১২) পবিত্র কুরবানিতে সরকারি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন হলে বহুমাত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হবে

১২) পবিত্র কুরবানিতে সরকারি ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়ন হলে বহুমাত্রিক জটিলতা সৃষ্টি হবে

সরকারের একটি মহল সিদ্ধান্ত নিয়েছে কুরবানি যেন নির্দিষ্ট কয়েকটি স্থানে হয়। সেখানে কুরবানি করে মানুষ নাকি তাদের কুরবানির গোশত ঘরে নিয়ে আসবে। এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি সরকারের মধ্যে দেশপ্রেমিক ও সচেতন মহল জানেন কিনা জানি না; তবে এটা নিশ্চিত যে, এই বিষয়টি কেন্দ্র করে সরকারের ভরা ডুবি হতে পারে। সরকারের মধ্যে থাকা কিছু আগাছা কুরবানির সুব্যবস্থাপনার নামে রাজধানিবাসীর উপর যে আযাব চাপিয়ে দিচ্ছে তার ফল সরকারকেই ভোগ করতে হবে। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের চিন্তার খোরাক হিসেবে এখানে কতগুলো কারণ বর্ণনা করছি যেসব কারণে এই ব্যবস্থাপনার ফলে যে বিশৃঙ্খলা ও দ্বন্দ্ব-সংঘাত সৃষ্টি হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে এবং যার কারণে সরকার বিব্রত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে পারে।

১) আগে মহল্লায় মহল্লায়, এলাকায় এলাকায় কুরবানি হবার পরেও মাস্তানদের কারণে কুরবানিদাতাগণ কুরবানির চামড়া ইচ্ছা মাফিক দান করতে পারেন নাই। এই নতুন নিয়মের কারণে চামড়াতো দূরে থাক ঘরে গোশতসহ আসাই দায় হয়ে দাঁড়াবে।
৩) দশের লাঠি একের বোঝা। ৩০ লক্ষ কুরবানিদাতার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় কমপক্ষে ৯০ লক্ষ কসাই ব্যবস্থা হয়ে যায় কিন্তু সবার দায়িত্ব সরকার একা নিলে সরকারকেই এই ৯০ লক্ষ কসাইর ব্যবস্থা করতে হবে।
৪) কুরবানির গোশতের উপর রয়েছে গরিবের হক। এই ব্যবস্থাপনায় সকল ফকীর-মিসকিন উনাদের গোশত পেতে যথেষ্ট সমস্যা হবে এবং সকলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জমায়েত হলে অবস্থা হবে ভয়াবহ।
৫) কুরবানির দিন ঢাকা শহর অনেকটা খালি হয়ে যাবার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকে দুর্বল। কুরবানি করে গোশতসহ ভ্যান গাড়ি যোগাড় করা ও ঘরে ফেরা নিয়ে সাধারণ মানুষকে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে।
৬) যারা নিজের বাড়ির অঙ্গিনায়, এপার্টমেন্টে কুরবানি করতে চাইবেন, তাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনি বাঁধা দিতে আসলে বিরূপ অবস্থার সৃস্টি হতে পারে। যেহেতু ধর্মীয় বিষয় এবং হাতে হাতে থাকবে কুরবানি যবেহ করার ধারালো অস্ত্রপাতি যে কেউ যেকোনো মুহূর্তে তা চালিয়ে দিলে অবাক হবার কিছুই থাকবে না।
৭) মওদুদীবাদী শিবির এখন অনেকটা নিশ্চুপ থাকলেও এই ঘটনা ঘটে যাবার পরই পরই তারা প্রমাণ করতে সচেস্ট হবে যে বর্তমান সরকার ইসলামবিরোধী সরকার।
১০) কার পশু আগে এবং কিভাবে কুরবানি হবে এই বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিতিমালা না থাকলে এক চরম আপত্তিকর পরিস্থিতি হবে যা কেবল সরকারের সমালোচনাকেই বৃদ্ধি করবে।
১১) এমন অনেকেই আছেন যারা চার পাঁচ বা ততোধিক কুরবানি করে থাকেন এই ব্যবস্থায় কুরবানি করতে যেয়ে সমস্যা সৃষ্টি হলে উনাদের মনে যথেষ্ট ক্ষোভের সঞ্চার হবে যা খুব শোভনিয় হবে না।

সুতরাং বিষয়টি নিয়ে সরকারকে এখনি ভাবতে হবে এবং এই হাস্যকর উদ্যোগ বন্ধ করতে হবে।

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো

মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক

বিস্তারিত পড়ুন

২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা

প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি)

বিস্তারিত পড়ুন

৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী

বিস্তারিত পড়ুন

৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি

এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন।

বিস্তারিত পড়ুন