প্রচ্ছদ

কুরবানী উনার পশুর শরয়ী ত্রুটি

কুরবানী উনার পশুর শরয়ী ত্রুটি

হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি পবিত্র কুরবানী উনার পশু সম্পর্কে বর্ণনা করেন-

اشار رسول الله صلى الله عليه وسلم بيده ويدي قصر من يده اربع لا يضحى بـهن العوراء البين عورها والـمريضة البين مرضها والعرجاء البين ظلعها والعجفاء التي لا تنقي فقالوا للبراء فانـما نكره النقص في السن والاذن والذنب قال فاكرهوا ما شئتم ولا تـحرموا على الناس
অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি হাত মুবারক দিয়েইশারা মুবারক করেন- আমার হাত মুবারক তো উনার হাত মুবারক থেকে ছোট এবং বলেন, ‘চার ধরণের পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়না- ১) যে পশুর চোখের দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২) যে পশু অতি রুগ্ন, ৩) যে পশু সম্পূর্ণ খোড়া এবং ৪) যে পশু এত জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই।’ হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা বললেন, আমরা তো দাঁত, কান ও লেজে ত্রুটিযুক্ত প্রাণী দ্বারাওকুরবানী করা অপছন্দ করি। তিনি বললেন, যা ইচ্ছা অপছন্দ করতে পারেন তবে তা অন্যের জন্য হারাম করবেন না।” (ইবনে হিব্বান শরীফ : ৫৯১৯, আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ)

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত-
امرنا رسول الله صلى الله عليه وسلم ان نستشرف العين والاذن وان لا نضحي بـمقابلة ولا مدابرة ولا شرقاء ولا خرقاء
অর্থ : “সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আমাদের আদেশ মুবারক করেন, আমরা যেন পবিত্র কুরবানী উনার পশুর চোখ ও কান ভালোভাবে লক্ষ করি এবং ওই পশু দ্বারা কুরবানী না করি, যার কানের অগ্রভাগ বা পশ্চাদভাগ কর্তিত। তদ্রুপ যে পশুর কান ফাড়া বা কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত।” (আবূ দাউদ শরীফ, নাসায়ী শরীফ, তিরমিযী শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ)

হযরত আলী কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে আরো বর্ণিত আছে-
نـهى رسول الله صلى الله عليه وسلم ان يضحى باعضب القرن والاذن
অর্থ : “নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ, সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিনি আমাদের শিংভাঙ্গা বা কান-কাটা পশু দ্বারা পবিত্র কুরবানী করতে নিষেধ করেছেন।”(ইবনে মাজাহ শরীফ)

পবিত্র হাদীস শরীফ উনার মাঝে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে,
وعن حضرت البراء بن عازب رضى الله عنه ان رسول الله صالى الله عليه وسلم سئل ماذا يتقى من الضحايا فاشار بيده فقال اربعا العرجاء البين ظاعها والوراء البين عورها والمريضة البين ورضها والعجفاء التى لاتنقى
অর্থ:- “হযরত বারা ইবনে আযিব রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করা হলো, ‘পবিত্র কুরবানীর জন্য কোনো রকমের পশু হতে বেঁচে থাকা উচিত?’ নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি আপন হাত মুবারক দ্বারা ইশারা করে বললেন, ‘চার রকমের পশু হতে। যেমন- ১. খোড়া- যার খোঁড়ামি সুস্পষ্ট। ২. কানা- যার কানামি সুস্পষ্ট। ৩. রুগ্ন- যার রোগ সুস্পষ্ট। ৪. দুর্বল- যার হাড়ের মজ্জা নাই অর্থাৎ শুকিয়ে গেছে।” (তিরযিমী শরীফ, আবু দাউদ শরীফ, নাসাঈ শরীফ, ইবনে মাজাহ শরীফ, দারিমী শরীফ)

অর্থাৎ নিম্নোক্ত দোষ-ত্রুটিযুক্ত পশু কুরবানী করলে কুরবানী ছহীহ হবে না- ১. দৃষ্টিহীনতা সুস্পষ্ট, ২. অতি রুগ্ন, ৩. খোড়া, ৪. এমন জীর্ণ-শীর্ণ যে তার হাড়ে মগজ নেই, ৫. কানের অগ্রভাগ অথবা পশ্চাদভাগ কর্তিত, ৬. কান ফাঁড়া, ৭. কান গোলাকার ছিদ্রযুক্ত, ৮. শিং ভাঙ্গা, ৯. পঙ্গু, ১০. চক্ষুহীন।

Share on facebook
Share on twitter
Share on linkedin

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

ফেসবুকে আমরা

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



৬০) পবিত্র কুরবানী কাকে বলে?

اضحية বা পবিত্র কুরবানী শব্দটি একবচন। বহুবচনে اضاحىএর আভিধানিক অর্থ কুরবানী, উৎসর্গ, পবিত্র কুরবানী উনার পশু ঈদুল আদ্বহার দিন যা যবেহ করা হয়। শরীয়ত উনার

বিস্তারিত পড়ুন

৬১) কুরবানী উনার ইতিহাস

আল্লাহ পাক নূরে মুজাসসাম,হাবীবুল্লাহ,হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে বলেন,- ‘আপনি আপনার রব তায়ালা উনার উদ্দেশ্যে সালাত আদায় করুণ ও কুরবানী করুন।’ (সূরা কাওসার

বিস্তারিত পড়ুন

৬২) পবিত্র কুরআন শরীফ উনার আলোকে পবিত্র কুরবানী

‘কুরবানী’ শব্দের অর্থ হচ্ছে- মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে মহান আল্লাহ পাক উনার পবিত্র নাম মুবারকে নির্দিষ্ট তারিখে নির্দিষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট পশু

বিস্তারিত পড়ুন

৬৩) পবিত্র কুরআন শরীফ এবং পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দৃষ্টিতে পবিত্র কুরবানী

খলিক্ব মালিক রব মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন- انا اعطينك الكوثر فصل لربك وانحر অর্থ: “হে আমার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক

বিস্তারিত পড়ুন