৩৮) কুরবানীতে পশু জবাই ও স্পট নির্ধারণ নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

৩৮) কুরবানীতে পশু জবাই ও স্পট নির্ধারণ নিয়ে কিছু ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ

আসুন একটু হিসেব কষি- ধরুন, ঢাকা শহরে কমপক্ষে জবাই হবে ৩০ লক্ষ পশু। পশুর জন্য নির্ধারিত স্পট সংখ্যা ৫০০টি। হিসেব করলে দাড়ায়, প্রতি স্পটে পশু জবাই হবে গড়ে ৬০০০টি। এবার আসুন, মাঠের আয়তনের দিকে। ধরুন আপনার এলাকায় একটি বড় মাঠ আছে, যেখানে এক সাথে দুটি বড় ফুটবল ম্যাচ হতে পারে। (এত বড় মাঠ ঢাকায় কয়টি আছে ?) সেখানে গরু ফেলানো হলো। বলতে পারেন একসাথে কতটি গরু ফেলানো যাবে ? ধরলাম একসাথে এত বড় মাঠে ২০০টি গরু ফেলানো যাবে। আবার পুরো মাঠে ২০০টি কসাই টিমও সদা প্রস্তুত থাকবে। এরপর শুরু হলো কার্যক্রম। ৬০০০টি গরুকে কোরবানী দিতে মোট ৩০টি টার্ম প্রয়োজন। অর্থাৎ একটি কসাই টিমকে (৪ সদস্য বিশিষ্ট) পরপর ৩০টি গরু জবাই করতে হবে। সময় আছে সকাল ৯টা থেকে সন্ধা ৬টা পর্যন্ত, মানে ৯ ঘণ্টা। হিসেব কষলে দেখা যাচ্ছে প্রতি গরুর জন্য কসাই টিম পাবে গড়ে ১৮ মিনিট করে। কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে একটি চৌকশ টিমের জন্য ১টি সম্পূর্ণ গরু প্রসেসিং এর জন্য নূণ্যতম ৩ ঘণ্টা করে লাগবে। অর্থাৎ দিনে একটি চৌকশ টিম ৩টির বেশি গরু ফিনিশিং দিতে পারবে না। তাহলে দেখা যাচ্ছে, সরকার যদি ২০০ x ৫০০ = ১ লক্ষ কসাই টিম (৪ সদস্য বিশিষ্ট) রেডি করে, তবে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ গরু কোরবানী করা সম্ভব।

ঈদ তিন দিন হলে তবে কোরবানী করা সম্ভব ৯ লক্ষ গরু। বাকি ২১ লক্ষ কোরবানী ৩ দিনে সরকার করতে পারবে না। তিন দিনে মাত্র ৯ লক্ষ কোরবানী করতে সরকারের যা যা দরকার হবে-
১) ৫০০টি বিশাল আকারের মাঠ, যেখানে একসাথে ২০০টি গরু প্রসেসিং করা সম্ভব।
২) ১ লক্ষ কসাই টিম, মোট সদস্য হবে কমপক্ষে ৪ লক্ষ
৩) জবাইয়ের জন্য হুজুর প্রয়োজন হবে কমপক্ষে ২০ হাজার
৪) জনগণকে অসীম ধৈর্যশীল হতে হবে। তাদের সিরিয়াল ধরার মনমানসিকতা থাকতে হবে। দেখা যাবে সকাল বেলা গরু দিয়ে আসা হয়েছে সন্ধা বেলা জবাই হবে। কিংবা বলা হবে আগামী পরশু দিন আপনার গরুর সিরিয়াল।
৫) জনগণকে খুব বিনয়ী হবে। এত গরুর ভিড়ে গরু চেঞ্চ হয়ে গেলেও মারামারি করা যাবে না। একজনের মাংশ অন্যজনের কাছে গেলে কিংবা মাংশ কম পেলেও মুখ বুজে সহ্য করতে হবে।
৬) গরুর মধ্যে শুধু নম্বর থাকবে, কিন্তু পাবলিক মাঠে ঢুকতে দেওয়া যাবে না। কারণ এত (গরু প্রতি ৫ জন) পাবলিক থাকলে মানুষের ভীড়ে গরু প্রসেসিং সম্ভব নয়।
৭) পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সরকারের কমপক্ষে ১ লক্ষ (শুধু ঢাকা শহরের জন্য) পুলিশ সদস্যের প্রয়োজন হবে, তবে সেনাবাহিনী নিয়োগ দিলে আরো ভালো হয়। কারণ এত বড় একটি প্রক্রিয়া চালানোর সময় যদি মারামারি হয় তবে বড় ধরনের ম্যাসাকার হওয়া সম্ভবনা থাকবে। সেটা নিয়ন্ত্রণ করা পুলিশ-সেনাবাহিনী ছাড়া কারো পক্ষে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
৮) পুরো সিস্টেম নিয়ন্ত্রণের জন্য কয়েক হাজার কোটির টাকার বাজেট প্রয়োজন হবে। সামান্য একটি মাঠের মধ্যে লাখো কণ্ঠে জাতীয় সংগীত গাওয়ার সময় (যে মাঠ ছিলো আর্মিদের নিয়ন্ত্রণে) সরকারি বাহিনী নিয়ম শৃঙ্খলা মেইনটেইন করতে পারেনি। সামান্য ৫ মিনিটের গানের জন্য যদি সামান্য নিয়ম মেইনটেইন করা না যায়, তবে গরু প্রসেসিং এর মত এত জটিল একটি প্রক্রিয়া সরকার কিভাবে মেইনটেইন করবে, সেটা নিয়েও চিন্তা করতে হবে।
৯) বাংলাদেশের বেশিরভাগ গরু ৭ ভাগে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে মাংশ পাওয়ার পর ফের ভুল বুঝাবুঝি সৃষ্টি হতে পারে। তাই সেটাও নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকারের বিশেষ ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১০) এত কাজের ভীড়ে চামড়ার দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে নেওয়া সম্ভব নয়। তাই চামড়ার দায়িত্ব আগে থেকেই ছাত্রলীগকে বুঝিয়ে দিতে হবে।
১১) যেহেতু অনেক লোক একসাথে মাংশ বাসায় নিয়ে যাবে, তাই যানবাহনের তীব্র সংকট হবে। এক্ষেত্রে সরকারকে মাঠ প্রতি ২০০টি ভ্যান, অর্থাৎ ৫০০ স্পটের জন্য ১ লক্ষ ভ্যানগাড়ি ও চালকের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
১২) জনগণকে খুব সহনশীল হতে হবে। সরকার কসাই বাবদ যে ফিক্সড মূল্য ঠিক করে দিয়েছে সেটার কমবেশি করতে পারবে না। তবে সিরিয়াল আগে আনার জন্য সামান্য ঘুষের (অর্থমন্ত্রীর ভাষায় স্পিড মানি) ব্যবস্থা রাখতে পারে।
১৩) এতকিছুর আয়োজন শুধু সিটি কর্পোরেশন কর্মীদের কাজ সহজ করে দেওয়ার জন্য। আর সর্বসাকূল্যে তাদের সংখ্যা মাত্র ১০ হাজার (বেশিরভাগ অস্থায়ী, শুধু সকালে ঝাড়ু দেয়)। যাই হোক, সরকার মহোদয় যেহেতু ইচ্ছা পোষণ করেছে, তাই কিছু্ই করার নেই।

তবে আমার মনে হয়, অবশ্যই সেটা সম্ভব, তবে সেটা মানুষের পক্ষে নয়, আলাউদ্দিনের চেরাগের দৈত্যের পক্ষেই সম্ভব। সিটি কর্পোরেশন দৈত্যের সাথে যোগাযোগ করতে পারে, দেখা যাক দৈত্য কি বলে ……. লেখার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যা ও তথ্যগুলো নিচের সূত্র থেকে নেওয়া:
১) পুরো বাংলাদেশে কোরবানী হয় ৮০-৯০ লক্ষ– www.newsbangladesh.com/ঈদে-প্রয়োজন-৮০-৯০-লাখ-পশু-আছে-…/12197
২) http://www.manobkantha.com/2015/08/28/61201.php
৩) স্পটে আলাদা কসাইয়ের লিস্ট—bn.mtnews24.com/…/কোরবানি-সম্পর্কে-যা-নিদের্শনা-দিলেন-প…
৪) ঢাকা কোরবানী হয় প্রায় ৩০ লক্ষ, সূত্র—-http://banglanews24.com/fullnews/bn/421178.html

সার্চ করুন

সর্বশেষ পোস্ট

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



১) সাবধান! গরুর গোশত খাওয়া নিয়ে ভীতি ছড়াচ্ছে ভারত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো

মুসলমানদের গরুর গোশত খাওয়ার প্রতি হিন্দুদের যারপরনাই বিদ্বেষ। গরু জবাই, গরুর গোশত রাখা ও খাওয়া এসবের প্রতি ভীতি ছড়ানো হিন্দুদের জাতিগত এজেন্ডা। এসব এজেন্ডা জোরপূর্বক

বিস্তারিত পড়ুন

২) পবিত্র কুরবানি নিয়ে কোন প্রকার ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবেনা

প্রতি বছর পবিত্র কুরবানির সময় শুরু হয় নানা ধরণের ষড়যন্ত্র। ইতিপূর্বে পবিত্র কুরবানির আগে গরুর মধ্যে ‘এ্যানথ্রাক্স’ ভাইরাসের নামে এক ধরণের ফোবিয়া (কুরবানির পশু ভীতি)

বিস্তারিত পড়ুন

৩) পবিত্র কুরবানি ‘ব্যবস্থাপনা’র নামে ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের চেষ্টা করলে দেশে গণবিস্ফোরণ ঘটতে পারে

বাংলাদেশে গরু জবাই নিয়ে বিশেষ করে পবিত্র কুরবানি ঈদের সময় ষড়যন্ত্র নতুন কোনো বিষয় না। ষড়যন্ত্র বিগত বছরগুলোতে পবিত্র কুরবানি নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করতে কুচক্রী

বিস্তারিত পড়ুন

৪) যে পবিত্র কুরবানির উসীলায় চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি

এক কুরবানির ঈদের বরকতে চাঙ্গা হয়ে উঠে গোটা দেশের অর্থনিতি। হবে না কেন? এর সাথে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার ব্যবসা আর হাজার হাজার টাকার লেনদেন।

বিস্তারিত পড়ুন