২৩) পশুর হাট নিয়ে দুই মেয়রের কাছে পুলিশের চিঠি ষড়যন্ত্রমূলক

২৩) পশুর হাট নিয়ে দুই মেয়রের কাছে পুলিশের চিঠি ষড়যন্ত্রমূলক

কথিত জনদুর্ভোগের কথা বলে রাজধানির ব্যস্ত স্থানে পবিত্র কুরবানির পশুর হাট না বসানোর জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনারের পক্ষ থেকে গত ২৫ জুলাই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রদের চিঠি দিয়া হয়েছে। রাজধানির পাঁচটি বড় হাটকে নির্ধারিত স্থানের বদলে অন্যত্র স্থানান্তরের পরামর্শও দিয়েছে পুলিশ। ঢাকার পাঁচটি স্থানের পশুর হাট সরানোর যুক্তি হিসেবে চিঠিতে বলা হয়েছে- রাজধানি জুড়ে যানজট, কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তা, মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত, মুমুর্ষরোগী ও চিকিৎসকেরা হাসপাতালে যেতে পারেনা ইত্যাদি। (খবর: প্রথম আলো, ২৯ জুলাই, ২০১৫)

এসব যুক্তি দেখে স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে এই চিঠি মুসলমানদের পবিত্র কুরবানিতে সমস্যা সৃষ্টি করার ষড়যন্ত্র ছাড়া কিছুই না। প্রতি বছরই পবিত্র কুরবানির সময় পশুর জবাই, হাট বসানো ইত্যাদি নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়ে আসছে। এবারও সেই ষড়যন্ত্র শুরুর আভাস পাওয়া যাচ্ছে। কেননা, চিঠিতে পশুর হাট সরানোর যেসব যুক্তি দেয়া হয়েছে, তার সবই অবান্তর যুক্তি। রাজধানিজুড়ে যানজট এটা নিত্য দিনের ঘটনা, সারা বছরই থাকে। রাজধানিতে এমন বহু সড়ক, ফুটপাথ, এলাকা আছে যা চলাচলের অযোগ্য, যেখানে সারাবছরই মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যহত হয়। বিশেষ করে রাজধানিজুড়ে যে ফ্লাইওভার নির্মানযজ্ঞ চলছে তাতে বছরের পর বছর মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে প্রায় সবজায়গায় মানুষের চলাচলে দুর্ভোগের খবর প্রতিদিনই পত্রিকান্তরে দেখা যায়।

এরপরে বারিধারা জে ব্লকে হাট স্থানান্তরে যুক্তি হিসেবে কূটনৈতিক এলাকার নিরাপত্তার কথা বলা হচ্ছে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী পুলিশের পক্ষ থেকে এমন যুক্তি পুলিশের জন্য লজ্জাজনক। কেননা, এতে ছোট্ট একটি এলাকার নিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের দুর্বলতা ও অসহায়ত্ব প্রকাশ পেয়েছে। এরপর বলা হচ্ছে, মুমুর্ষরোগী ও চিকিৎসকদের চলাফেরার কথা- এটাও একটা অবান্তর যুক্তি। যানজটে প্রতিদিনই বহু রোগী-চিকিৎসকদের হাসপাতালে যাতায়াতে ভোগান্তি হচ্ছে। কিন্তু বছর জুড়ে রোগীদের এসব ভোগান্তির জন্য পুলিশের কোন মমত্ববোধ দেখা যায়না। সুতরাং পবিত্র কুরবানি নিয়ে হিন্দুদের এসব ষড়যন্ত্র কখনোই বরদাশত করবেনা এদেশের ৯৮ ভাগ মুসলমান। বরং এসব দুষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সরকার জনগণের রোষাণলে পড়তে হবে।

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো

মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক

বিস্তারিত পড়ুন

২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা

প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি)

বিস্তারিত পড়ুন

৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী

বিস্তারিত পড়ুন

৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি

এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন।

বিস্তারিত পড়ুন