদ্বেষী পত্রিকা। এই পত্রিকাটি বাংলাদেশের সমস্ত ইসলাম বিরুদ্ধ কাজের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীর নিয়ম মেনে ছক একে দেয়। কিন্তু এই পত্রিকা কিছু লিখলেই যে সরকারকে তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে হবে তার দলিল কোথায় আছে ? সরকার যেভাবে প্রথম আলোর দেখিয়ে দেয়া ইসলামবিদ্বেষী ছকে হাটছে তাকে স্পষ্ট মনে হচ্ছে, সিআইএ বেইজ আন্তর্জাতিক ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে খোদ সরকারও হাত মিলিয়েছে, তাদের দেখিয়ে দেওয়া এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছে। এভাবে মুসলমান দেশে প্রকাশ্যে ইসলামবিরোধী কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করে কতদিন ক্ষমতা টিকে থাকে, তা সত্যি চিন্তার বিষয়।
৫১) কোরবানীকে সামনে রেখে চ্যানেল আই ও সমগোত্রীয়দের অপপ্রচার
চ্যানেল আই ও বাংলাদেশী হিন্দুগোষ্ঠী কিভাবে গরু কোরবানীর বিরুদ্ধে লেগেছে- তার জন্য এই একটি খবরই যথেষ্ট। পুরোটা খবরই মিথ্যায় ভরা। দেখা যাচ্ছে, সারা বছর খবর না থাকলেও, ঠিক কোরবানীর আগ মুহুর্তে `গরুর মাংশে বিষ আছে‘ এই ধরনের মিথ্যা প্রচারণা শুরু হয়। (http://goo.gl/O2twuj) `গরুকে বিষাক্ত ঔষধ দিয়ে মোটাতাজা করা হয় এবং সেই মাংশে বিষ আছে‘ এই কথাগুলো যে ডাহা মিথ্যা তা আপনি নিজেই যাচাই করে দেখতে পারেন। এগুলো ফিল্ড পর্যায়ে যাচাই করলে আপনি যে তথ্যগুলো পাবেন- ১) যদি বিষাক্ত ইঞ্জেকশন পুশ করা হয় তবে গরুরই তো মারা যাওয়ার কথা। শরীরে বিষ নিয়ে গরুগুলোকে হাটে তোলা হয় কিভাবে ? ২) এই সব হরমোন ইঞ্জেকশন পুশ করা হয়, তবে ৩-৪ মাস আগে। পুশ করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ৯০% ঔষধ মল-মুত্র দিয়ে বের হয়ে যায়। ৩-৪ মাস পর ঐ গরুর মাংশে কতটুকু হরমোন থাকে এবং সেটা মানুষের আদৌ ক্ষতি করতে পারে কি না, এমন কোন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ কেউ প্রকাশ করতে পারেনি। (http://goo.gl/Z6Gfx0,) ৩) খামারীরা এই সব ঔষধ মাত্রারিক্ত পুশ করে না, কারণ তা করা হলে গরু মারা যায়। ফলে তার ব্যবসা নষ্ট হয়। কেউ নিশ্চয় তার ব্যবসা ইচ্ছে করে নষ্ট করতে চায় না। ৪) `৫-৭ দিন আগে ইঞ্জেকশন পুশ করে মোটা করা হয়েছে‘ কিংবা বিষ প্রয়োগ করে হাজার টাকার গরু লাখ টাকায়‘ এটা অবাস্তব কথা ছাড়া কিছু নয়। এত তাড়াতাড়ি গরু মোট হয় না। আর শেষ সময় পুশ করার কারণই নেই, কারণ এসব হরমোন পুশ করলে গরু দুর্বল হয়ে যেতে পারে, আর দুর্বল গরু হাটে তোলা কঠিন। ৫) ৭৭ কেজি গরুর মাংশে যে পরিমাণ স্টেরয়েড থাকে, তার সমপরিমাণ থাকে একটি ডিমে। যারা স্টেরয়েডকে বিষ বলে দাবি করছে, তারা যেন আগে ডিম খাওয়া নিষিদ্ধ করে। ( http://goo.gl/3dx2mf) ৬) গরু মোটা তাজাকরণ প্রকল্প সরকারীভাবে যুব উন্নয়ন প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রেনিং দেওয়া হয়। এটা যদি খারাপ কাজ হয়, তবে সরকারীভাবে শেখানো হলো কেন ?? ৭) গরু কিভাবে মোটাতাজা করা হয়, তা দেখার জন্য আপনাকে একটি খামারে যাওয়া প্রয়োজন। খামারে গেলে আপনি দেখতে পারবেন- এই সব গরুকে কত উন্নতমানের ও প্রচুর খাদ্য খাওয়ানো হচ্ছে। গরুকে সব সময় পরিচ্ছন্ন রাখা হচ্ছে, গরুর পেছনে প্রচুর পরিশ্রম করছেন একজন খামারী। এমনকি অনেক খামারে গরুর মাথার উপর ফ্যান সেট করা হচ্ছে, রাতের বেলায় মশারী টাঙ্গিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বলতে গেলে প্রত্যেকটা মোটা তাজা গরুকে সন্তানের মত লালন পালন করে থাকে খামারীরা, নয়ত গরুর এত সুন্দর স্বাস্থ্য হওয়া কখনই সম্ভব নয়। একজন খামারী ৩-৫ বছর বহু কষ্ট করে, সন্তানের মত লালন পালন করে, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে একটি গরুকে মোটাতাজা করে কোরবানীর হাটে গরুটি তুলবে বলে। অথচ কোরবানীর ঠিক আগ মুহুর্তে মিথ্যা অপপ্রচার করে একজন খারামীর এত কষ্ট নষ্ট উদ্দত হয় মিডিয়া। এ ধরনের মিডিয়াকে ভালো বলা যায় কিভাবে ? দেখা যাবে ভারতীয় হাইকমিশনের সামান্য কটা টাকার লোভে সে হাজার হাজার খারামীকে পথে বসিয়ে দেয়ার এজেন্ডা নিয়েছে, যেন কোরবানী ঈদে বাংলাদেশের মুসলমানরা গরু কোরবানী না করতে পারে, ভারতের মত বাংলাদেশেও গরু কোরবানী বন্ধ হয়ে যায়। আসুন দেশ ও জাতির শত্রু এই বিশ্বাসঘাতক মিডিয়াগুলোকে বর্জন করি।
৫২) গরু সঙ্কট ও এর কারণ
অনেক সময় হাটে গরু সঙ্কট দেখা যায়, এর জন্য সরকার দায়ি। তারা কেন হাটের সংখ্যা কমিয়ে আনে ? হাটের সংখ্যা যদি বেশি থাকতো, তবে হাটগুলোর উপর এত চাপ পড়তো না। দেখা যাচ্ছে, হাটে গরু নেই, কিন্তু ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে হাজার হাজার গরুর ট্রাক জ্যামে আটকা আছে। যদি হাটের সংখ্যা বেশি হত, তবে আগেই পর্যাপ্ত গরু হাটগুলো মজুদ করা সম্ভব ছিলো। শেষ মুহুর্তে গরু ঢাকায় ঢুকিয়ে এত বড় গ্যাঞ্জাম তৈরী হওয়ার জন্য হাটের সংখ্যা হ্রাস করা সবচেয়ে বেশি দায়ী। সরকার ২-৩% হিন্দুর জন্য ঢাকায় ২০০টি পূজা মণ্ডপ দেয়, কিন্তু ৯৮% মুসলমানের জন্য ২০টা গরুর হাট দিতে চায় না।
৫৩) গরুর ফ্যাশন শো !!! নাউযুবিল্লাহ
ঈদ-উল আজহা উপলক্ষে ঢাকায় ড্যানিশ ডেইরি ফার্মের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয় গরু নিয়ে ফ্যাশন শো। নাউযুবিল্লাহ যারা পবিত্র কুরবানী নিয়ে এমন মজা করা স্পষ্ট কুফরী http://advicebd.com/…/ne…/2015/09/এবার-গরু-ফ্যাশন-শো-ভিডিও/
৫৪) মিথ্যা মার্স রোগের অজুহাত দিয়ে পবিত্র হজ্জে উট কুরবানী নিষিদ্ধ করতে যাচ্ছে ইহুদী বংশোদ্ভূত সউদী সরকার।
মূলতঃ মার্স বলে কোন স্পেশাল রোগ নেই, যেটা হজ্জের সময় আবির্ভাব হয়। এটা আসলে ইহুদী-খ্রিস্টানদের তৈরী গুজব, যেন মানুষ হজ্জ থেকে নিরুৎসাহিত হয়। এ কারণে হজ্জ আসলেই এ গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়। আর সউদী সরকার যেহেতু নিজেই ইহুদী বংশোদ্ভূত ও তাদের দালাল, তাই তারাও কাফিরদের নীতি গ্রহণ করে সুন্নতি উট কুরবানী নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। প্রত্যেক মুসলমানদের উচিত ইহুদী বংশোদ্ভূত সউদী সরকারের এ অপসিদ্ধান্তে বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ গড়ে তোলা। খবরের সূত্র: http://amadershomoys.com/unicode/2015/08/22/9334.htm…
৫৫) কুরবানী নিয়ে চুলকানি। মুসলমান হলে আপনি কেন সহ্য করবেন?
কিছু মহল বেশ কিছু দিন থেকে কুরবানী নিয়ে অনর্থক চুলকানিমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। এজন্য সেমিনারসহ বিভিন্ন বৈঠকের ও আয়োজন করে। আর ইসলাম বিদ্বেষী মিডিয়া তাদের এ চুলকানির প্রথম কাতারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে। কুরবানী ইসলাম ধর্মের অন্যতম নিদর্শন এবং ইবাদত। এলোকগুলো আজ কুরবানী তো কাল নামায নিয়ে চুলকানি শুরু করবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদ ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র চলছে বিভিন্ন অযুহাতে। এখনই তীব্র প্রতিবাদ না করলে ৯৮% মুসলমানের দেশে বাংলাদেশ থেকেই মুসলমানদের উচ্ছেদ হতে হবে। তাই নিজেকে মুসলমান মনে করলে কুরবানী নিয়ে সব রকম ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। সবাইকে এটা জানিয়ে দিতে হবে: ১) আমার কুরবানী আমি আমার সুবিধামত স্থানে দেব, এতে বাধা দেয়ার অধিকার কারো নেই। ২) প্রত্যেক ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুরবানীর পশুর হাটের ব্যবস্থা করতে হবে। ৩) কুরবানীর পূর্ব থেকেই সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্ন টিমকে সুসংগঠিত করতে হবে।
৫৬) কুরবানী হবে জঙ্গলে আর পূজা হবে বাড়িতে বাড়িতে!!!!!
ঠিক, এই উদ্যোগটিই নিচ্ছে সরকার। সিটি কর্পোরেশন থেকে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে, সামনের বার থেকে ঢাকায় প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে বাসার পাশে কুরবানী করতে পারবে না। উল্লেখ্য, নতুন পদ্ধতিতে নিজের কুরবানী নিজে করা সুন্নত সেই সুযোগ পাবেন না, আর বিজাতীয় পদ্ধতিতে জবাই করতে হবে, যে উপায়ে কুরবানী-ই হবে না। মূলত: ইউরোপ-আমেরিকাসহ কাফির রাষ্ট্রগুলোতে মুসলমানদের কুরবানীকে অবজ্ঞা করা হয়, এবং পরিবেশ দূষণের কথা বলে শহর থেকে দূর এলাকায় কসাই খানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু যে দেশে ৯৮ ভাগ মুসলমান, সেখানে কেন এ সিস্টেম চালু হবে ?? আর নতুন সিস্টেমে কুরবানী অর্থ দিয়ে আসলে গোশত পৌছে যাবে, কিন্তু কুরবানী উপলক্ষে গরুর গোশত কাটাকটি নিয়ে আমরা যে আনন্দ করি সেটা মাটি হয়ে যাবে। মূলত” পরিবেশ দূষনের অজুহাত দিয়ে মুসলমানদের ঈদ আনন্দকে নষ্ট করার এটা কাফিরদের ষড়যন্ত্র এবং দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা। কারণ দূনিয়ার অনেক জিনিস দিয়েই পরিবেশ দূষণ হয়, কিন্তু শুধু কুরবানী নিয়ে তাদের এত কেন চুলকানি সেটা সহজেই অনুমান করা যায়। তারা অজুহাত দেয়, সিটি কর্পোরেশন ১১ দিনেও বর্জ সরাতে পারেনি। আমি বলবো এটা সিটি কর্র্পোরেশনের দোষ। প্রধানমন্ত্রী কোথাও গেলে ১ দিনে নতুন রাস্তা বানায় দিতে পারে, কিন্তু কুরবানীর বর্জ্য সাফ করতে পারে না, এটা মানা যায় না। * মূলত: ঢাকা সিটি কর্পোরেশন উত্তরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রধান হচ্ছে একটা হিন্দু, নাম বিপন কুমার সাহা, তার মাথা থেকেই এসব কু-বুদ্ধি আসছে। যেখানে সেখানে গরু কুরবানী করলে হিন্দুদের সমস্যা হয়, তাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হয়, সেটা বিবেচনা করেই শহর থেকে বাইরে কুরবানীর টার্গেট নেয়া হচ্ছে।
৫৭) প্রসঙ্গ: অনলাইনে কুরবানীর গরু ক্রয়, কতটুকু শরীয়ত সম্মত ??
এবারের কুরবানী ঈদে অনলাইনে গরু বিক্রয়ের উপর একটা আলাদা ঝোক দেখতে পাচ্ছি। আমাদের-ই-শপ, বিক্রয় ডট কম, এখানেই ডট কম, এখনই ডট কম, ওএলএক্স ডট কম অনেক অনলাইন শপই কুরবানীর গরুর অফার দিচ্ছে। অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্রগুলোর অফার দেখে অনেকেই ভাবছেন, “এতই যখন সুবিধা, তাহলে হাটে ঝামেলায় না গিয়ে কুরবাণীর পশুটা অনলাইনেই কিনে ফেলি।” যারা এ ধরনের চিন্তা করছেন, তাদের জন্য কিছু জিনিস জানা প্রয়োজন, সাধারণ বস্তুর সাথে কুরবানীর বস্তুর নিয়মকানুন কিন্তু মিলবে না। যেমন আপনি সারা বছর গোশত খাওয়ার জন্য গরুর কিনতে পারেন, কিন্তু কুরবানীর জন্য যখন গরু কিনবেন তখন আপনাকে নির্দ্দিস্ট কিছু জিনিস ফলো করতে হবে। যেমন: আপনি জীবিত গরুকে জবাই দিয়ে খেতে পারেন, সেটা হালাল। কিন্তু কুরবানীর সময় সব গরুকে জবাই দিলে কিন্তু কুরবানী হবে না। কুরবানীর জন্য পশুর মধ্যে নির্দ্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট থাকা জরুরী, যেগুলো সামনাসামনি না দেখলে বোঝা যাবে না। আসুন জেনে নেই বিষয়গুলো: ১) পশুর শরীরে কোন ত্রুটি আছে কিনা তা দেখতে হবে: যেমন: অন্ধ, কান কাটা, শিং ভাঙ্গা, লেজ কাটা, খোড়া, দাত নেই কি না, এ সম্পর্কে হাদীস শরীফে আছে: ক) হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু কুরবানীর পশু সম্পর্কে বর্ণনা করেন- “ নবী করিম ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘চার ধরণের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়না-১) যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২) যে পশু অতি রুগ্ন, ৩) যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং ৪) যে পশু এত জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ বললেন, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী দ্বারাও কুরবানী করা অপছন্দ করি। তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারেন তবে তা অন্যের জন্য হারাম করবেন না।” (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯১৯, আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ) খ) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু হতে বর্ণিত বর্ণিত- “ নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমরা যেন কুরবানীর পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি এবং ওই পশু দ্বারা কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কর্তিত। তদ্রুপ যে পশুর কান ফাড়া বা কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ) গ) হযরত আলী রদ্বিয়াল্লাহু হতে আরো বর্ণিত আছে- “নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের শিংভাঙ্গা বা কান-কাটা পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ) ২) বয়স দেখতে হবে: হাদীস শরীফে আছে: “আপনারা মুছিন্না ব্যতীত কুরবানী (যবেহ) করবেন না, তবে সংকটের অবস্থায় ছয় মাস বয়সী ভেড়া-দুম্বা যবেহ করতে পারেন।”(মুসলিম শরীফ) মুছিন্না শব্দের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, উট ৫ বছর হলে, গরু, মহিষ ২ বছর হলে আর খাসী-বকরী, ভেড়া, দুম্বা ইত্যাদি ১ বছর হলে মুছিন্নার হুকুম বর্তায় অর্থাৎ কুরবানীর উপযুক্ত হয়। এর কম বয়সের পশুকে কুরবানী করলে কুরবানী হবেনা। তবে শুধুমাত্র ভেড়া ও দুম্বার বেলায় বলা হয়েছে, যদি ৬ মাসের দুম্বা বা ভেড়াকে দেখতে ১ বছরের মত মনে হয় তবে সে দুম্বা বা ভেড়া দিয়ে কুরবানী করলে কুরবানী শুদ্ধ হবে। (কুদূরী, হিদায়া) এখানে দেখার বিষয় হচ্ছে, আপনি হাটে গিয়ে একটি পশুকে সামনাসামনি দেখে যাচাই-বাছাই করতে পারবেন। কিন্তু অনলাইনে মাত্র একটা ছবি দেখে কতটুকু শিওর হতে পারবেন গরুর ত্রুটিগুলো সম্পর্কে। যদি বাসায় গরু আসার পর গরু ভালো হয় তবে সমস্যা নেই, কিন্তু যদি দেখেন ঐ গরুটি কোন একটি ত্রুটি রয়েছে তখন কি করবেন ?? ঐ গরু দিয়ে কুরবানী দিলে তো আপনার কুরবানীই হবে না। মহান আল্লাহ তায়ালা এ সম্পর্কে বলেন: ‘আল্লাহর নিকট কুরবানীর রক্ত ও গোশত পৌছায় না। পৌছায় তোমাদের তাক্বওয়া। [সূরা হজ্জ্ব:৩৭]। অর্থ্যাৎ কুরবানীতে শুধু পশু দিলেই হবে না, পশু কেনার সময় আমরা কতটুকু আল্লাহ ও উনার রাসূলের আদেশ মানলাম বা তাকওয়া’র প্রতি খেয়াল দিলাম সেটাই গুরুত্বপূণ। তাই অনলাইনে ছবি দেখে গরু কেনা কখনই পুরোপুরি শরীয়ত সম্মত হবে না।
৫৮) জনদুর্ভোগ আর হাসপাতালের দোহাই গরুর হাট দূরে সরানোর ষড়যন্ত্র রুখে দিন।
ইসলামবিদ্বেষী মিডিয়া প্রতিবছর কোরবানী পশুর হাট নিয়ে অপপ্রচার করে । তারা যুক্তি দেয় যে কোরবানী পশুর হাটের কারনে নাকি মানুষের দুর্ভোগ হয় আর হাসপাতালে নাকি রোগীদের কষ্ট হয়। কোন মানুষের দুর্ভোগ হয় আর কোন রোগীর কষ্ট হয় তা কিন্তু তারা প্রমান করতে পারেনা। কোরবানি তো মুসলমান উনাদের জন্য । তো সেই মুসলমান নিজেই যখন কোরবানি দেয়ার জন্য পশু কিনতে যেয়ে লোকসমাগম হয় তাহলে তা তার দুর্ভোগ হয় কি করে ?তা তো তার কাছে আনন্দের বিষয়! আর হাসপাতালে পথ রুদ্ধ করে হাট বসানো হয়েছে তার প্রমান কি এরা দেখাতে পারবে ? কোরাবানী পশুর হাট তো আর হাসপাতালের ভিতরে দেওয়া হচ্ছেনা !!! অথচ যখন- ১. পহেলা বৈশাখে সারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুমূর্ষু রোগীদের পাঠানো স্থান ঢাকা মেডিকেল, পিজি হাসপাতালে ও বারডেমসহ গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে আগত সবগুলো রাস্তাই ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো থাকে, চর্তুদিকে থাকে হারাম বৈশাখপ্রেমী অজস্র মানুষের ভীড়, সেখানে অ্যাম্বুলেন্স চলা তো দূরের কথা, পিপড়াও হাটতে পারেনা, তা নিয়ে মিডিয়া কেন প্রতিবেদন করেনা ? কেন এর বিরুদ্ধে বলেনা। কোরবানী পশুর হাটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারী তখন কেন মুখে কুলুপ এটে থাকে ? তখন কি মানুষের দুর্ভোগ আর রোগীর কষ্ট হয়না ? http://www.priyo.com/2014/04/12/64187.html ২. যুদ্ধাপরাদীদের বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থানের কারনে বারডেম, পিজি, ঢাকা মেডিকেলের রোগীরা টানা ৬ দিন ধরে অবরুদ্ধ ছিল। ব্যস্ত হাসপাতালগুলোর পাশে, সামনে অনবরত মাইক বাজানোর কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। নিদারুণ কষ্ট স্বীকার করতে হচ্ছে একুশের বইমেলায় যাতায়াতকারী মানুষকেও। বিড়ম্বনায় পড়ছেন হোটেল রূপসী বাংলার দেশি-বিদেশি অতিথিরা। http://www.amardeshonline.com/pag…/details/2013/…/10/187282… তখন কিন্তু এই মিডিয়া এদের প্রচারে ব্যস্থ ছিল । তখন কি এই মিডিয়া প্রচার করেছে জনদুর্ভোগ আর রোগীর কষ্টের কথা ? যখন তাদের এ সকল বিষয় আসে তখন তা হয় মানুষের স্বতঃস্পুর্ত অংশগ্রহন , দেশপ্রেম ।আর যখন মুসলমান উনাদের এক হওয়ার কোন বিষয় আসে তখন তা জনদুর্ভোগ !! অথর্ব সরকার আবার এই সকল মিডিয়ার অপ্রচারকে সমর্থন ও দেয় ! কোন দেশে বাস করছি ? একজন মুসলমান কি তার মুসলমানিত্ব প্রকাশ ও ইসলাম অনুসরন করতে পারবেনা ? সবাই প্রতিবাদে জেগে উঠুন । সবাই আওয়াজ তুলুন কোরবানীর পশুর হাট আগের থেকে আরো বাড়াতে হবে এবং পুর্বের হাট বাদ দেওয়া যাবেনা ।
৫৯) কুরবানী নিয়ে মেয়রের বিতর্কিত পদক্ষেপ: এত প্রতিবাদ হচ্ছে, তারপরও সরকারের নির্লিপ্ততা রহস্যজনক!
নিজের কিছু স্বার্থ আদায়ের জন্য মানুষ কতই না ভান ধরে, কতভাবে কাকুতি করে, তারপরও নিজের স্বার্থ উদ্ধার করাই চাই চাই। সবচাইতে আশ্চর্য হতে হয় তখন- যখন স্বার্থ আদায়কারী ব্যক্তি অকৃতজ্ঞের মতো উপকারীকে অস্বীকার করে বসে। আমাদের দেশের সরকারের আচরণকে অনেকেই এর সাথে তুলনা করেন। কুরবানী নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ, যেমন- কুরবানীর পশুর হাট কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানী করতে বাধ্য করা, ১৮ বছরের নিচে জবাই করা যাবে না ইত্যাদি ইত্যাদি বেশ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত সারাদেশের কোটি কোটি জনগণকে মনঃক্ষুণœ করেছে, ক্ষুব্ধ করেছে। জনগণ এগুলো নিয়ে প্রতিবাদও করে যাচ্ছে যার যার মতো করে। সারাদেশে এত এত প্রতিবাদের পরও সরকার যেভাবে নির্বিকার হয়ে আছে, তাতে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসে ফাটল ধরতে শুরু করেছে। আর কত নিজেকে সান্ত¦না দিবে জনগণ? শুধু এই একটি বছর নয় বিগত বেশ কয়েকটি বছর থেকেই কুরবানী নিয়ে নানা রকম টালবাহানা চলছে। অথচ সরকার কোনোভাবেই জনগণকে পাত্তা দিতে চাচ্ছে না। হয়তো এ সব অপকর্মে সরকারের সামগ্রিক অংশ জড়িত নয়। তবুও সরকারের কি উচিত নয়- জনগণের মন, মনন ও চাওয়া পাওয়ার দিকে সবর্দা সজাগ দৃষ্টি রাখা? অবশ্যই উচিত। সরকারকে দ্রুত কুরবানী নিয়ে আলোচ্য বিতর্কিত বিষগুলো থেকে সরে এসে খালিছ তওবা ইস্তিগফার করতে হবে। নচেত এদেশের জনগণ তথা দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের মনে আঘাত দেয়ার পরিণামে অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো উদাসীন,চাঁদাবাজরা বেপরোয়া ,কুরবানীর পশুর হাট নিরাপত্তাহীন ইতোমধ্যেই কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করেছে কুরবানীর পশু। শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, এছাড়াও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর হাট থেকে গরু যাচ্ছে দেশের বড়-বড় শহরেও। সেই গরু ধীরে-ধীরে ঢুকছে পশুর স্থায়ী হাটগুলোয়। তবে হাটে ঢোকানোর আগে গরু ব্যাপারীদেরকে পথে পথে দিতে হচ্ছে লাখ লাখ টাকা চাঁদা। বিশেষ করে রাজধানীমুখী পশু ট্রাকগুলোকে দিতে হচ্ছে বেশি। মোড়ে মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ, বিভিন্ন সমিতি ও বাজার ব্যবসার নামে পশু ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে টাকা। পশু ব্যবসায়ীরা বলেছে, সারা বছর চাঁদা দিতে হয়। তবে ঈদকে সামনে রেখে এই চাঁদার পরিমাণ বেড়ে গেছে অনেকগুণ। পশু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এবার অস্থায়ী হাট বসার আগেই যেভাবে সন্ত্রাসী তৎপরতা শুরু হয়েছে তাতে অস্থায়ী হাটগুলো শুরু হলে তা কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। বাজারেও এর প্রভাব পড়বে। কুরবানীর পশু আনতে ঘাটে ঘাটে চাঁদা দিতে হচ্ছে পশু ব্যবসায়ীদের। ফলে বিপাকে পড়তে হচ্ছে কুরবানীর পশু ব্যবসায়ীদের। পশু আনতে পথে পথে চাঁদা না দিলে ট্রাক থেকে গরু নামিয়ে রেখে দেয়া ঘটনাও ঘটিয়েছে চাঁদাবাজরা। এসব ঘটনা ঘটছে পুলিশের সামনেই। চাঁদাবাজদের রোধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার কথা ঘোষণা করলেও বাস্তবে তার কিছুই দেখা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে যেমন গরু ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে গরু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। এজন্য ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুরবানীর ঈদকে সামনে রেখে এখন চাঁদাবাজরা বেপরোয়া। নানা কৌশল নিয়েও তাদের রোখা যাচ্ছে না। তবে চাঁদাবাজদের প্রতিরোধ করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মহাসড়ক থেকে ফুটপাত, মার্কেট থেকে কাঁচাবাজার, লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট, বাস টার্মিনাল সর্বত্রই চলছে চাঁদাবাজি। গরু ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি রাজধানীর ফুটপাত ও অন্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও রাজনৈতিক ব্যানারে টাকা আদায় করছে মস্তানরা। অনেকটা অসহায় হয়ে পড়েছে ব্যবসায়ীরা। পুলিশ-র‌্যাবের কাছে নিরাপত্তা চেয়েও কোনো লাভ হচ্ছে না। এর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রগুলোর দৌরাত্ম্যও এবার রহস্যজনকভাবে বাড়ছে। গত ৭ সেপ্টেম্বর-২০১৫ প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী- রাজশাহী নগরীর সিটি বাইপাস গরুর হাটে একটি হোটেলে খাবার খেয়ে টিস্যু দিয়ে মুখ মুছতেই অজ্ঞান হয়ে যায় অন্তত ২৫ জন গরু ব্যবসায়ী। ৬ সেপ্টেম্বর-২০১৫ বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। অজ্ঞান হয়ে পড়াদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় ছয়জনকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। সিটি বাইপাস গরুর হাটে জাফরের হোটেলের খাবার খাওয়ার পর সেখান থেকে দেয়া টিস্যুতে মুখ মুছতেই ওই গরু ব্যবসায়ীরা অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একজন মৃত্যুবরণ করে। এদিকে হানিফ পরিবহন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গরু ব্যবসায়ী ৩ যাত্রীকে অজ্ঞান করে ১০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গরু ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা জানায়, পরিবহনের এক কর্মকর্তা তাদেরকে চেতনা নাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞান করে নগদ টাকা ও মোবাইল নিয়ে নেয়। ১২ সেপ্টেম্বর-২০১৫ শনিবার বিকেল ৫টার দিকে গরু ব্যবসায়ীদের সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাদের জ্ঞান ফিরলে আব্দুল আলিম নামের এক গরু ব্যবসায়ী এ ঘটনার অভিযোগ করেছে। প্রসঙ্গত আমরা মনে করি, আশু দাআইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর য়িত্ব হচ্ছে- দেশজুড়ে জোরালো অভিযান চালিয়ে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত, ক্ষমতাসীন সরকারের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নামে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সব সন্ত্রাসীদের দমন করা। পাশাপাশি পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে কুরবানীর পশু আনা-নেয়া যেহেতু বাড়বে, তাই সড়ক-মহাসড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাড়াতে বাড়তি উদ্যোগ নিতে হবে। কুরবানীর পশুর হাটে পশু ব্যবসায়ীরা প্রায় সময় টাকা লেনদেন করতে গিয়েও বিপাকে পড়ে। অনেক সময় ছিনতাইকারী, অজ্ঞান পার্টি ও মলমপার্টির সদস্যরা সুযোগ বুঝে পশু ব্যবসায়ীদের নেশাজাতীয় কিছু খাইয়ে অচেতন করে তাদের টাকা পয়সা সব হাতিয়ে নিয়ে যায়। তারা পশুরহাট থেকে বাইরে হোটেলে ভাত-নাস্তা খেতে গেলে সেখানে অপরাধী চক্রের খপ্পরে পড়ে সব কিছুই হারিয়ে ফেলে। এসব কারণে পশু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তায় খাবার হোটেল ও টাকা লেনদেনের জন্য পশুর হাটে আমরা অস্থায়ী ব্যাংক স্থাপনের প্রস্তাব করছি। আমরা আরো মনে করি, সুষ্ঠু ও সহজভাবে কুরবানীর সম্পন্নের স্বার্থে সরকারের উচিত- পশুর হাটের স্থান নির্ধারণে রাজধানীতে জরিপের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে কুরবানীর পশুর হাটের নতুন এলাকা/স্থান নির্ধারণ করা। পশুর হাটে গবাদি পশুর ঢোকার তারিখ কমপক্ষে এক সপ্তাহ নির্ধারণ করে পূর্বে থেকেই পুলিশকে দায়িত্বরত রাখা। নগদ অর্থ লেনদেন হ্রাস করার জন্য বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথ স্থাপনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া। প্রতিটি পশুর হাটে জাল নোট শনাক্তকারী মেশিন রাখার ব্যবস্থা করা। এছাড়া নিরাপত্তা এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য কুরবানীর পশুর হাটের ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, পশুর হাটের হাসিলের টাকার হার নির্ধারণসহ দৃশ্যমান স্থানে বড় করে ব্যানার টানানোর ব্যবস্থা করা। প্রসঙ্গত সমালোচক মহল মনে করছে, যথাযথভাবে ও মহাসমারোহে পবিত্র কুরবানী পালনের পৃষ্ঠপোষকতা করার এবং কুরবানীকে অভিপ্রায় সরকারের নেই। এবং জনগণেরও নেই। জনগণ এসব বিষয়ে একদিকে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানায় না। পাশাপাশি সরকারের উদাসীনতার বিপরীতে কোনো প্রতিবাদও করে না। অথচ বাংলাদেশের সাংবিধানিক দ্বীন হচ্ছে পবিত্র দ্বীন ইসলাম। কাজেই কুরবানীর মতো সম্মানিত ইসলামী অনুষঙ্গের প্রতি অবহেলা করলে সরকার ও জনগণ উভয়েই যুগপৎভাবে দায়ী হবে। উভয়কেই সঙ্গতকারণে ইসলামপ্রবণ হতে হবে। কুরবানী সম্পর্কে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা ও উচ্ছাসের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে এবং কুরবানীর হাট, পশু সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ পৃষ্ঠপোষকতা প্রমাণ প্রতিভাত করতে হবে।
৬০) পবিত্র কুরবানী কাকে বলে?
اضحية বা পবিত্র কুরবানী শব্দটি একবচন। বহুবচনে اضاحىএর আভিধানিক অর্থ কুরবানী, উৎসর্গ, পবিত্র কুরবানী উনার পশু ঈদুল আদ্বহার দিন যা যবেহ করা হয়। শরীয়ত উনার পরিভাষায় খালিক্ব, মালিক, রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট প্রাণী যবেহ করার নাম পবিত্র কুরবানী। অর্থাৎ পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০, ১১ ও ১২ তারিখের যে কোন দিনে দুম্বা, মেষ, ভেড়া, খাসী, ছাগল, উট, গরু, মহিষ প্রভৃতি গৃহপালিত হালাল চতুষ্পদ প্রাণীসমূহকে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক উচ্চারণ করে উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে যবেহ করাকে পবিত্র কুরবানী বলে। পবিত্র কুরবানী উনার বিধান সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- اِنَّا اَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ‌. فَصَلِّ لِرَ‌بِّكَ وَانْـحَرْ.অর্থ :“হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! নিশ্চয়ই আমি আপনাকে কাওছার বা বহু কল্যাণ হাদিয়া করেছি। অতএব, (এর শুকরিয়া স্বরূপ) আপনি নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন।”(পবিত্র সূরা কাওছারশরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ১, ২) উল্লেখ্য, পবিত্র কুরবানী উনার বিধান শুধু আমাদের জন্যেই দেয়া হয়েছে তা নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতের প্রতিও উনার বিধান প্রবর্তিত ছিল। যেমন মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ‌অর্থ :“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার বিধান দিয়েছি, যাতে তারা গৃহপালিত পশুর উপরে মহান আল্লাহ তায়ালাউনার নাম মুবারক স্মরণ করে। অর্থাৎ মহান আল্লাহ তায়ালাউনার সন্তুষ্টি ও নির্দেশ মুতাবিক উনার নামে পশু কুরবানী করে।”(পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৪)
৬১) কুরবানী উনার ইতিহাস
আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেন,- ‘আপনি আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুণ ও কুরবানী করুন।’ (সূরা কাওসার : ২) সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব।আমরা ধারাবাহিকভাবে কুরবানীর ইতিহাস,ফযিলত, মাসয়ালা,মাসায়েল সহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানবো ইনশাআল্লাহ৷ পৃথিবীর সর্বপ্রথম কুরবানী: কুরবানীর ইতিহাস খুবই প্রাচীন।আদি পিতা হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যুগ থেকেই কুরবানীর বিধান চলে আসছে। হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই ছেলে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ও কাবীলের কুরবানী পেশ করার কথা আমরা আল-কুরআন উল কারীম থেকে জানতে পারি। মহান আল্লাহ সুবহানাহু তা‘আলা বলেন, ﴿ ۞وَٱتۡلُ عَلَيۡهِمۡ نَبَأَ ٱبۡنَيۡ ءَادَمَ بِٱلۡحَقِّ إِذۡ قَرَّبَا قُرۡبَانٗا فَتُقُبِّلَ مِنۡ أَحَدِهِمَا وَلَمۡ يُتَقَبَّلۡ مِنَ ٱلۡأٓخَرِ قَالَ لَأَقۡتُلَنَّكَۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ ٱللَّهُ مِنَ ٱلۡمُتَّقِينَ ٢٧ ﴾ [المائدة: ٢٧ অর্থাৎ, হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দুই পুত্রের (হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম ও কাবিলের) বৃত্তান্ত আপনি তাদেরকে যথাযথভাবে শুনিয়ে দিন, যখন তারা উভয়ে কুরবানী করেছিল, তখন একজনের কুরবানী কবুল হলো এবং অন্যজনের কুরবানী কবুল হলো না। তাদের একজন বলল, ‘আমি আপনাকে অবশ্যই হত্যা করব। অপরজন বলল, ‘আল্লাহ তো সংযমীদের কুরবানীই কবূল করে থাকেন।[সূরা মায়িদা (৫):২৭]। মূল ঘটনা হলো: যখন হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম হযরত হাওওয়া আলাইহাস সালাম উনারা পৃথিবীতে আগমন করেন এবং উনাদের বংশ বিস্তার আরম্ভ হয়, তখন হাওয়া আলাইহাস সালাম উনার প্রতি গর্ভ থেকে জোড়া জোড়া (জময) অর্থাৎ একসাথে একটি পুত্র ও একটি কন্যা এরূপ জময সন্তান জন্মগ্রহণ করত। কেবল হযরত শীশ আলাইহিস সালাম ব্যতিরেকে। কারণ, তিনি একা তাশরীফ নিয়েছিলেন। তখন হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার পরিবারই এই ধরার বুকে প্রথম পরিবার।আর কোন পরিবার ছিলো না। তাই আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা উপস্থিত প্রয়োজনের খাতিরে হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার শরীয়তে বিশেষভাবে এ নির্দেশ জারি করেন যে, একই গর্ভ থেকে যে যমজ পুত্র ও কন্যা জন্মগ্রহণ করবে, তারা পরস্পর সহোদর ভাই-বোন হিসেবে গণ্য হবে। তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক হারাম। কিন্তু পরবর্তী গর্ভ থেকে জন্মগ্রহনকারী পুত্রের জন্য প্রথম গর্ভ থেকে জন্মগ্রহণকারীনি কন্যা সহোদরা বোন হিসেবে গণ্য হবে না। তাদের মধ্যে পরস্পর বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ। সুতরাং সে সময় হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার একটি জোড়ার মেয়ের সাথে অন্য জোড়ার ছেলের বিয়ে দিতেন। ঘটনাক্রমে কাবীলের সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিলেন তিনি ছিল পরমা সুন্দরী। উনার নাম ছিল হযরত আকলিমা আলাইহাস সালাম। কিন্তু হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম উনার সাথে যে সহোদরা জন্ম নিয়েছিলেন তিনি দেখতে অতটা সুন্দরী ছিল না। উনার নাম ছিল লিওযা। বিবাহের সময় হলে শরয়ী ‘নিয়মানুযায়ী হযরত হাবিল আলাইহিস সালাম উনার সহোদরা বোন কাবীলের ভাগে পড়ল।কিন্তু কাবীল উনাকে না বিয়ে করে নিজের সহোদরা হযরত আকলিমা আলাইহাস সালাম উনাকে বিয়ে করতে চাইল। ফলে হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম তৎকালীন শরীয়তের আইনের পরিপ্রেক্ষি তে কাবীলের আবদার প্রত্যাখ্যান করলেন এবং তাকে উনার নির্দেশ মানতে বললেন। কিন্তু সে মানল না। এবার তিনি তাকে শাসন করলেন। তবুও সে ঐ শাসনে কান দিল না। অবশেষে হযরত আদম সফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার দু‘সস্তান হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ও কাবীলের মতভেদ দূর করার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘তোমরা উভয়ে আল্লাহর উদ্দেশ্যে কুরবানী পেশ কর, যার কুরবানী গৃহীত হবে, তার সাথেই আকলিমা উনার বিয়ে দেয়া হবে।’ সে সময় কুরবানী গৃহীত হওয়ার একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন ছিল যে, আকাশ থেকে একটি অগ্নিশিখা এসে সে কুরবানীকে ভষ্মীভূত করে ফেলত। আর যার কুরবানী কবূল হতো না তারটা পড়ে থকত। যাহোক, তাদের কুরবানীর পদ্ধতি সম্পর্কে যা জানা যায় তা হলো- কাবীল ছিল চাষী। তাই সে গমের শীষ থেকে ভাল ভাল মালগুলো বের করে নিয়ে বাজে মালগুলোর একটি আটি কুরবানীর জন্য পেশ করল। আর হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম ছিল পশুপালনকারী। তাই তিনি উনার জন্তুর মধ্যে থেকে সবচেয়ে সেরা একটি দুম্বা কুরবানীর জন্য পেশ করল। এরপর নিয়মানুযায়ী আকাশ থেকে অগ্নিশিখা এসে হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার কুরবানীটি ভষ্মীভুত করে দিল। [ফতহুল ক্বাদীরের বর্ণনায় পাওয়া যায় যে, হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার পেশকৃত দুম্বাটি জান্নাতে উঠিয়ে নেয়া হয় এবং তা জান্নাতে বিচরণ করতে থাকে। অবশেষে হযরত ইসমাঈল যবিহুল্লাহ উনার সম্মানার্থে ঐ দুম্বাটি পাঠিয়ে দেয়া হয়।] আর কাবীলের কুরবানী যথাস্থানেই পড়ে থাকল। অর্থাৎ হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার কুরবানী গৃহীত হলো আর কাবীলেরটি হলো না। কিন্তু কাবীল এ আসমানী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারল না। এ অকৃতকার্যতায় কাবীলের দুঃখ ও ক্ষোভ আরো বেড়ে গেল। সে আত্মসংবরণ করতে পারল না এবং প্রকাশ্যে তার ভাইকে বলল, ‘আমি অবশ্যই আপনাকে হত্যা করব। হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম তখন ক্রোধের জবাবে ক্রোধ প্রদর্শন না করে একটি মার্জিত ও নীতিগত বাক্য উচ্চারণ করল, এতে কাবীলের প্রতি উনার সহানুভূতি ও শুভেচ্ছা ফুটে উঠেছিল। হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম বলেছিলেন, ‘ তিনি মুত্তাক্বীর কর্মই গ্রহণ করেন। সুতরাং তুমি তাক্বওয়ার কর্মই গ্রহণ করো। তুমি তাক্বওয়া অবলম্বন করলে তোমার কুরবানীও গৃহীত হতো। তুমি তা করোনি, তাই তোমার কুরবানী প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। এতে আমার দোষ কোথায়?.....তবুও এক পর্যায়ে কাবীল হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনাকে শহীদ করে ফেলল। (তাফসীর ইবনে কাসীর, দুররে মনসূর, ফতহুল বায়ান, ৩/৪৫ ও ফতহুল ক্বাদীর, ২/২৮-২৯) আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেন,- ‘আপনি আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুণ ও কুরবানী করুন।’ (সূরা কাওসার : ২) সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য কুরবানী করা ওয়াজিব।আমরা ধারাবাহিকভাবে কুরবানীর ইতিহাস,ফযিলত, মাসয়ালা,মাসায়েল সহ আরো বিভিন্ন বিষয় নিয়ে জানবো ইনশাআল্লাহ৷ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ﴿ وَلِكُلِّ أُمَّةٖ جَعَلۡنَا مَنسَكٗا لِّيَذۡكُرُواْ ٱسۡمَ ٱللَّهِ عَلَىٰ مَا رَزَقَهُم مِّنۢ بَهِيمَةِ ٱلۡأَنۡعَٰمِۗ فَإِلَٰهُكُمۡ إِلَٰهٞ وَٰحِدٞ فَلَهُۥٓ أَسۡلِمُواْۗ وَبَشِّرِ ٱلۡمُخۡبِتِينَ ٣٤ ﴾ [الحج: ٣٤] অর্থাৎ প্রত্যেক উম্মতের জন্য আমি কুরবানীর বিধান রেখেছিলাম, যাতে তারা উক্ত পশু যবেহ করার সময় আল্লাহপাক উনার নাম স্মরণ করে এ জন্য যে, তিনি চতুষ্পদ জন্তু থেকে তাদের জন্য রিযিক নির্ধারণ করেছেন। [সূরা হাজ্জ (২২):৩৪]। মানবজাতির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে যত শরীয়ত নাযিল হয়েছে, প্রত্যেক শরীয়তের মধ্যে কুরবানী করার বিধান জারি ছিল। প্রত্যেক উম্মতের ইবাদতের এ ছিল একটা অপরিহার্য অংশ। বর্তমান কুরবানীর ইতিহাস : পবিএ কুরআন শরীফ উনাতে এসেছে- ﴿ رَبِّ هَبۡ لِي مِنَ ٱلصَّٰلِحِينَ ١٠٠ فَبَشَّرۡنَٰهُ بِغُلَٰمٍ حَلِيمٖ ١٠١ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعۡيَ قَالَ يَٰبُنَيَّ إِنِّيٓ أَرَىٰ فِي ٱلۡمَنَامِ أَنِّيٓ أَذۡبَحُكَ فَٱنظُرۡ مَاذَا تَرَىٰۚ قَالَ يَٰٓأَبَتِ ٱفۡعَلۡ مَا تُؤۡمَرُۖ سَتَجِدُنِيٓ إِن شَآءَ ٱللَّهُ مِنَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٠٢ فَلَمَّآ أَسۡلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلۡجَبِينِ ١٠٣ وَنَٰدَيۡنَٰهُ أَن يَٰٓإِبۡرَٰهِيمُ ١٠٤ قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡيَآۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ١٠٥ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلۡبَلَٰٓؤُاْ ٱلۡمُبِينُ ١٠٦ وَفَدَيۡنَٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِيمٖ ١٠٧ وَتَرَكۡنَا عَلَيۡهِ فِي ٱلۡأٓخِرِينَ ١٠٨ سَلَٰمٌ عَلَىٰٓ إِبۡرَٰهِيمَ ١٠٩ كَذَٰلِكَ نَجۡزِي ٱلۡمُحۡسِنِينَ ١١٠ إِنَّهُۥ مِنۡ عِبَادِنَا ٱلۡمُؤۡمِنِينَ ١١١ ﴾ [الصافات: ١٠٠، ١١١] অর্থঃ “হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম যখন আমার কাছে দু‘আ করল, হে আমার রব! আপনি আমাকে এক সৎকর্মশীল পুত্র সন্তান দান করুন। অতঃপর আমি উনাকে এক অতি ধৈর্যশীল পুত্র উনার সুসংবাদ দিলাম। অতঃপর তিনি যখন উনার পিতার সাথে চলাফিরা করার বয়সে পৌঁছল, তখন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে আমার সম্মানিত আওলাদ আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে যবেহ করছি, এখন বলুন, আপনার অভিমত কী? হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, ‘হে সম্মানিত পিতা আলাইহিস সালাম ! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আপনি তাই করুন, আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলই পাবেন। দু‘জনেই যখন আনুগত্যে মাথা নুইয়ে দিল আর হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে কাত ক‘রে শুইয়ে দিল। তখন আমি হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে ডাক দিলাম, ‘হে হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! স্বপ্নে দেয়া আদেশ আপনি সত্যে পরিণত করেই ছাড়লেন। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি। অবশ্যই এটা ছিল একটি সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি এক মহান কুরবাণীর বিনিময়ে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে ছাড়িয়ে নিলাম। আর আমি উনাকে পরবর্তীদের মাঝে স্মরণীয় করে রাখলাম। হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! সৎকর্মশীলদেরকে আমি এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।তিনি ছিলেন আমার মু‘মিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।’’ [সূরা আস- সাফফাত শরীফঃআয়াত শরীফ ১০০-১১১]। ইবনে কাসীর রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা আমাদের জানান যে, উনার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম যখন উনার পিতৃভুমি থেকে হিজরত করলেন, তখন তিনি উনার প্রভুর কাছে চেয়েছিলেন যে, তিনি যেন তাকে সৎকর্মশীল সন্তান দান করেন। তাই আল্লাহ তা‘আলা উনাকে একজন ধৈর্যশীল পুত্র সন্তানের সুসংবাদ দিয়েছিলেন। এটা ছিল হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার ব্যাপারে, কেননা তিনি ছিলেন হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঔরসে জন্ম নেয়া প্রথম সন্তান। এ ব্যাপারে বিভিন্ন দ্বীনের (ইহুদী, খ্রিস্টান ও মুসলিম) অনুসারীদের মধ্যে কোন মতভেদ নেই যে হযরত ইব্রাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঘরে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম প্রথম জন্মগ্রহণ করেছিলেন। (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ১/১৫৭-১৫৮) فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ ٱلسَّعۡيَ অর্থাৎ ‘এবং যখন তিনি উনার সাথে হাটার মত বড় হলো’- এর অর্থ হচ্ছে, যখন তিনি বড় হয়েছিলেন এবং হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার মতই নিজেই নিজের দেখাশোনা করতে পারতেন। মুজাহিদ রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন, ‘এবং যখন তিনি উনার সাথে হাটার মত বড় হলো’এর অর্থ হচ্ছে, যখন তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন এবং বাহনে চড়তে পারতেন, হাঁটতে পারতেন এবং উনার বাবার মত কাজ করতে পারতেন।ইবনু আববাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু বলেন, ঐ সময় তিনি কেবল সাবলকত্বে উপনীত হয়েছিলেন। (তাফসীর কুরতুবী, ১৫/৯৯) এ রকম একটা অবস্থা যখন আসল, তখন হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম স্বপ্নে দেখলেন যে, উনাকে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী করার আদেশ দেয়া হচ্ছে।হযরত নবী আলাইহিমুস সালাম উনাদের স্বপ্ন হচ্ছে ওহী মুবারক।উনাদের তাদের চক্ষু মুদিত থাকলেও অন্তরচক্ষু খোলা থাকে। সুতরাং আল্লাহ পাক হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাকে উনার প্রিয়পুত্রকে কুরবানী করার আদেশ দিয়ে পরীক্ষা করছিলেন, যে পুত্রকে তিনি উনার বৃদ্ধাবস্থায় পেয়েছিলেন এবং তারপর শিশু অবস্থায় উনাকে এবং উনার সম্মানিতা মাতা হযরত হাজেরা আলাইহাস সালাম উনাকে মরুভুমিতে রেখে আসার আদেশ পেয়েছিলেন, এমন একটা উপত্যকায় যেখানে কোন জনপ্রাণীর সাড়াশব্দ ছিল না, কোন মানুষজন ছিল না, কোন বৃক্ষরাজি ছিল না এবং কোন পাখ-পাখালী বা পশুও ছিল না। হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম আল্লাহ পাক উনার আদেশ পালন করলেন এবং আল্লাহ পাক উনার উপর ভরসা করে উনাদেরকে সেখানে রেখে আসলেন। আর আল্লাহ পাক উনাদের জন্য অপ্রত্যাশিত উৎস থেকে রিযিক পাঠালেন। এত কিছুর পরেও, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার ঘরে প্রথম জন্ম নেয়া ও উনার একমাত্র পুত্র উনাকে কুরবানী করার জন্য যখন আদেশ করা হলো, তিনি তখন আল্লাহ পাক উনার ডাকে সাড়া দিলেন এবং আল্লাহ পাক উনার আদেশ মেনে, তিনি যা চেয়েছিলেন, তা করতে উদ্যত হলেন। তাই তিনি হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে ব্যাপারটা সম্বন্ধে বললেন,‘হে আমার সম্মানিত আওলাদ আলাইহিস সালাম আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, আমি আপনাকে জবাই করছি (আমি আপনাকে আল্লাহ পাক উনার জন্য কুরবানী করছি)। তাহলে, আপনি কী বলেন এই বিষয়ে!’ হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম সাথে সাথেই জবাব দিলেন, হে আমার সম্মানিত আব্বাজান আলাইহিস সালাম! আপনাকে যে আদেশ করা হয়েছে, আপনি তা-ই করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের মধ্যে পাবেন। আল্লাহ পাক বলেন,فَلَمَّآ أَسۡلَمَا وَتَلَّهُۥ لِلۡجَبِينِ ‘তারপর উনারা উভয়ে নিজেদেরকে ( আল্লাহ পাক উনার ইচ্ছার কাছে) সমর্পণ করলেন, এবং তিনি উনাকে উনার পার্শ্বে উপর কাত অবস্থায় শুইয়ে দিলেন’ এখানে বলা হয়েছে, ‘যখন উনারা উভয়ে নিজেদেরকে সমর্পণ করলেন’- অর্থ হচ্ছে উনারা দু‘জনে যখন নিজেদেরকে আল্লাহ পাক উনার আদেশের কাছে সমর্পণ করলেন‘এবং তিনি উনাকে শুইয়ে দিলেন’। ‘ উনারা উভয়ে নিজেদের সমর্পণ করলেন। হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম বললেন, ‘আল্লাহু আকবার’ , হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম বললেন, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’।তাফসীরের কিতাবে এসেছে, হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম যখন হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনার গলদেশে ছুরি চালান, কিন্তু তা উনাকে কাটেনি। এটা বলা হয়ে থাকে যে, ছুরি উনার গলার মাঝখানে একটা তামার পাত রাখা হয়েছিল। আল্লাহ পাক বলেন, ﴿ قَدۡ صَدَّقۡتَ ٱلرُّءۡيَآۚ ١٠٥ ﴾ [الصافات: ١٠٥] ‘হে হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম! আপনি আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন!’- এর অর্থ হচ্ছে উদ্দেশ্য সাধিত হয়েছে, আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে আর আপনি তা যথাযথ পালন করেছেন। তাই আল্লাহ পাক বলেন, ﴿ إِنَّ هَٰذَا لَهُوَ ٱلۡبَلَٰٓؤُاْ ٱلۡمُبِينُ ١٠٦ ﴾ [الصافات: ١٠٦] অর্থঃ‘নিশ্চয় এটা ছিল স্পষ্ট পরীক্ষা।’ অর্থাৎ এটা যে একটা পরীক্ষা ছিল তা পুরোপুরি স্পষ্ট। নিঃসন্দেহে এখানে মূল উদ্দেশ্য যবেহ ছিল না, বরং উদ্দেশ্য ছিল পিতা-পুত্রের আনুগত্য ও তাক্বওয়ার পরীক্ষা নেওয়া। সে পরীক্ষায় উভয়ে উত্তীর্ণ হয়েছিলেন পিতার পূর্ণ প্রস্ত্ততি এবং পুত্রের স্বতঃস্ফুর্ত সম্মতি ও আনুগত্যের মাধ্যমে। আল্লাহ পাক বলেন, ﴿ وَفَدَيۡنَٰهُ بِذِبۡحٍ عَظِيمٖ ١٠٧ ﴾ [الصافات: ١٠٧] অর্থঃআমি এক মহান কুরবাণীর বিনিময়ে হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম উনাকে ছাড়িয়ে নিলাম। এরপর জান্নাত থেকে আল্লাহ পাক একটা দুম্বা পাঠিয়ে দেন ।সেটাই কুরবানী করা হয় ।সুবহানাল্লাহ
৬২) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আলোকে পবিত্র কুরবানী
‘কুরবানী’ শব্দের অর্থ হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারকে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট পশু যবেহ করা। অর্থাৎ পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাস উনার ১০, ১১, ১২ তারিখের মধ্যে উট, মহিষ, গরু, ছাগল, ভেড়া, দুম্বা এসব হালাল গৃহপালিত চতুষ্পদ পশুকে মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারকে উনারই সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের লক্ষ্যে যবেহ করা। পবিত্র কুরবানী উনার মূলে ‘উদ্বহিয়্যাহ’ শব্দ মুবারক এসেছে। যার অর্থ হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে যবেহকৃত পশু। পবিত্র কুরবানী সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ’ উনার ২৮নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْبَائِسَ الْفَقِيرَ অর্থ:- “এবং তারা যেন স্মরণ করে কতক নির্দিষ্ট দিনে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক গৃহপালিত চতুস্পদ পশুর উপরে (অর্থাৎ কুরবানী করে সে সকল পশু) যা মহান আল্লাহ পাক তাঁদেরকে রিযিক হিসেবে দিয়েছেন।” আর তা থেকে তোমরা খাও এবং গরীব মিসকিনদেরকে খাওয়াও। মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ’ উনার ৩৬নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- وَالْبُدْنَ جَعَلْنَاهَا لَكُم مِّن شَعَائِرِ اللَّهِ لَكُمْ فِيهَا خَيْرٌ فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ كَذَلِكَ سَخَّرْنَاهَا لَكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ অর্থ:- “পবিত্র কুরবানী উনার উটসমূহ অর্থাৎ পশুসমূহকে আমি মহান আল্লাহ পাক উনার শিয়া’র বা নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছি। আর এর মধ্যে রয়েছে তোমাদের জন্য অফুরন্ত কল্যাণ। সুতরাং তোমরা উনাদের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারক স্মরণ করো দাঁড় করিয়ে। অতঃপর উটগুলো যখন কাত হয়ে (যমীনে) পড়বে তখন তোমরা উহার কিছু অংশ খাবে এবং অযাঞ্চাকারী, যাঞ্চাকারী সকল অভাবীকেও খাওয়াবে। এরূপে আমি উহাদিগকে অর্থাৎ পশুগুলোকে তোমাদের আওতাধীন করে দিয়েছি। যাতে তোমরা শুকরিয়া করতে পারো।” মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরবানী সম্পর্কে ‘পবিত্র সূরা আল কাওছার শরীফ’ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- “ إِنَّا أَعْطَيْنَاكَ الْكَوْثَرَ فَصَلِّ لِرَبِّكَ وَانْحَرْ অর্থাৎ- “নিশ্চয়ই আমি আপনাকে ‘কাওছার’ হাদিয়া করেছি। অতএব, আপনার মহান রব উনার সন্তুষ্টি মুবারক লাভের উদ্দেশ্যে পবিত্র নামায আদায় করুন এবং পবিত্র কুরবানী করুন।” মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ’ উনার ৩৪নং পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- وَلِكُلِّ أُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لِيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَى مَا رَزَقَهُم مِّن بَهِيمَةِ الْأَنْعَامِ অর্থ:- “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্যই পবিত্র কুরবানী উনার বিধান দিয়েছিলাম। যাতে তাঁরা মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক স্মরণ করে গৃহপালিত চতুস্পদ পশুর উপরে অর্থাৎ পবিত্র কুরবানী করে।” মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রথমোক্ত দুইখানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে পবিত্র মুক্কা শরীফ-এ উপস্থিত হাজী ছাহেবদের পবিত্র কুরবানী করার বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। আর শেষক্তো দুইখানা পবিত্র আয়াত শরীফ উনাদের মাধ্যমে প্রত্যেক সামর্থবান মুসলমানকে তাদের স্ব-স্ব স্থানে পবিত্র কুরবানী করার নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন। উপরুন্ত এটা জানিয়ে দেয়া হয়েছে যে, পবিত্র কুরবানী উনার বিধান শুধু আমাদের জন্যই নয় বরং পূর্ববর্তী উম্মতদের জন্যও ছিলো।
৬৩) পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র কুরবানী
খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- انا اعطينك الكوثر فصل لربك وانحر অর্থ: “হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনাকে কাওছার বা বহু কল্যাণ হাদিয়া করেছি। অতএব, আপনি আপনার প্রতিপালকের জন্য নামায পড়–ন এবং কুরবানী করুন।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- افضل العبادات يوم العيد عراقة دم القربا অর্থ: “পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিন কুরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত করা অর্থাৎ পশু যবেহ করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” সুবহানাল্লাহ! খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لن ينال الله لحومها ولا دمائها ولكن يناله التقوى منكم অর্থ: “পবিত্র কুরবানীর পশুর গোশ্ত ও রক্ত কোনোকিছুই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে না। শুধু তাক্বাওয়াই পৌঁছে থাকে।” সুবহানাল্লাহ! পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবাক হয়েছে, “পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিনে কুরবানীর পশুর রক্ত গোশ্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তিনি বান্দার গুনাহখাতা মাফ করে দেন।” সুবহানাল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সকলকে পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ মুতাবিক কুরবানী করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
৬৪) কুরবানী যোগ্য পশু
ইসলামী শরীয়ত উনাতে পবিত্র কুরবানী উনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু পশুর কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- لِكُلّ اُمَّةٍ جَعَلْنَا مَنسَكًا لّيَذْكُرُ‌وا اسْمَ اللهِ عَلـٰى مَا رَ‌زَقَهُم مّن بَـهِيْمَةِ الاَنْعَامِ ۗ‌ অর্থ :“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য পবিত্র কুরবানী এই উদ্দেশ্যে নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ওই নির্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন। (পবিত্র সূরা হজ্জশরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ৩৪) অর্থাৎ পবিত্র কুরবানী উনার পশু গৃহপালিত হতে হবে। আর গৃহপালিত পশুর মধ্যে কুরবানী যোগ্য পশুর বর্ণনা বিভিন্ন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্র্ণিত। নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি দু’টি সাদা-কালো বর্ণের বড়শিং বিশিষ্ট নর দুম্বা কুরবানী করেছেন। (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ) অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনিনিজ হাত মুবারক-এ তেষট্টিটি উট নহর করলেন।(মুসলিম শরীফ, আবূ দাউদ শরীফ) উম্মুল মু’মিনীন হযরত আয়িশা ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে অন্য হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে- وضحىرسولاللهصلىاللهعليهوسلمعننساءهبالبقر‌ অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হযরত উম্মুল মু’মিনীন আলাইহিন্নাস সালাম উনাদের পক্ষ হতে গরু কুরবানী করেছেন।” (বুখারী শরীফ) “মুসলিম শরীফ” উনার মধ্যে হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকেও গরু কুরবানী উনার বিষয়টিবর্ণিত রয়েছে। অর্থাৎ কুরবানী যোগ্য পশু হচ্ছে দুম্বা, মেষ, ভেড়া, ছাগল, খাসী, উট, গরু, মহিষ।
৬৫) পবিত্র কুরবানী উনার পশুর শরয়ী ত্রুটি
হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র কুরবানী উনার পশু সম্পর্কে বর্ণনা করেন- اشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده ويدي قصر من يده اربع لا يضحى بـهن العوراء البين عورها والـمريضة البين مرضها والعرجاء البين ظلعها والعجفاء التي لا تنقي فقالوا للبراء فانـما نكره النقص في السن والاذن والذنب قال فاكرهوا ما شئتم ولا تـحرموا على الناس. অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাত মুবারক দিয়েইশারা মুবারক করেন- আমার হাত মুবারক তো উনার হাত মুবারক থেকে ছোট এবং বলেন, ‘চার ধরণের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়না- ১) যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২) যে পশু অতি রুগ্ন, ৩) যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং ৪) যে পশু এত জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী দ্বারাওকুরবানী করা অপছন্দ করি। তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারেন তবে তা অন্যের জন্য হারাম করবেন না।” (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯১৯, আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ) হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত- امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستشرف العين والاذن وان لا نضحي بـمقابلة ولا مدابرة ولا شرقاء ولا خرقاء. অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের আদেশ মুবারক করেন, আমরা যেন পবিত্র কুরবানী উনার পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি এবং ওই পশু দ্বারা কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কর্তিত। তদ্রুপ যে পশুর কান ফাড়া বা কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ) হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে- نـهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يضحى باعضب القرن والاذن. অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাদের শিংভাঙ্গা বা কান-কাটা পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।” (ইবনে মাজাহ শরীফ)
৬৬) আইইয়ামে নহর বাপবিত্র কুরবানী উনার দিনে পবিত্র কুরবানী উনার পশু ব্যতীত অন্যান্য প্রাণী যবেহ করার বিধান
উনাদের আইয়ামে নহর বা পবিত্র কুরবানী উনারদিনে মজূসী বা অগ্নি উপাসকরা তাদের ধর্মীয় বিধান মুতাবিক হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে থাকে। এখন যদি কোন মুসলমান তাদের সাথে মুশাবাহ বা সাদৃশ্য রেখে কুরবানী উনার দিন হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা কুফরী হবে। কারণ মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- عَنْ حَضْرَتْ اِبْنِ عُمَرُ رَضِىَ اللهُ تَعَالـٰى عَنْهُ مَنْ تَشَبَّهْ بِقَوْمِ فَهُوَ مِنْهُمْ. অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু ইবনেহযরত উমর ফারূক্ব আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়ের সাথে মিল রাখে, সে তাদেরই অন্তর্ভুক্ত।” (আবূ দাঊদ শরীফ) আর যদি কোন মুসলমান সাধারণভাবে উক্ত সময়ে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটা মাকরূহ তাহরীমী হবে, যেহেতু এটাও মুশাবাহ হয়ে যায়। আর যদি কোন মুসলমান খুব জরুরতে হাঁস-মুরগি ইত্যাদি যবেহ করে, তাহলে সেটাও মাকরূহ তানযীহী হবে। আর এমন কোন মুসলমান, যার উপর কুরবানী ওয়াজিব অথবা ওয়াজিব নয়, তারা যদি পবিত্র কুরবানী উনার দিন হাঁস, মুরগি ইত্যাদি খেতে চায়, তাহলে তারা যেনো ছুবহি ছাদিকের পূর্বেই সেটা যবেহ করে কেটে রান্না করে রেখে দেয় অথবা শুধু যবেহ করে কেটে রেখে দিবে পরে রান্না করলেও চলবে। (শামী, আলমগীরী, ফতহুল ক্বাদীর, শরহে হিদায়া)
৬৭) বন্য পশু তথা বন্য গরু-মহিষের দ্বারা কুরবানী দেয়া নাজায়িয
বন্য পশু গরু হোক, মহিষ হোক তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় হবেনা। কারণ কুরবানী উনার জন্য গৃহপালিত পশু হওয়া শর্ত। উল্লেখ্য, পশুর নছব বা পরিচিতি হলো মায়ের দ্বারা। অর্থাৎ পশু গৃহপালিত বা জংলী তা চেনার জন্য সহজ পন্থা হলো- যে পশুর মা গৃহপালিত হবে, সে পশুটি গৃহপালিত বলে গণ্য হবে। আর যে পশুর মা জংলী হবে, সে পশুটি জংলী বলে গণ্য হবে। গৃহপালিত ছাড়া অন্যান্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবেনা। তা হরিণ হোক অথবা বন্য গরু, ছাগল, বকরী, ভেড়া ইত্যাদি যাই হোক না কেন। (সমূহ্ ফিক্বাহ ও তাফসীরের কিতাব)
৬৮) খাসী, বলদ ইত্যাদি দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা দুরস্ত ও শরীয়তসম্মত তো অবশ্যই বরং খাছ সুন্নত উনার অন্তর্ভুক্ত
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ও ফিক্বাহ্র কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে, কোন প্রাণীর কোন এক অঙ্গ যেমন- কান, লেজ ইত্যাদির এক তৃতীয়াংশের বেশী নষ্ট হয়ে গেলে তা দ্বারাকুরবানী করা জায়িয নেই। কোন কোন ক্ষেত্রে যেমন দাঁত অর্ধেকের বেশী যদি থাকে, তাহলে তা দিয়ে কুরবানী করা দুরুস্ত রয়েছে। এ উছূলের উপর ক্বিয়াস করে কোন কোন আলিম নামধারী মূর্খ ও গুমরাহ লোকেরা বলে থাকে যে, খাসী ও বলদ ইত্যাদি প্রাণী দ্বারা কুরবানী করলে নাকি কুরবানী দুরুস্ত হবেনা। অথচ এ ধরণের ক্বিয়াস অশুদ্ধ, নাজায়িয এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার বিরোধী। কেননা স্বয়ং মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিজে খাসীকুরবানী করেছেন। যা পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ রয়েছে- عن حضرت جابر رضى الله تعالى عنه قال ذبح النبى صلى الله عليه وسلم يوم الذبح كبشين أقرنين املحين موجوئين. অর্থ :“হযরত জাবির রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক কুরবানীউনার দিন সাদা-কালো মিশ্রিত রঙ্গের শিং বিশিষ্ট খাসীকৃত দু’টি তাজা দুম্বা কুরবানী করলেন।” কাজেই, এ পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা এটাই প্রমাণিত হয়, খাসী এবং খাসীকৃত প্রাণী কুরবানী করা জায়িয তো বটেই বরং খাস সুন্নত উনার অন্তর্ভূক্ত। খাসী করার কারণে প্রাণীর মধ্যে ছূরতান (প্রকাশ্য) যে ত্রুটি বা খুত হয়, সেটা শরয়ী ত্রুটি বা খুঁতের অন্তর্ভুক্ত নয়।
৬৯) জাল্লালা প্রাণী দ্বারা কুরবানী করা নাজায়িয
জাল্লালা প্রাণী দিয়ে কুরবানী করা জায়িয নেই। জাল্লালা প্রাণী বলে ওই প্রাণীকে, যে প্রাণী সদা-সর্বদা মল খেয়ে জীবন ধারণ করে, যার কারণে ঐ সমস্ত পশুর গোশতে দুর্গন্ধ পয়দা হয়। আর যে সমস্ত পশু প্রায় প্রায় মল বা নাজাসাত খেয়ে থাকে, সে সমস্ত পশু দিয়ে কুরবানী করা সম্পর্কে ইখতিয়ার রয়েছে। তবে যারা জায়িয বলেছেন, তারা বলেছেন- উট হলে ৪০ দিন, গরু হলে ২০ দিন, ছাগল হলে ১০ দিন, মোরগ হলে ৩ দিন, চড়ুই পাখি হলে ১ দিন বেঁধে রেখে ভাল খাদ্য দিয়ে তার গোশতের দুর্গন্ধ দূরীভূত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার পর যবেহ করা জায়িয ও তা দ্বারা কুরবানী আদায় করা জায়িয। (সমূহ ফিক্বাহের কিতাব)
৭০) কুরবানীদাতার ফাযায়িল-ফযীলত
(ক) পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত সম্পর্কে বহু পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت زيد بن ارقم رضى الله تعالى عنه قال قال اصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم ماهذه الاضاحى قال سنة ابيكم ابراهيم عليه السلام قالوا فما لنا فيها يا رسول الله صلى الله عليه وسلم قال بكل شعرة حسنة قالوا فالصوف يارسول الله صلى الله عليه وسلم قال بكل شعرة من الصوف حسنة. অর্থ :“হযরত যায়িদ ইবনে আরকাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন, হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমউনারা জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এই কুরবানী কি?তিনি জাওয়াবে বললেন, তোমাদের পিতা হযরত ইবরাহীম আলাইহিস সালাম উনার সুন্নত। উনারা পূনরায় জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! এতে আমাদের জন্য কি পরিমাণ নেকী রয়েছে?তিনি বললেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে একটি করে নেকী রয়েছে। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা আবার জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! পশমওয়ালা পশুর ক্ষেত্রে কি হুকুম? তিনি বললেন, পশমওয়ালা পশুর প্রত্যেকটি পশমের পরিবর্তেও একটি করে নেকী রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসনাদে আহমদ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, মিশকাত শরীফ) (খ) বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তিনি মহান আল্লাহ তায়ালা উনার দরবার শরীফ-এ প্রার্থনা জানান, বারে ইলাহী! আখিরী রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার উম্মত উনারাপবিত্র কুরবানী করলে কি পরিমাণ ছওয়াব পাবে? মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি জবাব দেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে কুরবানীদাতা দশটি নেকী লাভ করবে, তার দশটি গুণাহ ক্ষমা করা হবে এবং দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ!হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম তিনি পুনরায় জিজ্ঞাসা করেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর পেট চিরলে কি পরিমাণ ছওয়াব পাবে? মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি বলেন, কুরবানীদাতা কবর হতে উঠলে ক্ষুধা-পিপাসায় অস্থির হবে না এবং ক্বিয়ামতের ভয়ভীতি থেকেও ইতমিনান থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আরো বলেন, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতি গোশতের টুকরারবদলে কুরবানীদাতা জান্নাতে একেকটি মহল লাভ করবে। সুবহানাল্লাহ! মহানআল্লাহ তায়ালা তিনি আরো বলেন, হে হযরত দাউদ আলাইহিস সালাম! আপনি জেনে রাখুন, কুরবানীদাতার জন্য পবিত্র কুরবানী উনার পশু (পুলছিরাত পার হওয়ার) বাহন স্বরূপ হবে। (গ) বর্ণিত রয়েছে, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র মদীনা শরীফ দশ বছর অবস্থান মুবারক করেছেন। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানী করেছেন; কখনও তা ছাড়েননি এবং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও পবিত্র কুরবানী করার ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। পবিত্র কুরবানী না করে তার অর্থ দান করে দেয়ার বিধান শরীয়ত উনার মধ্যে নেই। কেননা, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কিংবা হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারাও এরূপ করেননি। অথচ উনাদের যুগেই এর জরুরত ছিল অধিক। বরং উনারা পবিত্র কুরবানী করেছেন এবং তার গোশত ও চামড়া অভাবগ্রস্থদের মধ্যে বণ্টন করতে বলেছেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- عَنْ ام الـمؤمنين حضرتصديقة عليها السلام قالتقالرسول الله صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ ما عمل ابن ادم من عمل يوم النحر احب الى الله من اهراق الدم وانه لياتى يوم القيامة بقرونـها واشعارها واظلافها وان الدم ليقع من الله بـمكان قبل ان يقع بالارض فطيبوا بـها نفسا.অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত পবিত্র কুরবানী উনার দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকেন তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাকউনার নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো পবিত্র কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে পবিত্র কুরবানী উনার পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পৌঁছে যায়। (সুবহানাল্লাহ!) কাজেই তোমরা আনন্দচিত্তে পবিত্র কুরবানী করো।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ)এক বর্ণনা মতে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু কুরবানীদাতার নাজাতের ব্যাপারে সাক্ষ্য দান করবে। পবিত্র কুরবানী উনার পশুর প্রতিটি পশমের পরিবর্তে মহান আল্লাহ পাক তিনি কুরবানীদাতার আমলনামায় অসংখ্য নেকী দান করেন। সুবহানাল্লাহ! (ঘ) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, মহান আল্লাহ পাকউনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “পবিত্র ঈদুল আদ্বহা উনার দিনে বান্দার পবিত্র কুরবানী উনার পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই মহান আল্লাহ পাক তার সমস্ত গুণাহ মাফ করে দেন।”সুবহানাল্লাহ! (ঙ) পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “যে সমস্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা হবে ক্বিয়ামতের দিন সেই পশুগুলো কুরবানীদাতাকে পিঠে করে বিদ্যুৎবেগে পুলছিরাত পার করে বেহেশতে পৌঁছিয়ে দিবে।” সুবহানাল্লাহ! (চ) পবিত্রহাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “পবিত্র কুরবানী উনার পশু ক্বিয়ামতের দিন সাওয়ারী বা বাহন হিসেবে গণ্য হবে।” সুতরাং কানা, খোড়া, রোগাক্রান্ত, কানকাটা, দন্তহীন ইত্যাদি যাবতীয় দোষযুক্ত পশু পবিত্র কুরবানী করা পরিহার করতঃ সম্পূর্ণ দোষমুক্ত পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করা উচিত। উল্লেখ্য, যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব তারা তো পবিত্র কুরবানী করে অফুরন্ত ফযীলত লাভ করবেন। কিন্তু যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব নয় তারাও ইচ্ছা করলে একাধিকজন মিলে মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক নামে দুম্বা, মেষ, ভেড়া, ছাগল, খামী বা গরু, মহিষ পবিত্র কুরবানী দিয়ে পবিত্র কুরবানী উনার ফযীলত লাভ করতে পারে।
৭১) পবিত্র কুরবানীর বরকতময় রক্ত আরো বেশি প্রবাহিত হোক
পবিত্র কুরবানীর ঈদের দিন বৃষ্টির পানির সাথে কুরবানীর পশুর রক্ত প্রবাহিত হয়েছিলো শহরের অলিতে গলিতে, বিভিন্ন রাস্তায়। কিছু কুরবানীবিরোধী মিডিয়া ও কথিত পরিবেশবাদী এসব রাস্তার ছবি নিয়ে খুব হায় হুতাশ করেছে। ছবিগুলো সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে দেশ-বিদেশে ছড়িয়েছে। পক্ষে বিপক্ষে অনেক মন্তব্য হয়েছে, আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। অনেক মুসলমান এসবের জবাব দিতে না পেরে বলেছে রাস্তার রক্তমিশ্রিত ছবিগুলো ফটোশপে লাল করা হয়েছে। অতিরঞ্জিত করার জন্য হয়তো ফটোশপে এডিট হতেও পারে কিন্তু সেটা আমার বলার বিষয় নয়। আমি মনে করি রাস্তা রঞ্জিত হয়েছে আরো রঞ্জিত হওয়া উচিত। কুরবানীর রক্ত সবজায়গাতেই প্রবাহিত হওয়া উচিত। কেননা পবিত্র কুরবানীর ইবাদতটিই রক্ত প্রবাহের। কুরবানীর দিনকে বলা হয় ইয়াওমুন নহর। নহর শব্দটির অর্থ হচ্ছে রক্ত প্রবাহিত করা। অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য মুসলমানগণ পশু কুরবানী করে রক্ত প্রবাহিত করবে; এটা মহান আল্লাহ পাক উনার অতি প্রিয় ও পছন্দের একটি বিষয়। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে কুরবানীর পশুর রক্ত বৃষ্টির পানিতে প্রবাহিত হয়েছে তো খারাপ কি হয়েছে, বরং মহান আল্লাহ তিনি আরো বেশি খুশি হবেন। কারণ এসব রক্ততো আর সন্ত্রাসী আমেরিকার মতো বোমা হামলা করে মানুষ মেরে হয়নি। কিংবা ভারতের উগ্র হিন্দুদের মুসলিম গণহত্যার রক্তমিশ্রিত পানি নয়। বৃষ্টির পানিতে মিশ্রিত এ রক্ত মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টির জন্য কুরবানিকৃত পশুর বরকতময় রক্ত। এ বরকতময় রক্ত আরো বেশি প্রবাহিত হোক।
৭২) মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পশুর গোশত, রক্ত পৌঁছে না; বরং তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে থাকে।’
মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পশুর গোশত, রক্ত পৌঁছে না; বরং তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে থাকে।’ পবিত্র কুরবানী উনার মূল বিষয়ই হচ্ছে তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াত। যারা তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াতের সাথে পবিত্র কুরবানী করেছেন, তারাই মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করেছেন। অতএব, সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে- হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক্ব আদায় করার সাথে সাথে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইখলাছ বা তাক্বওয়া মুবারক হাছিল করা। যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ, যামানার ইমাম ও মুজতাহিদ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইউস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, ক্বইয়ূমুয যামান, জাব্বারিউল আউওয়াল, ক্বউইয়্যূল আউওয়াল, সুলত্বানুন নাছীর, হাবীবুল্লাহ, জামিউল আলক্বাব, আওলাদে রসূল, মাওলানা সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ” উনার মধ্যে সামর্থ্যবান বান্দা-বান্দীকে উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জনের লক্ষ্যে পবিত্র কুরবানী করার জন্য সরাসরি নির্দেশ মুবারক প্রদান করেছেন। যেমন- মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “আপনার মহান রব তায়ালা উনার (সন্তুষ্টি মুবারকের) জন্য পবিত্র নামায আদায় করুন এবং পবিত্র কুরবানী করুন।” আর নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা খুশি মনে ইখলাছ বা আন্তরিকতার সাথে পবিত্র কুরবানী করো।” মহান আল্লাহ পাক তিনি আরো ইরশাদ মুবারক করেন, “মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পশুর গোশত, রক্ত পৌঁছে না, বরং তোমাদের তাক্বওয়া পৌঁছে থাকে।” সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ‘পবিত্র সূরা বাইয়্যিনাহ শরীফ’ উনার ৫ নম্বর পবিত্র আয়াত শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তাদেরকে (ঈমানদারদেরকে) শুধু এ নির্দেশ মুবারকই দেয়া হয়েছে যে, তারা যেন খালিছভাবে অর্থাৎ ইখলাছ মুবারক উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার ইবাদত করে।” আর পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি ওই সমস্ত আমল কবুল করবেন না; যা ইখলাছ মুবারক উনার সাথে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক উনার জন্য করা হয় না।” পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদের আকৃতি বা ধন-সম্পদের প্রতি লক্ষ্য করেন না, বরং তিনি তোমাদের নিয়ত ও অন্তরের (ইখলাছের) দিকে লক্ষ্য করেন।” মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা পশুর কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না। উনারা দেখেন- কে উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের জন্য উনাদের নির্দেশ মুবারক মুতাবিক পবিত্র কুরবানী করলো। আর কে গাইরুল্লাহর জন্য নিজের খেয়াল-খুশি মতো পবিত্র কুরবানী করলো। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, তাক্বওয়া বা ইখলাছ ব্যতীত পাহাড়সম আমলও কোনো উপকারে আসবে না। তাই তাক্বওয়া বা ইখলাছ অর্জন করা ফরয। অতএব, সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক্ব আদায় করার সাথে সাথে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইখলাছ বা তাক্বওয়া মুবারক হাছিল করা। আর হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা ব্যতীত ইছলাছ বা তাক্বওয়া হাছিল করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, যারা তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াতের সাথে পবিত্র কুরবানী করেছেন তারাই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি মুবারক হাছিল করেছেন। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমাদের মধ্যে ওই ব্যক্তি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট অধিক সম্মানিত, যে ব্যক্তি অধিক মুত্তাক্বী।” অর্থাৎ যিনি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনার অধিক অনুসরণকারী। সুবহানাল্লাহ! মুজাদ্দিদে আ’যম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, মূলকথা হলো- পবিত্র কুরবানী উনার মূল বিষয়ই হচ্ছে তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াত। যারা তাক্বওয়া বা খুলূছিয়াতের সাথে পবিত্র কুরবানী করেছেন তারাই মহান আল্লাহ পাক উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের রেযামন্দি মুবারক হাছিল করেছেন। অতএব, সকলের জন্যই ফরয-ওয়াজিব হচ্ছে, হক্কানী-রব্বানী মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করে সবক্ব আদায় করার সাথে সাথে ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে ফয়েয-তাওয়াজ্জুহ হাছিল করে ইখলাছ বা তাক্বওয়া মুবারক হাছিল করা। আর হক্কানী-রব্বানী শায়েখ বা মুর্শিদ ক্বিবলা উনার নিকট বাইয়াত গ্রহণ করা ব্যতীত ইছলাছ বা তাক্বওয়া হাছিল করা কস্মিনকালেও সম্ভব নয়।
৭৩) সুওয়াল : যে ব্যক্তির উপর কুরবানী ওয়াজিব, সে তার নিজের নামে কুরবানী না দিয়ে মৃত বা জীবিত পিতা-মাতার নামে কুরবানী দিলে তার নিজের কুরবানী আদায় হবে কিনা?
আমাদের হানাফী মাযহাব মতে মালিকে নিছাব প্রত্যেকের উপর আলাদাভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব তার পক্ষ থেকেই কুরবানী করতে হবে। যার উপর কুরবানী ওয়াজিব সে তার নামে কুরবানী না করে মৃত বা জীবিত অপরের নামে কুরবানী করলে ওয়াজিব তরকের কারণে সে কঠিন গুনাহে গুনাহগার হবে। যদিও বাবা মা-এর নামে কুরবানী করে; যাদের প্রতি কুরবানী ওয়াজিব নয়। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৭৪) মুসাফিরের উপর কি কুরবানী করা ওয়াজিব?
কুরবানী ওয়াজিব হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে- (১) মুসলমান হওয়া, (২) স্বাধীন হওয়া, (৩) মুক্বীম হওয়া, (৪) বালেগ হওয়া, (৫) মালিকে নেছাব হওয়া। কাজেই মুসাফিরের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, যদিও সে মালিকে নেছাব হোক না কেন। কিন্তু যদি সে কুরবানী করে, তবে আদায় হয়ে যাবে। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৭৫) সুওয়াল : কুরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করে সে টাকা মসজিদ কিংবা ঈদগাহের ইমামকে দেয়া জায়িয হবে কিনা?
মসজিদ ও ঈদগাহে ইমামতি করা বাবদ উক্ত টাকা ইমাম ছাহেবকে দেয়া জায়িয হবে না। অবশ্য ইমাম ছাহেব যদি ফিতরা ও কুরবানীর ছাহিবে নিছাব না হন, তাহলে দান হিসেবে উক্ত টাকা নিতে পারেন। কিন্তু ছাহিবে নিছাব হলে, তা নিতে পারবেন না। আর চামড়া বিক্রয় না করে পুরো চামড়াটিই যদি ইমাম সাহেবকে হাদিয়া হিসেবে দেয়া হয়, তবে ইমাম ধনী হলেও তা নিতে পারবেন। তবে চামড়া বিক্রি করলে তার মূল্য গরিব-মিসকীনদেরকে দিয়ে দিতে হবে। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৭৬) মৃত ব্যক্তির নামে কুরবানী করা জায়িয কিনা?
কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ করতে হবে। যেমন- بسم الله الله اكبر উচ্চারণ: “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” বলে কুরবানী করতে হবে। এখন যদি কেউ কোনো ব্যক্তির নামে, হোক সে জীবিত অথবা মৃত-এর নামে করে, যেমন- “বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” এর পরিবর্তে আব্দুর রহীম, আব্দুল করীম, বকর, যায়িদ, আমর ইত্যাদি নামে কুরবানী করে, তাহলে কুরবানী অশুদ্ধ হবে। উক্ত পশুর গোশ্ত খাওয়াও হারাম হবে ও সাথে সাথে কুফরী ও কবীরা গুনাহ হবে। মূলত, কুরবানী একমাত্র মহান আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এই করতে হবে। তবে পশুতে সাত নাম ও এক নাম দেয়ার কথা যে উল্লেখ করা হয়েছে, তাহলো- সাতজন অথবা একজন (চাই তারা জীবিত হোক অথবা মৃত হোক)-এর তরফ থেকে বা পক্ষ থেকে আল্লাহ পাক উনার নাম মুবারক-এ কুরবানী করা। এ মাসয়ালাটি না বুঝার কারণে অনেকে সরাসরি বলে থাকে, কুরবানীর পশুতে মৃত পূর্ব পুরুষদের নাম দেয়া যাবে না। নাউযুবিল্লাহ! (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৭৭) উলামায়ে ‘সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া দিলে গুনাহ হবে
বর্তমানে অধিকাংশ মাদ্রাসাগুলোই হচ্ছে জামাতী, ওহাবী, খারিজী; দেওবন্দী ক্বওমী মতাদর্শের তথা সন্ত্রাসী তৈরির কেন্দ্র। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার দোহাই দিয়ে, সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হাছিলের প্রকল্প। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার নামে নির্বাচন করার ও ভোটের রাজনীতি করার পাঠশালা- যা সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে সম্পূর্ণ হারাম। কাজেই, জামাতী, খারিজী, তাবলীগী, ওহাবী সন্ত্রাসী ও মৌলবাদী তথা ধর্মব্যবসায়ীদের মাদ্রাসাতে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া দিলে তা কস্মিনকালেও আদায় হবে না। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন, “তোমরা নেককাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদকাজে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে খালিক্ব, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা।” (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ- ২) আফদ্বালুন নাস বা’দাল আম্বিয়া হযরত ছিদ্দীক্বে আকবর আলাইহিস সালাম তিনি পবিত্র যাকাতের পশুর একটি রশির জন্যও জিহাদ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। কাজেই পবিত্র যাকাতের একটি রশির মতোই পবিত্র কুরবানীর পশুর একটি চামড়াও যাতে ভুল উদ্দেশ্যে ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কাজেই পবিত্র কুরবানীর চামড়া দিয়ে যারা ছদকায়ে জারীয়ার ছওয়াব হাছিল করতে চান, তাদের জন্য একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ-সুন্নতী মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’ ৫নং আউটার সার্কুলার রোড, রাজারবাগ, ঢাকা।
৭৮) যেসব দোষযুক্ত পশু কুরবানী করা নিষেধ
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- وعن حضرت على عليه السلام قال امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستشرف العين والاذن وان لانضحى بمقابلة ولامدابرة ولا شرقاء ولاخرقاء . অর্থ:- “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদেরকে নির্দেশ মুবারক দিয়েছেন, আমরা যেন (পবিত্র কুরবানীর পশুর) চোখ ও কান উত্তমরূপে দেখে নেই এবং আমরা যেন পবিত্র কুরবানী না করি সেসব পশু দ্বারা, যেসব পশুর কানের অগ্রভাগও শেষ ভাগ কাটা অথবা কান গোলাকারে ছিদ্র বা যার কান পাশের দিকে।” (তিরমিযী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ ও দারিমী শরীফ) অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে- وعن حضرت على عليه السلام قال نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نضحى باعضب القرن والاذن . অর্থ:- “হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি নিষেধ করেছেন, আমরা যেন শিং ভাঙ্গা ও কান কাটা পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী না করি।” (ইবনে মাজাহ শরীফ) আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে, وعن حضرت البراء بن عازب رضى الله عنه ان رسول الله صالى الله عليه وسلم سئل ماذا يتقى من الضحايا فاشار بيده فقال اربعا العرجاء البين ظاعها والوراء البين عورها والمريضة البين ورضها والعجفاء التى لاتنقى . অর্থ:- “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘পবিত্র কুরবানীর জন্য কোনো রকমের পশু হতে বেঁচে থাকা উচিত?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপন হাত মুবারক দ্বারা ইশারা করে বললেন, ‘চার রকমের পশু হতে। যেমন- ১. খোড়া- যার খোঁড়ামি সুস্পষ্ট। ২. কানা- যার কানামি সুস্পষ্ট। ৩. রুগ্ন- যার রোগ সুস্পষ্ট। ৪. দুর্বল- যার হাড়ের মজ্জা নাই অর্থাৎ শুকিয়ে গেছে।” (তিরযিমী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, দারিমী শরীফ) অর্থাৎ নিম্নোক্ত দোষ-ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানী করলে কুরবানী ছহীহ হবে না- ১. দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২. অতি রুগ্ন, ৩. খোড়া, ৪. এমন জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই, ৫. কানের অগ্রভাগ অথবা পশ্চাদভাগ কর্তিত, ৬. কান ফাঁড়া, ৭. কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত, ৮. শিং ভাঙ্গা, ৯. পঙ্গু, ১০. চক্ষুহীন।
৭৯) পশু কুরবানী করার সুন্নতী পদ্ধতি ও নিয়ত
পবিত্র কুরবানী উনার পশুর মাথা দক্ষিণ দিকে এবং পা পশ্চিম দিকে রেখে অর্থাৎ ক্বিবলামুখী করে শোয়ায়ে পূর্ব দিক থেকে চেপে ধরতে হবে, তারপর কুরবানী করতে হবে। আর পবিত্র কুরবানী করার সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, সিনার উনার অর্থাৎ গলার নীচে নরম স্থানের উপরে ও কন্ঠনালীর নীচে মাঝামাঝি স্থানে যেন যবেহ করা হয়। আরো উল্লেখ্য যে, গলাতে চারটি রগ রয়েছে, তন্মধ্যে গলার সম্মুখভাগে দুটি- খাদ্যনালী ও শ্বাসনালী এবং দু’পার্শ্বে দুটি রক্তনালী। এ চারটির মধ্যে খাদ্যনালী, শ্বাসনালী এবং দুটি রক্তনালীর মধ্যে একটি অবশ্যই কাটতে হবে। অর্থাৎ চারটি রগ বা নালীর মধ্যে তিনটি অবশ্যই কাটতে হবে, অন্যথায় পবিত্র কুরবানী হবে না। যদি সম্ভব হয়, তবে ছুরি চালানোর সময় বেজোড় সংখ্যার প্রতি লক্ষ্য রাখতে হবে। পবিত্র কুরবানী উনার নিয়ত: ইন্নী ওয়াজ্জাহতু ওয়াজহিয়া লিল্লাজি ফাত্বারাস সামাওয়াতি ওয়াল আরদা হানীফাও ওয়ামা আনা মিনাল মুশরিকীন। ইন্না ছলাতী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া ইয়া ওয়া মামাতী লিল্লাহি রাব্বিল আলামীন। লা শারীকালাহু ওয়া বি যালিকা উমিরতু ওয়া আনা মিনাল মুসলিমীন। আল্লাহুম্মা মিনকা ও লাকা। এ দোয়া পড়ে ‘বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর’ বলে জবেহ করতে হবে। যবেহ করার পর এ দোয়া পড়বেন: ‘আল্লাহুম্মা তাক্বাব্বালহু মিন্নী কামা তাক্বাব্বালতা মিন হাবীবিকা সাইয়্যিদিনা হাবীবানা রসূলিনা ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া হযরত খালীলিকা আলাইহিস সালাম ও যাবিহীকা আলাইহিস সালাম।’ যদি নিজের কুরবানী হয়, তবে ‘মিন্নী’ বলতে হবে। আর যদি অন্যের কুরবানী হয়, তবে ‘মিন’ শব্দের পর যার বা যাদের কুরবানী তার বা তাদের নাম উল্লেখ করতে হবে। আর যদি অন্যের সাথে শরীক হয়, তাহলে ‘মিন্নী’ও বলবেন, অতঃপর ‘মিন’ বলে অন্যদের নাম বলতে হবে। কেউ যদি উপরোক্ত নিয়ত না জানে, তাহলে জবেহ করার সময় শুধু বিস্মিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলে পবিত্র কুরবানী করলেও শুদ্ধ হয়ে যাবে। কারণ নিয়ত অন্তরের সাথে সম্পর্কযুক্ত। তবে অবশ্যই প্রত্যেক যবেহকারীর উচিত উপরোক্ত নিয়ত শিক্ষা করা। কেননা উপরোক্ত নিয়ত পাঠ করে পবিত্র কুরবানী করা সুন্নাতের অন্তর্ভুক্ত। {দলীলসমূহ:- আহমদ, আবূ দাউদ, তিরমীযী, দারিমী ইবনে মাযাহ, বজলূল মযহুদ, মিশকাত, মিরকাত, মুজাহেরে হক্ব, লুমায়াত, ত্বীবী, তালিক্ছ্ ুছবীহ, আশয়াতুল লুমায়াত, আলমগীরী, শামী, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।
৮০) পবিত্র কুরবানী উনার জবাইকৃত পশুর যে সমস্ত অংশগুলো খাওয়া নিষেধ ॥
পবিত্র কুরবানী বা হালাল পশুর ৮টি অংশ খাওয়া যাবে না। ০১. দমে মাছফূহা বা প্রবাহিত রক্ত যা হারাম। ০২. গুটলী বা গোদুদ খাওয়াও হারাম। ০৩. অ-কোষ। ০৪. মূত্রথলী। ০৫. পিত্ত। ০৬. ছোট ইস্তিঞ্জার রাস্তা বা লিঙ্গ। ০৭. বড় ইস্তিঞ্জার রাস্তা বা গুহ্যদ্বার। এ ৫টি অংশ খাওয়া মাকরূহ তাহরীমী এবং ০৮. শিরদাড়ার ভিতরের মগজ, এটা কেউ মাকরূহ তাহরীমী, আবার কেউ মাকরূহ তানযীহী বলেছেন। (শামী, মাতালিবুল মু’মিনীন, উমদাতুল কালাম, কিতাব-শাইখুল ইসলাম) উপরোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি পবিত্র কুরবানী দাতা উনাদের খেয়াল রাখতে হবে।
৮১) পবিত্র কুরবানী উনার পশু নিজ হাতে যবেহ করা খাছ সুন্নত মুবারক
পবিত হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে- عن حضرت انس بن مالك رضى الله عنه قال : ضحى رسول الله صلى الله عليه وسلم بكيشين املحين اقرنين ذبحهما بيده سمى وكبر قال ربيته واضعا قدمه على صفاحهما ويقول بسم الله والله اكبر . অর্থ:- “হযরত আনাস ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি এক ঈদে ধুসর রংয়ের শিংদার হৃষ্টপুষ্ট দু’টি দুম্বা কুরবানী মুবারক করলেন। তিনি উনাদেরকে নিজ হাত মুবারকে যবেহ করলেন এবং (যবেহ করার সময়) বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বললেন। হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বলেন, আমি উনাকে (যবেহ করার সময়) পশুর পাঁজরের উপর উনার ক্বদম মুবারক রাখতে এবং বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবর বলতে শুনেছি।” (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ, মিশকাত শরীফ বাবু ফিল উদ্বইয়্যিাহ) উপরোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু নিজ হাতে ছুরি দ্বারা যবেহ করা খাছ সুন্নত মুবারক। মেশিনে যবেহ করা নাজায়িয অর্থাৎ যবেহ ও কুরবানী উভয়টাই বাতিল হওয়ার কারণ।`
৮২) শেষ মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর থেকে ইন্দিরা গান্ধী: যেকোনো শাসকগোষ্ঠীর নির্বংশ হওয়ার জন্য কুরবানীর বিরোধিতা করাটাই যথেষ্ট
আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশে এমন বহু শাসক রয়েছে, যাদের পতন হয়েছে কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণে। গরু কুরবানীর বিরোধী শাসকদের মধ্যে হিন্দু যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ‘উলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা বিভ্রান্ত মুসলমান শাসকগোষ্ঠী। তাদের সবাইকেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে, কিন্তু হিন্দুর চেয়ে মুসলমান নামধারী যেসব শাসক গরু কুরবানীর বিরোধিতা করেছিল, তাদের শাস্তি হয়েছিল বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, ঐসব শাসকদের প্রত্যেকেই দুনিয়াবী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পরও কেবল গরু কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণে ক্ষমতাচ্যুত কিংবা নিহত হয়েছিল। তারা নিজেরা তো বটেই, এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচতে পারেনি। উদাহরণস্বরূপ ইন্দিরা গান্ধীর কথাই উল্লেখ করা যায়। ইন্দিরা গান্ধী ১৯৬৬ ঈসায়ীতে সর্বপ্রথম ভারতের ক্ষমতায় বসে, আর সেই বছরই ভারতে ব্যাপকভাবে ‘গো-রক্ষা আন্দোলন’ ছড়িয়ে পড়ে বিবস্ত্র হিন্দু সন্ন্যাসীদের নেতৃত্বে। ভারতীয় লেখক শৈলেশকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় রচিত ‘দাঙ্গার ইতিহাস’ বইতে এ দাঙ্গার সূত্রপাত প্রসঙ্গে উল্লেখ রয়েছে- .“গোহত্যা বিরোধী যে আন্দোলন চলছিল তাও মুসলমান-হিন্দুর মধ্যে দুরত্বের সৃষ্টি করে। শঙ্করাচার্য ও অন্য হিন্দু ধর্মীয় নেতারা এ আন্দোলনের পুরোধার ভূমিকা নিয়ে ধর্মীয় সভা, কথা ইত্যাদির মাধ্যমে হিন্দু অস্মিতা বৃদ্ধি করার সঙ্গে সঙ্গে এ প্রচার করতে থাকে যে, মুসলমানদের মন পাবার জন্য সরকার সম্পূর্ণ গোবধ বন্ধ করার আইন রচনা করছে না। ” (পৃষ্ঠা ৮৬) দাঙ্গার ভয়াবহতা সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে যে-“কোনো কোনো পাড়ায় আক্রমণকারীরা ভোটার তালিকা নিয়ে মুসলমানদের বাড়ি খুঁজে বের করে। মুসলমান উনাদের জ্বলন্ত বাড়ি ও দোকানগুলো দেখতে দাঙ্গাবাজ হিন্দু নারী-পুরুষরা মেলা দেখার মতো ভিড় জমায়। মুসলমানদের আর্তচিৎকার ছাপিয়ে ‘জয় জগন্নাথ’ রোল উঠে। কোথাও কোথাও দর্শকদের প্রসাদ বণ্ঠন করা হয়। সম্ভ্রমহানি, বস্ত্রহরণ ও বিবস্ত্র অবস্থায় মুসলমান নারীদের পথ পরিক্রমা করতে বাধ্য করাসহ নারী নির্যাতনের এমনসব পৈশাচিক পন্থা অবলম্বন করা হয়েছিল যার বর্ণনা দেয়া ভদ্ররুচির বিরুদ্ধ।” (দাঙ্গার ইতিহাস, শৈলেশকুমার বন্দোপাধ্যায়, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স, কলকাতা, পৃষ্ঠা ৯১) ইন্দিরা গান্ধী প্রথম দফায় ক্ষমতায় ছিল ১৯৬৬ ঈসায়ী থেকে ১৯৭৭ ঈসায়ী পর্যন্ত। এর পরের দফায় ১৯৮০ ঈসায়ীতে সে ফের ক্ষমতায় আসে। এই সময়ে তার উত্তরাধিকার হিসেবে বিবেচনা করা হতে থাকে তার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধীকে। এই সঞ্জয় গান্ধী সম্পর্কে কলামিস্ট বদরুদ্দীন উমর মন্তব্য করেছে- “ইন্দিরা গান্ধীর ছেলে সঞ্জয় গান্ধী দিল্লিতে গরুর গোশত নিষিদ্ধ করে এবং জুমা মসজিদের পাশে যে বিখ্যাত কাবাবের দোকানগুলো ছিল, সেগুলো সব উঠিয়ে দেয়।” (সূত্র: দৈনিক সমকাল, ভারতের গরু সমস্যা, ২রা আগস্ট ২০১৬ ঈসায়ী) এই সঞ্জয় গান্ধী ১৯৮০ সালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হয়। ১৯৮৪ সালে সঞ্জয়ের মা ইন্দিরা গান্ধীও তার শিখ দেহরক্ষীদের দ্বারা নিহত হয়। ইন্দিরার পর তার ছেলে রাজীব গান্ধী ক্ষমতায় আসে, যে ১৯৮৯ সালে উগ্র তামিল সন্ত্রাসীদের দ্বারা আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত হয়। অর্থাৎ গরু কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণেই এই গান্ধী পরিবারের উপর মহান আল্লাহ পাক উনার লা’নত বর্ষিত হলো এবং গান্ধী পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অপমৃত্যু হলো। তবে এখানে বিষয়টি হলো, ইন্দিরা গান্ধী মুসলমান ছিল না, সে ছিল হিন্দু। মুসলমান নামধারী যেসব বাদশাহ গরু কুরবানীর বিরোধিতা করেছিল, তাদেরকেও কিন্তু পরিবারসহ হত্যাকা-ের শিকার হতে হয়েছিল। মুসলমান দাবি করার পরও তাদের উপর গযবের তীব্রতা এতটুকু কমেনি, এমনকি তাদের অনুগত মুসলিম জনগণকেও সেই গযবের ভাগীদার হতে হয়েছিল। যার নির্মম উদাহরণ হলো শেষ মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর ও তার অধীনস্থ দিল্লীর মুসলিম জনসাধারণ। প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় যে, বাহাদুর শাহ জাফর ছিল চরম স্তরের হিন্দুপ্রেমিক। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহে অবরুদ্ধ দিল্লীতে হিন্দুরা ইংরেজদের চর হিসেবে কাজ করছে, সেটি তাকে বারবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়ার পরও সে তাতে কর্ণপাত করেনি। ব্রিটিশ লেখক উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল তার ‘দি লাস্ট মোগল’ বইতে এ প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছে যে- “মৌলভী মুহম্মদ সাঈদ অবিলম্বে প্রাসাদে উপস্থিত হয়ে বাদশাহকে ভর্ৎসনার সুরে বলেন যে, হিন্দুরা সবাই ইংলিশদের সমর্থক এবং তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ পুরোপুরি বৈধ। বাদশাহ জাফর ঘোষণা করলো যে, তার দৃষ্টিতে হিন্দু মুসলমান উভয়ই সমান। অতএব, জিহাদ অসম্ভব একটি ব্যাপার।” (তথ্যসূত্র: দি লাস্ট মোগল, উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল, ঐতিহ্য প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২২৬) অবরুদ্ধ দিল্লীতে বাহাদুর শাহ জাফর হিন্দুদের তুষ্ট করার জন্য হেন জিনিসটি নেই যা করেনি, যার উল্লেখ তৎকালীন ঐতিহাসিক বর্ণনাগুলোতেই পাওয়া যায়। উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল উল্লেখ করেছে যে- “এমন একটি বিবরণও পাওয়া গেছে যে বাদশাহ জাফরকে জনৈক ব্রাহ্মণ বলেছিল যে তাকে যদি তিনদিন পর্যন্ত একটি সুরক্ষিত বাড়িতে রেখে দুর্গন্ধযুক্ত একটি আগুনের শিখা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সকল সামগ্রী সরবরাহ করা হয়, তাহলে সে নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে যে বাদশাহ বিজয়ী হবে। বাদশাহ এতে অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে তার পূজার সামগ্রী সরবরাহের নির্দেশ দেয়।” (পৃষ্ঠা ২৫৭) বাদশাহর আস্কারা পেয়ে হিন্দুদের সাহস এতদূর বৃদ্ধি পায় যে, তারা গরু জবাই করার কারণে দিল্লীতে পাঁচজন মুসলিম কসাইকে প্রকাশ্যে শহীদ করে। ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৫৭ ঈসায়ীর ১৯শে জুলাইতে। এই ভয়াবহ অপরাধের শাস্তিস্বরূপ হিন্দুদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা তো নেয়া হলোই না, উল্টো গরু জবাই করাটাই নিষিদ্ধ করে দিলো বাহাদুর শাহ জাফর! এর দ্বারা গরু জবাই করার ‘অপরাধে’ মুসলমান হত্যা করাটাও বৈধতা পেল, যার জের এখনও ভারতীয় মুসলমানরা বহন করে আসছে। উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল এ প্রসঙ্গে তার বইয়ের ২৮২ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছে যে- “যেদিন কসাইদের হত্যা করার ঘটনা সংঘটিত হলো, বাদশাহ জাফর সেদিনই গরু জবাই ও গরুর গোশত খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা ও ফরমান জারি করলো যে, গরুর গোশত খাচ্ছে এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাকে কামানের গোলা দিয়ে উড়িয়ে দেয়ার মতো ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়া হবে। (নাউযুবিল্লাহ!) নগর রক্ষীরা অবিলম্বে রাজকীয় ফরমান কার্যকর করার পদক্ষেপ গ্রহণ করে কাবাব বিক্রেতাদের পর্যন্ত গ্রেফতার করলো। এমন একজন কাবাব বিক্রেতা হাফিজ আবদুর রহমান দরবারে মুচলেকা দিলেন যে, তিনি কসাই নন। যুদ্ধে তার মূল ব্যবসা ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় অতি সম্প্রতি তিনি কাবাব বিক্রি করে জীবিকানির্বাহ করছেন। কিন্তু তাকে মুক্তি দেয়া হয়নি। এছাড়া বাদশাহ আরেকটি ফরমান জারি করে যে, নগরীর সকল গরুকে তালিকাভুক্ত করাতে হবে। বিভিন্ন মহল্লার চৌকিদার ও মেথরদের নির্দেশ দেয়া হলো গরু আছে এমন মুসলিমদের ব্যাপারে কোতোয়ালিতে রিপোর্ট করতে। তাহলে কোতোয়ালি একটি তালিকা প্রস্তুত করতে পারবে যে মুসলমান নাগরিকেরা কতগুলো গরু পালন করছে এবং সে তালিকা প্রাসাদে পাঠানো হবে। ছয় ঘণ্টার মধ্যে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হলো। ৩০শে জুলাই কোতোয়াল সাঈদ মুবারক শাহকে নগরীতে ঘোষণা করতে বলা হলো যে, গরু জবাই সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ হয়েছে।”

আমাদের পাক-ভারত উপমহাদেশে এমন বহু শাসক রয়েছে, যাদের পতন হয়েছে কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণে। গরু কুরবানীর বিরোধী শাসকদের মধ্যে হিন্দু যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে ‘উলামায়ে সূ’ বা ধর্মব্যবসায়ীদের দ্বারা বিভ্রান্ত মুসলমান শাসকগোষ্ঠী। তাদের সবাইকেই ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে, কিন্তু হিন্দুর চেয়ে মুসলমান নামধারী যেসব শাসক গরু কুরবানীর বিরোধিতা করেছিল, তাদের শাস্তি হয়েছিল বেশি। সবচেয়ে বড় কথা, ঐসব শাসকদের প্রত্যেকেই দুনিয়াবী দৃষ্টিকোণ থেকে প্রচুর ক্ষমতার অধিকারী হওয়ার পরও কেবল গরু কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণে ক্ষমতাচ্যুত কিংবা নিহত হয়েছিল। তারা নিজেরা তো বটেই, এমনকি তাদের পরিবারের সদস্যরাও মৃত্যুমুখ থেকে বাঁচতে পারেনি। যার মধ্যে রয়েছে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের সময় দিল্লীর মুঘল বাদশাহ বাহাদুর শাহ জাফর থেকে শুরু করে হাল আমলের যালিম শাসক ইন্দিরা গান্ধীও। (গত পর্বের পর) এরকম কঠোর যুলুম করেও বাহাদুর শাহ জাফর ক্ষান্ত হলো না। সে দিল্লীর মুসলমানদের সব গরুগুলো বাজেয়াপ্ত করে তা দিল্লীর প্রধান থানা অর্থাৎ কোতোয়ালীতে রাখার ফরমান জারি করল, যেন কেউ গরু কুরবানী করতে না পারে। এতে করে কোতোয়াল সাঈদ মুবারক শাহ অত্যন্ত আতঙ্কিত হয়ে দরবারে লিখে পাঠায় যে, “যদি দিল্লীর সকল মুসলমানের গরু কোতোয়ালিতে এনে রাখা হয়, তাহলে তার সংখ্যা ৫০০ থেকে ১ হাজারে দাঁড়াতে পারে। এজন্য আমাদের একটি বিরাট মাঠ দরকার, যেখানে এতগুলো গরু রাখা যেতে পারে। কিন্তু এই অনুগত খাদেম এমন কোন জায়গা সম্পর্কে জানে না।” অনিবার্য কারণে এই উদ্ভট পরিকল্পনা নাকচ হয়ে গেল এবং এর পরিবর্তে গরুর মালিক সকল মুসলমানদের কাছ থেকে মুচলেকা নেয়া হল যে, তারা তাদের গরু কুরবানী করবে না। সেই বছর দিল্লীতে পহেলা আগস্টে ঈদুল আযহা উদযাপিত হল, যেখানে কোনো গরু কুরবানী করতে দেয়া হলো না। হার্ভে গ্রেটহেট নামক এক ইংরেজ তার স্ত্রীর নিকট লেখা চিঠিতে উল্লেখ করে যে, “দ্বীন ইসলাম উনার জন্য মুসলমানরা যুদ্ধ করছে, ব্যাপারটি অনেকটা রসিকতার মতো। বাদশাহ মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও ঈদ উপলক্ষে কাউকে একটা গরু কুরবানীর অনুমতি দেয়া হয়নি।” (তথ্যসূত্র: দি লাস্ট মোগল, উইলিয়াম ড্যালরিম্পেল, ঐতিহ্য প্রকাশনী, পৃষ্ঠা ২৮৩) উক্ত ইংরেজ তার চিঠিতে যে ‘রসিকতা’র কথা উল্লেখ করেছিল, সেটা কার সাথে করা হয়েছিল? সেই রসিকতা করা হয়েছিল স্বয়ং দ্বীন ইসলাম উনার সাথে, স্বয়ং আল্লাহ পাক উনার সাথে। নাউযুবিল্লাহ! সচেতন পাঠকমাত্রই উপরের ঘটনাগুলোর সাথে বর্তমান পরিস্থিতির হুবহু মিল পাবেন, এতে কোনই সন্দেহ নেই। এই ‘রসিকতা’র ফলশ্রুতিতে বাদশাহ জাফর তো বটেই, তার পরিবার থেকে শুরু করে গোটা দিল্লীবাসীর ভাগ্যে এমন বিপর্যয় নেমে আসে, যার নজির গোটা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। পাঠকদের বোঝার সুবিধার্থে বলতে হয়, আমরা স্পেনের ধ্বংস হওয়ার ইতিহাস পড়েছি, বাগদাদের ধ্বংস হওয়ার ইতিহাস পড়েছি। ঠিক সেরকমই মর্মন্তুদ ও নির্মম ছিল ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ হানাদার কর্তৃক দিল্লী ধ্বংস হওয়ার ইতিহাস। কারণ স্পেন ও বাগদাদের ন্যায় দিল্লীতেও ছিল বিরাট বিরাট লাইব্রেরী ও জগৎবিখ্যাত আলিম-উলামাগণ। দিল্লীতে বসবাসকারী তেমনি একজন বিখ্যাত ওলীআল্লাহ ছিলেন হযরত শাহ আবদুল আযীয মুহাদ্দিছ দেহলভী রহমতুল্লাহি আলাইহি। উনার একজন বিশিষ্ট ছাত্র হযরত ফযলে হক খায়রাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, যাঁকে ১৮৫৭ ঈসায়ীর বিদ্রোহের পর আন্দামানে নির্বাসিত করেছিল যালিম ব্রিটিশরা। বাহাদুর শাহ জাফরের পরিণতি সম্পর্কে তিনি লিখেছিলেন- “সেই বাদশাহকে শেষ পর্যন্ত সীমাহীন লাঞ্ছনা, দুশ্চিন্তা ও মর্মবেদনার সহিত সপরিবারে হস্তপদ শৃঙ্খলিত অবস্থায় শহরের দিকে আসতে হল। পথিমধ্যে ‘হাডসন’ নামক এক যালিম বাদশাহ-তনয় ও পৌত্রকে গুলি করে হত্যা করল। এইভাবে মির্জা মুগল খিজির সুলতানের জীবন অবসান হল। যালিমেরা শাহজাদা দ্বয়ের মৃতদেহ পথিপার্শ্বে ফেলে রেখে মস্তক কর্তন করে আনল এবং একটি সুসজ্জিত পাত্রে স্থাপন করতঃ বাদশাহের সম্মুখে ‘উপহার’ স্বরূপ পেশ করল। অতঃপর মস্তক দুইটিও চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দূরে নিক্ষেপ করল। অতঃপর কালো অন্তরবিশিষ্ট, সাদা চামড়া ও হলুদ চুলবিশিষ্ট যালিম ইংরেজরা বাদশাহকে সুইয়ের ছিদ্র সদৃশ একটি সংকীর্ণ অন্ধকার কারাকক্ষে বন্দী করে রাখে। এই বিশাল দেশের কোন এক কোণেও তার জন্য একটু স্থান করে দেয়ার মত উদারতাও এরা দেখাতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত তাহাকে দেশের বাইরে একটি উপদ্বীপ এলাকায় (বার্মায়) নির্বাসিত করে। (সূত্র: আযাদী আন্দোলন ১৮৫৭, হযরত ফযলে হক খায়রাবাদী রহমতুল্লাহি আলাইহি, পৃষ্ঠা ২৪) যেই হিন্দুদেরকে বাহাদুর শাহ ও দিল্লীবাসী মুসলমানরা এতো তোয়াজ করেছিল, সেই হিন্দুরা ব্রিটিশদের সাথে হাত মিলিয়ে দিল্লী শহর অধিকার করে মুসলমানদের বিতাড়িত করল। ১৯৬০ সালে এক ব্রিটিশ পত্রিকায় লেখা হয়েছিল- “হাজার হাজার মুসলমান গৃহহীন অবস্থায় ঘুরে ঘুরে কাটাচ্ছে, আর হিন্দুরা তাদের আনুগত্যের প্রমাণ দিয়ে রাস্তায় বায়ু সেবন করে বেড়াচ্ছে।” দিল্লীর মুসলমানদের সম্পত্তিগুলো সব ব্রিটিশরা নিলামে তুলেছিল এবং সেগুলো সব নামমাত্র মূল্যে কিনে নিয়েছিল দিল্লীর হিন্দু ও জৈন ব্যবসায়ীরা। যার ফলে যেই দিল্লী একদা মুসলিম প্রধান শহর ছিল, তা রাতারাতি হিন্দুপ্রধান শহরে পরিণত হল। (সূত্র: দি লাস্ট মোগল, পৃষ্ঠা ৪৩৩) অর্থাৎ কুরবানীর বিরোধিতা করা তথা গরু জবাইয়ের বিরোধিতা করার গযব কতোটা নির্মম ও ভয়াবহ! এর ফলে শুধু দিল্লী তথা ভারতবর্ষের মুসলমানদের ক্ষমতা লোপ পেয়েছিল ভাবলে ভুল হবে, কারণ দিল্লীর পতনের পরই ভারতবর্ষের মুসলমানদের অঢেল ধনসম্পদ লুট করে সাদা চামড়ার খ্রিস্টানরা বিশ্বের নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে পেরেছিল। এর ফলশ্রুতিতেই বর্তমানে ইউরোপ-আমেরিকানরা মুসলমানদের উপর অত্যাচারের স্টীমরোলার চালাতে পারছে, ইরাক-আফগানিস্তান-সিরিয়াতে হামলা করতে পারছে। স্পেন কিংবা বাগদাদের পতনের ফলে কিন্তু বৈশ্বিক ক্ষমতার দ- মুসলিম বিশ্ব থেকে বিধর্মীদের হাতে যায়নি, যা গিয়েছিল ১৮৫৭ সালে দিল্লীর পতনের মাধ্যমে। আর দিল্লীর পতন হয়েছিল গরু কুরবানীর বিরোধিতা করার কারণে। অর্থাৎ গরু কুরবানীর বিরোধিতার জের ধরে শুধু দিল্লী নয়, বরং গোটা বিশ্বের মুসলমানরাই ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, এটাই ইতিহাসের শিক্ষা। সাথে সাথে আমরা ইতিহাস থেকে এই শিক্ষাও পাই যে, গরু কুরবানীর বিরোধিতাকারী শাসকগোষ্ঠী কেবল নিজে শাস্তিপ্রাপ্ত হয়নি, বরং তার বংশধরদেরকেও হত্যা করা হয়েছিল। অর্থাৎ কুরবানীর বিরোধিতার সাথে নির্বংশ হওয়ার একটি সম্পর্ক রয়েছে, যা আমরা বুঝতে পারি পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ উনার মাধ্যমে। স্বয়ং আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র সূরা কাওছার শরীফ উনার মধ্যে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে ওহী মুবারক করেছেন, আপনি পবিত্র ছলাত আদায় করুন এবং ‘নহর’ তথা পবিত্র কুরবানী করুন। নিশ্চয়ই আপনার বিরোধিতাকারীরা নির্বংশ। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ‘নহর’ তথা কুরবানী করার পরেই উল্লেখ করলেন যে, নিশ্চয়ই আপনার বিরোধিতাকারীরা নির্বংশ হবে। অর্থাৎ কুরবানীর বিরোধিতা করলেও তার ক্ষেত্রে একই হুকুম বর্তাবে অর্থাৎ তাকে নির্বংশ হতেই হবে। বর্তমানে দেশে-বিদেশের যেসব শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে কুরবানীর বিরোধিতা করছে, তাদের উচিত ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। খোদ মুঘল বাদশাহ পর্যন্ত কুরবানীর বিরোধিতা করে বাঁচতে পারেনি, সপরিবারে নিহত হতে হয়েছিল। সাথে সাথে মুসলিম জনগণের কর্তব্য হলো, ঐসব কুরবানীবিরোধী শাসকগোষ্ঠীর কুফরী নির্দেশে কর্ণপাত না করে পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার মধ্যে যা উল্লেখ আছে, সেই অনুসারে কুরবানী করা। দিল্লীর মুসলমানরা তখন বাহাদুর শাহ জাফরের হিন্দুতোষণের সাথে তাল মিলিয়েছিল, ফলে তারাও দিল্লী থেকে নির্বাসিত হয়েছিল এবং গণহত্যার শিকার হয়েছিল। সুতরাং শাসকগোষ্ঠী তো বটেই, বর্তমান মুসলমান জনসাধারণও যেন সেই করুণ পরিণতির ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে।
৮৩) কুরবানীর পশু যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয আছে কি?
“ফতওয়ায়ে শামী” কিতাবে উল্লেখ আছে, পবিত্র কুরবানী উনার পশু অথবা অন্য যে কোনো হালাল পশুই হোক, তা যবেহ করার পূর্বে চামড়া বিক্রি করা জায়িয নেই। এমনিভাবে বাঁটে দুধ থাকতে, ঝিনুকে মুক্তা থাকতে, মেষের পিঠে লোম থাকতে, সে দুধ, মুক্তা, লোম বিক্রি করা নাজায়িয।
৮৪) কুরবানীর পশুর দুধ, গোবর ও রশি দ্বারা ফায়দা লাভ করা জায়িয আছে কি?
সাধারণতঃ কুরবানীর পশুর দ্বারা কোনো প্রকারের ফায়দা লাভ করা জায়িয নেই। যেমন- (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা, (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা, (৩) কুরবানীর পশু হাল চাষের কাজে ব্যবহার করা, (৪) কুরবানীর পশু দ্বারা বোঝা বহন করানো, (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা, (৬) কুরবানীর পশুর গোবর দ্বারা ফায়দা লাভ করা, (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা লাভ করা। উল্লেখ্য, (১) কুরবানীর পশুর উপর আরোহণ করে চলাচল করা জায়িয নেই, তবে যদি কুরবানীর পশুর পানীয় ও ঘাসের বন্দোবস্ত করানোর জন্য আরোহণ করে কোথাও যায়, তাতে কোন ক্ষতি নেই। অথবা পালিত পশু যদি হয়, যার উপর মালিক পূর্ব থেকেই আরোহণ করতো এখন মালিক তা কুরবানী দেয়ার নিয়ত করেছে, তাতে আরোহণ করলেও ক্ষতি হবে না। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে কুরবানী করে দিতে হবে, আরোহণ করার জন্য রাখা যাবে না। (২) কুরবানীর পশুর পশম কেটে বিক্রয় করা জায়িয নেই। যদি কেউ বিক্রি করে, তবে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তা কুরবানীর পূর্বে হোক বা কুরবানীর পরে হোক। আর কুরবানীর পর কুরবানীর পশুর পশম থেকে ফায়দা হাছিল করতে পারবে অর্থাৎ নিজ কাজে ব্যবহার করতে পারবে অথবা কাউকে হাদিয়াও দিতে পারবে। যেমন পশমী কম্বল ও চাদর ইত্যাদি। (৩) কুরবানীর পশুকে হালের কাজে ব্যবহার করা জায়িয নেই। হ্যাঁ, যদি কেউ হালের গরুকে কুরবানী দেয়ার নিয়ত করে যে, আমি হালের এই গরুটি আগামী ঈদের দিনে কুরবানী করবো, তাহলে কুরবানীর দিনের পূর্ব পর্যন্ত হালের কাজে ব্যবহার করতে পারবে। কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে, হালের কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে আর রাখা যাবে না। (৪) কুরবানীর পশুর দ্বারা বোঝা বহন করা জায়িয নেই। তবে উক্ত পশু পালিত হলে বোঝা বহন করাতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তখন আর বোঝা বহনের জন্য রাখা যাবে না। কুরবানী করে দিতে হবে। (৫) কুরবানীর পশুর দুধ পান করা বা বিক্রি করা জায়িয নেই। যদি কেউ পান করে বা বিক্রয় করে তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। কিন্তু যদি উক্ত প্রাণীর দুধ মালিক পূর্ব থেকেই পান করে বা বিক্রয় করে আসছে অর্থাৎ পালিত পশু যদি হয়, তাহলে দুধ পান করতে বা বিক্রয় করতে কোনো অসুবিধা নেই। তবে কুরবানীর দিন উপস্থিত হলে তা কুরবানী করে দিতে হবে। (৬) কুরবানীর পশুর গোবরের হুকুমও দুধের অনুরূপ। স্মরণীয় যে, কুরবানীর পশু যদি আইইয়ামে নহরের মধ্যে কিনে এনে সাথে সাথে কুরবানী করে, তাহলে তা থেকে কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি কুরবানী পশুর দুধ, গোশত, পশম ইত্যাদি দ্বারা ফায়দা হাছিল করে, তাহলে তার মূল্য ছদ্কা করে দিতে হবে। তবে যদি আইয়্যামে নহরের দু’চারদিন আগে কিনে এনে পশুকে খাওয়ায় বা পান করায়, তাহলে তার দ্বারা ফায়দা হাছিল করতে পারবে যেমন- উক্ত পশু দুধ দিলে তাও পান করতে পারবে খাদ্যের বিনিময়ে। (৭) কুরবানীর পশুর রশি, নাক বন্ধ, পায়ের খুরাবৃত, গলার আবরণ, জিনপোষ, লাগাম ইত্যাদি দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করা জায়িয নেই। যদি এ সমস্ত দ্রব্য দ্বারা কোনো প্রকার ফায়দা হাছিল করে, তবে তার মূল্য ছদকা করে দিতে হবে। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৮৫) বন্য গরু বা মহিষের দ্বারা কুরবানী দেয়া জায়িয আছে কিনা?
বন্য পশু গরু হোক, মহিষ হোক তা দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী আদায় বা জায়িয হবেনা। কারণ কুরবানীর জন্য গৃহপালিত পশু হওয়া শর্ত। যেমন এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ করেন, “আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কুরবানী নির্ধারিত করেছিলাম, যেনো তারা ঐ নির্দ্দিষ্ট গৃহপালিত পশুগুলির উপর (যবেহ করার সময়) আল্লাহ পাক-উনার নাম মুবারক উচ্চারণ করে যা তিনি তাদেরকে রিযিক হিসেবে দান করেছেন।” (সূরা হজ্জ: আয়াত শরীফ ৩৪) উল্লেখ্য, পশুর নছব বা পরিচিতি হলো- মায়ের দ্বারা। অর্থাৎ পশু গৃহপালিত বা জংলী তা চেনার জন্য সহজ পন্থা হলো- যে পশুর মা গৃহপালিত হবে, সে পশুটি গৃহপালিত বলে গণ্য হবে। আর যে পশুর মা জংলী হবে, সে পশুটি জংলী বলে গণ্য হবে। গৃহপালিত ছাড়া অন্যান্য পশু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবে না। তা হরিণ হোক অথবা বন্য গরু, ছাগল, বকরী, ভেরা ইত্যাদি যাই হোক না কেন। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৮৬) খেলাধুলার মাঠসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিটি খালি জায়গায় কুরবানীর পশুর হাটের সু-ব্যবস্থাপনা করতে হবে
পবিত্র কুরবানীতে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বাংলাদেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ ৯৮ ভাগ মুসলমান। একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৯৮ ভাগই যদি সুবিধা বঞ্চিত হয় এবং দ্বীন পালনে স্বাধীনতা না পায় তাহলে দেশটা কাদের জন্য? দেশের সরকার কাদের জন্য? একাত্তরের স্বাধীনতা অর্জন কিসের জন্য? এটা কি বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিলো যে, দেশের মুসলমানরা দ্বীন পালনে স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত থাকবে কিংবা দেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান সুবিধা বঞ্চিত থাকবে? বরং বঙ্গবন্ধু বাংলার ভূখ-ের মুসলমানদের যালিম শাসকদের হাত থেকে স্বাধীন করতে তথা দ্বীন পালনে স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন এবং নিরস্ত্র জনগণ দ্বীন পালনে স্বাধীনতা অর্জনের জন্যই জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ আজ যেন সেই পরাধীন ভূখ-ে পরিণত হয়েছে। এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমানদের পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে। এই অপচেষ্টারই একটি হচ্ছে প্রতি বছর কুরবানীর হাট যতোটা সম্ভব কমানোর চেষ্টা করা। অসংখ্য অগণিত খালি জায়গা, স্টেডিয়াম, খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও চাহিদা অনুপাতে কুরবানীর হাট বাড়ানো হয় না। অথচ বাংলাদেশে বিভিন্ন হারাম খেলাধুলার জন্য স্টেডিয়াম রয়েছে ১৩৭টি। ঢাকা জেলায় স্টেডিয়ামসহ খেলাধুলার বড় ধরনের মাঠ রয়েছে ৩৩টি। এছাড়াও সিটি করপোরেশনের হিসাব অনুযায়ী এলাকাভিত্তিক মাঠ রয়েছে ২৫টি। এসমস্ত খালি জায়গাগুলো বছর জুড়ে হারাম কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে কিন্তু কুরবানী উপলক্ষে দুই সপ্তাহের জন্যও ব্যবহার করতে দেয়া হচ্ছে না। সুতরাং হারাম খেলাধুলার মাঠসহ সরকারি, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, খালি জায়গাগুলো প্রয়োজন হলেই হাট বসানোর সুযোগ ও সু-ব্যবস্থাপনা করা ৯৮ ভাগ মুসলমানের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব ও কর্তব্য। পাশাপাশি প্রথম আলো, চ্যানেল আই’র মতো ইসলাম বিরোধী মিডিয়া যারা কুরবানীর হাট ও কুরবানীর পশু নিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৮ ৭) কুরবানীর গোশত বণ্টন করার নিয়ম…
কুরবানীকৃত পশুর গোশত কুরবানীদাতার জন্য আত্মীয় স্বজনকে হাদিয়াস্বরূপ দেয়া বা গরিব মিসকীনকে দান করা ফরয, ওয়াজিব বা সুন্নতে মুয়াক্কাদা কোনটাই নয়। এ প্রসঙ্গে কিতাবে উল্লেখ করা হয়েছে- “কুরবানীর গোশত বণ্টন করার মুস্তাহাব নিয়ম হচ্ছে- এক তৃতীয়াংশ নিজের জন্য রাখবে, এক তৃতীয়াংশ আত্মীয়-স্বজন পাড়া-প্রতিবেশীর জন্য হাদিয়াস্বরূপ দিবে আর এক তৃতীয়াংশ গরিব-মিসকীনের জন্য দানস্বরূপ দিবে। আর যদি কুরবানীকৃত পশুটি ওছিয়তকৃত হয়ে থাকে তাহলে সম্পূর্ণটাই গরিব-মিসকীনকে দান করে দিতে হবে।” অর্থাৎ কুরবানীদাতার জন্য কুরবানীকৃত পশুর গোশ্ত কাউকেও দেয়া বা না দেয়া তার ইখতিয়ারের অন্তর্ভুক্ত। সে ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই দান করে দিতে পারে, আবার ইচ্ছা করলে সম্পূর্ণটাই রেখে খেতে পারে। এতে কুরবানীর কোনো ত্রুটি হবে না। তবে একটা বিষয় অবশ্যই লক্ষ্যণীয় তা হলো- কুরবানীদাতা যদি এমন কোনো পশু “কুরবানী করে থাকে যার গোশ্ত- ১০/১২ কেজি বা তার চেয়ে কম হয় অথবা শরীকে কুরবানী দিয়েছে, সেখান থেকে সে ১০/১২ কেজি গোশ্ত বা তার চেয়ে কম পেয়েছে। অথচ তার বাড়ীতে স্ত্রী-পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি মিলে তার অধীনে প্রায় ২০/২৫ জন রয়েছে। যাদের ভরণ-পোষণ করার দায়িত্ব তার। তখন সে কুরবানীদাতার জন্য ফরয হবে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের দিন সহ পরবর্তী ৩ দিন (১০-১৩ যিলহজ্জ) তৃপ্তিসহকারে খাওয়ার ব্যবস্থা করা। এখন যদি কুরবানীদাতা যে গোশ্ত পেয়েছে তার এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী সব বণ্টন করে দেয় তাহলে দেখা যাবে তার ঘরে মাত্র প্রায় চার কেজি বা তা চেয়ে কম গোশ্ত থাকবে। যা দিয়ে সে তার অধীনস্থ লোকদেরকে ঈদের তিন দিনের প্রথম দিনই তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না। এখন তার জন্য উত্তম হবে এবং ফযীলতের কারণ হবে গোশত বণ্টন করে না দিয়ে সবটাই রেখে অধীনস্থ লোকদের তৃপ্তিসহকারে খাওয়ানো। হ্যাঁ, এরপরও কথা থেকে যায় সেটা হলো- যদি কুরবানীদাতা ও তার অধীনস্থ সকলেই আল্লাহ্ পাক-উনার সন্তুষ্টির জন্যে এক তৃতীয়াংশ রেখে বাকী গোশ্ত অথবা সম্পূর্ণ গোশ্ত মহান আল্লাহ্ পাক-উনার রাস্তায় দান করে দেয় তাহলে অবশ্যই সেটা আরো উত্তম, আরো ফযীলতের কারণ। উল্লেখ্য, ফরয, ওয়াজিব, সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ্ ও মুস্তাহাব সুন্নত, তরতীব মতো আমল করাই সবচাইতে ফযীলতপূর্ণ ও মর্যাদার কারণ। কুরবানীদাতা যদি এমন হয় যার স্ত্রী, পুত্র, সন্তান-সন্ততি ইত্যাদি যাদের ভরণ-পোষণ তার যিম্মাদারিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা ৮/১০ জন। আর কুরবানীদাতা একাই দুই তিনটা গরু কুরবানী করল যা থেকে সে গোশ্ত পেল প্রায় ৮/১০ মণ বা তার চেয়ে বেশি। এখন এ থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত রাখলেও তার অধীনস্থ লোকদের পক্ষে অনেকদিন ধরে খেয়েও শেষ করা সম্ভব হবে না। তাই এ কুরবানীদাতা যদি দুই তৃতীয়াংশের পরিবর্তে নয় দশমাংশ অর্থাৎ দশ ভাগের নয়ভাগই দান করে দেয় তাতেও কোনো অসুবিধা নেই। উল্লেখ্য, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি প্রকৃতপক্ষেই গরিব-মিসকিনদের উপকার করতে চায় তাহলে তাদের উচিত হবে এলাকার ঐ সমস্ত কুরবানীদাতাদের নিকট থেকে এক তৃতীয়াংশ গোশত সংগ্রহ করা, যারা এক তৃতীয়াংশ গোশত দেয়ার পরও তাদের পরিবার বা অধীনস্থদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ গোশত থেকে যায়, অথবা যারা স্বেচ্ছায় দান করে। যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত নেই অর্থাৎ যারা এক তৃতীয়াংশ গোশ্ত দিয়ে দিলে তারা তাদের পরিবারবর্গ বা অধীনস্থদেরকেই ঈদের দিন তৃপ্তিসহকারে খাওয়াতে পারবে না এমন ব্যক্তির নিকট থেকে জবরদস্তি করে গোশত সংগ্রহ করলে ছওয়াবের পরিবর্তে গুনাহই হবে। আর বণ্টনের ক্ষেত্রে ঐ সমস্ত লোকদেরকে গোশ্ত দিতে হবে যারা কুরবানী দেয়নি অথবা যদি কুরবানী দিয়েও থাকে তথাপিও তারা চাহিদা মুতাবিক গোশত পায়নি। কুরবানী দেয়ার কারণে যাদের নিকট পর্যাপ্ত পরিমাণে গোশত রয়েছে তাদেরকে মিসকীনের অংশ থেকে গোশত দেয়া কখনই নেকীর কাজ হবে না। আরো উল্লেখ্য, এলাকাবাসী যদি গরিব-মিসকীনকে বণ্টন করে দেয়ার জন্যই এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে গোশত দিয়ে থাকে। তাহলে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হবে- শুধুমাত্র গরিব-মিসকিনদের মধ্যেই উক্ত গোশ্ত বণ্টন করে দেয়া। এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিগণ যদি বিপরীত কাজ করে তাহলে তারাই গরিব-মিসকীনের হক নষ্টকারী হিসেবে সাব্যস্ত হবে এবং এর জন্য তাদেরকেই জবাবদিহি করতে হবে। আর তারাই দায়ী থাকবে। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৮৮) এদেশ থেকে পবিত্র কুরবানী নয়, বরং যারা পবিত্র কুরবানীর বিরোধিতাকারী, অপ্রপ্রচারকারী ও চক্রান্তকারী তারাই দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। ইনশাআল্লাহ! দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের ঈমানী দায়িত্ব হলো- দ্বীন ইসলাম উনার যেকোনো বিষয় নিয়ে যারাই চক্রান্ত করবে, অপপ্রচার করবে তাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ করা। ৯৮ ভাগ মুসলমান অধ্যুষিত এদেশের সরকার ও প্রশাসনের মনে রাখতে হবে- সংখ্যাগুরু মুসলিমদের স্বার্থ ও অধিকারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া- সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব ও কর্তব্য
রাজধানীতে কুরবানীর হাট বসেছে। পবিত্র কুরবানীর প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীরাও তাদের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। তারা তাদের শত শত এজেন্ট মাঠে নামিয়ে দিয়েছে, দেখো কোথায় কোথায় স্কুল মাঠে কুরবানীর পশুর হাট বসেছে, কোথায় রাস্তার পাশে, হাসপাতালের পাশে হাট বসেছে, কোথায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কথিত ‘অবৈধ’ হাট বসেছে, হাটের কারণে কোথায় কোথায় যানজট হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি। তাদেরকে বলে দেয়া হয়েছে- তোমরা কোথাও কোনো কিছু বের করতে না পারলেও ঘটনা সাজিয়ে নাও, ক্যামেরার ছবিগুলো কাটছাঁট করো। তারপরও তোমাদেরকে কুরবানীর হাটের বিরুদ্ধে সংবাদ করতেই হবে। এই মুহূর্তে এভাবেই চলছে কুরবানী বিরোধীদের কার্যক্রম। তাদের কাজের ভাব এমনই, না জানি তারা কত বড় দেশপ্রেমিক! অথচ এই কালপ্রিটগুলো কিন্তু অন্য ধর্মের পূজার সময়, রথযাত্রার সময়, বৈশাখী মেলার সময় বলে না- অমুক স্কুল মাঠে অনুমতি ছাড়া পূজা হচ্ছে, রথযাত্রার কারণে যানজট হচ্ছে। এই কালপ্রিটগুলাই কুরবানীর বিরুদ্ধে বানিয়ে বানিয়ে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। -এরা নির্দিষ্টস্থানে কুরবানীর পশু জবাই করার কথা বলে, কিন্তু নির্দিষ্টস্থানে পূজা মন্ডপ করার কথা বলে না। -এরা কুরবানীর পশুর হাট কমানোর কথা বলে, কিন্তু যত্রতত্র পূজা মন্ডপ বসানো বন্ধ করার কথা বলে না। -এরা কুরবানীর টাকাকে দান করে দিতে বলে, কিন্তু মেলা-খেলা আর পূজার টাকাকে কখনো দান করতে বলে না। -এরা ১৮ বছরের নিচে কুরবানীর পশু জবাইকারীদেরকে সন্ত্রাসী বলতে চায়, কিন্তু ১৮ বছরের কম বয়সীদের অশ্লীল চ্যানেল, মারামারি-খুনোখুনির সিনেমা-টিভি দেখা বন্ধ করার কথা বলে না। -এরা কুরবানী আসলেই দেশী গরু, কুরবানীর পশুতে বিষ আছে, স্টেরয়েড আছে বলে অপপ্রচার করে, কিন্তু বাকি সারাবছর এরাই গোগ্রাসে গরু-ছাগলের গোশত গিলে। …কুরবানীর প্রতি তাদের এই বিদ্বেষ ও ষড়যন্ত্র সাময়িকভাবে অনেককে বিভ্রান্ত করলেও সামগ্রিকভাবে এদেশের মানুষের উপর তারা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বরং দেশের কোটি কোটি মুসলমানগণকে আরো উৎসাহ-উদ্দীপনার সাথেই কুরবানীতে অংশগ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু আফসুস! তাদের জন্য, যারা কুরবানী বিরোধী এসব অপপ্রচারে নিজেরাও অংশগ্রহণ করেছে এবং করে যাচ্ছে। সম্মানিত দ্বীন ইসলাম উনার সম্মানিত শিয়ার বা নিদর্শন উনার প্রতি ইহানত করা এবং দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের অন্তরে কষ্ট দেয়ার কারণে নিশ্চয়ই মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ থেকে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে অত্যন্ত কঠিন আযাব ও গযব। তবে মুসলমান হিসেবে আমাদেরও কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য রয়ে গেছে। আমাদের উচিত কুরবানীর বিরুদ্ধে যতপ্রকার অপপ্রচার হচ্ছে- তার প্রতিটির বিরুদ্ধে শক্ত জবাব দেয়া। তারা একটি অপপ্রচার চালালে আরো দশটি শক্ত জবাব দিতে হবে। পাশাপাশি সরকার ও প্রশাসনকেও সতর্ক করে দিতে হবে, যেন তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়। এটাই সবচাইতে আশ্চর্যজনক বিষয়- সরকার কি করে তাদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়। দেশের কোটি কোটি মুসলমানদের মতামত, পরামর্শ না নিয়ে গুটিকতক সংখ্যালঘুদের কথায় সরকার কুরবানী নিয়ে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো। অথচ কুরবানী হলো দ্বীন ইসলাম উনার বিশেষ একটি শিয়ার বা নিদর্শন। এখানেতো যার তার মতামত চলতে পারে না। এর সাথে ইসলাম জড়িত, ইসলামী শরীয়ত জড়িত, কোটি কোটি মুসলমানদের স্বার্থ জড়িত। তাই সরকারের উচিত দ্রুত ওই সকল বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলো প্রত্যাহার করে খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করা। জনরোষ ও খোদায়ী রোষ থেকে নিজেকে হিফাযত করা। সরকারের নিশ্চয়ই জানা আছে- দেশে এখনো লাখ লাখ হতদরিদ্্র আছেন। যাদের কুরবানী দেয়ার সামর্থ্য নেই। সরকারে জন্য কর্তব্য হলো- সরকার তার নির্দিষ্ট স্থানগুলোতে সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি জেলা-থানায় গরিবদের জন্য কুরবানী করার ব্যবস্থা করা। এবং সে গোশতগুলো গরিবদের মাঝে বণ্টন করে দেয়া। এটা সরকারকে শুধু কেবল জনগণের সন্তুষ্টিই এনে দিবে না, বরং মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত বরকত অর্জনেরও একটি উছিলা হবে। মহান আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন তিনি আমদেরকে কুরবানী বিরোধী সকল চক্রান্ত ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিবাদ জানানোর তাওফিক দান করুন। এবং সরকার ও প্রশাসন সংশ্লিষ্ট আমলাদের খালিছ তওবা-ইস্তিগফার করে পবিত্র কুরবানীর প্রতি মুহব্বত দান করুন। সর্বোপরি যারা কুরবানী নিয়ে চক্রান্ত করছে, ষড়যন্ত্র করছে, অপপ্রচার করছে তাদের সকলকে সমূলে ধ্বংস করে দিন, নিশ্চিহ্ন করে দিন। আমীন!
৮৯) পবিত্র কুরবানী করার কোনো পশু খরীদ করে হারিয়ে গেলে কি করবেন?
ধনী ব্যক্তি যদি পবিত্র কুরবানী করার জন্য কোনো পশু খরীদ করে আর তা হারিয়ে যায়, অতঃপর পবিত্র কুরবানী করার জন্য আর একটি খরীদ করে আর দ্বিতীয় পশুটি খরীদ করার পর যদি প্রথম পশুটি, যা হারিয়ে গিয়েছিল তা পাওয়া যায়, তবে ধনী ব্যক্তির জন্য দুটি পশুর যেকোনো একটি পশু কুরবানী করা জায়িয রয়েছে। কারণ শরীয়ত তার উপর আলাদাভাবে একটি পশুই কুরবানী করা ওয়াজিব করেছে। তবে শর্ত হচ্ছে- প্রথম পশুটি যে মূল্যে খরীদ করা হয়েছে দ্বিতীয় পশুটি তার চেয়ে বেশি অথবা তার সমপরিমাণ মূল্যে খরীদ করতে হবে। যদি কম মূল্যে খরীদ করে এবং দ্বিতীয় পশুটি পবিত্র কুরবানী করে, তাহলে দ্বিতীয় পশুটি প্রথম পশু হতে যে পরিমাণ কম মূল্যে খরীদ করেছে, সে পরিমাণ মূল্য সদ্কা করে দিতে হবে। আর যদি কোনো গরিব ব্যক্তি, যার উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব নয়, সে যদি কোনো পশু পবিত্র কুরবানী করার জন্য খরীদ করে, আর যদি তা হারিয়ে যায়। এরপর যদি আবার সে আরো একটি পশু খরীদ করে কুরবানী করার জন্য, অতঃপর প্রথম কেনা পশু যা হারিয়ে গিয়েছিল, তা যদি পাওয়া যায়, তাহলে সে উভয়টি পবিত্র কুরবানী করবে- যদি উভয়টি আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করা হয়ে থাকে। কারণ শরীয়ত তার উপর পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব করেনি, বরং সে নিজেই প্রত্যেকটি পশু আলাদাভাবে আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করে নিজের উপর কুরবানী করা ওয়াজিব করে নিয়েছে। কেননা গরিব ব্যক্তি আইয়ামে নহরের মধ্যে একটি পশু খরীদ করে নিজের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব করার পর সেটা যদি হারিয়ে যায়, তাহলে তার জন্য দ্বিতীয় কোনো পশু খরীদ করে পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব নয়। আর হারানো পশুটি যদি আইয়ামে নহরের পরে পাওয়া যায়, তাহলে সেটা সদ্কা করে দেয়া ওয়াজিব। আর প্রথম পশু যা হারিয়ে গিয়েছিল সেটা যদি আইয়ামে নহরের পূর্বে খরীদ করা হয়ে থাকে এবং পবিত্র কুরবানী করার জন্য অন্য একটি পশু আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করা হয়, অতঃপর হারানো পশুটি পাওয়া যায়, যা আইয়ামে নহরের পূর্বে খরীদ করা হয়েছিল, তখন শুধু তাকে দ্বিতীয় পশুটি যা আইয়ামে নহরের মধ্যে খরীদ করেছে, সেটাই পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। অর্থাৎ গরিব ব্যক্তি আইয়ামে নহরের পূর্বে যতটি পশুই খরীদ করুক না কেন সেটা তার জন্য নির্দিষ্টভাবে কুরবানী করা ওয়াজিব হয় না; বরং আইয়ামে নহরের মধ্যে পবিত্র কুরবানী করার জন্য যতটি পশুই খরীদ করবে, প্রত্যেকটিই তার জন্য পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। আর যদি ধনী হয়, সে পশু খরীদ করার পর সেটা যদি হারিয়ে যায়, আবার খরীদ করে, আবার হারিয়ে যায়, এভাবে ধনী ব্যক্তি যদি একশতটি পশুও খরীদ করে আর সেগুলি হারিয়ে যায় এরপরও যদি সে ধনী থাকে, তাহলে তার জন্য আরো একটি পশু খরীদ করে পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিব। কারণ তার উপর আলাদাভাবে একটি পশু পবিত্র কুরবানী করা ওয়াজিবের অন্তর্ভুক্ত। (দলীলসমূহ: আলমগীরী, শামী, নুরুল হিদায়া, বাজ্জাজিয়া, কাযীখান, দুররুল মুখতার, আইনুল হিদায়া, নাওয়াদিরুল ফতওয়া, আইনুল হিদায়া ও বাহর ইত্যাদি।)
৯০) যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি এক নামে পবিত্র কুরবানী করে তার ফযীলত হাছিলের উপায়
পবিত্র দ্বীন ইসলাম সহজ। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের জন্য যা সহজ তিনি সেটাই চান। যারা এককভাবে পবিত্র কুরবানী দিতে সক্ষম নয়, তাদের জন্য সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত একটি সহজ ও উত্তম তরীক্বা প্রদান করেছেন। বলা হয়, যাদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব হয়নি, এমন দুই বা ততোধিক ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী দিয়ে গোশ্ত বণ্টন করে নিতে পারবেন। তবে পবিত্র কুরবানী উনার পশু গরু, মহিষ ও উটে সাত নাম এবং দুম্বা, মেষ বা ভেড়া, বকরী, খাসিতে এক নাম পর্যন্ত দিতে পারবে। আরো বলা হয়, গরু, মহিষ, উটে সাত নামের বেশি দিলে পবিত্র কুরবানী আদায় হবে না। আর সাত নামের কমে পবিত্র কুরবানী করলে তা আদায় হবে। আর ছাগল, দুম্বা, ভেড়া এক নামের বেশি নামে কুরবানী করলে তা আদায় হবে না। বুঝার সুবিধার্থে একটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। যদি ৪০ জন ব্যক্তি ১০০০ টাকা করে ৪০,০০০ টাকা দিয়ে একটা গরু কিনে সাত নামে বা তার থেকে কম নামে পবিত্র কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তাতেও কুরবানী শুদ্ধ ও আদায় হয়ে যাবে। তদ্রƒপ একটা খাসি তিন জনে মিলে কিনে যদি এক নামে পবিত্র কুরবানী করে গোশত বণ্টন করে নেয়, তবে সে পবিত্র কুরবানী আদায় হয়ে যাবে এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র কুরবানী উনার যে ফাযায়িল-ফযীলতের কথা বলা হয়েছে তারাও সে ফাযায়িল-ফযীলতের পূর্ণ অধিকারী হয়ে যাবেন। সুবহানাল্লাহ! হারাম সেলফি তুলে কুরবানীর পশুর অবমাননা /অসম্মান করবেন না! কুরবানী মহান আল্লাহ পাক উনার নিদর্শন।কুরবানীর পশু একারণে সম্মানিত। নিদর্শনসমূহকে সম্মান করা ফরয হেতু কুরবানীর পশুকে ও সম্মান করা ফরয। একেক বিষয়ের সম্মান প্রদর্শনের বিষয় একেক রকম তবে প্রত্যকেটি বিষয়ের ক্ষেত্রে মূল যে বিষয় তা হচ্ছে আদব রক্ষা করা। এ যুগে মানুষজন সবকিছু নিয়েই ঠাট্টা ফাইজলামি করে থাকে…! এটা স্বভাবেই পরিণত হয়েছে প্রায়! অথচ খেয়াল রাখা আবশ্যক নিদর্শনসমূহকে অবমাননা করা,অবহেলা করা কুফরী। সে কারণে কুরবানীর পশুর সাথে বিভিন্ন এংগেলে মুখ চোখ বাকিয়ে বা স্বাভাবিক রেখে সেলফি শরীয়তসম্মত নয়! একই সাথে হাটে গান বাজনা করা,মহিলাদের হাটে যাওয়াটাও সম্মানিত শরীয়তের নির্দেশ মুবারক এর পরিপন্থী! আর গরুর শুভেচ্ছা বা হাম্বা মুবারক কোন ধরনের আদব আমার জানা নাই! মুসলিম মাত্রই কুরবানী ঈদে নফসের বদ খাছলত কুরবানী করার চেষ্টা + বাসনা রাখতে হবে। সম্মানিত কুরবানীর মূল শিক্ষা – সর্বাবস্থায় যিনি রব তায়ালা উনার নির্দেশ মুবারক মানা এবং উনারই সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেয়া আর লক্ষ্য খাছ সন্তুষ্টি এবং তাক্বওয়া অর্জন। কাজেই মহান আল্লাহ পাক যেন আমাদের সকলকেই কুরবানী ঈদ তথা পবিত্র ঈদুল আযহা থেকে হাক্বীক্বী শিক্ষা গ্রহণ করে তাক্বওয়া এবং সন্তুষ্টি মুবারক হাছিল করার তৌফিক দান করেন। আমীন।
৯১) মেশিনের সাহায্যে কুরবানীর পশু যবেহ করলে যবেহ ও কুরবানী শুদ্ধ হবে না
কোনো মানুষ ইন্তিকাল করলে তার আল-আওলাদ ও প্রতিবেশীদের উপর তাকে গোসল দেয়া, কাফন পরানো, জানাযা দেয়া, দাফন করা ফরয-ওয়াজিব। গোসল, কাফন, দাফন জানাযা প্রতিটি কাজ সুন্নত মুতাবিক সম্পন্ন করতে হবে। যেমন বড়ই পাতা দিয়ে কুসুম কুসুম গরম পানি দিয়ে গোসল করাতে হয়। মৃত ব্যক্তির শরীরে একখানা চাদর দ্বারা সতর পরিমাণ ঢেকে নিয়ে ইস্তিঞ্জার রাস্তায় নেকড়া দ্বারা কুলুখ করিয়ে পরে পানি দ্বারা ধৌত করাতে হয়। সতরের স্থান ধোয়ার সময় হাতে কাপড় জড়িয়ে নিতে হয়। অতঃপর ওযূ করাতে হয়। এই ওযূতে হাতের কব্জি ধৌত করাতে হয় না। কেবল মুখ, হাত ও পা ধৌত করাতে হয় ও মাথা মাসেহ করাতে হয়। কুলি করাতে ও নাকে পানি দিতে হয় না। তবে মহিলাদের মাজুরতা ও অন্য কোনো নাপাকী অবস্থায় ইন্তিকাল করলে মুখে ও নাকে পানি পৌঁছানো জরুরী। মুর্দার মাথা সাবান দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে পরিষ্কার করতে হয়। তারপর মুর্দাকে বাম কাতে শোয়ায়ে ডান পার্শ্বের শরীরের উপর মাথা হতে পা পর্যন্ত বড়ই পাতা মিশ্রিত কুসুম গরম পানি ঢেলে তিনবার বা পাঁচবার পরিষ্কার করে ধুইতে হয়। অনুরূপ ডান কাতে শোয়ায়ে বাম পার্শ্বের উপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করে ধুইতে হয়। শেষে কর্পূরের পানি সর্বশরীরে ঢেলে দিতে হয়। তারপর শুকনা কাপড় দিয়ে সমস্ত শরীর ভালোভাবে মুছে দিয়ে সুন্নত তরীক্বা অনুযায়ী পুরুষ হলে তিন কাপড় এবং মহিলা হলে পাঁচ কাপড় দ্বারা কাফন পরাতে হয়। এই হলো মুর্দাকে গোসল করানোর সংক্ষিপ্ত সুন্নত তরীক্বা বা নিয়ম। উক্ত তরীক্বা বা নিয়ম মুতাবিক গোসল না দিয়ে মুর্দাকে যদি কোনো পুকুরের পানির মধ্যে চুবিয়ে বা ডুবিয়ে তোলা হয়; এতে শরীরে পানি পৌঁছানো হবে; কিন্তু তার ফরয-ওয়াজিব গোসল আদায় হবে না। তদ্রপ মেশিনের সাহায্যে পশু যবেহ করলে পশুর গলা কাটা হবে। কিন্তু সুন্নত তরীক্বা বা নিয়ম অনুযায়ী যবেহ না হওয়ার কারণে উক্ত যবেহ বা কুরবানী শুদ্ধ হবে না এবং তার গোশত খাওয়াও জায়িয হবে না।
৯২) কুরবানীর পশুর চামড়াটা কোথায় দিচ্ছেন সেটা কি খেয়াল করেছেন?
আপনি হালাল অর্থ দিয়ে কুরবানী দেন, সাধ্যসামর্থ্য অনুযায়ী উত্তম পশুটাই কুরবানী করেন, কুরবানীর গোশতে আত্মীয়স্বজন, গরীব মিসকিনের হকও যথাযথ আদায় করেন…ফলে আপনি মোটামুটি নিশ্চিত যে আপনার কুরবানী সঠিকভাবে করতে পেরেছেন। আসলে কি তাই? কুরবানীর পশুর চামড়াটা কোথায় দিচ্ছেন সেটা কি খেয়াল করেছেন? এই চামড়া সঠিক স্থানে না পৌঁছানোর কারণে কিন্তু আপনার কুরবানী শুদ্ধভাবে আদায় নাও হতে পারে। বেশিরভাগ মানুষই, এলাকার মাদরাসা থেকে লোক এসে চামড়া চাইলে কোন চিন্তা ভাবনা না করেই দিয়ে দেয়। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ মাদরাসাগুলোই হচ্ছে জামাতী, ওহাবী, খারিজী মতাদর্শের তথা সন্ত্রাসী তৈরির কেন্দ্র; যারা কুফরি আকিদায় পরিপূর্ণ, ছবি তোলে, বেপর্দা হয়, ইসলামের নামে গণতন্ত্র-সন্ত্রাসবাদ করে, ঈদে মীলাদুন নবী, শবে বরাত ইত্যাদি মুবারক দিবসসমূহের বিরোধিতা করে। নাউযুবিল্লাহ! অনেকে আবার কোন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে চামড়া দিয়ে দেয়। কিন্তু তারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তা-ঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে। অথচ কুরবানীর চামড়া গরিব মিসকীনদের হক্ব। তা গরিব মিসকিনদের মালিক করে দিতে হবে। কেউ কেউ পাড়ার মাস্তান, ছিনতাইকারী ও হিরোইনখোরদের ভয়ে বা হাতে রাখার উদ্দেশ্যে তাদেরকে কম দামে কুরবানীর চামড়া দেয়। এতেও কিন্তু নিয়ত বিশুদ্ধ হবে না এবং কুরবানীও শুদ্ধভাবে আদায় হবে না। মহান আল্লাহ পাক জানিয়ে দিয়েছেন,“তোমরা নেক কাজে ও পরহেযগারীতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদ কাজে ও শত্রুতাতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না। আর এ বিষয়ে আল্লাহ পাক উনাকে ভয় করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ পাক তিনি কঠিন শাস্তিদাতা” (সূরা মায়িদা-২) সুতরাং কুরবানী শুদ্ধ হবার জন্য, পশুর চামড়া বা চামড়ার মূল্যের দান যেন ভুল উদ্দেশ্য ও ভুল পথে পরিচালিত না হয় সেটা খেয়াল রাখুন।
৯৩) অনেকে বলে থাকে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয়, তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না, এটা শরীয়তসম্মত কী-না? জানালে খুশি হবো।
যারা বলে, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হয় তার গোশ্ত পিতা-মাতা খেতে পারবে না তাদের সে কথা শরীয়তসম্মত নয়। শরীয়তের মাসয়ালা হলো, আক্বীকার পশুর গোশতের হুকুম কুরবানীর পশুর গোশতের হুকুমের মতো। কাজেই, সন্তানের নামে যে পশু আক্বীকা দেয়া হবে তার গোশত পিতা-মাতাসহ সকলেই খেতে পারবে। এটাই শরীয়তসম্মত মাসয়ালা বা ফতওয়া।
৯৪) পবিত্র কুরবানীর প্রতি অসহযোগিতামূলক আচরণ জাহান্নামী হওয়ার কারণ
পবিত্র সূরা মুদাছ্ছির শরীফ উনার মধ্যে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, مَا سَلَكَكُمْ فِي سَقَرَ . قَالُوا لَمْ نَكُ مِنَ الْمُصَلِّينَ . وَلَمْ نَكُ نُطْعِمُ الْمِسْكِينَ . وَكُنَّا نَخُوضُ مَعَ الْخَائِضِينَ . وَكُنَّا نُكَذِّبُ بِيَوْمِ الدِّينِ . حَتَّىٰ أَتَانَا الْيَقِينُ . অর্থ: “জাহান্নামীদের জিজ্ঞেস করা হবে, ‘কেন তোমরা জাহান্নামে গেলে?’ তারা বলবে, ‘আমরা নামায পড়িনি, গরিব-মিসকিনকে খাদ্য খাওয়াইনি। আর যারা পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ বা সমালোচনা করেছে- আমরাও তাদের সাথে অনুরূপ করেছি এবং পরকাল অস্বীকার করেছি মৃত্যু আসা পর্যন্ত।” (পবিত্র সূরা আল মুদ্দাছ্ছির ৪২: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭৪) এখানে তৃতীয় যে কারণটি উল্লেখ করা হয়েছে তা হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ বা সমালোচনাকারীদের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ বা সমালোচনা করা। তাফসীর অনুযায়ী পবিত্র কুরআন শরীফ-পবিত্র হাদীছ শরীফ নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ বা সমালোচনা করার অর্থ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফে যা কিছু নির্দেশনা বা নিদর্শন রয়েছে তার সমালোচনা করা বা অবমাননা করা। নাউযুবিল্লাহ! * কাফিররা বলে কুরবানী করলে রাস্তা নোংরা হয়- এটা সমালোচনা। - আর সরকারি সিদ্ধান্ত- যেখানে- সেখানে কুরবানী করা যাবে না। * কাফিররা বলে কুরবানীর হাটের জন্য যানজট সৃষ্টি হয়- এটা সমালোচনা। -আর সরকারি সিদ্ধান্ত- শহরে কুরবানীর পশুর হাট নিষিদ্ধ। সরকারের এ সিদ্ধান্তগুলি কাফির-মুশরিকদের সমলোচনার সমর্থনমূলক সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকার এরকম সিদ্ধান্ত নিলে এর সাথে যারা সংশ্লিষ্ট থাকবে এবং সমর্থন করবে তাহলে উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ অনুযায়ী তাদের কি ফায়সালা হবে? তা ফিকির করতে হবে।
৯৫) ‘পবিত্র কুরবানী উনার পশুর হাটের কারণে যানজট হয়’- এটা মিথ্যা কথা
সম্প্রতি একটি মহল অপপ্রচার করছে, পবিত্র কুরবানী উনার পশুর হাটের কারণে যানজট হয়। নাউযুবিল্লাহ! তারা যানজট এড়াতে হাটগুলোকে ঢাকার বাইরে নিয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ! প্রকৃতপক্ষে ‘পবিত্র কুরবানী উনার পশুর হাটের কারণে যানজট হয়’ এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা। কারণ সারা বছর তো গরুর হাট থাকে না, তবে কেন সারা বছর ঢাকা শহরে অসহনীয় যানজট লেগে থাকে? আসলে এটা পবিত্র কুরবানী উনার বিদ্বেষী মহলের অপপ্রচার, যেন পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট দূরে নিয়ে মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী থেকে নিরুৎসাহিত করা যায়। সরকারের কখনোই উচিত হয়নি এ ধরনের মিথ্যা অজুহাতে পবিত্র কুরবানীর পশুর হাটকে ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া, বরং উচিত হবে হাটের সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রত্যেক এলাকায় এলাকায় পবিত্র কুরবানীর পশু কেনার ব্যবস্থা করে দেয়া। যদি প্রত্যেক এলাকাতেই পবিত্র কুরবানী উনার পশু কেনার সহজ ব্যবস্থা থাকে, তবে যানজট সৃষ্টির কোনো সম্ভবনাই থাকতে পারে না।
৯৬) আমার কুরবানী আমি দিবো, যেখানে খুশি সেখানে দিবো
আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশে পশু কুরবানীর মাত্র ৬ হাজার ২৩৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১১টি সিটি কর্পোরেশনে মাত্র ২ হাজার ৯৪৩টি স্থানে পশু কুরবানী করা হবে। (সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক, ১২ আগস্ট, ২০১৬) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে এসব উদ্ভট সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে জনগণের উপর চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। ‘চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে’ কথাটি এইজন্য বলতে হচ্ছে যে, প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে পশু জবাই না করলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থাও করা হবে বলে হুঁশিয়ারী দেয়া হয়েছে। বছর বদলানোর সাথে সুরও পাল্টেছে। ২০১৫ সালে এই স্পট নির্ধারণের ঘোষণার পর বলা হয়েছিলো, নির্দিষ্ট স্থানে জবাইয়ের জন্য কাউকে বাধ্য করা হবে না। আর এ বছর বলা হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তি প্রদানের কথা। আমরাও ৯৮ ভাগ মুসলমানের কন্ঠে একই সাথে বলতে চাই, ‘আমার কুরবানী আমি দিবো, যেখানে খুশি সেখানে দিবো।’ সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিটি কুরবানীদাতার জবাইর স্থান থেকে বর্জ্যসমূহ প্রতিশ্রুত সময়ের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিবেশকে ঝকঝকে চকচকে করে তোলা। সিটি কর্পোরেশনকে এটা ভুলে গেলে হবে না যে তারা নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় চলে।
৯৭) ১৮ বছর বয়সের আগে কুরবানী করার ব্যপারে হস্তক্ষেপের পিছনে যে যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে তা কি আদৌ সঠিক? না কি #চরম #চরম #চরম #মূর্খতা
সরকার ‘১৮ বছরের নিচে কেউ পশু জবাই করতে পারবে না’ আইন করছে, উদ্দেশ্যে যাতে শিশুরা ছোট থেকে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে মানুষ জবাই না শিখে। অথচ বাংলাদেশে হত্যাকান্ডের বেশির ভাগ ঘটে ফিল্মি স্টাইলে। অর্থাৎ হারাম টিভি-চ্যানেল থেকেই শিশুরা হত্যাকান্ড থেকে শুরু করে হাজারো অপকর্ম শিখছে। ইউরোপ-আমেরিকায় তো প্রকাশ্যে কুরবানী হয় না এরপরও সেখানে অহরহ হত্যাকা- হয়। আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতে ১৮ বছর বয়স তো অনেক পরের কথা বড়রাই পশু জবাই করার সুযোগ পায় না। সেখানে বাংলাদেশ থেকেই বেশি হত্যাকা- হয়। আর যারা হত্যাকা-ের সাথে জড়িত তারা আদৌ কি পশু জবাই করেছে? খোজ নিয়ে দেখা যাবে তারা পশু জবাই তো দূরে থাক কখনো মুরগি জবাই করেছে কিনা সন্দেহ জনক। সরকারের উচিত ‘১৮ বছরের নিচে কেউ পশু জবাই করতে পারবে না’ আইন না করে হারাম টিভি-চ্যানেল বন্ধ করা। তাতে ফিল্মি স্টাইলে হত্যাকা- ছাড়াও অন্যান্য অপরাধ যেমন পরকীয়ার মতো অবৈধ কর্মকান্ড কমে যাবে। ৯৮ ভাগ মুসলমান উনাদের দেশ বাংলাদেশে সরকারের উচিত পরিপূর্ণ শরীয়ত অনুযায়ী কুরবানী করার ব্যবস্থা করে দেয়া এবং সমস্ত কুফরী আইন থেকে খালিছ তওবা করে বেরিয়ে আসা।
৯৮) কুরবানীর পশুর হাট কাছে রাখাই অধিক সুবিধাজনক
এমনিতেই রাজধানীতে সারা বৎসর যানজটের কারণে নির্বিঘেœ চলাচল করা দুরূহ। প্রয়োজনীয় যানবাহনের অভাব, যানজট, পানিবদ্ধতা, চুরি-ছিনতাইয়ের ভয় ইত্যাদি বহু সমস্যা রাজধানীবাসীর অতি পরিচিত সমস্যা। অথচ একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী সরকারকে কুমন্ত্রণা দিয়েছে- কুরবানীর পশুর হাটের কারণেই নাকি বেশি যানজট হয়! তাহলে বাকি সময়গুলোতে ঢাকায় যানজট হয় কেন? এরপরও সরকার এদের দ্বারা বিভ্রান্ত হয়ে কুরবানীর হাটগুলোকে দূর-দূরান্তে সরিয়ে নিয়েছে। অথচ সরকার এমন একটি সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে জনগণের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তাও করলো না, পরামর্শও নিলো না। দূর থেকে পশু কিনে গাড়িতে করে এনে যখন শহরে প্রবেশ করবে তখন যানজট বাড়বে, নাকি কমবে? পশু কিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য কি পর্যাপ্ত যানবাহনের ব্যবস্থা হাটের পাশে করা হয়েছে? তা না হলে পশুগুলো নিয়ে এতগুলো মানুষ কিভাবে এতদূর থেকে তাদের বাসায় পৌঁছবে? আবার পশু কেনার এতগুলো টাকা নিয়ে এতদূরে যাওয়ার সময় রাস্তায় যে ছিনতাই-ডাকাতি হবে না- তার গ্যারান্টি কি সরকার দিবে? মূলত, কুরবানীর হাটকে দূর-দূরান্তে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারের একটি অপরিপক্ক ও একরোখা সিদ্ধান্ত। বরং সরকারের উচিত- প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় কমপক্ষে একটি করে কুরবানীর পশুর হাটের ব্যবস্থা করা। এটাই দেশের লাখো-কোটি মুসলমানদের হয়রানি-পেরেশানি থেকে মুক্ত রাখতে পারবে।
৯৯) সবাই সাবধান!! পবিত্র কুরবানী ঈদ আসলেই ‘মোটাতাজা গরুতে বিষ রয়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়াতে তৎপর হয় ইসলামবিদ্বেষীরা
সবাই সাবধান!! পবিত্র কুরবানী ঈদ আসলেই ‘মোটাতাজা গরুতে বিষ রয়েছে’ এমন মিথ্যা গুজব ছড়াতে তৎপর হয় ইসলামবিদ্বেষীরা পবিত্র কুরবানী ঈদ আসলে একটি ইসলামবিদ্বেষী মহল মুসলমান উনাদের গরু কুরবানী থেকে বিরত রাখতে ‘মোটাতাজা গরুতে বিষ রয়েছে’- এমন মিথ্যা গুজব রটিয়ে থাকে। অথচ গরু মোটা তাজাকরণে যেসব ওষুধ প্রয়োগ করা হয়, তার মাধ্যমে মনুষ্য শরীরে ক্ষতি হওয়ার কোনো সম্ভবনাই থাকে না। এ সম্পর্কে ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহ’ বলেন- “পশু মোটা-তাজাকরণের জন্য যে স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয় তা সহনীয় পর্যায়ে। এতে গরুর কোনো ক্ষতি হয় না এবং মানুষের শরীরের জন্যও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ এই ধরনের ওষুধ গরুকে খাওয়ানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এছাড়া ৭৭ কেজি গোশতের মধ্যে যে পরিমাণ স্টেরয়েড থাকে, তার সমপরিমাণ স্টেরয়েড থাকে একটি ডিমে। অন্যদিকে প্রাকৃতিকভাবে কিছু সবজি আছে যার মধ্যে প্রচুর স্টেরয়েড থাকে। কিন্তু এতে তো আমাদের শরীরের কোনো ক্ষতি হচ্ছে না। বরং উপকারই হচ্ছে। তবে পশুকে সহনীয় মাত্রার অধিক স্টেরয়েড দিলে পশুর বিভিন্ন রোগ দেখা দিতে পারে। এ ধরনের গরু একশ’র মধ্যে তিনটা পাবেন। আমাদের দেশে অনেকে বলে থাকে এই স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে মানুষের অতিরিক্ত মাত্রায় স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে। তারা এই বিষয়ে জ্ঞানের অভাবের এমন বিভ্রান্তিকর তথ্য দিচ্ছে। তারা কোনো গবেষণামূলক প্রমাণ দেখাতে পারেনি এবং পারবে বলেও আমি মনে করি না। (সূত্র: ইউরো নিউজ বিডি) ঢাকা কেন্দ্রীয় পশু হাসপাতালের প্রধান ভেটেরিনারিয়ান এ বি এম শহীদুল্লাহর বক্তব্য অনুযায়ী ‘গরু মোটাতাজাকারণে বিষ রয়েছে’- এ বক্তব্য মিথ্যা ছাড়া কিছু নয়। তাই পবিত্র দ্বীন ইসলাম উনার বিদ্বেষীদের এ ধরনের গুজব থেকে সবার সাবধান থাকা উচিত।
১০০) সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না, তাকে ঈদগাহের নিকটে আসতে বারন করেছেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না, তাকে ঈদগাহের নিকটে আসতে বারন করেছেন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সামর্থ্যবান হওয়ার পরেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন- “সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি পবিত্র কুরবানী করবে না, সে যেন ঈদগাহের নিকটে না আসে।” (পবিত্র ইবনে মাজাহ শরীফ) কাজেই যে সমস্ত ব্যক্তিদের উপর পবিত্র কুরবানী ওয়াজিব, তাদের উচিত- পবিত্র ঈদুল আদ্বহা শরীফ উনার নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে পবিত্র ঈদগাহে গমনের পূর্বেই পবিত্র কুরবানী উনার পশু ক্রয় করা। আর সম্মানিত ঈদুল আদ্বহা শরীফ উনার নামায আদায়ের পর পশু কুরবানী করার মাধ্যমে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করা। খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি প্রত্যেক সামর্থ্যবান ব্যক্তিদেরকে পবিত্র কুরবানী করে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করার তাওফীক দান করুন। আমীন!
১০১) যুগে যুগে কুরবানী নিয়ে ষড়যন্ত্র ও বিভ্রান্তি
(১) কতগুলো মুনাফিক, নাস্তিক, কাফিরের গোষ্ঠী পবিত্র কুরবানী উনার সময় এলে পবিত্র কুরবানী বিরোধী প্রচারণায় মেতে উঠে এবং এর বিরুদ্ধে স্লো পয়জনসমৃদ্ধ নানা রঙের নানা ঢঙের বিবৃতি প্রদান করে। যেমন- (ক) পবিত্র কুরবানী না করে কুরবানী উনার পশু বা তার সমপরিমাণ নগদ অর্থ ক্যান্সার হাসপাতালে, দাতব্য প্রতিষ্ঠানে, জনকল্যাণমূলক, জনহিতকর কাজে, বন্যা, টর্নেডো, প্রাণীচ্ছ্বাস, সিডর আক্রান্ত মানুষকে দারিদ্র্য বিমোচনে, গরিব কৃষকদের মাঝে, মহামারি ও ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি দুর্ঘটনায় আক্রান্ত বা দুঃস্থদেরকে টাকা দিয়ে দিলেই তো হয়। (খ) পবিত্র কুরবানী একটি অপচয়। নাঊযুবিল্লাহ! (গ) পবিত্র কুরবানী উনার দিনে উপমহাদেশে পবিত্র কুরবানী উনার যে দৃশ্য দেখা যায়, মালদ্বীপ, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া প্রভৃতি দেশে তা দেখা যায় না। (ঘ) কুচক্রী মহল সারা দুনিয়ায় বিশেষত মুসলমান দেশ ও অঞ্চলগুলোতে পবিত্র কুরবানী উনার সময় হালাল গবাদি পশুর অ্যাণথ্রাক্স আতঙ্ক ছড়িয়ে পবিত্র কুরবানী করা থেকে মুসলমানদেরকে বিরত রাখার অপচেষ্টা করা হয়। (ঙ) মহাসম্মানিত কুরবানী উনার ইতিহাসকে বিকৃত করার জন্য ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানগণের মধ্যে সন্দেহের বীজ বপন করার জন্য বাংলাদেশের কলঙ্ক দেব নারায়ন নামক হিন্দু মালউন দাবি করেছিলো যে, হযরত ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম, হযরত ইসমাইল আলাইহিস সালাম উনাকে নয়, বরং হযরত ইসহাক আলাইহিস সালাম উনাকে কুরবানী উনার উদ্দেশ্যে যবেহ করতে উদ্যত হয়েছিলেন। (চ) ২০১১ সালে দেওবন্দীরা ফতওয়া দেয় ‘মুসলমানদের গরু কুরবানী দেয়া উচিত নয়; কারণ গরু হিন্দুদের দেবতা। (ছ) ভাগে পবিত্র কুরবানী দেয়া যাবে না। (জ) বিজোড় ভাগ দিতে হবে, জোড় ভাগ দেয়া যাবে না। (ঝ) পবিত্র কুরবানী উনার সাথে আক্বীকা দেয়া যাবে না। (ঞ) আক্বীকা না দিলে কুরবানী হবে না। (২) পবিত্র কুরবানী করার ছবি তোলা হয় ও ভিডিও করা হয়- যা প্রকাশ্য হারাম। (৩) পবিত্র কুরবানী উনার পশুর চামড়া যেখানে সেখানে দেয়া যাবে না। তাহক্বীক্ব করে ছহীহ জায়গায় দিতে হবে। কেননা কোনো জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে বা সংগঠনকে, ধর্মব্যবসায়ী তথা সন্ত্রাসী তৈরিকারী, বদআক্বীদা ও বিদয়াত প্রচার-প্রসারকারী মাদরাসাগুলোতে এবং ভয়ে বা হাতে রাখার উদ্দেশ্যে মাস্তান, গু-া, হিরোইনখোর ও নেশাখোরদের পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া দিলে পবিত্র কুরবানী আদায় হবে না। অথচ অধিকাংশ মানুষ এমনই করে থাকে। ফলে তার পবিত্র কুরবানী কবুল হয় না। (৪) মানুষের সমালোচনা থেকে বাঁচার জন্য, বাপদাদা কুরবানী দিতো আমি না দিলে কেমন হয়, এমন ধারণায়, নাম-ধাম, লৌকিকতা, গণমানুষের সমর্থন নিয়ে নেতা হওয়ার বাসনায়, গোশত খাওয়ার নিয়তে পবিত্র কুরবানী করে থাকে। মূলত এভাবে পবিত্র কুরবানী হয় না। (৫) সম্মানিত কুরবানী উনার পশুর হাটে হারাম গান-বাজনা হরদম চলতে থাকে। এভাবে পবিত্র কুরবানী উনার পবিত্রতা ও রূহানিয়াত নষ্ট হয়। (৬) লাগাতার সউদী ওহাবী সরকার চন্দ্র মাসের হিসাব-নিকাশ হেরফের করার কারণে পবিত্র কুরবানী উনার দিনগুলোও হেরফের হয়ে যাচ্ছে। ফলে পবিত্র কুরবানী কবুল হচ্ছে না। (৭) পবিত্র কুরবানী উনার পশু নিয়ে মিডিয়ায় অনেক ব্যঙ্গচিত্র দেখানো হয়, ব্যঙ্গ কথা রচনা করা হয়। এটা মহাসম্মানিত কুরবানী উনার শান-মানের খিলাফ। (৮) অনেকে পিতা-মাতা, বাপ-দাদা অনেকের নামে পবিত্র কুরবানী দেয়। কিন্তু এভাবে বলে পবিত্র কুরবানীতে নাম দেয়া ঠিক নয়। বরং বলতে হবে পিতা-মাতা বা অমুকের পক্ষে থেকে মহান আল্লাহ পাক উনার নামে পবিত্র কুরবানী করলাম। মূলত এসব কিছুই পবিত্র কুরবানী উনাকে বিকৃত, অবমাননা, নষ্ট করার অপচেষ্টা, ষড়যন্ত্র, মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর নামান্তর। পাশাপাশি মুসলমানগণ উনাদের দ্বীনি অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার শামিল। যা সুস্পষ্ট নাজায়িয, হারাম ও কুফরী।
১০২) আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য ও যাকাত-ফিতরা দেয়া হারাম।
আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য ও যাকাত-ফিতরা দেয়া হারাম। কারণ, তারা তা আমভাবে খরচ করে থাকে। যেমন রাস্তাঘাট, পানির ব্যবস্থা, বেওয়ারিশ লাশ দাফন করার কাজে; সেটা মুসলমানদেরও হতে পারে আবার বিধর্মীরও হতে পারে। অথচ পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া ও যাকাত-ফিতরা মুসলমান গরিব-মিসকীনদের হক্ব। তা আমভাবে খরচ করা যাবে না, বরং মুসলমান গরিব-মিসকিনদের মালিক করে দিতে হবে। অর্থাৎ সম্মানিত শরীয়ত অনুযায়ী সম্মানিত শরীয়ত উনার নির্ধারিত খাতেই ব্যয় করতে হবে। শুধু তাই নয়; এদের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি, লাশ গায়েব এবং কঙ্কাল চুরি ও পাচারকারী দলের সাথে জড়িত থাকার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যা অনলাইনসহ অনেক মিডিয়াতেই প্রকাশ পেয়েছে। কাজেই, আঞ্জুমান মফিদুল ইসলামে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য ও যাকাত-ফিতরা দেয়ার অর্থ হচ্ছে- টাকা আত্মসাৎ, দুর্নীতি, লাশ গায়েব এবং কঙ্কাল চুরি ও পাচার এসবের মতো হারাম ও গুনাহের কাজে সাহায্য-সহযোগিতা করা। নাউযুবিল্লাহ! তাছাড়া আঞ্জুমান মফিদুল ইসলাম পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত ৮ খাতের কোনো খাতের মধ্যেই পড়ে না। তাই এদেরকে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া ও যাকাত, ফিতরা দিলে তা কস্মিনকালেও আদায় তো হবেই না; বরং গুনাহ হবে। অতএব, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরয হচ্ছে- এদেরকে পবিত্র কুরবানীর পশুর চামড়া বা তার মূল্য ও যাকাত-ফিতরা দেয়া থেকে বিরত থাকা এবং হক্ব ও উপযুক্ত স্থানে দেয়া। বর্তমান যামানায় হক্ব মত-পথ ও সুন্নতী আমলের একমাত্র ও উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ’। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মাধ্যমে নির্দেশ মুবারক করেন, “তোমরা নেক কাজে ও পরহেযগারীতে পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো। বদকাজে অর্থাৎ পাপে ও শত্রুতায় পরস্পর পরস্পরকে সাহায্য করো না।” কাজেই যারা পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া দিয়ে ছদকায়ে জারিয়ার ছওয়াব হাছিল করতে চান- তাদের জন্য পবিত্র কুরবানী উনার চামড়া, যাকাত, ছদকা ইত্যাদি দেয়ার একমাত্র ও প্রকৃত স্থান হলো ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা ও ইয়াতীমখানা’। সুবহানাল্লাহ!
১০৩) সরকার নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানি করবে ভাল কথা তা অবশ্যই সরকারীভাবেই হতে হবে শুধুমাত্র গরীবদের জন্য।সচ্ছলরা যার যার বাড়ির সামনে কুরবানী করবে।
বাংলাদেশে অনেক গরীব রয়েছে যারা কুরবানী দিতে পারে না।সেক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে সরকারীভাবেই গরু,মহিষ,ছাগল, ভেড়া,দুম্বা ইত্যাদি জবাই করে গরীবদের মাঝে বিলি-বন্টন করে দিতে পারে।তা অতীব উত্তম ও সদকায়ে জারিয়ার কাজ হবে।সরকার যে জনদরদি তাও প্রমাণিত হবে। #কিন্তু যারা সচ্চল তারা যেখানে ভালো মনে করবে সেখানে তাদের মন মত কুরবানী করবে।এতে বাড়াবাড়ি করা সরকারের জন্য অনুচিত এবং তা ‘খাল কেটে কুমির আনার’ মত কাজ হবে। যা সরকার পতনে জোরালো ভূমিকা পালন করবে। তাই সরকারকে নির্দিষ্ট স্থানে কুরবানির বিষয়টি সরকারীভাবেই নিতে হবে, সাধারণ জনগনের উপর চাপিয়ে দেয়া চলবে না।এবং তা ৯৮ভাগ মুসলমানগন কখনো মেনেও নিবে না। মাঝে সরকার তার জনপ্রিয়তা হারাবে।
১০৪) পবিত্র কুরবানীর আগে গুজব রটনাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে
দেখা যাচ্ছে, প্রতি বছর পবিত্র কুরবানীর ঈদ উনার ঠিক আগ মুহূর্তে একটি মহল পবিত্র কুরবানী উনার পশুর বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়। যেমন-‘কুরবানীর পশুতে অ্যানথ্রাক্স জীবাণু আছে’ কিংবা ‘মোটাতাজা গরুতে বিষ আছে’ ইত্যাদি। অথচ এ সকল দাবি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ও অস্তিÍত্বহীন। প্রকৃতপক্ষে কথিত অ্যানথ্রাক্স ও মোটাতাজাকরণে বিষ- এগুলো হচ্ছে এক ধরনের গুজব, যা দ্বারা মুসলমানদের পবিত্র কুরবানী থেকে বিরত রাখতে কাফির-মুশরিকরা ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই করে থাকে। নাউযুবিল্লাহ! আমার মনে হয়, যে গোষ্ঠীটি প্রতি বছর এ ধরনের বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা উচিত। তাদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে বের হয়ে আসবে আসলে তারা কার থেকে টাকা খেয়ে এ ধরনের পবিত্র কুরবানী বিরুদ্ধ অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে।
১০৫) রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশের সরকারি/আধা সরকারী মাঠে, খোলা জায়গায় কুরবানীর অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে আয় করা সম্ভব বিস্তর টাকা
রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে প্রতি বছর বাড়ছে পবিত্র কুরবানীদাতা মুসলমান, পশুসম্পদ এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীর সংখ্যা। কিন্তু অতিব দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে সবকিছু বাড়লেও বাড়ছে না কুরবানী উনার পশুর হাট। প্রশাসনের হটকারী ও অজ্ঞতামূলক সিদ্ধান্তের কারণে হাটের সংখ্যা কমানো হচ্ছে। অথচ স্কুল-কলেজের মাঠগুলোসহ সরকারি মাঠ, অব্যবহৃত খোলা ময়দান ও কম ব্যবহৃত প্রশস্ত রাস্তায় কুরবানীর অস্থায়ী পশুর হাট বসিয়ে সরকার স্কুল, কলেজ, সংশ্লিষ্ট বিভাগ বা সিটি/পৌর কর্পোরেশনকে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করার সুযোগ করে দিতে পারে। পশু বিক্রির যুক্তিসঙ্গত, ইনসাফভিত্তিক “হাসিল” আদায়ের মাধ্যমে এ আয় অনায়াসেই হতে পারে যা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কল্যাণে কাজে লাগানো যায়। আর এ কাজে কুরবানী পূর্ব কয়েকদিন সংশ্লিষ্ট স্কুল, কলেজের ছাত্র, শিক্ষক, বিভাগীয় কর্মচারীগণ পালাক্রমে দায়িত্ব পালন ও খিদমতের মাধ্যমে জনগণের ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করতে পারেন। এ কাজ সরকারের জন্যও হবে খুবই প্রশংসনীয়।
১০৬) যানজটের অজুহাতে পবিত্র কুরবানীর হাট শহরের বাইরে নেয়া চলবে না
যানজটের অজুহাত দেখিয়ে ঢাকা শহরে পবিত্র কুরবানীর হাটের সংখ্যা কমিয়ে দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে এবং হাটগুলোকে শহরের বাইরে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে। সেটা যদি করা হয়, তাহলে পবিত্র কুরবানী দিতে মুসলমানদের কত কষ্ট ভোগ করতে হবে সেটা সরকার একবারও ভেবেছেন? যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেছেন, ‘নেকী ও পরহেজগারীর মধ্যে সাহায্য কর, পাপী ও বদীর মধ্যে সাহায্য করোনা।’ তাহলে দেখা যায়, এই সম্মানিত আমল যাতে মুসলমান উনারা সহজে করতে পারেন তার জন্য সহযোগিতা করা শতকরা ৯৮ ভাগ মুসলমানদের দেশের সরকারের জন্য অবশ্য কর্তব্য। আমরা ঢাকাবাসি ১২টা মাসের সব সময়ই যানজট ভোগ করে থাকি। সেগুলোতো পবিত্র কুরবানী কিংবা মুসলমানদের কোনো পর্ব উপলক্ষে নয়। তাহলে আমরা ১২টা মাস যানজটের দুর্ভোগ কেন সহ্য করবো? চাঁদ দেখানোর নাম করে পেটে খোঁচা দেয়া চলবে না। এটা মুসলমানদের দেশ। পবিত্র কুরবানী মুসলমানদের পবিত্র ঈদের একটা আমল। দ্বীন নিয়ে খোঁচাখুচি করা কোনো জ্ঞানীর কাজ নয়। অতএব, ঢাকা শহরের প্রতিটি মহল্লায় মহল্লায় কুরবানীর হাটের ব্যবস্থা করুন।
১০৭) প্রতি মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর হাট থাকা আবশ্যক
আমাদের দেশের শতকরা ৯৮ ভাগ লোক মুসলমান এবং পবিত্র কুরবানী একটি সম্মাানিত আমল। পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে পবিত্র কুরবানী উনার ফাযায়িল-ফযীলত স¤পর্কে অনেক বর্ণনা রয়েছে। কুরবানীদাতা অনেক নেকী হাছিল করে থাকেন । আবার এই নেক কাজটি যেখানে করা হয় সেখানে রহমত, সাকীনা, বরকত, দয়া, দান ইত্যাদি নাযিল হয়ে থাকে। সেজন্যই মুসলমান উনাদের দেশগুলো সবসময়ের জন্যই সম্পদে পরিপূর্ণ। যেখানে খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাস্সাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে স্মরণ করা হয় সেখানে আপদ-বিপদ, বালা-মুছিবত আসে না। সুবহানাল্লাহ! তাহলে দেখা যায় যে, স্থানে পবিত্র কুরবানী দেয়া হয়, সে স্থানটাও ফযীলত লাভ করে থাকে। যিনি খালিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে পবিত্র কুরবানীর জন্য আনীত পশুগুলোকেও নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং সেগুলোকে যেন কষ্ট দেয়া না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। তাহলে দেখা গেল, পবিত্র পবিত্র কুরবানীর প্রতিটি বিষয় অত্যন্ত সম্মানিত এবং মুসলমানগণ উনারা যাতে এই সম্মানিত আমলটি সহজে করতে পারেন তার জন্য সব রকমের সুব্যবস্থা করা সরকারের দায়িত্ব। আর এই লক্ষ্যে প্রতি মহল্লায় মহল্লায় পবিত্র কুরবানীর পশুর হাট বসানো হোক, যাতে পশু কিনে নিয়ে আসা সহজ হয় এবং নিয়ে আসতে পবিত্র কুরবানীর পশুগুলো কষ্ট না পায়।
১০৮) আক্বীদা বিশুদ্ধ না হলে তাদের দ্বারা পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই করলে ও তাদেরকে চামড়া প্রদান করলে কুরবানী কবুল হবে না এবং গোশত খাওয়া হারাম হয়ে যাবে
মহান আল্লাহ পাক রব্বুল আলামীন উনার ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি কাদিয়ানী, ওহাবীদের আক্বীদা বিশুদ্ধ নয়। কাদিয়ানীরা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে শেষ নবী ও রসূল হিসেবে মানে না, এজন্য কাদিয়ানীরা কাফির। সুতরাং কাফির-মুশরিকদের দ্বারা পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই করলে যেমন তা কবুল হবে না ও গোশত খাওয়া হারাম হবে; একইভাবে কাদিয়ানীদের দ্বারা পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই করলেও তা কবুল হবে না ও গোশত খাওয়া হারাম হয়ে যাবে। নাউযুবিল্লাহ! এবার আসুন দেওবন্দীদের আক্বীদা সম্পর্কে একটু জেনে নেই। দেওবন্দের শীর্ষস্থানীয় কথিত আলিমদের কিতাবাদিতে পাওয়া যায়, তারা বিশ্বাস করে- * মীলাদ ক্বিয়াম করা শিরক। নাউযুবিল্লাহ! । ঈদে মীলাদুন নবী পালন করা শিরক। নাউযুবিল্লাহ! (দেওবন্দীদের কিতাব ও মাসিক পত্রিকাসমূহ) * শবে বরাত পালন করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! (দেওবন্দীদের কিতাব ও মাসিক পত্রিকাসমূহ) * ফরয নামাযের পর হাত তুলে মুনাজাত করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ!। জানাযার নামায পর দোয়া করা বিদয়াত। নাউযুবিল্লাহ! (দেওবন্দীদের কিতাব ও মাসিক পত্রিকাসমূহ) * কাক খাওয়া জায়িয। নাউযুবিল্লাহ! (ফতওয়ায়ে রশীদিয়া ২য় খ- ১৪৫ পৃষ্ঠা) সম্মানিত পাঠক! দেওবন্দীদের সাগরেদ আমাদের দেশের কওমী মাদরাসাগুলো। উপরোক্ত কুফরী আক্বীদাসহ আরো বহু কুফরী আক্বীদা কওমী মাদরাসাগুলোতে শিক্ষা দেয়া হয়। যার একটিও যদি কেউ পোষণ করে তাহলে সে ঈমানদার থাকতে পারবে না। সুতরাং উপরোক্ত আক্বীদা পোষণকারী কওমী মাদরাসার ছাত্রদের দিয়ে পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই করা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিজের পবিত্র কুরবানীর পশু নিজে জবাই করতে পারলে উত্তম ও পবিত্র সুন্নত আদায় হবে। সম্ভব না হলে আক্বীদা বিশুদ্ধ এমন লোকের দ্বারা পবিত্র কুরবানীর পশু জবাই করতে হবে। আর পবিত্র পশুর চামড়া পৌঁছে দিতে হবে যামানার লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ যামানার মুজাদ্দিদ ঢাকা রাজারবাগ শরীফের মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম উনার প্রতিষ্ঠিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত উনার আক্বীদা পোষণকারী ‘মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ মাদরাসা লিল্লাহবোর্ডিং ও ইয়াতীমখানায়’। সারা দেশব্যাপী এই মাদরাসার শাখা রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
১০৯) গরু কুরবানী বিরোধী হিন্দু রাজা গৌর গোবিন্দের করুণ পরিণতি
সনটি ছিলো ১৩৪৪ ঈসায়ী। তৎকালীন বাংলাদেশের সিলেটে হিন্দু রাজা গৌর গোবিন্দের রাজ্যের এক মহল্লায় ১৩টি মুসলিম পরিবার বাস করতেন। তারই একজন ছিলেন শেখ বুরহান উদ্দিন। তিনি যবন হিন্দু যালিম রাজা গোবিন্দের কারণে গোপনে ইবাদত-বন্দেগী করতেন। কারণ সেখানে প্রকাশ্যে মুসলমানদের জন্য ইবাদত-বন্দেগী করা নিষিদ্ধ ছিলো। কেউই গরু জবাই ও কুরবানী করতে পারতো না। শেখ বুরহান উদ্দিনের কোনো সন্তান ছিলো না। সন্তানের জন্য মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট দোয়া করে তিনি নিয়ত করলেন- যদি তার একটি সন্তান হয় তাহলে তিনি শুকরিয়াস্বরূপ মহান আল্লাহ পাক উনার নামে একটি গরু কুরবানী করবেন। কিছুদিন অপেক্ষার পর সত্যি সত্যিই ঘর আলো করে একজন ফুটফুটে সন্তান জন্ম নিলো। খুশি হয়ে বুরহানুদ্দীন শুকরিয়া করে নিয়ত মুতাবিক একদিন গোপনে একটি গরু কুরবানী করে গোশত মুসলমানদের মধ্যে বিলি করতে লাগলেন। এমন সময় একটি চিল এসে ছোঁ মেরে এক টুকরা গোশত নিয়ে গেলো। মহান আল্লাহ পাক উনার কি কুদরত, চিলটি গোশত টুকরাটি ফেললো যবন গোবিন্দের মন্দিরের প্রধান প্রবেশ পথে। গোবিন্দ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সৈন্য পাঠিয়ে শেখ বুরহান উদ্দিনকে রাজার সামনে উপস্থিত করলো। যালিম হিন্দু রাজা গোবিন্দ বুরহান উদ্দিনের ডান হাত কেটে দিলো। নিষ্পাপ সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটিকে কথিত দেবতার সামনে বলি দিলো। এ অবস্থা দেখে শিশুটির মা অর্থাৎ শেখ বুরহান উদ্দিনের স্ত্রী অজ্ঞান হয়ে মৃত্যু বরণ করলেন। শুধু এতটুকুই নয়, ওই যালিম গোবিন্দ ওই দিনই আক্রমণ চালিয়ে ওই এলাকার সকল মুসলমানদেরকে নির্মমভাবে শহীদ করে ফেললো। নাউযুবিল্লাহ! অত্যন্ত ব্যথিত অন্তরে শেখ বুরহান উদ্দিন পায়ে হেঁটে উপস্থিত হলেন সোনারগাঁয়ে শামসুদ্দিন ইলিয়াস শাহের দরবারে। ইলিয়াস শাহ সব শুনে যবন ও যালিম হিন্দু রাজা গৌর গোবিন্দকে শাস্তি দেয়ার জন্য সৈন্য-সামন্ত পাঠালেন যুদ্ধ করার জন্য। বেশ কিছুদিন যুদ্ধ হলো, শত শত মুসলিম সৈন্য শহীদ হলো। কিন্তু জয় করা হলো না। এরপর শেখ বুরহান উদ্দিন রওয়ানা হলেন দিল্লির পথে। দিল্লির সম্রাট আলাউদ্দিন ফিরোজ শাহ তুঘলকের সামনে। তিনি বুরহান উদ্দিনের নিকট হতে সব বিষয় শুনে যবন গোবিন্দকে শায়েস্তা করার জন্য সৈন্যসহ সিকান্দার গাজীকে সেনাপতি করে অভিযানে পাঠালেন। কিন্তু পথিমধ্যে অনেক প্রতিকূলতার কারণে তারা দিল্লিতে ফিরে গেলেন। অতঃপর নতুন কিছু সৈন্যসহ আর একজন বীর সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিনকে সেনাপতি করা হলো। সম্রাটের আদেশ পেয়ে তিনি দোয়া নিতে গেলেন তাঁর পীর শায়েখ হযরত খাজা নিজাম উদ্দিন রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার দরবারে। তখন ওখানেই অবস্থান করছিলেন হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি। সবকিছু শুনে হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনিও সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিনের সাথে এই অভিযানে যাবেন। অতঃপর হযরত শাহ জালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি তাঁর ৩৬০ জন সঙ্গীদের নিয়ে সাইয়্যিদ নাসির উদ্দিনের সৈন্যবাহিনীর সাথে রওয়ানা দিলেন। পথিমধ্যে গৌর গোবিন্দের সৈন্যদের সাথে তুমুল যুদ্ধ শুরু হয়। ওলীয়ে কামিলগণ উনাদের দোয়া, মহান আল্লাহ পাক উনার গায়েবী মদদ এবং হযরত শাহজালাল রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার রূহানিয়তের নিকট গৌর গোবিন্দের যাদুমন্ত্র অকার্যকর হয়ে তার বাহিনীর চরম পরাজয় হলো। নিহত হলো গোবিন্দের সেনাপতি মনা রায়। মুসলিম বাহিনী অগ্রসর হতে থাকলো গৌর গোবিন্দের রাজধানী অভিমুখে। সুরমা নদী পার হয়ে মুসলিম বাহিনী যখন প্রাসাদের নিকটবর্তী হলো এতে হিন্দু রাজা গৌর গোবিন্দ প্রাসাদ ছেড়ে পালিয়ে যায়। মুসলমানগণ গৌর গোবিন্দের প্রাসাদের সামনে দাঁড়িয়ে আযান দিতে লাগলেন। আযানের ধ্বনিতে গোবিন্দের প্রাসাদ ও মন্দির ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে ধ্বংস হয়ে গেলো। উদিত হলো নতুন সূর্য। উড়তে লাগলো ইসলামের পতাকা। গৌর গৌবিন্দের রাজ্যের নতুন নাম হলো ‘জালালাবাদ’।
১১০) যিলহজ্জ শরীফ মাসের “প্রথম দশ দিন-রাত”-এর সীমাহীন ফযীলত
এ সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَبِىْ هُرَيْرَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ اَنْ يَّتَعَبُّدَ لَهُ فِيْهَا مِنْ عَشْرِ ذِى الْـحِجَّةِ يَعْدِلُ صِيَامُ كُلّ يَوْمٍ مِنْهَا بِصِيَامِ سَنَةٍ وَ قِيَامُ كُلّ لَيْلَةٍ مِنْهَا بِقِيَامِ لَيْلَةِ الْقَدْرِ. অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, দিনসমূহের মধ্যে এমন কোন দিন নেই যে দিন সমূহের ইবাদত মহান আল্লাহ পাকের নিকট যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদত অপেক্ষা অধিক প্রিয় বা পছন্দনীয়। যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১ম দশ দিনের প্রতি দিনের রোযার ফযীলত হচ্ছে ১ বছর রোযা রাখার সমপরিমাণ এবং প্রতি রাতের ইবাদতের ফযীলত হচ্ছে ক্বদরের রাতের ইবাদতের সমপরিমাণ।” সুবহানাল্লাহ! (মিশকাত শরীফ, ইবনে মাযাহ শরীফ, তিরমিযী শরীফ) ৯ যিলহজ্জ শরীফ যা ইয়াওমুল আরাফাহ বা আরাফা দিবস নামে মশহূর। এ দিন রোযা রাখার ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ বর্ণিত রয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اَبـِى قَتَادَةَ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صِيَامُ يَوْمِ عَرَفَةَ أَحْتَسِبُ عَلَى اللهِ أَنْ يُكَفّرَ السَّنَةَ الَّتِى قَبْلَهُ وَالسَّنَةَ الَّتِى بَعْدَهُ. অর্থ : “হযরত আবূ ক্বাতাদা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আরাফাহ দিবসে রোযা রাখবে তার পিছনের এক বছরের এবং সামনের এক বছরের গুনাহখতা ক্ষমা করে দেয়া হবে।” সুবহানাল্লাহ! (মুসলিম শরীফ, আবূ দাঊদ শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ) বছরে পাঁচ রাতে দোয়া বিশেষভাবে কবুল হয়। তার মধ্যে দু’ঈদের দু’রাত। এ রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদত-বন্দেগী, তাসবীহ পাঠ, পবিত্র কুরআন শরীফ তিলাওয়াত, দুরূদ শরীফ ও যিকির-আযকার করে রাত অতিবাহিত করা অতি উত্তম। দিলের নেক মকছূদসমূহ মহান আল্লাহ পাকের নিকট জানালে মহান আল্লাহ পাক তা কবুল করবেন। পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ রয়েছে, عَنْ حَضْرَتْ اَبِى اُمَامَةَ رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْعِيْدَيْنِ مُـحْتَسَبًا لِلّٰهِ لَـمْ يَـمُتْ قَلْبَهُ يَوْمَ تَـمُوْتُ الْقُلُوْبُ. অর্থ : “হযরত আবূ উমামা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার রাতে জাগ্রত থেকে ইবাদতে মশগুল থাকবে, যেদিন অন্য সমস্ত দিল মরবে, সেদিন তার দিল মরবে না।” (তবারানী শরীফ) অর্থাৎ ক্বিয়ামতের দিন অন্যান্য দিল পেরেশানীতে থাকলেও দু’ঈদের রাতে জাগরণকারী ব্যক্তির দিল শান্তিতে থাকবে। সুবহানাল্লাহ! আর মহান আল্লাহ পাক ১০ দিনের ব্যাপারে ইরশাদ মুবারক করেন- وَالْفَجْرِ ﴿١﴾ وَلَيَالٍ عَشْرٍ ﴿٢﴾ وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ ﴿٣﴾ অর্থ : “শপথ ফজরের! শপথ দশ রাত্রির! শপথ তার, যা জোড় ও যা বিজোড়।” (সূরা ফজর শরীফ : আয়াত শরীফ ১-৩) এখানে ফজর বলতে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ফজর ওয়াক্তের কথা বলা হয়েছে। দশ রাত্রি বলতে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০ দিনের কথা বলা হয়েছে। আর জোড় বলতে ১০ তারিখ অর্থাৎ কুরবানীর দিনকে ও বিজোড় বলতে ৯ তারিখ অর্থাৎ আরাফার দিনকে বুঝানো হয়েছে। যারা কুরবানী দেয়ার নিয়ত রাখেন, তাদের পক্ষে যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে এই চাঁদের ১০ তারিখ কুরবানী করা পর্যন্ত মাথার চুল, হাতের ও পায়ের নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। যেমন পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ اُمّ سَلَمَةَ عَلَيْهَا اسَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ رَاىَ هِلَالَ ذِى الْـحِجَّةِ وَاَرَادَ اَنْ يُّضَحّىَ فَلَا يَأْخُذْ مِنْ شَعْرِهِ وَلَا مِنْ اَظْفَارِهِ. অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত উম্মে সালমা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখলো এবং কুরবানী করার নিয়ত করলো, সে যেনো (কুরবানী না করা পর্যন্ত) তার শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটে।” (মুসলিম শরীফ) মূলত ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই উক্ত আমল মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো নিম্নোক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা। যেমন বর্ণিত রয়েছে- عَنْ حَضْرَتْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو رَضِىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اُمِرْتُ بِيَوْمِ الْاُضْحِىَّ عِيْدًا جَعَلَهُ اللهُ لِـهٰذِهٖ الْاُمَّةِ قَالَ لَهُ رَجُلٌ يَا رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اَرَايْتَ اِنْ لَـمْ اَجِدْ اِلَّا َمَنِيْحَةَ اُنْثٰى اَفَاُضَحّى بِـهَا قَالَ لَا وَلٰكِنْ خُذْ مِنْ شَعْرِكَ وَاَظْفَارِكَ وَتَقُصْ شَارَبَكَ وَتَـحْلَقْ عَانَتَكَ فَذٰلِكَ تَـمَام اُضْحِيَّتَكَ عِنْدَ اللهِ. অর্থ : “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, আমি কুরবানীর দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ পাক উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ছাহাবী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মাদী মানীহা (উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু কুরবানীর জন্য না পাই, তাহলে উক্ত মাদী মানীহাকে কুরবানী করার ব্যাপারে আপনার কি মত? জবাবে হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, না। আপনি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবেন না বরং আপনি কুরবানীর দিন আপনার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবেন। আপনার গোঁফ খাট করবেন এবং আপনার নিম্নাংশের পশম কাটবেন, এটাই মহান আল্লাহ পাকের নিকট আপনার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা আপনি মহান আল্লাহ পাকের নিকট কুরবানীর পূর্ণ ছওয়াব পাবেন।” (আবূ দাঊদ শরীফ) উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ-এর ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানীর ছওয়াব পাবে। পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ ইরশাদ মুবারক হয়েছে- عَنْ اُمّ الْـمُؤْمِنِيْنَ حَضْرَتْ الصِدّيْقَةِ عَلَيْهَا السَّلَامُ قَالَتْ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى الله عَليْهِ وسَلَّمَ مَا عَمِلَ اِبْنُ اٰدَم مِنْ عَمَلٍ يَوْمَ النَّحْرِ اَحَبُّ اِلٰى اللهِ مِنْ اِهْرَاقِ الدَّمِ وَاِنَّهُ لَيَأْتِىْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِقُرُوْنِـهَا وَاَشْعَارِهَا وَاَظْلَافِهَا وَاِنَّ الدَّمَ لَيَقَعُ مِنَ اللهِ بِـمَكَانِ قَبْلَ اَنْ يَّقَعَ بِالْاَرْضِ فَطِيْبُوْا بِـهَا نَفْسًا. অর্থ : “উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম থেকে বর্ণিত। মহান আল্লাহ পাক উনার হাবীব, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ মুবারক করেন, বান্দা-বান্দী বা উম্মত কুরবানীর দিন যেসব নেকীর কাজ করে থাকে তন্মধ্যে মহান আল্লাহ পাকের নিকট সবচেয়ে পছন্দনীয় আমল হলো কুরবানী করা। ক্বিয়ামত দিবসে কুরবানীর পশু তার শিং, পশম ও খুরসহ উপস্থিত হবে এবং কুরবানীর পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার পূর্বেই তা মহান আল্লাহ পাকের নিকট পৌঁছে যায়। (সুবহানাল্লাহ!) কাজেই আপনারা আনন্দচিত্তে কুরবানী করুন।” (তিরমিযী শরীফ ও ইবনে মাজাহ শরীফ) পবিত্র হাদীছ শরীফ-এ অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে- افضل العبادات يوم العيد عراقة دم القربات অর্থ : “ঈদের দিন রক্ত প্রবাহিত করা সর্বশ্রেষ্ঠ আমল।” সুবহানাল্লাহ! সুতরাং দেখা যাচ্ছে যিলহজ্জ শরীফ মাসের ১০ দিনের ফযীলত অনেক বেশি, এর মধ্যে ১০ম দিনের ফযীলত আরো বেশি। তার মধ্যে ১০ দিন অর্থাৎ কুরবানীর দিন সর্বোত্তম আমল হচ্ছে কুরবানী করা।
১১১) দেওবন্দী মালানারাই পাপাত্মা গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিল, পাপাত্মা গান্ধীকে তুষ্ট করতে গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে কুফরী ফতোয়া জারি করেছিল।
দেওবন্দী মালানারাই পাপাত্মা গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছিল, পাপাত্মা গান্ধীকে তুষ্ট করতে গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে কুফরী ফতোয়া জারি করেছিল। শুধু তাই নয়, দেওবন্দীরা এটিও ঘোষণা দিয়েছিল যে, “হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরই পাপাত্মা গান্ধীর স্থান।” নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! উলামায়ে সূ’দের দ্বারা বিভ্রান্ত হওয়ার কারণেই কাফিরদের তুষ্ট করতে এভাবে নিজের দ্বীন, নিজের অস্তিত্বকে বিসর্জন দেয়ার আত্মঘাতী পথে হাঁটছে গোটা বিশ্বের মুসলমানরা। নাউযুবিল্লাহ! “বাঙালি (হিন্দু) পুরুষ ইংরেজ রাজত্বের আগে একমাত্র মুসলমান নবাবের কর্মচারী হইলে মুসলমানী পোশাক পরিতো, উহা অন্দরে লইয়া যাওয়া হইত না। বাহিরে বৈঠকখানার পাশে একটা ঘর থাকিতো, সেখানে চোগা-চাপকান-ইজার ছাড়িয়া পুরুষেরা ধুতি পরিয়া ভিতরের বাড়িতে প্রবেশ করিতো। তাহার প্রবেশদ্বারে গঙ্গাজল ও তুলসীপাতা থাকিত, মেøচ্ছ পোশাক পরিবার অশুচিতা হইতে শুদ্ধ হইবার জন্য পুরুষেরা গায়ে গঙ্গাজল ছিটাইয়া মাথায় একটা দুইটা তুলসীপাতা দিতো।” (সূত্র: আত্মঘাতী বাঙালি, নীরদ সি চৌধুরী, মিত্র এন্ড ঘোষ পাবলিশার্স, পৃষ্ঠা ৫০) কাফির-মুশরিকরা তাদের অস্তিত্ব ও স্বকীয়তার ব্যাপারে সবসময়েই সচেতন, যে কারণে হিন্দুরা শত শত বছর মুসলিম শাসনের অধীনে থেকেও নিজেদের হিন্দুয়ানীকে অটুট রেখেছিল। মুসলমান শাসকের অধীনে চাকরি না করলে তো হিন্দুদেরকে মুসলমানী পোশাক পরার প্রশ্নই উঠতো না। অবশ্য যদি মুসলমানী পোশাক পরতেই হতো, সেক্ষেত্রে বাড়িতে এসেই তা ঘৃণাভরে পরিত্যাগ করে গায়ে তুলসী-গোবরপানি ছিটিয়ে ‘শুদ্ধ’ হতো চরম মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দুরা। শুধু ভারতবর্ষের হিন্দুরা নয়, বরং বিশ্বের আরো অনেক স্থান রয়েছে, যেখানে শত শত বছর ধরে মুসলিম শাসন জারি থাকার পরও সেখানকার বিধর্মীরা মুসলমানদের সাথে একাকার হয়ে তাদের ধর্মীয় রীতিনীতিকে বিসর্জন দেয়নি। স্পেনের খ্রিস্টানরা ৮০০ বছর মুসলিম শাসনের অধীনে থেকেও তাদের খ্রিস্টত্বকে বিসর্জন দেয়নি, যার ফলে তারা শেষপর্যন্ত স্পেন থেকে মুসলিম শাসনের অবসান ঘটায়। বিপরীতে মুসলমানদের ক্ষেত্রে আমরা কি দেখি? এই ভারতবর্ষ ব্রিটিশদের অধীনে ছিল মাত্র দুশো বছর, তার উপর সিপাহী বিদ্রোহের আগে অর্থাৎ এই দুশো বছরের প্রথম একশ বছরে ব্রিটিশরা এ অঞ্চলে তাদের ক্ষমতা সুসংহত করতে পারেনি। ভারতবর্ষে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর শাসন রদ হয়ে ইংল্যান্ডের রাণী কর্তৃক কেন্দ্রীয় শাসন জারি হয়েছিল ১৮৫৭ সালে এবং এর দ্বারাই মূলত এ অঞ্চলে সত্যিকার অর্থে ব্রিটিশ শাসন শুরু হয়েছিল। সে হিসেবে ব্রিটিশ শাসন প্রকৃত অর্থে জারি ছিল মাত্র ৯০ বছর। অর্থাৎ যেখানে আটশ বছরের মুসলিম শাসনের পরও স্পেনের খ্রিস্টানরা তাদের খ্রিস্টত্ব ধরে রেখেছিল, ভারতবর্ষের হিন্দুরা তাদের হিন্দুয়ানী আচার ধরে রেখেছিল; সেখানে এই ৯০ বছরের ব্রিটিশ শাসনের ধাক্কাতেই এই অঞ্চলের মুসলমানরা এখন আধাহিন্দু-আধাখ্রিস্টান মার্কা একটি জাতিতে পরিণত হয়েছে। নাউযুবিল্লাহ! কারণ বিধর্মীদের সন্তুষ্ট করতে মুসলমানদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বকে সম্পূর্ণ বিলীন করে দিয়ে বিধর্মীদের সাথে মিশে একাকার হয়ে যাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে ধর্মব্যবসায়ীরা, উলামায়ে সূ’রা। তার একটি বাস্তব উদাহরণ হলো ব্রিটিশআমলে খিলাফত আন্দোলনের সময়ে গোঁড়া হিন্দু পাপাত্মা গান্ধীকে তুষ্ট করতে দেওবন্দীদেরও হিন্দুতে পরিণত হওয়ার বিষয়টি। দেওবন্দীরা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে সেই পাপাত্মা গান্ধীকে তুষ্ট করতে গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে ফতওয়া জারি করেছিল, যা দেশবিভাগের পর থেকে শুরু করে তারা আজো প্রতিবছর দিয়ে যাচ্ছে। নাউযুবিল্লাহ! প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর খিলাফত আন্দোলনের সময়ে আলী ভ্রাতৃদ্বয় তথা মুহম্মদ আলী ও শওকত আলী তারাসহ দেওবন্দ মাদরাসা সংশ্লিষ্টরা গান্ধীকে নিজেদের দলে নিয়ে হিন্দুদের দ্বারা উপকৃত হওয়ার অলীক কল্পনায় বিভোর হয়েছিল। এ নিয়ে ভারতীয় ঐতিহাসিক গোলাম আহমদ মোর্তজার ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ গ্রন্থের ৪২৯ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে- “মুহম্মদ আলী বড় আলেমদের (দেওবন্দীদের) নিয়ে গোপনে পরামর্শ করলো এবং জানালো, ভারতে হিন্দুজাতি বিরাট একটি শক্তি, তাদেরকে বাদ দিয়ে স্বাধীনতা আনা যায় না। যদিও তারা দূরে আছে তবুও তাদের কাজে লাগাতে এমন একজন নেতাকে সামনে রেখে জয়ঢাক বাজাতে হবে, যার ফলে হিন্দুজাতি তার আহবানে দলে দলে আসতে পারে।… শেষে গান্ধীকেই বাছাই করা হয়। তাকে ‘মহাত্মা’ উপাধির পোশাক পরানো হয় এবং সারা ভারতে তার নাম প্রচার করে তার অধীনস্থের মতো মুসলিম নেতারা সভা সমিতি করে বেড়াতে থাকে।” অর্থাৎ দেওবন্দীরাই গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। শুধু তাই নয়, গান্ধীকে সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে এই মুসলমান নামধারী নেতা এবং দেওবন্দী ওলামায়ে সূ’রাই দায়ী ছিল। তারা শুধু এই পাপাত্মা গান্ধীর প্রশংসাতেই মাতেনি, তার সাথে সাথে নিজেরাও আপাদমস্তক হিন্দু হওয়া শুরু করলো গান্ধীর মন যোগাতে। এ প্রসঙ্গে পুলিৎজার প্রাইজ বিজয়ী সাংবাদিক joseph lelyveld -এর লেখা great soul: mahatma gandhi and his struggle with India বইয়ের ১৬১ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়েছে- ÒAfter the Prophet, on whom be peace, I consider it my duty to carry out the command of gandhiji”, he declared. For a time Muhammad Ali gave up eating beef as a gesture to gandhi and all hindus. Then, campaigning side by side with gandhi across India, he took to wearing khadi.. not only wear khadi; he became an evangelist for the charka.Ó অর্থাৎ মুহম্মদ আলী সে পাপাত্মা গান্ধী ও তার অনুসারী হিন্দু সম্প্রদায়কে তুষ্ট করতে গরুর গোশত খাওয়া বন্ধ রেখেছিল। শুধু তাই নয়, হিন্দুদের অনুকরণে খদ্দরের পোশাক পরাও সে শুরু করলো। গান্ধীর অনুকরণে চরকার পক্ষে সে নিবেদিত প্রচারকের ভূমিকা পালন করতে শুরু করলো। তবে তার সবচেয়ে জঘন্য ঘোষণাটি ছিল, “After the Prophet, on whom be peace, I consider it my duty to carry out the command of gandhiji” অর্থাৎ সে এবং তার দেওবন্দী অনুসারীরা হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পরেই পাপাত্মা গান্ধীর আদেশ-নির্দেশকে প্রাধান্য দিয়ে সেগুলো পালন করার ঘোষণা দিয়েছিল। নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক! এখন মুহম্মদ আলী ও তার অনুসারী দেওবন্দী মালানারা তো গান্ধীকে তুষ্ট করতে নিজের অস্তিত্বকে হিন্দুয়ানী আচারপ্রথায় একদম বিলীন করে দিলো, কিন্তু এর বদলে তারা পেল কেবলই প্রতারণা। তারা চেয়েছিল গান্ধীকে ব্যবহার করে লক্ষ্য হাছিল করতে। কিন্তু তারা ছিল চরম বোকা এবং মূর্খ। কারণ প্রকৃতপক্ষে গান্ধীই তাদের নির্বুদ্ধিতাকে পুঁজি করে, মুসলমানদের সমর্থনকে ব্যবহার করে সর্বভারতীয় নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেছিল। মুসলমানদের সমর্থনে অর্জিত পাপাত্মা গান্ধীর এই রাজনৈতিক অবস্থান মুসলমানদের জন্য বুমেরাং হয়ে দেখা দিলো, কারণ পাপাত্মা গান্ধী তার আসল রূপ জাহির করে পরিণত হলো এক উগ্র মুসলিমবিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী নেতাতে। এ প্রসঙ্গে গোলাম আহমদ মোর্তজা তাঁর ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ গ্রন্থের ৩৬৪ পৃষ্ঠায় উল্লেখ করেছেন- “গান্ধী দেখলো, মুসলমানরা তো আমাকে হিন্দু বলেই জানেন কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দুরা যদি আমাকে অহিন্দু মনে করে তাহলে তাদের নেতা হয়ে প্রশংসা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাই ১৯২১-২২ সালে যখন পাপাত্মা গান্ধী খিলাফত আন্দোলনের পুরোভাগে ভারতের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত, তখন সে ভোল পাল্টে গোঁড়া হিন্দুদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ঘোষণা দিলোÑ “আমি নিজেকে প্রাচীনপন্থী সনাতন হিন্দু বলি যেহেতু (ক) আমি বেদ, উপনিষদ, পুরাণ অর্থাৎ হিন্দু শাস্ত্র বলে যাহা কিছু বোঝায় অর্থাৎ অবতার বাদ ও পুনর্জন্মে বিশ্বাস করি, (খ) বেদের বিধানসম্মত বর্ণাশ্রম ধর্ম আমি বিশ্বাস করি, (গ) প্রচলিত অর্থে নয়, বরং বৃহত্তর অর্থে আমি গো-রক্ষানীতি সমর্থন করি, (ঘ) মূর্তি পূজায় আমার অবিশ্বাস নেই।” গান্ধীর এই বক্তব্যের দ্বারা মুসলমানদের নিকট এটি স্পষ্ট হলো যে, গান্ধী তাদেরকে মই হিসেবে ব্যবহার করে উপরে উঠে মুসলমানদেরই মই কেড়ে নিয়েছে। এভাবেই মুসলমানরা সারাজীবন প্রতারিত হয়েছে শত্রু না চেনার কারণে। নাউযুবিল্লাহ! মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন- لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا অর্থ: নিশ্চয়ই মুসলমানগণ উনাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হিসেবে পাবেন প্রথমত, ইহুদিদেরকে অতঃপর মুশরিকদেরকে। (পবিত্র সূরা মায়িদা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮২) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে স্পষ্টভাবে মুশরিক তথা হিন্দুদেরকে বড় শত্রু হিসেবে নির্দেশ করার পরও দেওবন্দী উলামায়ে সূ’রা হিন্দুদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ পড়ে তারা কিছুই শিখতে পারেনি। উলামায়ে সূ’রা হিন্দুদের সাথে জোট বেঁধে নিজেরা তো প্রতারিত হয়েছেই, সাথে সাথে গোটা ভারতবর্ষের মুসলমানদেরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দেওবন্দী উলামায়ে সূ’রা প্রতারিত হওয়ার পরও কিন্তু তাদের গান্ধীপ্রীতি ছাড়েনি, হিন্দুদের গোলামিতে তারা আজো ডুবে রয়েছে। ভারতের প্রথমসারির সংবাদ সংস্থা আইবিএনে দেয়া সাক্ষাৎকারে গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে ফতওয়া প্রদান করা নিয়ে দেওবন্দের একজন মুখপাত্র আশরাফ উসমানী বলেছে- बकौल अशरफ उस्मानी दारूल उलूम हमेशा से ही गौहत्या के खिलाफ रहा है और समय समय पर इसके बारे में फतवे भी जारी किए गए हैं। सबसे पहला फतवा स्वतंत्रता आंदोलन के दौरान महात्मा गांधी के अनुरोध पर दारूल उलूम द्वारा जारी किया गया था। অর্থ: দারুল উলুম দেওবন্দ সর্বদা গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে এবং প্রতিবছর গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে ফতওয়া দিয়ে আসছে। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে পাপাত্মা গান্ধীর নির্দেশ অনুযায়ী সর্বপ্রথম দেওবন্দ থেকে গরু কুরবানীর বিরুদ্ধে ফতওয়া জারি করা হয়েছিল। (ওয়েবসূত্র: http://khabar.ibnlive.in.com/news/109892/13) এসব উদাহরণ থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, লা’নতগ্রস্ত শয়তান যেভাবে হিদায়েত পাবে না, এই দেওবন্দী উলামায়ে সূ’রাও কখনোই শোধরাবে না। এদের কারণেই আজকে ভারতের মুসলমানরা লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত হচ্ছে। পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে এজন্যই এসব উলামায়ে সূ’দের জন্য জাহান্নামের জুব্বুল হুযন নামক উপত্যকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার থেকে খোদ জাহান্নামও প্রতিদিন চারশতবার পানাহ চায়। নাউযুবিল্লাহ!
১১২) প্রতি বছর গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে নিজেদের খাঁটি হিন্দু হিসেবে প্রমাণ করে দেওবন্দীরা
প্রতি বছর ভারতের দেওবন্দ মাদরাসা থেকে মুসলমান উনাদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। (নাউযুবিল্লাহ)। বার্তা সংস্থা আইএনবি’র ‘ঈদে মুসলমানরা গরু কুরবানী দিও না : দারুল উলুম দেওবন্দ’ এ শিরোনামে (সূত্র: http://khabar.ibnlive.in.com/news/109892/13) প্রকাশিত খবরে দেওবন্দ মাদরাসার মুখপাত্র মাওলানা আশরাফ উসমানি বলেছে, “দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা সবসময় গরু কুরবানী বিপক্ষে এবং সময় সময় তারা গরু কুরবানী বিরুদ্ধে ফতওয়াও প্রদান করে আসছে। সর্বপ্রথম স^াধীনতা আন্দোলনের সময় গান্ধীর অনুরোধে এই ফতওয়া প্রদান করা হয়েছিল।” (নাউযুবিল্লাহ মিন যালিক) দেওবন্দ মাদরাসার ভিসি মাওলানা আবুল কাসিম নোমানিও এক বক্তব্যে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করেছে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া: ১৬ অক্টোবর ২০১৩ ঈসায়ী) উল্লেখ্য, এর আগেও দেওবন্দী ধর্মব্যবসায়ী মাওলানারা বারবার গরু কুরবানী করতে নিষেধ করেছে হিন্দুদের দেবতা অজুহাতে, ভারতীয় মুশরিক সরকারের নিষেধাজ্ঞার অজুহাতে ও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগার দোহাই দিয়ে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের প্রশ্ন হলো- তাহলে কি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতি বা সম্মান নেই দেওবন্দী কওমী খারিজীদের কাছে? গরু কুরবানী করতে নিষেধ করায় তো মুসলমানরা কষ্ট পায় ধর্ম পালন করতে না পারায়। আসলে দেওবন্দীরা মুসলমানদেরকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে তারা তাদেরকে খাঁটি হিন্দু হিসেবে প্রমাণ করছে। নিষেধাজ্ঞা ফতওয়ার প্রমাণ: গত ২০১১ ঈসায়ী সালে দেওবন্দ মাদরাসার ভাইস চ্যান্সেলর মওলানা আবুল কাসিম নোমানি বলেছিল, “হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে এ শিক্ষাকেন্দ্র (দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা) ঈদুল আযহার দিন মুসলমানদের গরু কুরবানী পরিহার করার আহবান জানাচ্ছে”। (সূত্র: দ্যা হিন্দু ৬ নভেম্বর ২০১১ ঈসায়ী) ২০১০ ঈসায়ী সালে দেওবন্দ মাদরাসার ডেপুটি ভাইস চ্যান্সেলর মাওলানা আব্দুল খালিক হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে মুসলমানদের গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে। (সূত্র: জি নিউজ, ১৫ই নভেম্বর ২০১০ ঈসায়ী) ২০০৮ ঈসায়ী সালেও গরু কুরবানী করতে নিষেধ করে দেওবন্দীরা। তারা গরু কুরবানী করে হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে নিষেধ করে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া: ৫ই ডিসেম্বর ২০০৮ ঈসায়ী) এদিকে ২০০৭ ঈসায়ী সালেও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনা করে দেওবন্দ মাদরাসা থেকে গরু কুরবানী করতে নিষেধ করা হয়। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২১শে ডিসেম্বর ২০০৭ ঈসায়ী) ২০০৪ ঈসায়ী সালেও দেওবন্দ মাদরাসার ফতওয়া বিভাগের প্রধান মুফতে হাবীবুর রহমান বলে যে, “গরু কুরবানী নিষিদ্ধের রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে মুসলমানদের তা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।” দেওবন্দী ধর্মব্যবসায়ী মাওলানাদের সংগঠন ‘জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ’র প্রেসিডেন্ট মওলানা মাহমুদ মাদানী বলে যে, “মুসলমানদের অবশ্যই সে^চ্ছায় গরু হত্যা বন্ধ করা উচিত।” (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২রা ফেব্রুয়ারি ২০০৪ ঈসায়ী) উল্লেখ্য, ২০০৮ ঈসায়ী সালে এক ফতওয়ায় দেওবন্দ মাদরাসার ফতওয়া বিভাগের প্রধান মুফতে হাবীবুর রহমান বলে যে, “ইসলামে গরু গোশত জায়িয হলেও যেহেতু এই দেশে গরু কুরবানী নিষিদ্ধ, তাই এখানে গরু কুবরানী নাজায়িয হবে।” (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ২৭ এপ্রিল ২০০৮ ঈসায়ী)