৩০) সরকারের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার উদ্যোগ কি আদৌ বাস্তব কোন বিষয়?

৩০) সরকারের নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানী করার উদ্যোগ কি আদৌ বাস্তব কোন বিষয়?

গত বছরের মত এ বছরও সরকার প্রচারণা চালাচ্ছে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার। ইতিমধ্যে সরকার সারা দেশে ৬২৩৩টি স্পট নির্ধারণ করে বলছে সেখানে পশু কোরবানী করার। শুধু তাই নয় প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে বলা হয়েছে- কে পশু কোরবানী করবে, কোন কোন কসাই মাংশ প্রসেসিং করবে এমনকি কোথায় মাংশ বণ্টন হবে সেটাও সরকার নির্ধারণ করে দিবে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার এই যে মহাযজ্ঞ করছে, আদৌ কি নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী সম্ভব ?? আমাদের পুরো দেশের দিকে তাকিয়ে লাভ নেই, আসুন রাজধানী ঢাকা নিয়ে একটু চিন্তা করি।

ক) ঢাকা শহরে দুই সিটি কর্পোরেশন স্পট নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫০টি। সারা বাংলাদেশে যদি আনুমানিক ১ কোটি পশু কোরবানী হয়, তবে ঢাকায় কোরবানী হয় প্রায় ৩০ লক্ষ পশু। অর্থাৎ গড়ে প্রতি স্পটে কোরবানী করতে হবে ২৬০৮টি পশু।

খ) একই সাথে যদি ১০০টি করে গরু ফেলানো হয়, তবে ২৬০৮টি গরু ফেলাতে ২৬টি টার্ম দরকার হবে । ৩ দিন যদি হয়, তবে প্রতিদিন ৯টি করে টার্ম আসবে অর্থাৎ প্রতি মাঠে প্রতিদিন ৯০০ গরু জবাই করতে হবে। প্রত্যেকটি কসাই টিমকে দৈনিক ৯টি করে গরু জবাই করতে হবে।

গ) এক সাথে ১০০টি গরু জবাই করা যায়, এমন বিশাল মাঠের প্রয়োজন। এরকম ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠের প্রয়োজন। তবেই এই মহাযজ্ঞ বাস্তবায়ন করা সম্ভব। কিন্তু ঢাকা শহরে ১১৫০টি মাঠ কোথায় ??

ঘ) প্রতি মাঠে ১০০টি কসাই টিম (কমপক্ষে ৪ সদস্য) লাগবে। পুরো ঢাকা শহরে লাগবে ১১৫০গুন১০০গুন ৪ = ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই। এরা টানা তিন দিন কাজ করবে। অবশ্য সরকার সারা দেশের জন্য মাত্র ১২ হাজার ৬৩৮ জন কসাই নির্ধারণ করেছে। (লিঙ্ক নিচে)

ঙ) প্রত্যেক টিম ১টি গরু জবাই ও প্রসেসিং করার জন্য সময় পাবে মাত্র ১ ঘণ্টা করে। ৯ ঘণ্টায় (সকাল ৯- সন্ধা ৬টা) ৯টি করে পশু জবাই করতে হবে। যদিও বাস্তবে প্রত্যেক গরু প্রসেসিং এ সময় লাগে কমপক্ষে ৩ ঘণ্টা। তারমানে দেখা যাচ্ছে পুরোপুরি কাজ ১১৫০টি স্পটে, ৪ লক্ষ ৬০ হাজার কসাই একযোগে তিন দিন কাজ করলেও মাত্র তিন ভাগের এক ভাগ (১০ লক্ষ পশু) করতে পারবে, বাকি (২০ লক্ষ) পশু ঐ তিন দিন জবাই করা সম্ভব নয়।

তবে হ্যা, সরকার একটি কাজ করলেই কেবল এই নির্দ্দিষ্ট স্থানে কোরবানী করার উদ্যোগ সফল করতে পারে, তা হলো আলাউদ্দিনের চেরাগের সাহায্য নিলে। যদি আলাউদ্দিদের দৈত্য কোন উপায় বাতলে দেয়, তবেই সরকারের এ উদ্যোগ সম্ভব বাস্তবে প্রয়োগ করা সম্ভব, এছাড়া বাংলাদেশের মত এত ঘনবসতিপূর্ণ দেশে নির্দ্দিষ্টস্থানে পশু জবাইয়ের মত বেকুবমার্কা সিদ্ধান্ত কখনই বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো

মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক

বিস্তারিত পড়ুন

২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা

প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি)

বিস্তারিত পড়ুন

৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী

বিস্তারিত পড়ুন

৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি

এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন।

বিস্তারিত পড়ুন