পবিত্র কুরবানীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

পবিত্র কুরবানীর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

পবিত্র কুরবানী উনার উদ্দেশ্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিল করা। মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়াই পবিত্র কুরবানী উনার একমাত্র উদ্দেশ্য।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

قُلْ إِنَّ صَلَاتِي وَنُسُكِي وَمَـحْيَايَ وَمَـمَاتِي لِلّٰهِ رَ‌بِّ الْعَالَمِيْنَ ◌

অর্থ : “(আমার হাবীব নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম!) আপনি বলুন, নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী, আমার হায়াত মুবারক ও আমার বিছাল শরীফ মুবারক সবই খ¦লিক, মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার জন্যে যিনি সমস্ত আলমের রব তা’য়ালা।” (পবিত্র সূরা আনআম শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬২)

পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে অন্যত্র ইরশাদ মুবারক হয়েছে-

لَنْ يَّنَالَ اللهَ لُـحُوْمُهَا وَلَا دِمَاؤُهَا وَلٰـكِنْ يَّنَالُهُ التَّقْوٰى مِنْكُمْ ۚ

অর্থ : “মহান আল্লাহ তায়ালা উনার নিকট কুরবানীকৃত পশুর গোশত কিংবা রক্ত কিছুই পৌঁছেনা। বরং শুধুমাত্র তোমাদের তাক্বওয়া উনার নিকট পৌঁছে থাকে।” (পবিত্র সূরা হজ্জ শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)

উক্ত আয়াত শরীফ উনার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, মহান আল্লাহ পাক তিনি ও উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা পশুর কোন কিছুই গ্রহণ করেন না। উনারা দেখেন, কে উনাদের সন্তুষ্টির জন্য উনাদের নির্দেশ মুতাবিক পবিত্র কুরবানী করলো। আর কে গ¦ইরুল্লাহ’র জন্য নিজের খেয়াল-খুশী মতো কুরবানী করলো। আর যখন কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী কুরবানী করলেন তখন হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার প্রতি মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে যে সালাম বর্ষিত হয়েছে তার হিস্যা তিনি লাভ করবেন।

মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-

سَلَامٌ عَلٰى إِبْرَ‌اهِيمَ ◌ كَذٰلِكَ نَـجْزِي الْمُحْسِنِينَ ◌

অর্থ : “হযরত খলীলুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক! আমি নেককারদেরকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।” (পবিত্র সূরা আছ-ছফফাত শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ১০০-১১০)

মূলত কিয়ামত পর্যন্ত যারাই উক্ত নিয়মে কুরবানী করবে তারা সবাই সেই সালাম মুবারক উনার হিস্যা লাভ করবে।

আরো একটি বিষয় স্মরণীয় যে, কুরবানী নিছক গোশত খাওয়ার জন্য নয় বরং প্রাণ প্রতিম সন্তানের বিনিময়। যদি হযরত ইসমাঈল যবীহুল্লাহ আলাইহিস সালাম তিনি হাক্বীক্বীভাবে যবেহ হতেন তাহলে আমাদেরকেও আমাদের প্রাণপ্রিয় সন্তানদেরকে কুরবানী দিতে হতো। সুতরাং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের সন্তুষ্টি-রিযামন্দি মুবারক হাছিলের উদ্দেশ্যে অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার মত মুবারক অনুযায়ী মত হওয়া এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ, হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পথ মুবারক অনুযায়ী পথ হওয়ার লক্ষ্যেই পবিত্র কুরবানী করা উচিত। কোন প্রকার বাহবা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয় কিংবা কোন বড়ত্ব/কৃতিত্ব জাহির করার উদ্দেশ্যে নয় বরং নিজের আমিত্ব/বড়ত্ব বিসর্জন দেয়ার নামই কুরবানী।

এই সম্পর্কিত আরো পোস্ট সমূহ



হযরত হাবীল আলাইহিস সালাম উনার ও কাবীলের কুরবানী

পৃথিবীর প্রথম কুরবানী সংঘটিত হয় হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার যমীনে অবস্থানকালীন সময় থেকেই। হযরত আবুল বাশার ছফিউল্লাহ আলাইহিস সালাম ও উম্মুল বাশার

বিস্তারিত পড়ুন

হযরত ইসমাঈল আলাইহিস সালাম তিনিই যবীহুল্লাহ

‘তাফসীরে মাযহারী’ উনার মধ্যে উল্লেখ আছে, “এ কথা সুনিশ্চিত যে, ‘পবিত্র সূরা ছফফাত শরীফ’ উনার ১০১নং আয়াত শরীফ উনার মধ্যে উদ্ধৃতغلام حليم অর্থাৎ ‘ধৈর্যশীল পুত্র’

বিস্তারিত পড়ুন