৩৫) মক্কা শরীফের আদলে কোরবানী বর্জ্য অপসারণ দাবি !

৩৫) মক্কা শরীফের আদলে কোরবানী বর্জ্য অপসারণ দাবি !

অতি ভক্তি চোরের লক্ষণ ! মক্কায় যে ইসলামী আইন আছে, সেই আইন চাই না, শুধু তাদের বর্জ্য অপসারণ নীতিটুকু চাই !!! বেপারটা কি ?? এত ভালো তো ভালো না। গত সোমবার পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক একটি সংগঠন এক গোলটেবিল বৈঠকে মক্কা নগরীর আদলে কোরবানীর বর্জ্য অপসারণ চেয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলো সংগঠনটির চেয়ারম্যান আবু নাসের খান, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এডভোকেট হাসান তারিক চৌধুরী, সহ-সম্পাদক আবুল হাসনাত, মো. সেলিম, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি রাজিয়া সামাদ প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা বলেছে- “যত্রতত্র পশু জবাই করা হচ্ছে। পশুর রক্ত ও আবর্জনায় রাস্তাঘাট সয়লাব। ড্রেনে পানির প্রবাহ আটকে যাচ্ছে, উপচে পড়া নোংরা পানি চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রামাঞ্চলে কোরবানির বর্জ্য খোলা স্থান, ঝোপঝাড়ের পাশে, খালে-বিলে বা নদীতে ফেলা হয়। সব মিলিয়ে পরিবেশের মারাত্মক দূষণ ঘটে। রোগ বিস্তারও ঘটতে থাকে। কোরবানি ঈদের বেশ কয়েকদিন পর পর্যন্ত দূর্গন্ধে নগর-জনপদের বাতাস ভারী থাকে। আমাদের দেশে কোরবানির ঈদের পরে রোগবালাইয়ের হার কতটা বেড়ে যায় তার উপর কোন গবেষণা করা হয়নি।” (খবরের সূত্র-http://goo.gl/LsglJb) দেখেছেন কোরবানী এলেই এদের পরিবেশ দূষণের কথা মনে পড়ে। অথচ কোরবানীর অবশিষ্টর মধ্যে এমন কিছু থাকে না যেটা দিয়ে পরিবেশ দূষণ হতে পারে। কারণ-
১) গোশত- সবটুকু খাওয়া হয়।
২) চামড়া- চামড়া শিল্পে চলে যায়
৩) রক্ত – মাটি ও পানির জন্য অসম্ভব উপকার। পানিতে পড়লে মাছের খাদ্য, আর মাটিতে পড়লে জমির উর্বরতা বৃদ্ধি করে।
৪) গোবর (ভূরিসহ) – বিভিন্ন পুকুরে মাছে খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাটিতে সার হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
৫) হাড়- অবশিষ্ট অংশ দিয়ে অনেক কিছু তৈরী হয়। হাড়ের গুড়ো মাটির জন্য অনেক উপকারি। হাড়গুলো দিয়ে ঔষধ, হাস-মুরগীর খাদ্য তৈরী হয়।

তাহলে বাকি আর থাকলো কি যেটা দিয়ে পরিবেশদূষণ হচ্ছে ?? পুরেটাই তো জৈবিক বর্জ্য, এখানে পরিবেশ দূষণের কোন কারণই থাকতে পারে না। অথচ দুর্গা পূজায় মূর্তি তৈরীতে যে সব রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার হয় তা নদীগুলোকে মারাত্মক দূষিত করে। যেনে রাখুন- এররকম প্রায় ২৮ হাজার মূর্তি নদীতে ফেলানো হয় প্রতি বছর। তখন কিন্তু উনারা চূপ করে থাকেন, কোন কথা বলেন না।। (পড়তে পারেন- মূর্তি বিসজর্নে ভয়াবহ নদী দূষণ-http://goo.gl/zjn8MM, http://goo.gl/YM3ui8)

আসল কথা হচ্ছে, এদের কোরবানি আসলেই চুলকানি শুরু হয়, কোরবানি আসলেই ঘেন্না হয়। অথচ পাঠাবলি সময়, মূর্তি বিসর্জনের সময় ঘেন্না হয় না। শুধু সমস্যা কোরবানি নিয়ে।

উল্লেখ্য এর আগেও সংগঠনটি ‘পশুর হাট হলে পরিবেশ দূষণ হয়’ (http://goo.gl/g3h9al) এবং ‘কোরবানীর গরুতে বিষ আছে’ এমন উদ্ভট যুক্তি ছড়িয়েছিলো (http://goo.gl/q394oh)। এটা স্পষ্ট- পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটি হচ্ছে প্রকৃতপক্ষে কোরবানি বিরোধী একটি সংগঠন। এদের কাজ হচ্ছে পরিবেশ দূষনের ধোয়া তুলে বাংলাদেশে কোরবানির পথ বন্ধ করা। বলাবাহুল্য পরিবেশের নাম দিয়ে সংগঠন খুললেও রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কিংবা রুপপুর পরমানূ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এদের কোন আন্দোলন করতে দেখা যায়নি।। (তাদের ওয়েবসাইট দেখতে পারেন- http://www.pobabd.org/) আসলে পরিবেশ বাচাও আন্দোলন (পবা) নামক সংগঠনটিহচ্ছে- ভারতীয় গো রক্ষা কমিটির বাংলাদেশী ভার্সন, যাদের চালানো হয় ভারতের সোনাগাছি থেকে। তাই আজই এদের লাথি মেরে ভারতে পাঠিয়ে দেওয়া হোক।

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো

মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক

বিস্তারিত পড়ুন

২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা

প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি)

বিস্তারিত পড়ুন

৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী

বিস্তারিত পড়ুন

৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি

এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন।

বিস্তারিত পড়ুন