প্রচ্ছদ

যিলহজ্ব মাস

যিলহজ্ব মাস উনার ১ম ১০ দিন



যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র কুরআন শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

وَالْفَجْرِ- وَلَيَالٍ عَشْرٍ- وَالشَّفْعِ وَالْوَتْرِ
অর্থঃ “শপথ ফজররে, শপথ দশ রাত্রির, শপথ তার, যা জোড় ও যা বিজোড়।” (সূরা ফজর শরীফ : আয়াত শরীফ ১-৩)

বিজোড় ৯ তারিখ- ইয়াওমুল আরাফ, জোড় ১০ তারিখ- ইয়াওমুল নহর ঈদরে রাত –এই বছরে দোয়া কবুলের ৫ রাত্ররি শষে রাত। এই রাত্রিতে বেশী বেশী দোয়া করতে হবে।

যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম ১০ দিনের ফযীলত সম্পর্কে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো বর্ণিত রয়েছে-

عَنِ حَضْرَتْ اِبْنِ عَبَّاسٍ رَضِىىَ اللهُ تَعَالٰى عَنْهُ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَا مِنْ اَيَّامٍ الْعَمَلُ الصَّالِحُ فِيهَا اَحَبُّ اِلَى اللهِ مِنْ هٰذِهِ الاَيَّامِ‏.‏ يَعْنِي الْعَشْرَ.‏ قَالُوا يَا رَسُوْلَ اللهِ وَلَا الْـجِهَادُ فِى سَبِيْلِ اللهِ قَالَ وَلَا الْـجِهَادُ فِى سَبِيْلِ اللهِ اِلَّا رَجُلٌ خَرَجَ بِنَفْسِه وَمَالِه فَلَمْ يَرْجِعْ مِنْ ذٰلِكَ بِشَىْءٍ
অর্থঃ “হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের প্রথম দশ দিনের ইবাদতের মতো এত প্রিয় কোন আমল মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট নেই। হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম উনারা সুওয়াল করলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদ করাও কি পবিত্র কুরবানী থেকে প্রিয় নয়? নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি প্রত্যুত্তরে ইরশাদ মুুবারক করেন, না, মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদও নয়। তবে ওই ব্যক্তির কথা আলাদা যিনি উনার জান ও মাল-সম্পদ নিয়ে মহান আল্লাহ পাক উনার রাস্তায় জিহাদে বের হয়েছেন, অতঃপর নিজের জান ও সম্পদের কিছুই ফিরে এলেন না, অর্থাৎ শহীদ হয়ে গেলেন।” (বুখারী শরীফ- কিতাবুল ঈদাইন : বাবু ফাদ্বলিল আ’মালি ফী আইয়্যামিত তাশরীক্ব; ইবনে মাজাহ শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম; আবূ দাঊদ শরীফ- কিতাবুছ ছিয়াম : বাবু ফী ছাওমিল আশরি)

চুল-নখ না কাটা



মূলত, ছহীহ ও গ্রহণযোগ্য মত হলো এই যে, যারা পবিত্র কুরবানী করবে এবং যারা কুরবানী করবে না, তাদের উভয়ের জন্যই ১লা যিলহজ্ব শরীফ হতে ১০ই যিলহজ্ব শরীফ চুল-নখ কাটা থেকে বিরত থাকার আমল পালন করা মুস্তাহাব ও ফযীলতের কারণ। আর এ ব্যাপারে দলীল হলো নিম্নে বর্ণিত পবিত্র হাদীছ শরীফখানা। বর্ণিত রয়েছে-

عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ أُمِرْتُ بِيَوْمِ الأَضْحَى عِيدًا جَعَلَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِهَذِهِ الأُمَّةِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ الرَّجُلُ أَرَأَيْتَ إِنْ لَمْ أَجِدْ إِلاَّ أُضْحِيَةً أُنْثَى أَفَأُضَحِّي بِهَا قَالَ ‏”‏ لاَ وَلَكِنْ تَأْخُذُ مِنْ شَعْرِكَ وَأَظْفَارِكَ وَتَقُصُّ شَارِبَكَ وَتَحْلِقُ عَانَتَكَ فَتِلْكَ تَمَامُ أُضْحِيَتِكَ عِنْدَ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ
অর্থঃ “হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত, মহান আল্লাহ্ পাক উনার রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমি পবিত্র কুরবানী উনার দিনকে ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারণ করার জন্য আদিষ্ট হয়েছি। মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত দিনটিকে এই উম্মতের জন্য ঈদ হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। এক ব্যক্তি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রসূলাল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি যদি একটি মানীহায়ে উনছা (দুধ পানের জন্যে প্রদানকৃত উটনী) ব্যতীত অন্য কোন পশু পবিত্র কুরবানী উনার জন্য না পাই, তাহলে উক্ত মাদী মানীহাকে কুরবানী করার ব্যাপারে আপনার কি মত?
জবাবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি বললেন, না। আপনি উক্ত পশুটিকে কুরবানী করবেন না বরং আপনি পবিত্র কুরবানী উনার দিন আপনার (মাথার) চুল ও হাত-পায়ের নখ কাটবেন। আপনার গোঁফ খাট করবেন এবং আপনার নিম্নাংশের পশম কাটবেন, এটাই মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আপনার পূর্ণ কুরবানী অর্থাৎ এর দ্বারা আপনি মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট পবিত্র কুরবানী উনার পূর্ণ ছওয়াব পাবেন।” (আবূ দাঊদ শরীফ ২৭৮৯)

উক্ত পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার ব্যাখ্যায় উল্লেখ আছে যে, যারা পবিত্র কুরবানী করবে না, তাদের জন্যও পবিত্র যিলহজ্জ শরীফ মাসের চাঁদ দেখার পর থেকে পবিত্র কুরবানী করার পূর্ব পর্যন্ত নিজ শরীরের চুল, নখ ইত্যাদি না কাটা মুস্তাহাব। আর যে ব্যক্তি তা কাটা থেকে বিরত থাকবে, সে একটি কুরবানী উনার ছওয়াব পাবে। (নাসায়ী শরীফ, মিশকাত শরীফ, শরহে নববী, বযলুল মাযহূদ, মিরকাত, লুময়াত, আশয়াতুল লুময়াত, শরহুত ত্বীবী, তা’লীকুছ ছবীহ, মুযাহেরে হক্ব)

তাকবিরে তাশরিক



যিলহজ্ব মাস উনার ৯ তারিখ বাদ ফজর থেকে ১৩ তারিখ বাদ আছর পর্যন্ত (২৩ ওয়াক্ত), একবার পড়া ওয়াজিব, ৩ বার পড়া সুন্নত।

اَللهُ اَكْبَرْ اَللهُ اَكْبَرْ لَا اِلٰهَ اِلَّا اللهُ وَاللهُ اَكْبَرْ اَللهُ اَكْبَرْ وَللهِ الْـحَمْدُ
উচ্চারণঃ “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, ওয়া লিল্লাহিল হাম্দ।”