কোরবানি ঈদে ঠিক কতগুলো পশু কোরবানি হয় ??

কোরবানি ঈদে ঠিক কতগুলো পশু কোরবানি হয় ??

গত বছর বাংলাদেশের মন্ত্রী ও মেয়ররা এক মিটিং এ বলেছিলেন, তারা আসছে ঈদে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা রাখতে চান। এটা স্বাভাবিক- প্রথমেই প্রশ্ন আসতে পারে বাংলাদেশে ঠিক কতগুলো পশু ঈদের সময় কোরবানি হয় ? কারণ কতগুলো পশু কোরবানী হয় এটা না জানলে সেই পশুর কোরবানির ব্যবস্থা কিভাবে হবে ? সরকারী ঐ মিটিং দাবি করা হয় বাংলাদেশে ঈদের সময় ৩০-৪০ লক্ষ পশু কোরবানী হয়। (http://goo.gl/SyEX7O) এখন আমার প্রশ্ন- আসলেই কি ঈদের সময় ৩০-৪০ লক্ষ পশু কোরবানি হয় ?
আসুন একটু যাচাই করি।

১) প্রথমেই আসি বাংলাদেশ প্রাণী সম্পদ মন্ত্রনালয়ের হিসেবে। ২০১৫ সালে বিবিসির নিউজে এসেছে তাদের দাবি- বাংলাদেশের কোরবানি ঈদে নাকি মাত্র ২৫ লক্ষ পশু জবাই হয়। (http://goo.gl/fhwOyT)

২) এবার আসি ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসেবে। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবমতে, ২০১৪ সালে সারাদেশে প্রায় ৭০ লাখ গরু কোরবানি হয়েছে (http://goo.gl/xWQHc3)

৩) এবার আসি আড়ৎদারদের হিসেবে- তাদের দাবি- প্রতি কোরবানির ঈদে গড়ে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ পশুর চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ছাগল ১ কোটি, গরু ৫০ লাখ, ভেড়া ও মহিষ ১৫ লাখ। সব মিলে এসব চামড়ার আয়তন প্রায় ২২ কোটি বর্গফুট। (goo.gl/uZDBBw)
তারমানে কোন হিসেবের সাথে কোন হিসেব মিলছে না। সরকারি জরিপগুলোর তো কোন গুরুত্ব নেই, চামড়া ব্যবসায়ীদেরটা কিছুটা আমলে নেওয়া যায়। কিন্তু পুরোটা না। কারণ সব চামড়া বাংলাদেশী আড়তে আসে না, বেশিরভাগ বর্ডার ক্রস করে ভারতে চলে যায়। অনেক বাংলাদেশী লোকাল ব্যবসায়ী চামড়ায় লবন দিয়ে ১ মাস রাখে, পরে সুযোগ বুঝে দাম বাড়ার পর বিক্রি করে নয়ত ভারতে পাঠিয়ে দেয়। তাই চামড়া ব্যবসায়ীদের কাছে ৬০-৭০% পৌছায় কি না তার হিসেব নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

আরেকটি হিসেব আছে। চামড়া ব্যবসায়ীরা্ই বলেছে- প্রতি বছর যতগুলো পশু জবাই হয়, ঠিক সমপরিমাণ জবাই হয় ঈদের সময়। এখন কথা হচ্ছে, সারা বছর কতগুলো গরু জবাই হয় ? দৈনিক কতগুলো পশু জবাই হয় ? তাহলে ৩৬৫ দিনে কতগুলো জবাই হয় ?? চামড়া ব্যবসায়ীরা জানায়, প্রতিদিন ঢাকায় সাড়ে ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার পশু জবাই হয়। সারাদেশে জবাই হয় ৩০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার পশু। এই পশুদের চামড়ার অধিকাংশই ঢাকার লালবাগের পোস্তার বিভিন্ন আড়তে আসে। (http://goo.gl/5RkZ3A)

তারমানে বাংলাদেশে দৈনিক পশু জবাই হয় ৩০-৩৫ হাজার। তাহলে ৩৬৫ দিনে হয় জবাই হয় ১ কোটি ২৭ লক্ষে কাছাকাছি। সে হিসেবে ঈদের সময়ও জবাই হয় ১ কোটি ২৭ লক্ষে কাছাকাছি। উল্লেখ্য চামড়া ব্যবসায়ীদের হিসেবে এর অধিকাংশ বড় চামড়া বা গরুর চামড়া। তাই চামড়া ব্যবসায়ীদের যে হিসেব পাওয়া যায়, এবং ভারতে চামড়া পাচার সব মিলিয়ে দেখা যাবে বাংলাদেশে ঈদের সময় ১ কোটির নিচে গরু কোরবানী হয় না,বরং আরো বেশি হতে পারে। আর ছাগল-মহিষ মিলালে দেড় কোটি-পৌনে দুই কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে। তাই সরকারীভাবে যে নির্দ্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানী করার ব্যবস্থা হচ্ছে তা কতটুকু যুক্তিসঙ্গত তা ভাববার দরকার আছে। কারণ মন্ত্রী/আমলারা জানেই না বাংলাদেশে কতগুলো পশূ কোরবানী হয়, সেই পশু কোরবানী জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া তো অনেক দূরের কথা।

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার ও কাবীলের কুরবানী

পৃথিবীর প্রথম কুরবানী সংঘটিত হয় হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যমীনে অবস্থানকালীন সময় থেকেই। হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উম্মুল বাশার

বিস্তারিত পড়ুন

হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনিই যবীহুল্লাহ

‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “এ কথা সুনিশ্চিত যে, ‘পবিত্র সূরা ছফফাত শরীফ’ উনার ১০১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উদ্ধৃতغلام حليم অর্থাৎ ‘ধৈর্যশীল পুত্র’

বিস্তারিত পড়ুন